মামলার বাদী মো. এনামুল হক মজুমদার অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মাকসুদা আক্তার (২৪) ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার মিডল্যান্ড হাসপাতালে সিজার অপারেশন করান। ওই সময় জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর পেটের ভেতরে একটি কাপড় রেখে সেলাই করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অপারেশনের পর থেকেই মাকসুদা আক্তার তীব্র পেটব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। পরে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তাঁর শরীরে টেক্সটাইলোমা (Textiloma) শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে রোগীর পেট থেকে কাপড়টি বের করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, চিকিৎসা অবহেলার কারণে ভুক্তভোগীর প্রায় আট লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এখনও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। মামলার সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এবং রোগীর পেট থেকে বের করা কাপড়ের ছবিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দায়ের করা মামলাটি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (কগ নং-১)-এ সি.আর. ৬৭৩/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। সদস্য ছিলেন ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর, ডেপুটি সিভিল সার্জন, কুমিল্লা এবং ডা. ফারিয়া জাকরিন আনসারী, মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, কুমিল্লা। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনায় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ দায় কোনোভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারবে না।
আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
মামলার বাদী মো. এনামুল হক মজুমদার অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মাকসুদা আক্তার (২৪) ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার মিডল্যান্ড হাসপাতালে সিজার অপারেশন করান। ওই সময় জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর পেটের ভেতরে একটি কাপড় রেখে সেলাই করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, অপারেশনের পর থেকেই মাকসুদা আক্তার তীব্র পেটব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। পরে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তাঁর শরীরে টেক্সটাইলোমা (Textiloma) শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে রোগীর পেট থেকে কাপড়টি বের করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, চিকিৎসা অবহেলার কারণে ভুক্তভোগীর প্রায় আট লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এখনও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। মামলার সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এবং রোগীর পেট থেকে বের করা কাপড়ের ছবিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দায়ের করা মামলাটি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (কগ নং-১)-এ সি.আর. ৬৭৩/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। সদস্য ছিলেন ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর, ডেপুটি সিভিল সার্জন, কুমিল্লা এবং ডা. ফারিয়া জাকরিন আনসারী, মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, কুমিল্লা। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনায় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ দায় কোনোভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারবে না।
আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন