মুক্তির লড়াই

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি

ফেক আইডির মুখোশে কারা? মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগে

ফেক আইডির মুখোশে কারা? মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত এক ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই আইডির আড়ালে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক উদ্যোগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত এই আইডি শুধু নৈতিকতার প্রশ্নই তুলছে না, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অপব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হিসেবেও সামনে আনছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তির নাম বিকৃত করে উপস্থাপন, কটূক্তিমূলক মন্তব্য এবং যাচাইবিহীন তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।

এলাকায় আলোচনা রয়েছে যে, আইডিটিতে প্রকাশিত কিছু বক্তব্যের সঙ্গে জামাল উদ্দিন ওরফে “প্যারাসিটামল”-এর নাম জড়িয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা প্রশ্নের মধ্যেই বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে।


সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সত্য প্রকাশের জন্য যদি তথ্য ও যুক্তি থাকে, তাহলে নিজের পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন কেন? কেন একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফেক আইডির আড়াল বেছে নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নরোত্তমপুরের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবরস্থানের ওপর স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আইডি অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের ধারণা, জনসমালোচিত কিছু বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সবসময় স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর ফলে জনমনে আরও কৌতূহল, প্রশ্ন এবং সন্দেহের জন্ম নিয়েছে।


সচেতন নাগরিকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র হলেও সেটিকে অপপ্রচার, সম্মানহানি কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং আইনি প্রশ্নেরও জন্ম দেয়।

তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। কারণ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন তথ্য, যুক্তি ও সাহস; ফেক আইডির আড়াল নয়।

নরোত্তমপুরের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—অপপ্রচার নয়, সত্যের প্রকাশ; গুজব নয়, তথ্যের জবাব; গোপন পরিচয় নয়, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


ফেক আইডির মুখোশে কারা? মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগে

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত এক ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই আইডির আড়ালে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক উদ্যোগ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত এই আইডি শুধু নৈতিকতার প্রশ্নই তুলছে না, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অপব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হিসেবেও সামনে আনছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তির নাম বিকৃত করে উপস্থাপন, কটূক্তিমূলক মন্তব্য এবং যাচাইবিহীন তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।

এলাকায় আলোচনা রয়েছে যে, আইডিটিতে প্রকাশিত কিছু বক্তব্যের সঙ্গে জামাল উদ্দিন ওরফে “প্যারাসিটামল”-এর নাম জড়িয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা প্রশ্নের মধ্যেই বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে।


সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সত্য প্রকাশের জন্য যদি তথ্য ও যুক্তি থাকে, তাহলে নিজের পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজন কেন? কেন একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফেক আইডির আড়াল বেছে নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নরোত্তমপুরের মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবরস্থানের ওপর স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আইডি অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের ধারণা, জনসমালোচিত কিছু বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সবসময় স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এর ফলে জনমনে আরও কৌতূহল, প্রশ্ন এবং সন্দেহের জন্ম নিয়েছে।


সচেতন নাগরিকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র হলেও সেটিকে অপপ্রচার, সম্মানহানি কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং আইনি প্রশ্নেরও জন্ম দেয়।

তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। কারণ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন তথ্য, যুক্তি ও সাহস; ফেক আইডির আড়াল নয়।

নরোত্তমপুরের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা—অপপ্রচার নয়, সত্যের প্রকাশ; গুজব নয়, তথ্যের জবাব; গোপন পরিচয় নয়, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই