মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

ইউনিয়ন পরিষদের গেট দখল করে ব্যবসা, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

ইউনিয়ন পরিষদের গেট দখল করে ব্যবসা, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১ নম্বর বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান প্রবেশপথের সামনের জায়গা দখল করে দোকানপাট ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিষদে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এমন দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান গেটের সামনেই বিভিন্ন দোকান, ভ্যান ও পণ্যসামগ্রী রাখা হয়েছে। এসব কারণে পরিষদে প্রবেশ ও বের হওয়ার জায়গা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের গেট দিয়ে চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসেন। কিন্তু পরিষদের প্রধান গেটের সামনেই যদি ব্যবসা পরিচালনা করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ভ্যান ও মালামাল এমনভাবে রাখা হয়, যাতে পরিষদে প্রবেশের পথ প্রায় সংকীর্ণ হয়ে যায়।


একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, প্রবেশপথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে মানুষের চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি পরিষদের সামনের পরিবেশও নোংরা হয়ে পড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ১ নম্বর বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মানছুর আহম্মদ বলেন, পরিষদের প্রধান গেটের সামনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাধিকবার সরে যেতে বলা হলেও তারা তা মানছেন না। এতে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। আগামী মাসের সভায় বিষয়টি আবারও উত্থাপন করা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, বারবার নিষেধ করার পরও একইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করায় এর পেছনে কোনো সিন্ডিকেট বা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশপথ দখল করে দিনের পর দিন কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে? কর্তৃপক্ষের নিষেধের পরও যদি ব্যবসায়ীরা সরে না যান, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টি শুধু ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নজরদারিতে আনা হোক। দ্রুত পরিষদের প্রধান গেটের সামনের জায়গা দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, জনসেবার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের প্রবেশপথই যদি দখলদারিত্বের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা গ্রহণ করবে কীভাবে? দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


ইউনিয়ন পরিষদের গেট দখল করে ব্যবসা, ভোগান্তিতে সেবাগ্রহীতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ১ নম্বর বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান প্রবেশপথের সামনের জায়গা দখল করে দোকানপাট ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিষদে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে এমন দখলদারিত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান গেটের সামনেই বিভিন্ন দোকান, ভ্যান ও পণ্যসামগ্রী রাখা হয়েছে। এসব কারণে পরিষদে প্রবেশ ও বের হওয়ার জায়গা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের গেট দিয়ে চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।


স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসেন। কিন্তু পরিষদের প্রধান গেটের সামনেই যদি ব্যবসা পরিচালনা করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ভ্যান ও মালামাল এমনভাবে রাখা হয়, যাতে পরিষদে প্রবেশের পথ প্রায় সংকীর্ণ হয়ে যায়।


একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, প্রবেশপথ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে মানুষের চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি পরিষদের সামনের পরিবেশও নোংরা হয়ে পড়ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা উচিত। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


এ বিষয়ে ১ নম্বর বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মানছুর আহম্মদ বলেন, পরিষদের প্রধান গেটের সামনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাধিকবার সরে যেতে বলা হলেও তারা তা মানছেন না। এতে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। আগামী মাসের সভায় বিষয়টি আবারও উত্থাপন করা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।


প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, বারবার নিষেধ করার পরও একইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করায় এর পেছনে কোনো সিন্ডিকেট বা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।


এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রবেশপথ দখল করে দিনের পর দিন কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে? কর্তৃপক্ষের নিষেধের পরও যদি ব্যবসায়ীরা সরে না যান, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


সচেতন নাগরিকদের দাবি, বিষয়টি শুধু ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নজরদারিতে আনা হোক। দ্রুত পরিষদের প্রধান গেটের সামনের জায়গা দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।


তাদের মতে, জনসেবার প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদের প্রবেশপথই যদি দখলদারিত্বের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা গ্রহণ করবে কীভাবে? দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান চান স্থানীয়রা।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই