কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামে আনন্দঘন পরিবেশে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চান্দপুর ইউনিয়নের পাঁচ পাড়া গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলের সুন্নতে খাতনা উপলক্ষে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়।
লাঠি খেলা দেখতে পাঁচপাড়া গ্রামসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। আধুনিক বিনোদনের যুগে হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে দেখতে পেয়ে মেতে ওঠেন সব বয়সী মানুষ।এই লাঠি খেলাটি সভাপতিত্বে করেন মোঃ হাসুগুনী ও তার সদস্যগণ এই লাঠি খেলার
ঢাক-ঢোলের তালে লাঠির কসরত : অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার শব্দে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। রঙিন পোশাক পরিহিত লাঠিয়ালরা ঢোলের তালে তালে তাদের লাঠির নান্দনিক ও রুদ্ধশ্বাস কসরত প্রদর্শন করেন।
প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং পাল্টা আক্রমণ করার এই রোমাঞ্চকর খেলা উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে আনন্দিত করে। খেলায় চমৎকার নৈপুণ্য দেখানোর পর দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্যান্ডেল।
স্থানীয় এক দর্শনার্থী জানান: "ছোটবেলায় মেলা-পার্বণে এমন লাঠি খেলা নিয়মিত দেখতাম। এখন তো এসব চোখেই পড়ে না। কালো মিয়ার ছেলের সুন্নতে খাতনা উপলক্ষে এমন আয়োজন আমাদের পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিল।"
হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াস:
আয়োজক মো: কালো মিয়া জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই বিশেষ আয়োজন। তিনি বলেন, "আমার ছেলের খৎনার এই আনন্দঘন মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং গ্রামের মানুষকে একটু সুস্থ বিনোদন দিতেই লাঠি খেলার আয়োজন করেছি। সবাই যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"
এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, অপসংস্কৃতির ভিড়ে লাঠি খেলার মতো আমাদের নিজস্ব লোকজ ঐতিহ্যগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামে আনন্দঘন পরিবেশে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চান্দপুর ইউনিয়নের পাঁচ পাড়া গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলের সুন্নতে খাতনা উপলক্ষে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়।
লাঠি খেলা দেখতে পাঁচপাড়া গ্রামসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। আধুনিক বিনোদনের যুগে হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন করে দেখতে পেয়ে মেতে ওঠেন সব বয়সী মানুষ।এই লাঠি খেলাটি সভাপতিত্বে করেন মোঃ হাসুগুনী ও তার সদস্যগণ এই লাঠি খেলার
ঢাক-ঢোলের তালে লাঠির কসরত : অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার শব্দে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। রঙিন পোশাক পরিহিত লাঠিয়ালরা ঢোলের তালে তালে তাদের লাঠির নান্দনিক ও রুদ্ধশ্বাস কসরত প্রদর্শন করেন।
প্রতিপক্ষের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং পাল্টা আক্রমণ করার এই রোমাঞ্চকর খেলা উপস্থিত দর্শকদের দারুণভাবে আনন্দিত করে। খেলায় চমৎকার নৈপুণ্য দেখানোর পর দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্যান্ডেল।
স্থানীয় এক দর্শনার্থী জানান: "ছোটবেলায় মেলা-পার্বণে এমন লাঠি খেলা নিয়মিত দেখতাম। এখন তো এসব চোখেই পড়ে না। কালো মিয়ার ছেলের সুন্নতে খাতনা উপলক্ষে এমন আয়োজন আমাদের পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিল।"
হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াস:
আয়োজক মো: কালো মিয়া জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই বিশেষ আয়োজন। তিনি বলেন, "আমার ছেলের খৎনার এই আনন্দঘন মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং গ্রামের মানুষকে একটু সুস্থ বিনোদন দিতেই লাঠি খেলার আয়োজন করেছি। সবাই যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত।"
এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, অপসংস্কৃতির ভিড়ে লাঠি খেলার মতো আমাদের নিজস্ব লোকজ ঐতিহ্যগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়।

আপনার মতামত লিখুন