ঢাকা   শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

জ্বালানিনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার



জ্বালানিনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার

দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানিনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। ২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে আগামী মাসে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই ইউনিট চালু হলে দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।


অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, নতুন ইউনিট চালু হলে জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ সহজ হবে। মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা দেশেই পরিশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা বা আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করা ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এই তেলের বড় অংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহকে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর করে রেখেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব মার্চ ও এপ্রিলের তেল সরবরাহে পড়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়৷ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল প্রায় সব দেশই একই চাপে রয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা মেটাতে সরকারের সক্ষমতা রয়েছে। এখন জুন মাসের সূচি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

রিফাইনারির উৎপাদন ধীরগতিতে চলছে উল্লেখ করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, বর্তমানে দুটি ইউনিটের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পেট্রল ও বিটুমিনের উৎপাদন চলছে। এ মাসে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে একটি জাহাজে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসবে। ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানিসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানিনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানিনিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। ২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে আগামী মাসে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব তথ্য জানান।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই ইউনিট চালু হলে দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।


অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, নতুন ইউনিট চালু হলে জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ সহজ হবে। মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা দেশেই পরিশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা বা আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৬৮ সালে যাত্রা শুরু করা ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এই তেলের বড় অংশ আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহকে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর করে রেখেছে।


ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব মার্চ ও এপ্রিলের তেল সরবরাহে পড়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়৷ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল প্রায় সব দেশই একই চাপে রয়েছে।


অনিন্দ্য ইসলাম জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। দেশে বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা মেটাতে সরকারের সক্ষমতা রয়েছে। এখন জুন মাসের সূচি প্রস্তুত করা হচ্ছে।


রিফাইনারির উৎপাদন ধীরগতিতে চলছে উল্লেখ করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, বর্তমানে দুটি ইউনিটের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে পেট্রল ও বিটুমিনের উৎপাদন চলছে। এ মাসে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে একটি জাহাজে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসবে। ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানিসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত