বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের জয়গান সর্বজনবিদিত—স্কুলে ভর্তির হার শতভাগের কাছাকাছি, মেয়েদের অংশগ্রহণে অর্জিত হয়েছে ঈর্ষণীয় লিঙ্গসমতা, আর প্রায় প্রতিটি শিশুর বাড়ির কাছেই রয়েছে একটি বিদ্যালয়। কিন্তু এই বাহ্যিক ঝকঝকে পরিসংখ্যানের অন্তরালে, ক্লাসরুমের চার দেয়ালের ভেতরে জমে উঠেছে এক গভীর ও নীরব সংকট। লাখ লাখ শিশু প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যাগ কাঁধে স্কুলে যাচ্ছে সত্য, কিন্তু দিনশেষে তারা কিছুই শিখছে না।
আজকের বাস্তবতা হলো, আমরা কেবল ‘স্কুলে উপস্থিতি’ নিশ্চিত করেছি, ‘শিক্ষা’ দিতে পেরেছি কি না—সেই প্রশ্নটি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
‘লার্নিং পোভার্টি’: স্কুলে আছে, কিন্তু শিখছে না।
সাম্প্রতিক নানা জরিপ ও পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে শিক্ষার থমকে যাওয়া করুণ চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তথ্য বলছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৬০.৮ শতাংশেরই মৌলিক গাণিতিক কোনো দক্ষতা নেই। প্রায় ৪৯.৮ শতাংশ শিশু তাদের বয়স অনুযায়ী একটি অতি সহজ গল্প পড়ে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়। এমনকি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কথা যদি ধরা হয়, সেখানে মৌলিক পঠন দক্ষতা রয়েছে মাত্র ২৮.২ শতাংশের, আর গণিতে এই হার নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক ২০.৮ শতাংশে।
পঞ্চম শ্রেণির পাঠ চুকানোর পর যেখানে একটি শিশুর স্বাধীনভাবে লিখতে ও পড়তে পারার কথা, সেখানে মাত্র ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম পঠন মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের ১০ বছর বয়সী ৫৮ শতাংশ শিশু একটি সহজ পাঠ্য পড়ে তার অর্থ অনুধাবন করতে পারে না—প্রযুক্তি ও উন্নয়নের এই যুগে যাকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘লার্নিং পোভার্টি’ বা ‘শিক্ষা দারিদ্র্য’ হিসেবে।
নীতি ও গণমাধ্যমের আড়ালে ঢাকা পড়া কঙ্কাল
শিক্ষা খাতের পলিসি টেবিল কিংবা প্রধান সারির সংবাদমাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নতির গল্প স্থান পেলেও, পাঠদানের গুণগত ত্রুটিগুলো সব সময়ই থেকে যায় অন্তরালে।
অক্ষরজ্ঞান আছে, কিন্তু অর্থ বোঝার ক্ষমতা শূন্য: পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেও অনেক শিক্ষার্থী বাংলা বর্ণমালার সঠিক উচ্চারণ বা বাক্য পড়তে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। ইংরেজির অতি সাধারণ শব্দও তাদের কাছে অজানা।
ভুল শিখন ও প্রাক-প্রাথমিকের শূন্যতা: প্রাথমিক স্তরেই ভুল পদ্ধতিতে শেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে; যেমন—দ্বিতীয় শ্রেণিতেই বিয়োগ শেখানোর ভুল পদ্ধতি প্রবর্তন। তদুপরি, হতদরিদ্র ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিশু প্রথম শ্রেণিতে প্রবেশের আগে কোনো ছড়া, গল্প বা প্রাক-লিটারেসি পরিবেশের ছোঁয়া পায় না।
বইহীন শৈশব: পাঠ্যবই বাদে বাসায় অন্তত তিনটি অন্য বই রয়েছে—৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী মাত্র ৮.৫ শতাংশ শিশু এই সুযোগ পায়। প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষায় (ECE) ৩৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অংশগ্রহণ মাত্র ১৬.৬ শতাংশ।
প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক ও অকেজো প্রযুক্তি: প্রয়োজনীয় যোগ্যতার অভাব ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকরা ঐতিহ্যগত মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর করছেন। আর যে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষায় বিপ্লব আনার কথা বলা হয়েছিল, মাঠপর্যায়ে সেগুলোর সিংহভাগই অকার্যকর ও অযত্নে পড়ে রয়েছে।
কেন এই আবর্তে আটকে আছে প্রাথমিক শিক্ষা?
এই সংকটের মূলে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা কাঠামোগত দুর্বলতা। প্রথমত, আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো এখনো ‘মুখস্থনির্ভর’। শিশুদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি বা সমালোচনামূলক চিন্তার সুযোগ না দিয়ে তথ্য মুখস্থ করানোকেই সাফল্য ধরে নেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক স্তরেই জেঁকে বসেছে কোচিং ও গাইডবুক বাণিজ্য। মূল বই থেকে শেখে না বলে অভিভাবক ও শিক্ষক উভয়ই নোট-গাইড ও প্রাইভেট টিউশনের দিকে শিশুদের ঠেলে দিচ্ছেন।
তৃতীয়ত, আমাদের মূল্যায়ন ব্যবস্থা বা পরীক্ষা পদ্ধতি এখনো বোঝার ক্ষমতার চেয়ে তথ্য উগরে দেওয়ার ক্ষমতাকে বেশি পুরস্কৃত করে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে শিক্ষা খাতে সরকারি বাজেটের অপ্রতুলতা, শিক্ষক সংকট এবং দুর্বল অবকাঠামো।
তাহলে উত্তরণের পথ কোথায়?
সংকট যত গভীরই হোক, সমাধানের পথ ক্লাসরুম থেকেই বের করতে হবে। কেবল নতুন নীতি তৈরি করলেই চলবে না, জোর দিতে হবে বাস্তবায়নে:
১. দৈনিক ‘রিডিং আওয়ার’: প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের একটি নির্দিষ্ট পঠন ঘণ্টা (Reading Hour) বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্কুলের লাইব্রেরি ও বই পড়ার রুটিনকে কার্যকর রূপ দিতে হবে।
২. ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি ও নিউমারেসিতে নজর: প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মুখস্থের চাপ কমিয়ে বর্ণমালা, শব্দগঠন, মৌলিক যোগ-বিয়োগ ও প্যাটার্ন বোঝার ওপর শতভাগ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
৩. শিক্ষকদের গঠনমূলক প্রশিক্ষণ: মুখস্থভিত্তিক পাঠদানের সংস্কৃতি ভাঙতে শিক্ষকদের হাতে-কলমে এবং বিদ্যালয়-ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৪. মূল্যায়ন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন: পরীক্ষাগুলোতে গাইড বই বা মুখস্থ থেকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে, শিশুর বোঝা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে মূল্যায়নের ভিত্তি বানাতে হবে।
শেষ কথা
বিদ্যালয়ের দরজা পর্যন্ত শিশুদের পৌঁছে দেওয়া বা 'অ্যাক্সেস' নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু সেটি ছিল লড়াইয়ের প্রথম ধাপ। আসল লড়াইটি এখন শুরু—তা হলো 'লার্নিং' বা প্রকৃত শিখন অর্জনের লড়াই।
নীতি নির্ধারণী কাগজ কলমের সংস্কার শ্রেণিকক্ষের সাধারণ বেঞ্চটিতে বসে থাকা শিশুটির কাছে পৌঁছাবে কি না, শিক্ষক যোগ্য হয়ে উঠবেন কি না এবং শিশুটি দিনশেষে রিডিং ও গণিত শিখে বাড়ি ফিরছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরগুলোর ওপরই নির্ভর করছে আগামী বাংলাদেশের সার্বিক ভবিষ্যৎ।
মনে রাখা প্রয়োজন, “প্রতিটি শিশুরই অধিকার রয়েছে একজন সঠিক ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সান্নিধ্যে শিখে বড় হওয়ার।”
মো: সাইফুর রহমান
প্রধান শিক্ষক
পোম্বাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্যের জয়গান সর্বজনবিদিত—স্কুলে ভর্তির হার শতভাগের কাছাকাছি, মেয়েদের অংশগ্রহণে অর্জিত হয়েছে ঈর্ষণীয় লিঙ্গসমতা, আর প্রায় প্রতিটি শিশুর বাড়ির কাছেই রয়েছে একটি বিদ্যালয়। কিন্তু এই বাহ্যিক ঝকঝকে পরিসংখ্যানের অন্তরালে, ক্লাসরুমের চার দেয়ালের ভেতরে জমে উঠেছে এক গভীর ও নীরব সংকট। লাখ লাখ শিশু প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যাগ কাঁধে স্কুলে যাচ্ছে সত্য, কিন্তু দিনশেষে তারা কিছুই শিখছে না।
আজকের বাস্তবতা হলো, আমরা কেবল ‘স্কুলে উপস্থিতি’ নিশ্চিত করেছি, ‘শিক্ষা’ দিতে পেরেছি কি না—সেই প্রশ্নটি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
‘লার্নিং পোভার্টি’: স্কুলে আছে, কিন্তু শিখছে না।
সাম্প্রতিক নানা জরিপ ও পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে শিক্ষার থমকে যাওয়া করুণ চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তথ্য বলছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৬০.৮ শতাংশেরই মৌলিক গাণিতিক কোনো দক্ষতা নেই। প্রায় ৪৯.৮ শতাংশ শিশু তাদের বয়স অনুযায়ী একটি অতি সহজ গল্প পড়ে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়। এমনকি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কথা যদি ধরা হয়, সেখানে মৌলিক পঠন দক্ষতা রয়েছে মাত্র ২৮.২ শতাংশের, আর গণিতে এই হার নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক ২০.৮ শতাংশে।
পঞ্চম শ্রেণির পাঠ চুকানোর পর যেখানে একটি শিশুর স্বাধীনভাবে লিখতে ও পড়তে পারার কথা, সেখানে মাত্র ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম পঠন মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের ১০ বছর বয়সী ৫৮ শতাংশ শিশু একটি সহজ পাঠ্য পড়ে তার অর্থ অনুধাবন করতে পারে না—প্রযুক্তি ও উন্নয়নের এই যুগে যাকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘লার্নিং পোভার্টি’ বা ‘শিক্ষা দারিদ্র্য’ হিসেবে।
নীতি ও গণমাধ্যমের আড়ালে ঢাকা পড়া কঙ্কাল
শিক্ষা খাতের পলিসি টেবিল কিংবা প্রধান সারির সংবাদমাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নতির গল্প স্থান পেলেও, পাঠদানের গুণগত ত্রুটিগুলো সব সময়ই থেকে যায় অন্তরালে।
অক্ষরজ্ঞান আছে, কিন্তু অর্থ বোঝার ক্ষমতা শূন্য: পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেও অনেক শিক্ষার্থী বাংলা বর্ণমালার সঠিক উচ্চারণ বা বাক্য পড়তে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে। ইংরেজির অতি সাধারণ শব্দও তাদের কাছে অজানা।
ভুল শিখন ও প্রাক-প্রাথমিকের শূন্যতা: প্রাথমিক স্তরেই ভুল পদ্ধতিতে শেখানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে; যেমন—দ্বিতীয় শ্রেণিতেই বিয়োগ শেখানোর ভুল পদ্ধতি প্রবর্তন। তদুপরি, হতদরিদ্র ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ শিশু প্রথম শ্রেণিতে প্রবেশের আগে কোনো ছড়া, গল্প বা প্রাক-লিটারেসি পরিবেশের ছোঁয়া পায় না।
বইহীন শৈশব: পাঠ্যবই বাদে বাসায় অন্তত তিনটি অন্য বই রয়েছে—৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী মাত্র ৮.৫ শতাংশ শিশু এই সুযোগ পায়। প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষায় (ECE) ৩৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অংশগ্রহণ মাত্র ১৬.৬ শতাংশ।
প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক ও অকেজো প্রযুক্তি: প্রয়োজনীয় যোগ্যতার অভাব ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকরা ঐতিহ্যগত মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর করছেন। আর যে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষায় বিপ্লব আনার কথা বলা হয়েছিল, মাঠপর্যায়ে সেগুলোর সিংহভাগই অকার্যকর ও অযত্নে পড়ে রয়েছে।
কেন এই আবর্তে আটকে আছে প্রাথমিক শিক্ষা?
এই সংকটের মূলে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা কাঠামোগত দুর্বলতা। প্রথমত, আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো এখনো ‘মুখস্থনির্ভর’। শিশুদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি বা সমালোচনামূলক চিন্তার সুযোগ না দিয়ে তথ্য মুখস্থ করানোকেই সাফল্য ধরে নেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত, প্রাথমিক স্তরেই জেঁকে বসেছে কোচিং ও গাইডবুক বাণিজ্য। মূল বই থেকে শেখে না বলে অভিভাবক ও শিক্ষক উভয়ই নোট-গাইড ও প্রাইভেট টিউশনের দিকে শিশুদের ঠেলে দিচ্ছেন।
তৃতীয়ত, আমাদের মূল্যায়ন ব্যবস্থা বা পরীক্ষা পদ্ধতি এখনো বোঝার ক্ষমতার চেয়ে তথ্য উগরে দেওয়ার ক্ষমতাকে বেশি পুরস্কৃত করে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে শিক্ষা খাতে সরকারি বাজেটের অপ্রতুলতা, শিক্ষক সংকট এবং দুর্বল অবকাঠামো।
তাহলে উত্তরণের পথ কোথায়?
সংকট যত গভীরই হোক, সমাধানের পথ ক্লাসরুম থেকেই বের করতে হবে। কেবল নতুন নীতি তৈরি করলেই চলবে না, জোর দিতে হবে বাস্তবায়নে:
১. দৈনিক ‘রিডিং আওয়ার’: প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের একটি নির্দিষ্ট পঠন ঘণ্টা (Reading Hour) বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্কুলের লাইব্রেরি ও বই পড়ার রুটিনকে কার্যকর রূপ দিতে হবে।
২. ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি ও নিউমারেসিতে নজর: প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মুখস্থের চাপ কমিয়ে বর্ণমালা, শব্দগঠন, মৌলিক যোগ-বিয়োগ ও প্যাটার্ন বোঝার ওপর শতভাগ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
৩. শিক্ষকদের গঠনমূলক প্রশিক্ষণ: মুখস্থভিত্তিক পাঠদানের সংস্কৃতি ভাঙতে শিক্ষকদের হাতে-কলমে এবং বিদ্যালয়-ভিত্তিক ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৪. মূল্যায়ন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন: পরীক্ষাগুলোতে গাইড বই বা মুখস্থ থেকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে, শিশুর বোঝা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে মূল্যায়নের ভিত্তি বানাতে হবে।
শেষ কথা
বিদ্যালয়ের দরজা পর্যন্ত শিশুদের পৌঁছে দেওয়া বা 'অ্যাক্সেস' নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু সেটি ছিল লড়াইয়ের প্রথম ধাপ। আসল লড়াইটি এখন শুরু—তা হলো 'লার্নিং' বা প্রকৃত শিখন অর্জনের লড়াই।
নীতি নির্ধারণী কাগজ কলমের সংস্কার শ্রেণিকক্ষের সাধারণ বেঞ্চটিতে বসে থাকা শিশুটির কাছে পৌঁছাবে কি না, শিক্ষক যোগ্য হয়ে উঠবেন কি না এবং শিশুটি দিনশেষে রিডিং ও গণিত শিখে বাড়ি ফিরছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরগুলোর ওপরই নির্ভর করছে আগামী বাংলাদেশের সার্বিক ভবিষ্যৎ।
মনে রাখা প্রয়োজন, “প্রতিটি শিশুরই অধিকার রয়েছে একজন সঠিক ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সান্নিধ্যে শিখে বড় হওয়ার।”
মো: সাইফুর রহমান
প্রধান শিক্ষক
পোম্বাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন