ঢাকা   শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
মুক্তির লড়াই

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস ডুবে নিহত ১৮, নিখোঁজ ২৬—চলছে প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৬ জন যাত্রী।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই বাসটি গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হতাহতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে মোট ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলটি পদ্মার অত্যন্ত গভীর অংশ হওয়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। গুরুতর আহত ১১ জনকে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত ১৮জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও, বাকিদের কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’সহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ শুরু করেছে। বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার সদস্যরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।


ঘটনার পর ফেরিঘাট এলাকায় স্বজনদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জনদের সন্ধানে অনেকে ঘাটে ভিড় করছেন, কেউবা হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পন্টুনে ওঠার সময় চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্নে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আপডেট:

মৃত উদ্ধার : ১৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৬ জন, মহিলা ১০ জন, শিশু ২ জন (ছেলে শিশু-১, মেয়ে শিশু -১) রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস ডুবে নিহত ১৮, নিখোঁজ ২৬—চলছে প্রাণপণ উদ্ধার অভিযান

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে একটি যাত্রীবাহী বাস। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৬ জন যাত্রী।


বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই বাসটি গভীর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হতাহতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে মোট ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলটি পদ্মার অত্যন্ত গভীর অংশ হওয়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। গুরুতর আহত ১১ জনকে দ্রুত গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত ১৮জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও, বাকিদের কোনো খোঁজ মেলেনি।


নিখোঁজদের উদ্ধারে ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’সহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ শুরু করেছে। বিআইডব্লিউটিসি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার সদস্যরা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।


ঘটনার পর ফেরিঘাট এলাকায় স্বজনদের আহাজারি আর উৎকণ্ঠায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জনদের সন্ধানে অনেকে ঘাটে ভিড় করছেন, কেউবা হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন।


এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পন্টুনে ওঠার সময় চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।


উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্নে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


আপডেট:

মৃত উদ্ধার : ১৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৬ জন, মহিলা ১০ জন, শিশু ২ জন (ছেলে শিশু-১, মেয়ে শিশু -১) রয়েছে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত