ঢাকা   শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
মুক্তির লড়াই

১০ দিনে ২৭৪ প্রাণহানি: সড়কে মৃত্যু যেন থামছেই না



১০ দিনে ২৭৪ প্রাণহানি: সড়কে মৃত্যু যেন থামছেই না

মাত্র ১০ দিন। আর এই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ২৭৪টি প্রাণ। সংখ্যাটা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ২৭৪টি পরিবারের অশেষ কান্না, অপূর্ণ স্বপ্ন আর চিরস্থায়ী শূন্যতার প্রতিচ্ছবি।

বাংলাদেশের সড়ক যেন দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে নতুন দুর্ঘটনার খবর, কোথাও বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, কোথাও মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো, আবার কোথাও পথচারীর উপর বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা। এসব ঘটনার অধিকাংশই প্রাণঘাতী, আর বেঁচে গেলেও অনেকে হয়ে যাচ্ছেন চিরতরে পঙ্গু।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তদারকির অভাব এবং আইন প্রয়োগের শৈথিল্য।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মৃত্যুগুলো যেন আমাদের কাছে এখন স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন শোরগোল হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ হয়, তারপর আবার সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকে। কিন্তু যারা প্রিয়জন হারান, তাদের জীবনে এই শোক কখনোই মুছে যায় না।


ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা, কোথাও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসের প্রতিযোগিতা, শহরে রিকশা-মোটরসাইকেলের বিশৃঙ্খল চলাচল, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়ক পারাপার, সব মিলিয়ে সড়ক এখন এক অনিরাপদ অঙ্গন।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কত প্রাণ ঝরলে আমরা সচেতন হব? কত মৃত্যু হলে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে? সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সবকিছু একসঙ্গে করতে হবে।


১০ দিনে ২৭৪টি প্রাণহানি আমাদের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে, আর সেই সঙ্গে বাড়বে মানুষের কান্না, শোক আর হতাশা।

সড়ককে নিরাপদ করা এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের দাবি, মানুষের অধিকার।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


১০ দিনে ২৭৪ প্রাণহানি: সড়কে মৃত্যু যেন থামছেই না

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

মাত্র ১০ দিন। আর এই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ২৭৪টি প্রাণ। সংখ্যাটা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ২৭৪টি পরিবারের অশেষ কান্না, অপূর্ণ স্বপ্ন আর চিরস্থায়ী শূন্যতার প্রতিচ্ছবি।


বাংলাদেশের সড়ক যেন দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। প্রতিদিনই খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে নতুন দুর্ঘটনার খবর, কোথাও বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, কোথাও মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো, আবার কোথাও পথচারীর উপর বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা। এসব ঘটনার অধিকাংশই প্রাণঘাতী, আর বেঁচে গেলেও অনেকে হয়ে যাচ্ছেন চিরতরে পঙ্গু।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তদারকির অভাব এবং আইন প্রয়োগের শৈথিল্য।


সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মৃত্যুগুলো যেন আমাদের কাছে এখন স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিন শোরগোল হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ হয়, তারপর আবার সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকে। কিন্তু যারা প্রিয়জন হারান, তাদের জীবনে এই শোক কখনোই মুছে যায় না।


ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা, কোথাও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। মহাসড়কে দূরপাল্লার বাসের প্রতিযোগিতা, শহরে রিকশা-মোটরসাইকেলের বিশৃঙ্খল চলাচল, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে সড়ক পারাপার, সব মিলিয়ে সড়ক এখন এক অনিরাপদ অঙ্গন।


এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কত প্রাণ ঝরলে আমরা সচেতন হব? কত মৃত্যু হলে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে? সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কি শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না, তার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সবকিছু একসঙ্গে করতে হবে।


১০ দিনে ২৭৪টি প্রাণহানি আমাদের জন্য এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে, আর সেই সঙ্গে বাড়বে মানুষের কান্না, শোক আর হতাশা।


সড়ককে নিরাপদ করা এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি সময়ের দাবি, মানুষের অধিকার।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত