বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার রেমাক্রি এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ঢাকার ৪৭ জন পর্যটক। ‘ঘুরি বাংলাদেশ’সহ দুটি ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা পরিকল্পিতভাবে পর্যটকদের দুর্গম এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পর্যটকদের অভিযোগ, জনপ্রতি ৬ হাজার ৯৯৯ টাকার বিনিময়ে তিন দিন চার রাতের আকর্ষণীয় প্যাকেজের মাধ্যমে তাদের থানচি ভ্রমণে নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে প্রতিশ্রুত সেবা, নিরাপত্তা ও গাইডলাইন কোনোটিই নিশ্চিত করা হয়নি। বরং ভ্রমণের এক পর্যায়ে রেমাক্রির মতো দুর্গম স্থানে তাদের অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে ট্রাভেল গ্রুপের সংশ্লিষ্টরা সরে পড়ে।
এতে পাহাড়ি দুর্গম পরিবেশে খাদ্য, নিরাপত্তা ও যাতায়াত সংকটে পড়ে পর্যটকরা চরম উৎকণ্ঠা ও দুর্ভোগে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্যুর গাইডদের সহায়তায় তারা দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকায় তিন্দু সড়কের মাথায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।
থানচির ট্যুর গাইড সেলিম জানান, অভিযুক্ত দুটি ট্রাভেল গ্রুপের চারজন হোস্ট তাকে গাইড হিসেবে বুকিং করেন। কিন্তু রেমাক্রিতে পৌঁছানোর পর তারা তাকে এবং ৪৭ জন পর্যটককে ফেলে রেখে চলে যান। তিনি এ ঘটনাকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অমানবিক আচরণ’ বলে উল্লেখ করেন।
পরে আলীকদম উপজেলার টুরিস্ট পরিবহনের সহায়তায় পর্যটকরা আলীকদমে পৌঁছান। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলমের নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং নিরাপদে ঢাকায় ফেরার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়।
পর্যটক মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, আমরা সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সহায়তা ছিল না। পরে স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের সহায়তায় আমরা রক্ষা পাই।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পর্যটকরা বলেন, এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি জরুরি। ইতোমধ্যে আলীকদম থানায় অভিযুক্ত দুই ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের সার্বিক সহায়তা দিয়েছি এবং নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার রেমাক্রি এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ঢাকার ৪৭ জন পর্যটক। ‘ঘুরি বাংলাদেশ’সহ দুটি ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা পরিকল্পিতভাবে পর্যটকদের দুর্গম এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পর্যটকদের অভিযোগ, জনপ্রতি ৬ হাজার ৯৯৯ টাকার বিনিময়ে তিন দিন চার রাতের আকর্ষণীয় প্যাকেজের মাধ্যমে তাদের থানচি ভ্রমণে নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে প্রতিশ্রুত সেবা, নিরাপত্তা ও গাইডলাইন কোনোটিই নিশ্চিত করা হয়নি। বরং ভ্রমণের এক পর্যায়ে রেমাক্রির মতো দুর্গম স্থানে তাদের অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে ট্রাভেল গ্রুপের সংশ্লিষ্টরা সরে পড়ে।
এতে পাহাড়ি দুর্গম পরিবেশে খাদ্য, নিরাপত্তা ও যাতায়াত সংকটে পড়ে পর্যটকরা চরম উৎকণ্ঠা ও দুর্ভোগে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্যুর গাইডদের সহায়তায় তারা দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার এলাকায় তিন্দু সড়কের মাথায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।
থানচির ট্যুর গাইড সেলিম জানান, অভিযুক্ত দুটি ট্রাভেল গ্রুপের চারজন হোস্ট তাকে গাইড হিসেবে বুকিং করেন। কিন্তু রেমাক্রিতে পৌঁছানোর পর তারা তাকে এবং ৪৭ জন পর্যটককে ফেলে রেখে চলে যান। তিনি এ ঘটনাকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অমানবিক আচরণ’ বলে উল্লেখ করেন।
পরে আলীকদম উপজেলার টুরিস্ট পরিবহনের সহায়তায় পর্যটকরা আলীকদমে পৌঁছান। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলমের নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং নিরাপদে ঢাকায় ফেরার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়।
পর্যটক মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, আমরা সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় পড়ে গিয়েছিলাম। কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সহায়তা ছিল না। পরে স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের সহায়তায় আমরা রক্ষা পাই।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পর্যটকরা বলেন, এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি জরুরি। ইতোমধ্যে আলীকদম থানায় অভিযুক্ত দুই ট্রাভেল গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের সার্বিক সহায়তা দিয়েছি এবং নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন