ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

আত্রাইয়ে এলজিইডি অফিসে তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তা



আত্রাইয়ে এলজিইডি অফিসে তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তথ্য সংগ্রহের মতো স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আত্রাই উপজেলা এলজিইডি অফিসে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তাল মাহমুদ এবং দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কাজী রহমান।


জানা যায়, উপজেলার ‘ভাগ সুন্দর বিশা’ সড়ক সংস্কার কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে এলজিইডি অফিসে যান ওই দুই সাংবাদিক। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাইলে শুরু থেকেই তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তথ্য দিতে গড়িমসি করেন এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না পেয়ে তারা দেরিতে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে!


সাংবাদিক উত্তাল মাহমুদ বলেন:- “গত তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও আমরা অপেক্ষা করেছি। পরে তিনি দেরিতে অফিসে আসেন। আমরা দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।”

তিনি আরও জানান, এর আগে একই সড়কের সংস্কার কাজের অনিয়ম নিয়ে তথ্য চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী নীতিশ কুমার বলেছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে তথ্য দেওয়া যাবে কি না।


অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে পরিস্থিতি খারাপ দিকে মোড় নেয়। সাংবাদিকরা রুম থেকে বের হওয়ার পর অফিসের কয়েকজন কর্মচারী—অফিস সহায়ক এমদাদ, অফিস সহকারী সালাম এবং কম্পিউটার অপারেটর দীপ্ত—তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন।

উত্তাল মাহমুদের ভাষ্য,

“হঠাৎ করেই তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং অপমানজনক আচরণ করে। একজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে এ ধরনের ব্যবহার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য!

অন্যদিকে কাজী রহমান বলেন:-আমি তাদের ভদ্রভাবে কথা বলতে বললে তারা উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমাকে ‘চুপ কর, বের হয়ে যা’ বলে হুমকি দেয়! এমনকি দেখে নেওয়ার কথাও বলা হয়। এটা শুধু হেনস্তা নয়, এক ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন।


সাংবাদিকদের মতে, সরকারি দপ্তরে তথ্য নিতে গিয়ে যদি এমন বাধা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়, তাহলে তা সরাসরি সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।

স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সেখানে কাজ করা মানুষদের যদি তথ্য পেতে বাধা দেওয়া হয় বা হেনস্তা করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নীতিশ কুমারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বদরুদ্দোজা জানান,ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ আলাউল ইসলাম বলেন,

কোনো সংবাদকর্মী তথ্য চাইলে তা না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে সহযোগিতা করা উচিত ছিল। বিষয়টি আমার জানা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সাংবাদিক এ ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


আত্রাইয়ে এলজিইডি অফিসে তথ্য চাইতে গিয়ে সাংবাদিক হেনস্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তথ্য সংগ্রহের মতো স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।


ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আত্রাই উপজেলা এলজিইডি অফিসে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন—এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও আত্রাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তাল মাহমুদ এবং দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কাজী রহমান।


জানা যায়, উপজেলার ‘ভাগ সুন্দর বিশা’ সড়ক সংস্কার কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে এলজিইডি অফিসে যান ওই দুই সাংবাদিক। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে চাইলে শুরু থেকেই তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।


সাংবাদিকদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তথ্য দিতে গড়িমসি করেন এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না পেয়ে তারা দেরিতে অফিসে আসার কারণ জানতে চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে!



সাংবাদিক উত্তাল মাহমুদ বলেন:- “গত তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও আমরা অপেক্ষা করেছি। পরে তিনি দেরিতে অফিসে আসেন। আমরা দেরির কারণ জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।”


তিনি আরও জানান, এর আগে একই সড়কের সংস্কার কাজের অনিয়ম নিয়ে তথ্য চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী নীতিশ কুমার বলেছিলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জানানো হবে তথ্য দেওয়া যাবে কি না।


অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে পরিস্থিতি খারাপ দিকে মোড় নেয়। সাংবাদিকরা রুম থেকে বের হওয়ার পর অফিসের কয়েকজন কর্মচারী—অফিস সহায়ক এমদাদ, অফিস সহকারী সালাম এবং কম্পিউটার অপারেটর দীপ্ত—তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন।


উত্তাল মাহমুদের ভাষ্য,

“হঠাৎ করেই তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং অপমানজনক আচরণ করে। একজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে এ ধরনের ব্যবহার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য!


অন্যদিকে কাজী রহমান বলেন:-আমি তাদের ভদ্রভাবে কথা বলতে বললে তারা উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমাকে ‘চুপ কর, বের হয়ে যা’ বলে হুমকি দেয়! এমনকি দেখে নেওয়ার কথাও বলা হয়। এটা শুধু হেনস্তা নয়, এক ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন।


সাংবাদিকদের মতে, সরকারি দপ্তরে তথ্য নিতে গিয়ে যদি এমন বাধা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়, তাহলে তা সরাসরি সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত।


স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সেখানে কাজ করা মানুষদের যদি তথ্য পেতে বাধা দেওয়া হয় বা হেনস্তা করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।


এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নীতিশ কুমারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বদরুদ্দোজা জানান,ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ আলাউল ইসলাম বলেন,

কোনো সংবাদকর্মী তথ্য চাইলে তা না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে সহযোগিতা করা উচিত ছিল। বিষয়টি আমার জানা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সাংবাদিক এ ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত