চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি উঠেছে। নগরীতে বিভিন্ন সময় ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান পরিচালিত হলেও উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতে নিয়মিত ও সমন্বিত তদারকি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, কাঁচাবাজার ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, মূল্যতালিকা না থাকা এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
শহরে অভিযান, উপজেলায় নজরদারি কম: স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরকেন্দ্রিক অভিযান যতটা দৃশ্যমান, উপজেলা পর্যায়ে ততটা নিয়মিত অভিযান দেখা যায় না। ফলে অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত নজরদারির বাইরে থেকে যাওয়ার সুযোগ পান।
বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির দোকানে খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশ, ব্যবহৃত উপকরণের মান, খাদ্যপণ্যের মেয়াদ এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের বক্তব্য
আনোয়ারার বাসিন্দা সাগর বলেন, ‘বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকলে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিতে পারেন। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির ঝুঁকিও থাকে। উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য অভিযান চালানো জরুরি।’
সাতকানিয়ার বাসিন্দা মো. আরাফাত বলেন, ‘শহরের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা দরকার। বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির দোকানগুলোতে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সবার অধিকার।’
পটিয়ার বাসিন্দা মো. মোরশেদ বলেন, ‘অনেক সময় বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ে ভোক্তারা বিভ্রান্তিতে পড়েন। কোথাও মূল্যতালিকা থাকে না, আবার একই পণ্যের দাম একেক দোকানে একেক রকম। নিয়মিত অভিযান ও বাজার মনিটরিং থাকলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন এবং ভোক্তারাও ন্যায্য মূল্যে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারবেন।’
অভিযান না থাকলে বাড়ে অনিয়ম
সচেতন মহলের মতে, অভিযান শুধু জরিমানা আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত তদারকি, ব্যবসায়ীদের সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো এলাকায় একবার অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন তদারকি না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেন। তাই উপজেলা নির্বাহী প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
শুধু উৎসবকেন্দ্রিক অভিযান নয়
অনেক সময় রমজান, ঈদ বা বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে অভিযান বাড়লেও বছরের অন্যান্য সময়ে উপজেলা পর্যায়ে তদারকি কমে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার কোনো মৌসুমি বিষয় নয়—সারা বছরই বাজার তদারকি, খাদ্যের মান পরীক্ষা ও ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি
সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি অভিযান পরিচালনার তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কোন বাজারে অভিযান হয়েছে, কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে, কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অভিযানের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়বে।
একই সঙ্গে খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখনই প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান
চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু নগরকেন্দ্রিক অভিযান নয়, জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—চট্টগ্রাম শহরে যদি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তাহলে উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলো কেন নিয়মিত নজরদারির বাইরে থাকবে?
নিয়মিত, সমন্বিত ও দৃশ্যমান অভিযানই পারে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান জোরদারের দাবি উঠেছে। নগরীতে বিভিন্ন সময় ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযান পরিচালিত হলেও উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতে নিয়মিত ও সমন্বিত তদারকি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, কাঁচাবাজার ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, মূল্যতালিকা না থাকা এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত বাজার তদারকি ও নিরাপদ খাদ্য অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
শহরে অভিযান, উপজেলায় নজরদারি কম: স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরকেন্দ্রিক অভিযান যতটা দৃশ্যমান, উপজেলা পর্যায়ে ততটা নিয়মিত অভিযান দেখা যায় না। ফলে অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত নজরদারির বাইরে থেকে যাওয়ার সুযোগ পান।
বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির দোকানে খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশ, ব্যবহৃত উপকরণের মান, খাদ্যপণ্যের মেয়াদ এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের বক্তব্য
আনোয়ারার বাসিন্দা সাগর বলেন, ‘বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকলে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিতে পারেন। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির ঝুঁকিও থাকে। উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য অভিযান চালানো জরুরি।’
সাতকানিয়ার বাসিন্দা মো. আরাফাত বলেন, ‘শহরের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা দরকার। বিশেষ করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও মিষ্টির দোকানগুলোতে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সবার অধিকার।’
পটিয়ার বাসিন্দা মো. মোরশেদ বলেন, ‘অনেক সময় বাজারে পণ্যের মূল্য নিয়ে ভোক্তারা বিভ্রান্তিতে পড়েন। কোথাও মূল্যতালিকা থাকে না, আবার একই পণ্যের দাম একেক দোকানে একেক রকম। নিয়মিত অভিযান ও বাজার মনিটরিং থাকলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন এবং ভোক্তারাও ন্যায্য মূল্যে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারবেন।’
অভিযান না থাকলে বাড়ে অনিয়ম
সচেতন মহলের মতে, অভিযান শুধু জরিমানা আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত তদারকি, ব্যবসায়ীদের সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
কোনো এলাকায় একবার অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন তদারকি না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেন। তাই উপজেলা নির্বাহী প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
শুধু উৎসবকেন্দ্রিক অভিযান নয়
অনেক সময় রমজান, ঈদ বা বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে অভিযান বাড়লেও বছরের অন্যান্য সময়ে উপজেলা পর্যায়ে তদারকি কমে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার কোনো মৌসুমি বিষয় নয়—সারা বছরই বাজার তদারকি, খাদ্যের মান পরীক্ষা ও ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি
সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি অভিযান পরিচালনার তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কোন বাজারে অভিযান হয়েছে, কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে, কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অভিযানের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়বে।
একই সঙ্গে খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখনই প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান
চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলোতে নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু নগরকেন্দ্রিক অভিযান নয়, জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলোতেও নজরদারি বাড়াতে হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—চট্টগ্রাম শহরে যদি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তাহলে উপজেলা পর্যায়ের বাজারগুলো কেন নিয়মিত নজরদারির বাইরে থাকবে?
নিয়মিত, সমন্বিত ও দৃশ্যমান অভিযানই পারে ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করতে।

আপনার মতামত লিখুন