মুক্তির লড়াই

শিক্ষাঙ্গন

জলাবদ্ধতার দায়ে শিক্ষকদের শাস্তিমূলক বদলি, কুমিল্লায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে বরগুনা জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এমন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার দাবি তুলেছেন।

শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব হলো নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। যদি তাঁরা অবকাঠামো নির্মাণ, প্রকৌশল বা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকেন, তাহলে কেবল তাঁদের ওপর দায় চাপানো ন্যায়সংগত নয়।

কোনো শিক্ষক যদি প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অবহেলা বা অন্য কোন ধরনের অভিযোগ থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া দায় নির্ধারণ করা ন্যায়বিচার ও সুশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শাস্তিমূলক ছিল কি না, সে বিষয়ে সরকারি আদেশ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থাকলে সেটি উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এতে প্রতিবেদনটি আরও শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। 


শিক্ষার্থীদের কাছে মোহাম্মদ মহসিন শুধু একজন শিক্ষক নন তিনি একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও মানবিক মানুষ হিসেবেও বেশ সুপরিচিত। তাঁর পাঠদানের স্বতন্ত্র ধরন, আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাঁকে কলেজের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ মহসিন স্যার শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ এবং তার একজন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে তিনি অনেক শিক্ষার্থীর বই কেনার সামর্থ্য না থাকলে তিনি নিজ উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে বই কিনে দিতেন। আবার কারও পরীক্ষার ফি বা বেতন পরিশোধে সমস্যা হলে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এসব কাজ তিনি কখনো প্রচারের জন্য করেননি বরং নীরবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই করে গেছেন। 

বদলির আদেশ প্রত্যাহারে শিক্ষার্থীরা কলেজ অধ্যক্ষ আমেনা বেগম এর কাছে গেলে তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় সরকারের যেকোনো আদেশ বিনা ব্যক্যে মেনে নিতে আমরা বাধ্য তিনি শিক্ষার্থীদের কে জানান তাদের দাবি সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষেকে জানানো হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী,  শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


জলাবদ্ধতার দায়ে শিক্ষকদের শাস্তিমূলক বদলি, কুমিল্লায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের আকস্মিক বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে তাঁকে বরগুনা জেলায় বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এমন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার দাবি তুলেছেন।


শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব হলো নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা। যদি তাঁরা অবকাঠামো নির্মাণ, প্রকৌশল বা রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকেন, তাহলে কেবল তাঁদের ওপর দায় চাপানো ন্যায়সংগত নয়।


কোনো শিক্ষক যদি প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অবহেলা বা অন্য কোন ধরনের অভিযোগ থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে বা পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া দায় নির্ধারণ করা ন্যায়বিচার ও সুশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


জলাবদ্ধতার ঘটনায় সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শাস্তিমূলক ছিল কি না, সে বিষয়ে সরকারি আদেশ বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থাকলে সেটি উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এতে প্রতিবেদনটি আরও শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।

বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই তথ্য জানানো হয়। 


শিক্ষার্থীদের কাছে মোহাম্মদ মহসিন শুধু একজন শিক্ষক নন তিনি একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও মানবিক মানুষ হিসেবেও বেশ সুপরিচিত। তাঁর পাঠদানের স্বতন্ত্র ধরন, আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাঁকে কলেজের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ মহসিন স্যার শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ এবং তার একজন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে তিনি অনেক শিক্ষার্থীর বই কেনার সামর্থ্য না থাকলে তিনি নিজ উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহ করে বই কিনে দিতেন। আবার কারও পরীক্ষার ফি বা বেতন পরিশোধে সমস্যা হলে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এসব কাজ তিনি কখনো প্রচারের জন্য করেননি বরং নীরবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই করে গেছেন। 


বদলির আদেশ প্রত্যাহারে শিক্ষার্থীরা কলেজ অধ্যক্ষ আমেনা বেগম এর কাছে গেলে তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় সরকারের যেকোনো আদেশ বিনা ব্যক্যে মেনে নিতে আমরা বাধ্য তিনি শিক্ষার্থীদের কে জানান তাদের দাবি সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষেকে জানানো হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী,  শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই