নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ও আধাপাকা ধান ঝড়ে নুয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৈশাখের ঘনকালো মেঘ আর অনিশ্চিত আবহাওয়া তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কৃষি বিভাগ দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিলেও শ্রমিক সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর এ সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শ্রমিক এলেও এ বছর সেই সংখ্যা খুবই কম। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।
যে অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তারাও বেশি মজুরি দাবি করছে। নুয়ে পড়া ধান কাটতে প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার নিচে কাজ করতে রাজি নয় তারা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
হরিশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আহাদ জানান, তিনি সোয়া তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। হঠাৎ ঝড়ে প্রায় সব ধান মাটিতে পড়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। উপরন্তু আকাশের অবস্থা এখনও খারাপ থাকায় নতুন করে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাণীনগরের ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ধান ঝড়ে নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিলাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নভূমিতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক চাষাবাদের কারণে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক কালবৈশাখীর প্রভাবে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। তবে শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ও আধাপাকা ধান ঝড়ে নুয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বৈশাখের ঘনকালো মেঘ আর অনিশ্চিত আবহাওয়া তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কৃষি বিভাগ দ্রুত পাকা ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিলেও শ্রমিক সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর এ সময়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শ্রমিক এলেও এ বছর সেই সংখ্যা খুবই কম। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক না পাওয়ায় কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।
যে অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে, তারাও বেশি মজুরি দাবি করছে। নুয়ে পড়া ধান কাটতে প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার নিচে কাজ করতে রাজি নয় তারা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
হরিশপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আহাদ জানান, তিনি সোয়া তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। হঠাৎ ঝড়ে প্রায় সব ধান মাটিতে পড়ে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না। উপরন্তু আকাশের অবস্থা এখনও খারাপ থাকায় নতুন করে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাণীনগরের ৮টি ইউনিয়নে মোট ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমির ধান ঝড়ে নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিলাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নভূমিতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক চাষাবাদের কারণে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক কালবৈশাখীর প্রভাবে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ক্ষতি কমানো সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে এবং কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। তবে শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন