সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সমাজ সংস্কার, অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং জনগণের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতাকে সমাজের দর্পণ বা বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাংবাদিকতার প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাঠপর্যায়ে গিয়ে সত্য তথ্য খোঁজা, সংবাদ তৈরি ও সম্পাদনা করা, জনগণকে সচেতন করা, সরকার ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং গঠনমূলক মতামতের মাধ্যমে জনমত তৈরি করা।
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এই মহান পেশাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু চক্র দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে হলুদ বা অপ-সাংবাদিকতা।
যেভাবে চলছে অপ-সাংবাদিকতা
ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পেশাদার সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা না মেনেই অনেকেই কেবল একটি স্মার্টফোন হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে হাজির হচ্ছেন। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও তুলে তা ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি বা বিভিন্ন অণনুমোদিত ফেইসবুক পেজে আপলোড করা হচ্ছে। পেশাদারিত্বের লেবাস পরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূলধারার সাংবাদিকতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
অনুমোদনহীন প্রচার ও আইনি বিধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ অনুমোদন বা নিবন্ধিত গণমাধ্যমের পরিচয় ছাড়া মনগড়া সংবাদ বা তথ্য প্রচার করা শুধু অপেশাদারত্বই নয়, বরং এটি আইনগতভাবেও অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, ব্ল্যাকমেইল কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব ফেইসবুক পেজ ও আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা না থাকায় ভুক্তভোগীরাও প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
প্রয়োজন সচেতনতা ও কঠোর পদক্ষেপ
সত্যিকারের সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও মহান পেশা। কিন্তু কিছু মানুষের খামখেয়ালিপনা ও অপপ্রচারের কারণে আজ আসল সাংবাদিকরাও প্রশ্নবিদের মুখে পড়ছেন। এই অপ-সাংবাদিকতা রোধে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে এবং একই সাথে প্রশাসনকে এ ধরনের অনুমোদনহীন ও অপেশাদার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই রক্ষা পাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশার মর্যাদা।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সমাজ সংস্কার, অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং জনগণের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতাকে সমাজের দর্পণ বা বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাংবাদিকতার প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাঠপর্যায়ে গিয়ে সত্য তথ্য খোঁজা, সংবাদ তৈরি ও সম্পাদনা করা, জনগণকে সচেতন করা, সরকার ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং গঠনমূলক মতামতের মাধ্যমে জনমত তৈরি করা।
কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এই মহান পেশাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু চক্র দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছে হলুদ বা অপ-সাংবাদিকতা।
যেভাবে চলছে অপ-সাংবাদিকতা
ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পেশাদার সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা না মেনেই অনেকেই কেবল একটি স্মার্টফোন হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে হাজির হচ্ছেন। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও তুলে তা ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি বা বিভিন্ন অণনুমোদিত ফেইসবুক পেজে আপলোড করা হচ্ছে। পেশাদারিত্বের লেবাস পরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মূলধারার সাংবাদিকতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
অনুমোদনহীন প্রচার ও আইনি বিধান
বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ অনুমোদন বা নিবন্ধিত গণমাধ্যমের পরিচয় ছাড়া মনগড়া সংবাদ বা তথ্য প্রচার করা শুধু অপেশাদারত্বই নয়, বরং এটি আইনগতভাবেও অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, ব্ল্যাকমেইল কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব ফেইসবুক পেজ ও আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা না থাকায় ভুক্তভোগীরাও প্রায়ই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
প্রয়োজন সচেতনতা ও কঠোর পদক্ষেপ
সত্যিকারের সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও মহান পেশা। কিন্তু কিছু মানুষের খামখেয়ালিপনা ও অপপ্রচারের কারণে আজ আসল সাংবাদিকরাও প্রশ্নবিদের মুখে পড়ছেন। এই অপ-সাংবাদিকতা রোধে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে এবং একই সাথে প্রশাসনকে এ ধরনের অনুমোদনহীন ও অপেশাদার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই রক্ষা পাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং পেশার মর্যাদা।

আপনার মতামত লিখুন