মুক্তির লড়াই

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী আহত

শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী আহত

পড়া না পারায় শ্রেণিকক্ষে এক সহকারী শিক্ষিকার নির্মম বেত্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে তাওফিকা হাসনাত নামে ৪র্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে আহত শিক্ষার্থীর মা সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রোববার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৫ নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৫'দিলশাদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে' এ আশঙ্কাজনক ঘটনাটি ঘটে।

​কী ঘটেছিল শ্রেণিকক্ষে?

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ক্লাস চলাকালীন ৪্থ শ্রেণীর ছাত্রী তাওফিকা হাসনাতকে ৩ পৃষ্ঠা পড়া দেওয়া হয়। এর মধ্যে সে ২ পৃষ্ঠা পড়া বলতে পারলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সহকারী শিক্ষিকা মুন্নি আক্তার। একপর্যায়ে তিনি নিজের সাথে রাখা ডিশ লাইনের তার দিয়ে তৈরি বিশেষ বেত দিয়ে ওই ছাত্রীকে সজোরে প্রহার করতে থাকেন।

​বেত্রাঘাতের তীব্রতায় ছাত্রীটি ডেস্কেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার সহপাঠীরা হাতে পানি ঢেলে যন্ত্রণা কমানোর চেষ্টা করলেও ব্যথায় কাতরাতে থাকে সে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লেও কোনো প্রকার প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে ততক্ষণাৎ শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ২০১৫ সাল থেকে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ এক দশক এক স্থানে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বিদ্যালয়ের সহকর্মী ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায় সময়ই সাধারণ কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। তাঁর কথাবার্তা ও আচরণেও পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, শিক্ষিকা মুন্নি আক্তারের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাও থাকতে পারে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মুন্নি আক্তার কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

​তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সালা উদ্দিন বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সত্য। একজন সহকারী শিক্ষিকার এভাবে শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

​উপজেলা প্রশাসন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় অভিভাবক মহল।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী আহত

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পড়া না পারায় শ্রেণিকক্ষে এক সহকারী শিক্ষিকার নির্মম বেত্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে তাওফিকা হাসনাত নামে ৪র্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে আহত শিক্ষার্থীর মা সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

রোববার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৫ নং পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৫'দিলশাদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে' এ আশঙ্কাজনক ঘটনাটি ঘটে।

​কী ঘটেছিল শ্রেণিকক্ষে?

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ক্লাস চলাকালীন ৪্থ শ্রেণীর ছাত্রী তাওফিকা হাসনাতকে ৩ পৃষ্ঠা পড়া দেওয়া হয়। এর মধ্যে সে ২ পৃষ্ঠা পড়া বলতে পারলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সহকারী শিক্ষিকা মুন্নি আক্তার। একপর্যায়ে তিনি নিজের সাথে রাখা ডিশ লাইনের তার দিয়ে তৈরি বিশেষ বেত দিয়ে ওই ছাত্রীকে সজোরে প্রহার করতে থাকেন।

​বেত্রাঘাতের তীব্রতায় ছাত্রীটি ডেস্কেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার সহপাঠীরা হাতে পানি ঢেলে যন্ত্রণা কমানোর চেষ্টা করলেও ব্যথায় কাতরাতে থাকে সে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লেও কোনো প্রকার প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে ততক্ষণাৎ শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ২০১৫ সাল থেকে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ এক দশক এক স্থানে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। বিদ্যালয়ের সহকর্মী ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায় সময়ই সাধারণ কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। তাঁর কথাবার্তা ও আচরণেও পেশাদারিত্বের অভাব রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, শিক্ষিকা মুন্নি আক্তারের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যাও থাকতে পারে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা মুন্নি আক্তার কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

​তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সালা উদ্দিন বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সত্য। একজন সহকারী শিক্ষিকার এভাবে শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।

​উপজেলা প্রশাসন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় অভিভাবক মহল।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই