মুক্তির লড়াই

শিক্ষাঙ্গন

অতিরিক্ত দায়িত্বে ৪ উপজেলা সামলাচ্ছেন এক কর্মকর্তা

জনবল সংকটে রাণীনগর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

জনবল সংকটে রাণীনগর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের মোট ৭টি পদের মধ্যে প্রধান কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মানোন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে অনুমোদিত মোট ৭টি পদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এবং একাডেমিক সুপারভাইজার - এই তিনটি মূল পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে-কলমে রাণীনগরে থাকলেও, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে সংযুক্তিতে কর্মরত আছেন। এছাড়া, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি গত ৫ বছর ধরে শূন্য। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর এই পদে নতুন কেউ আসেননি। আর সর্বশেষ গত বছরের ৫ জানুয়ারি মূল মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করার পর থেকে অফিসটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।


বর্তমানে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম এই কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, এই একজন কর্মকর্তাই বর্তমানে জেলার ৪টি উপজেলা- মান্দা, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর ও রাণীনগরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের চাপে তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন রাণীনগর অফিসে সময় দিতে পারছেন। ফলে জরুরি দাপ্তরিক কাজ ও স্বাক্ষর নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতারা।

রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী-কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ জানান, এই উপজেলায় ৩১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি কলেজ, ৭টি মাদ্রাসা এবং ৪টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ মোট ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষা অফিসে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় প্রতিদিনের স্বাভাবিক ও জরুরি কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


জনবল সংকটে রাণীনগর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ের মোট ৭টি পদের মধ্যে প্রধান কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার মানোন্নয়নসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।


উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে অনুমোদিত মোট ৭টি পদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এবং একাডেমিক সুপারভাইজার - এই তিনটি মূল পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে একাডেমিক সুপারভাইজার পদটি কাগজে-কলমে রাণীনগরে থাকলেও, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল থেকে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে সংযুক্তিতে কর্মরত আছেন। এছাড়া, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি গত ৫ বছর ধরে শূন্য। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর এই পদে নতুন কেউ আসেননি। আর সর্বশেষ গত বছরের ৫ জানুয়ারি মূল মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলি করার পর থেকে অফিসটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।


বর্তমানে নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম এই কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, এই একজন কর্মকর্তাই বর্তমানে জেলার ৪টি উপজেলা- মান্দা, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর ও রাণীনগরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। বিশাল এই কর্মযজ্ঞের চাপে তিনি সপ্তাহে মাত্র একদিন রাণীনগর অফিসে সময় দিতে পারছেন। ফলে জরুরি দাপ্তরিক কাজ ও স্বাক্ষর নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতারা।


রাণীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী-কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ফারুক আহমেদ জানান, এই উপজেলায় ৩১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬টি কলেজ, ৭টি মাদ্রাসা এবং ৪টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ মোট ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষা অফিসে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় প্রতিদিনের স্বাভাবিক ও জরুরি কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।


এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই