মুক্তির লড়াই

রাজনীতি

নেতৃত্বের দৌড়ে সাবেক ছাত্রনেতাসহ একাধিক হেভিওয়েট

চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সক্রিয় করা, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি আনা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এর আগে গত শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের সাক্ষাতের খবর প্রকাশিত হয়। বৈঠকে সংগঠনের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও নতুন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।


মেয়াদ শেষ, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা: ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। একই কমিটিতে ইয়াসিন আলীকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং নাজমুল হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।

তিন বছর মেয়াদি ওই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চলছে নানা আলোচনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নাম: নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে নাজমুল হাসান, ইয়াসিন আলী, সাদরেজ জামান, ফখরুল ইসলাম রবিন, আব্দুল কুদ্দুস ও জহিরুল ইসলাম তুহিনের নাম নিয়ে আলোচনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম নোমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শ্রাবণ এবং সাবেক ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সাইফ ও মো. জুয়েলের নাম উল্লেখযোগ্য বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ফয়েজ উল্যাহ ফয়েজের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ডালিমের নাম আলোচনায়

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিমের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত কারা কোন পদে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর। পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নামকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।

তৃণমূলে গতি ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য হবে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলকে তৃণমূল পর্যন্ত আরও সক্রিয় করা। ইউনিট পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দলীয় কর্মসূচিতে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা এবং পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপের কথা উঠে এসেছে।

ত্যাগীদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা

দলের দীর্ঘদিনের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে তারা মনে করছেন।

নেতাকর্মীদের মতে, নতুন ও পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব এলে সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ বাড়ানো গেলে স্বেচ্ছাসেবক দল আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

সব মিলিয়ে, স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘিরে বিএনপির ভেতরে ও তৃণমূলে এখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সেটিই এখন সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই স্পষ্ট হবে নতুন কমিটির নেতৃত্বের চূড়ান্ত চিত্র।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সক্রিয় করা, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি আনা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহের যেকোনো সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।


সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


এর আগে গত শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানের সাক্ষাতের খবর প্রকাশিত হয়। বৈঠকে সংগঠনের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও নতুন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।


মেয়াদ শেষ, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা: ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি এবং রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। একই কমিটিতে ইয়াসিন আলীকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং নাজমুল হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়।


তিন বছর মেয়াদি ওই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চলছে নানা আলোচনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে।


সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নাম: নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে নাজমুল হাসান, ইয়াসিন আলী, সাদরেজ জামান, ফখরুল ইসলাম রবিন, আব্দুল কুদ্দুস ও জহিরুল ইসলাম তুহিনের নাম নিয়ে আলোচনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম নোমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শ্রাবণ এবং সাবেক ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সাইফ ও মো. জুয়েলের নাম উল্লেখযোগ্য বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।


এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ফয়েজ উল্যাহ ফয়েজের নামও আলোচনায় রয়েছে।


সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ডালিমের নাম আলোচনায়


সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাহাবুদ্দিন শিকদার ডালিমের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।


তবে শেষ পর্যন্ত কারা কোন পদে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ওপর। পদপ্রত্যাশীদের নিয়ে আলোচনা থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনো নামকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।


তৃণমূলে গতি ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ


দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য হবে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলকে তৃণমূল পর্যন্ত আরও সক্রিয় করা। ইউনিট পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দলীয় কর্মসূচিতে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।


সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা এবং পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপের কথা উঠে এসেছে।


ত্যাগীদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা


দলের দীর্ঘদিনের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে তারা মনে করছেন।


নেতাকর্মীদের মতে, নতুন ও পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব এলে সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ বাড়ানো গেলে স্বেচ্ছাসেবক দল আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।


সব মিলিয়ে, স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘিরে বিএনপির ভেতরে ও তৃণমূলে এখন ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সেটিই এখন সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই স্পষ্ট হবে নতুন কমিটির নেতৃত্বের চূড়ান্ত চিত্র।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই