মুক্তির লড়াই

আর্কাইভ দেখুন

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে চীনের প্রভাব বাড়ছে: পাকিস্তানি গণমাধ্যম

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে চীনের প্রভাব বাড়ছে: পাকিস্তানি গণমাধ্যম

সম্প্রতি, 'পাকিস্তান সেন্টার ফর নলেজ অ্যান্ড পাবলিক পলিসি'-এর চেয়ারম্যান মাহমুদ উল হাসান খান 'দ্য পাকিস্তান অবজারভার' পত্রিকায় "নতুন বিশ্ব বিশৃঙ্খলা: চীনের নিরাপত্তা লভ্যাংশ" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব বর্তমানে শান্তি ও অব্যাহত অস্থিতিশীলতার মাঝে এক অচলাবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে চীন তার আর্থিক সংযোগ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পশক্তির অনন্য সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। "বৈশ্বিক নিরাপত্তা লভ্যাংশ" হিসেবে চীনের ভূমিকা কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং একটি বাস্তব সত্য।প্রবন্ধটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, চীন বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন কাঠামোর নেতৃত্ব দিচ্ছে। আধুনিক বন্দর ও লজিস্টিক করিডোর দ্বারা সমর্থিত 'বেল্ট অ্যান্ড রোড' উদ্যোগ (বিআরআই) বিশ্বের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সংযোগ সমাধান প্রদান করছে। 'আরএমবি আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা'র দ্রুত উন্নয়ন বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে, যা প্রমাণ করে যে একক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে একটি বহুকেন্দ্রিক কাঠামোর দিকে সরে যাচ্ছে।প্রবন্ধটিতে বিশেষভবে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সৌর, বায়ু এবং ব্যাটারি প্রযুক্তি বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের জন্য কার্যকর ও ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সরবরাহ করছে। যে দেশগুলো এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করছে, তারা কেবল পণ্যই কিনছে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, সামর্থ্য এবং জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের ওঠানামা থেকে সুরক্ষাও নিশ্চিত করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সরবরাহ শৃঙ্খল একটি বৈশ্বিক জীবনরেখায় পরিণত হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব—উভয়কেই সমর্থন করছে।প্রবন্ধটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সমন্বিত শিল্প ইকোসিস্টেম শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে। একটি সুগঠিত সরবরাহ শৃঙ্খল, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং ধারাবাহিক নীতিগত সমর্থন—চীনকে বৈশ্বিক সংকটের সময়েও উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ বজায় রাখতে সক্ষম করেছে। এই নির্ভরযোগ্যতাই চীনকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য একটি চমৎকার গন্তব্যে পরিণত করেছে।প্রবন্ধটির সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক ব্যবস্থা, টেকসই জ্বালানি সমাধান এবং একটি স্থিতিস্থাপক শিল্প নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চীন বর্তমানের খণ্ডিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা প্রদান করছে। এটি কেবল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ঝুঁকিই হ্রাস করছে না, বরং আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলের ভিত্তিও স্থাপন করছে। তাই 'বৈশ্বিক নিরাপত্তার লভ্যাংশ' হিসেবে চীনের ভূমিকা ক্রমশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।সূত্র:লিলি-তৌহিদ-স্বর্ণা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।


ডিজিটাল কৃষি ও পর্যটনে বদলে যাচ্ছে চীনের প্রত্যন্ত গ্রাম

ডিজিটাল কৃষি ও পর্যটনে বদলে যাচ্ছে চীনের প্রত্যন্ত গ্রাম

সম্প্রতি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) তাদের ‘গ্রাম স্বীকৃতি উদ্যোগ’-এর (Villages Recognition Initiative) তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। চীনের সিছুয়ান প্রদেশের লিয়াংশান প্রিফেকচারের পাঁচটি গ্রাম— চাওচুয়ে কাউন্টির ক্লিফ গ্রাম, হুওপু গ্রাম, ও সানহে গ্রাম, ফুকে কাউন্টির চিয়াচিয়াকৌ গ্রাম এবং সিতে কাউন্টির চোংপা গ্রাম—তালিকায় স্থান পায়। একই সাথে, এই গ্রামগুলো এফএও-র জাদুঘর ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য আদর্শ মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চরম দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের উদাহরণ পর্যন্ত, এই পাঁচটি গ্রাম আট বছরে বিস্ময়কর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় এই গ্রামগুলো বিচ্ছিন্নতার প্রতীক ছিল। ক্লিফ গ্রামবাসীরা ৮০০ মিটার-উচ্চ বেতের মই দিয়ে বাইরে যেতেন; অন্যান্য গ্রামগুলোও অসুবিধাজনক পরিবহনব্যবস্থা, অপরিপক্ক বাসস্থান এবং পানীয় জলের অভাবের মতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। ২০১৮ সালের বসন্ত উত্সবের আগে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং লিয়াংশান প্রিফেকচারের দুটি গ্রামে ই জাতিগোষ্ঠির বাসিন্দাদের সাথে দেখা করেন এবং এই অঞ্চলের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেন। এরপরে এই গ্রামগুলো ও পার্শ্ববর্তী এলাকার দ্রুত উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। গ্রামগুলোর অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়ন হলো পুনরুজ্জীবনের প্রথম পর্যায়। অতীতে, পাহাড়ি রাস্তাগুলি ছিল সরু কাঁচা রাস্তা, কিন্তু এখন পাঁচটি গ্রামের প্রতিটি বাড়ি সংযোগকারী পাকা রাস্তা নির্মিত হয়েছে। পুরো গ্রামে পাওয়ার গ্রিড ও ৫-জি নেটওয়ার্কের সহায়তায়, ডিজিটাল কৃষি ও ই-কমার্স লাইভ স্ট্রিমিং গ্রামে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাসস্থানের সংস্কারে ই জাতিগোষ্ঠির বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বর্জ্যজল শোধন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও সাংস্কৃতিক স্কয়ারসহ পাব্লিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে, প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামগুলোতে শহরের মতোই জীবনযাত্রার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। গ্রামগুলোর ভিত্তির ওপর সৃষ্ট বিভিন্ন শিল্প গ্রামবাসীদের সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেয়। সানহে গ্রামে, শস্য রোপণ, গবাদি পশু ও হাঁস মুরগির পালন, এবং হোটেল নির্মাণ, বাসিন্দাদের স্থিতিশীল আয়ের উত্স; হুওফু গ্রাম গ্রিনহাউস সবজি, ব্লুবেরি এবং ফটোভোল্টাইক বিদ্যুতের উত্পাদনসহ বৈচিত্র্যময় পাঁচটি শিল্প লালন করে; ক্লিফ গ্রামের বাসিন্দারা কাউন্টিতে চলে গেলে, তাদের প্রাক্তন আবাসভূমি একটি পর্যটন এলাকায় রূপান্তরিত হয়; চিয়াচিয়াকৌ গ্রাম ও চোংপা সম্প্রদায় স্মার্ট শিল্প পার্কের মাধ্যমে অনুর্বর ভূমিকে সম্পদে রূপান্তর করেছে।  কৃষি, সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পের সমন্বয়ে পাঁচটি গ্রামের উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে। বর্তমানে, পর্যটকরা এখানে নিজেদের হাতে ই জাতিগোষ্ঠির হস্তশিল্প তৈরির অভিজ্ঞতা পেতে পারেন, এবং ই বৈশিষ্ট্যময় লোক-কার্যকলাপেও অংশ নিতে পারেন। যেসব তরুণ-তরুণী আগে শহরে কাজ করতেন, তারা গ্রামে ফিরে লাইস্ট্রিং করেন বা শিল্প-শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। বেতের মই থেকে স্টিলের মই পর্যন্ত, চরম দারিদ্র্য থেকে আন্তর্জাতিক মডেল পর্যন্ত, লিয়াংশান-এর গ্রামগুলোর বড় পরিবর্তন, চীনের গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের জীবন্ত ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি গ্রাম সর্বদাই নিজের পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিশেষ শিল্প উন্নয়ন করছে, পরিবেশ সুরক্ষার মূলনীতি বজায় রাখছে, এবং জাতিগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটাই লিয়াংশানের গ্রামের সাফল্যের মূল রহস্য এবং চীনের গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি মূল্যবান অভিজ্ঞতা।চীনের অসংখ্য গ্রামের রূপান্তর থেকে পরিমাণ করা হয় যে, যতক্ষণ আমরা আমাদের মূল আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবিচল থাকব, স্থানীয় পরিস্থিতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নেব, এবং অধ্যবসায় ও বাস্তবতার সাথে কাজ করব, ততক্ষণ সবচেয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোও পুনরুজ্জীবিত হওয়া সম্ভব। এটি বিশ্বের জন্য চীনের গ্রামের উন্নয়নের পরিকল্পনা, যা বিশ্বজুড়ে অনুন্নত অঞ্চলগুলিতে দারিদ্র্যবিমোচন, কৃষি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা, এবং টেকসই গ্রামীণ নির্মাণের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও অনুকরণযোগ্য মডেল প্রদান করে। সূত্র:অনুপমা-আলিম-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।


রাণীনগর রাতের আঁধারে গোয়াল ঘররের তালা কটে ৪টি গরু চুরি

রাণীনগর রাতের আঁধারে গোয়াল ঘররের তালা কটে ৪টি গরু চুরি

নওগাঁর রাণীনগর গোয়াল ঘরের তালা কটে চারটি গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার রাত উপজলার বিজয়কাদি গ্রামর ইয়ার আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুসের গোয়াল ঘর থেকে এই গরু চুরির ঘটনা ঘটে। গরুর মালিক আব্দুল কুদ্দুস জানান, মঙ্গলবার রাত গরুগুলা বাড়ী সংলগ গোয়াল ঘরে রেখে তালা দিয় ঘুমিয়ে পরি। সকালে ঘুম থেকে ওঠে ঘর থেক বেড় হবার সময় দেখি সয়ন ঘরের দরজার বাহীর হতে তালা দেওয়া। প্রতিবেশিদের সহায়তায় তালা খুলে বাহিরে বেড় হই। এর পর গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখতে পাই  চারটি গরুই চুরি করে নিয় গেছে। এই গরুগুলো আমার একমাত্র সম্বল। গরুগুলো চুরি হওয়ায় মানুষের থেকে ধার করে নেওয়া দেনা ও কিস্তি  কিভাবে শোধ করবো দিশেহারা হয়ে পড়েছি। গরু চারটির মূল্য আনুমানিক প্রায় তিন লাখ টাকার অধিক দাম হবে। এঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযাগ দিয়েছি।তিনি আরো বলেন, এই চোরগুলো ধরা না পড়লে বা আমার গরুগুলো পাওয়া না গেলে আমি অধিক অর্থ সংকটে পড়ে যাবো। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আপনারা দ্রুত আমার গরু গুলো খুঁজে ও ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকারিয়া মন্ডল বলেন,ঘটনা পরিদর্শনর জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।


মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনে ইউনেস্কোর সঙ্গে কাজ করবে চীন

মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গঠনে ইউনেস্কোর সঙ্গে কাজ করবে চীন

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ১২ মে, মঙ্গলবার বেইজিংয়ের গণ-মহাভবনে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ড. খালেদ এল-এনানি সাক্ষাৎ করেন।সি চিন পিং উল্লেখ করেন, ইউনেস্কো সব দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষা প্রসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বৈশ্বিক শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক শাসনে সংস্থাটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। চীন সক্রিয়ভাবে ইউনেস্কোর কাজকে সমর্থন করে। বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে ও বৈশ্বিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষ একসাথে অনেক কাজ করেছে। সকল দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য চীন ইউনেস্কোর সাথে কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করতে ইচ্ছুক।তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক লাভজনক ফলাফলের ধারা অপরিবর্তিত থাকলেও, স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা, আধিপত্যবাদ এবং একতরফাবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে; যার ফলে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। চীন সর্বদা দৃঢ়ভাবে প্রকৃত বহুপাক্ষিকতাকে সমর্থন করে, জাতিসংঘের কর্তৃত্বকে রক্ষা করে এবং বৈশ্বিক শাসনে ইউনেস্কোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে সমর্থন করে। চীন চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক, যা সকল দেশের মানুষকে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের সুফল ভাগ করে নিতে, মানবজাতির সাধারণ প্রতিবন্ধকতাগুলো আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে এবং যৌথভাবে 'মানবজাতির অভিন্ন ভাগ্যের কমিউনিটি' গঠনে সহায়তা করবে।উভয় পক্ষের উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উন্মুক্ত বিজ্ঞান এবং ডিজিটাল শিক্ষায় সহযোগিতা আরও গভীর করা। একইসাথে বিশ্ব সভ্যতার বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা, বিভিন্ন সভ্যতার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করা, 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।ইউনেস্কোর মহাপরিচালক হিসেবে প্রথমবারের মতো চীন সফর করতে পেরে এল-এনানি সম্মান প্রকাশ করেন। তিনি ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একত্রিত করে সংলাপ ও সহযোগিতার পক্ষে কাজ করতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে, সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি করতে এবং মানবসেবায় নিয়োজিত একটি ইউনেস্কো গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত ছিলেন।সূত্র:লিলি-তৌহিদ-স্বর্ণা,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।


অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল শিক্ষায় জোর দিল চীন

অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল শিক্ষায় জোর দিল চীন

পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের হাংচৌ শহরে ১১মে, সোমবার ২০২৬ বিশ্ব ডিজিটাল শিক্ষা সম্মেলনের উদ্বোধন হয়েছে। ‘এআই+ শিক্ষা: রূপান্তর, উন্নয়ন এবং শাসন’- এ প্রতিপাদ্যে শুরু হওয়া তিনের সম্মেলনের লক্ষ্য হলো একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক সংলাপ মঞ্চ তৈরি করা। এ ছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনের বিষয়ে ঐকমত্য ও নিয়মকানুনকে উৎসাহিত করাও এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য।সোমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট  হান চেং  বলেছেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং শিক্ষাক্ষেত্রে এআই’র গভীর প্রভাবকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং উচ্চমানের প্রতিভা ক্রমাগতভাবে গড়ে তোলার জন্য সকল শিক্ষাগত স্তরে ও সমগ্র সমাজজুড়ে এআই শিক্ষার প্রসারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।তিনি এ বিষয়ে চার-দফা প্রস্তাব দেন। প্রথমত, সকল পক্ষকে জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি মেনে চলতে হবে, প্রতিভা বিকাশের মূল লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে এবং এমন তরুণদের গড়ে তুলতে হবে যারা সমস্যা সমাধানে দক্ষ, আজীবন শেখার ক্ষমতা রাখে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পারদর্শী এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।দ্বিতীয়ত, অন্তর্ভুক্তিমূলকতা ও ন্যায্যতার নীতি সমুন্নত রাখতে, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং শিক্ষার সমন্বিত উন্নয়নের সুফল যেন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিতে প্রচেষ্টা চালানো উচিত।তৃতীয়ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে ‘মঙ্গলের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’বিকাশের নীতি মেনে চলা প্রয়োজন, যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিগুলো শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে সত্যিকার অর্থে সহায়তা করতে পারে।চতুর্থত, উন্মুক্ততা ও সহযোগিতামূলক উদ্ভাবন সমুন্নত রাখতে, বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে, আন্তর্জাতিক বিনিময় ও সহযোগিতা গভীরতর করতে এবং যৌথভাবে ডিজিটাল শিক্ষার সুস্থ বিকাশকে এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে হান শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশনের সাফল্য নিয়ে একটি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন তিনি।তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি


কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী যুব সংঘের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী যুব সংঘের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে “মাদক বিরোধী যুব সংঘ” নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বীরনোয়াকান্দী কোনাপাড়া গ্রামে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম।এলাকার মুরুব্বি মোঃ গোলাপ মিয়ার সভাপতিত্বে এবং মাদক বিরোধী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুবেল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংঘটনের সভাপতি সোহাগ মিয়া, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স আজিজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।বক্তারা বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব নয়। তারা তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।সভায় কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম তরুণদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এসএসসি পাসের আগে শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিপথে নিয়ে যায় এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, কটিয়াদী মডেল থানায় যোগদানের পর তিনি জানতে পারেন, এলাকায় কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কেউ ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লিটনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন, যাকে গত তিন বছরেও কেউ আটক করতে পারেনি।ওসি বলেন, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা বাইরের কেউ নয়, তারা স্থানীয়দেরই পরিচিত—কারও ভাই, কারও সন্তান। তাই শুধু পুলিশের পক্ষে একা মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক ও তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক মাসে থানায় ১২টি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে কটিয়াদীকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি বলেন, “আমার রিজিক যদি কটিয়াদীতে থাকে এবং জনগণ যদি আমাকে সহযোগিতা করে, তাহলে মাদক নির্মূল করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। আপনারা বীরনোয়াকান্দি কোনাপাড়ায় ২৭ সদস্যের মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করেছেন। একটি গ্রামে ২৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নেই, কিন্তু ২৭ জন সচেতন মানুষ এগিয়ে এসেছেন—এটাই আমাদের বড় শক্তি।”কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি যতদিন কটিয়াদীতে আছি, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস হবে না। কোনো মাদক কারবারি যদি আমাকে ‘ধর্মের বাপ’ বলেও সম্বোধন করে, তারপরও তার সঙ্গে কোনো আপস হবে না। কোনো নেতা যদি কোনো মাদক কারবারির পক্ষে তদবির করেন, সে বাংলাদেশের যত বড় নেতাই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আমি এই থানায় না-ও থাকতে পারি, কিন্তু মাদকের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না।”অনুষ্ঠানে এলাকার তরুণ, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সভা শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।


লালমনিরহাটে স্বামীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

লালমনিরহাটে স্বামীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

লালমনিরহাট পৌরসভার বাবুপাড়া এলাকায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয় (২৪) নামে ওই যুবককে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী উম্মে জান্নাত সাথীকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সময় স্ত্রী সাথীও আহত হন এবং তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বুধবার (১৩ মে) দুপুরে শহরের বাবুপাড়া এলাকার গাউছিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত হৃদয় ওই এলাকার এরশাদ হুজুরের ছেলে।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন ঘরোয়া বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে উম্মে জান্নাত সাথী প্রায় ৯ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো চাকু দিয়ে স্বামী হৃদয়ের গলায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।হৃদয়ের চিৎকার শুনে প্রথমে তার মা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ঘটনার খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো চাকুটিও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় উম্মে জান্নাত সাথীর শরীর থেকেও রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে মহিলা পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো চাকুটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


ণিজ্য ও কৌশলগত সংলাপে নতুন গতি আনতে পারে সি-ট্রাম্প বৈঠক

ণিজ্য ও কৌশলগত সংলাপে নতুন গতি আনতে পারে সি-ট্রাম্প বৈঠক

মে মাসের মাঝামাঝিতে, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য একটি শীর্ষ কূটনৈতিক অনুষ্ঠান, বিশ্বজুড়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের আমন্ত্রণে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চীনে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন। এটা হল গত অক্টোবরে বুসানের পর, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষনেতাদের মধ্যে আবার মুখোমুখি বৈঠক এবং নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। প্রেসিডেন্ট সি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন-মার্কিন সম্পর্ক এবং বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নসম্পর্কিত প্রধান বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সফরের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তিনি আসন্ন চীন সফরের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে, চীন-মার্কিন সম্পর্কের অবস্থা বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক সমাজ ব্যাপকভাবে প্রত্যাশা করে যে, চীনা ও মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক দু’দেশের সম্পর্কের ‘বড় জাহাজকে’ স্থিরভাবে সামনে এগিয়ে নিতে যাবে; উভয় দেশকে পরস্পরের সত্যিকারের অংশীদার ও বন্ধু বানাবে; এবং বিশ্বে স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতি সর্বদা চীন-মার্কিন সম্পর্কের ‘নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে কাজ করেছে। ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে, দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল ও পরিবর্তনশীল। এমন প্রেক্ষাপটে, আসন্ন সি-ট্রাম্প বৈঠক বিশ্বকে স্থিতিশীলতার সংকেত দিচ্ছে।চীন-মার্কিন সম্পর্কের এই ‘বড় জাহাজের’ মসৃণ যাত্রা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তাইওয়ান ইস্যুর যথাযথ সমাধান। এটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির বিষয়ও বটে। মার্কিন পক্ষকে বুঝতে হবে যে, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ড; চীনকে অবশ্যই নিজের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে, তাইওয়ানকে কখনও চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতি হিসেবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মোট অর্থনৈতিক আকার বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এবং পণ্যবাণিজ্যের পরিমাণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। আন্তর্জাতিক সমাজ প্রত্যাশা করছে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা চীন-মার্কিন সম্পর্কের স্থিতিশীলতার ভিত্তি ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে; বিশ্ব অর্থনীতিকে এক ‘নিশ্চয়তার বড়ি’ খাইয়ে দেবে। ২০২৫ সাল থেকে রাষ্ট্রপ্রধানদের নির্দেশনায়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনীতি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে একাধিক দফা উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা করেছে এবং এসব আলোচনা থেকে  ধারাবাহিক ইতিবাচক ফলাফলও অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, চীনে অবস্থিত আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স প্রকাশিত এক জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মার্কিন উদ্যোগগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ চীনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চীন সফরে অনেক মার্কিন কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকছেন। মানুষ আশা করছে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের দিকে ইতিবাচতক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসবে; নিজেদের মধ্যকার পার্থক্য কমিয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করবে; এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে। একটি মহাশক্তির মহত্ত্ব তার দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিহিত। বর্তমানে অব্যাহত ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, ক্রমবর্ধমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা-ঝুঁকি, জলবায়ু সংকট তীব্রতর হওয়া, জ্বালানি-সরবরাহব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, ইত্যাদির মুখে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মহাশক্তির দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বিশ্বের জন্য আরও তাত্পর্যপূর্ণ, বাস্তবসম্মত ও কল্যাণকর কাজ সম্পাদনে একসঙ্গে কাজ করবে বলে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করে। পৃথিবী যথেষ্ট বিশাল। এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিকে ধারণ করতে সক্ষম। মানুষের প্রত্যাশা, এবারের চীন-মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের বৈঠক, দু’দেশের সম্পর্কের এই ‘বড় জাহাজ’-টিকে স্থিরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে; অস্থির বিশ্বে মূল্যবান স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা যোগাবে। সূত্র:তুহিনা-আলিম-শুয়েই,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।


গান আর হাসন মিলেমিশে একাকার

গান আর হাসন মিলেমিশে একাকার

বৃটিশ ভারত আমলের লক্ষণশী পরগনা বর্তমান সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার তেঘরিয়ায় ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ২১ শে ডিসেম্বর অহিদুর রেজা দেওয়ান হাসন রাজা চৌধুরীর জন্ম। দেওয়ান হাসন রাজা নামেই বিশ্বে সমাদৃত।মরমী সাধনার অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ বেড়ে উঠেছেন বিখ্যাত জমিদার পরিবারে। ৫ লক্ষ একরেরও বেশি এলাকার জমিদার হাসন ছিলেন সত্যের পথিক, সত্যনুসন্ধ্যানী, অমায়িক,  সাদাসিধা চরিত্রের মানুষ।এত বড় জমিদার হয়েও বিলাশবিহীন কুঁড়ে ঘরই ছিল হাসনরাজার নিবাস। তাই তিনি গানে গানে লিখে গিয়েছেন তাঁর মনের গহীনে লুকানো কথা-লোকে বলে বলেরে ঘর বাড়ি ভালা না আমার,কি ঘর বানাইমু আমি শুন্যের মাজার। এছাড়াও মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দি হইয়ারে, কান্দে হাসন রাজার মন ময়নারে/বাপমৈলা, ভাইমৈলা, আরো মৈলা/বন্ধু আইলরে বন্ধু আইলরে বৈসালের বৎসর বন্ধু আইলরে/আমি যাইমুরে যাইমু আল্লার সঙ্গে, হাসনরাজার আল্লা বিনে কিছু নাহি মাঙ্গে/হিন্দুয়ে বলে তোমায় রাধা, আমি বলি খোদা/যমের দূতে আসিয়া তোমার হাতে দিবে দড়ি,টানিয়া টানিয়া লইয়া যাবে যমের বাড়ি/স্ত্রী হইল পায়ের বেড়ি পুত্র হইল খিল,কেমনে করিবে হাসন বন্ধের সনে মিল/বুঝাইলে না বুঝে মানুষ সমঝাইলে না সমঝে, দুনিয়া দুনিয়া বলে/এমন সহস্র গানের শ্রষ্টা কবি ও মরমী সাধক হাসন রাজা।হাসনরাজার গানে স্বজন হারানোর বিয়োগ ব্যথা,ক্ষনিকের জগৎ সংসারের অসারতা,দুনিয়ার ভোগবিলাসের পরিবর্তে পরলোকে গন্তব্যের ইঙ্গিত,পরম শ্রষ্টাকে পাওয়ার আকুতি,পরমাত্মার সাথে জীবাত্মার সম্পর্ক এ সব দিক গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।   যুগ্ন-সচিব বিশিষ্ট কবি,প্রাবন্ধিক, গবেষক মোঃ জেহাদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের চোখে হাসন রাজা ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দার্শনিকদের অন্যতম।তাঁর মতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাসন রাজার কয়েকটি গানের সন্ধ্যান পেয়ে থমকে গিয়ে বলেছিলেন হাসন রাজা একজন বিখ্যাত দার্শনিক। রবি ঠাকুর ১৯২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর Indian Philosophical Congress এর সভাপতির ভাষণে ১৯৩০ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘হিবার্ট লেকচার’-এ প্রদত্ত The Religion of Man শীর্ষক বক্তব্যে হাসন রাজার দর্শন তুলে ধরেছিলেন।গবেষক মোঃ জেহাদ উদ্দিন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস  করেন হাসন রাজার সহস্র সংগীতের উপর গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মরমী সাধকদের অন্যতম হাসন রাজাকে তুলে ধরা সম্ভব । তিনি আরো বলেন হাসনরাজা ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তাইতো প্রভাবশালী ইংরেজ শাসকদের সামনে বুক ফুলিয়ে বলতেন-হাসনরাজা বাঙ্গালী।মানবদরদী হাসন রাজা সেকালে বহুদাতব্য প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষালয় গড়েছিলেন জনগণের কল্যানে।সুনামগঞ্জের জুবিলী স্কুলও তাঁর গড়া প্রতিষ্ঠান। যদিও নিজের নাম দেননি কোন প্রতিষ্ঠানে।হাসন রাজা মিউজিয়াম ও ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, হাসনরাজার জীবন ও কর্ম গ্রন্থের লেখক হাসনরাজার প্রপৌত্র  সামারীন দেওয়ান জানান- হাসনরাজা বিলাসবিহীন এক জমিদার ছিলেন। পার্থিব ভোগ বিলাসের প্রতি অনীহা ছিল তাঁর। প্রচলিত জমিদারির আড়ালে নিভৃতে নিজেকে সহায় সম্বল হীন ক্ষনিকের মুসাফির হিসাবে ভাবতেন হাসন।পরম শ্রষ্টার নৈকট্যলাভের সাধনায় নিমগ্ন থেকে পাড়ি দিয়েছেন কালের খেয়া। হাসন তাঁর গানে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করেছেন।অসংখ্য ঘটনার সাথে হাসনের গানের সম্পর্ক রয়েছে।তার মতে গান বাদ দিয়ে হাসনরাজার জীবন নেই। গান আর হাসন মিলেমিশে একাকার।তিনি বলেন প্রানীকুলের প্রতি হাসনরাজার ছিল পরম মমতা। এ কারনে হাসন রাজা ২৯২টি কুড়া পাখি,৫০টি ময়না ও ২৯টি দোয়েল পাখি পোষতেন। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর ৬৭ বছর বয়সে হাসন রাজা ইন্তেকাল করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে দর্শন শাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে দীর্ঘকাল বিলাতে থাকা সামারীন দেওয়ান আক্ষেপ করে বলেন-কবি ও মরমী সাধক হাসনরাজা সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক ধারনা রয়েছে। সত্যিকার সাধক হাসনের ব্যপারে মানুষ এখনো অন্ধকারে রয়েগেছে।হাসনরাজার প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরতে ও তাঁর স্মৃতি সংরক্ষনে ১৯৬৩ খ্রিঃ হতে ক্ষুদ্র পরিসরে হাসনরাজার ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে হাসনরাজা মিউজিয়াম গড়ে তোলেন সামারীন দেওয়ান। এটি ২০০৮ সালের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মিউজিয়ামে রূপ নেয়। ১৯৬৩ সালে গোড়ারদিকে মাসে দুচারজন দর্শনার্থী আসতো।বর্তমানে প্রতিদিন দেড়শত থেকে দুইশত দর্শনার্থী আগমন ঘটে। ২০১৫ সালে হাসনরাজা মিউজিয়াম ট্রাস্ট গঠন করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠা করেন হাসন রাজা পরিষদ। তিনি আরও বলেন হাসনরাজার স্বরূপ অন্বেষণে আরো গবেষণা দরকার।


ঝিনাইদহে যুবতীর মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহে যুবতীর মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার সাদাতিয়া সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (১৯) নামের এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে তার ঘর থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত খুশি খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা। সে পাগলাকানাই মোড়ের আন্তরিক হোটেল (সাবুর হোটেল)’এ কাজ করতেন।ভাড়া বাসার মালিক বেবি খাতুন জানান, গত ১ সপ্তাহ আগে তার বাসা ভাড়া নেন খুশি খাতুন। সোহাগ হোসেন নামের রিক্সা চালক তার স্বামী বলে দাবী করেন খুশি। মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে হোটেল থেকে কাজ শেষে স্বামীর সাথে বাসায় আসে। সকালে অনেক বেলা হলেও খুশি বের না হলে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে দেখতে পান বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো আর পেছনের দরজা খোলা। তারা দরজা খুলে দেখতে পায় খুশির লাশ বিছানায় পড়ে আছে। পরে পুলিশে খবর দিয়ে তারা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে যায় বলে ধারনা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদেন্তর জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।


সিলেট জুড়ে হাওরপাড়ের কৃষকদের দীর্ঘশ্বাস

সিলেট জুড়ে হাওরপাড়ের কৃষকদের দীর্ঘশ্বাস

সিলেট জুড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হাওরপাড়ের জনপদকে বিষœ্ন করে তুলেছে। যেখানে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উৎসব, সেখানে এখন শত-শত কৃষকের কেবলই হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস। গেল এপ্রিলের শেষ দিকে- হওয়া আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে ফসলের পাশাপাশি ম্লান হয়ে গেছে বহু কৃষকের আনন্দ। সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার হাওরপাড়ে কৃষকের মনে এখন বিষœনতার ছাপ। তাদের ঘরে নেই এখন আনন্দ। এমনই এক জনপদ হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রাম। হাওরপাড়ের এই কৃষকদের চোখে-মুখে চরম দুশ্চিন্তা আর হাহাকারের ছাপ। অথচ সপ্তাহ দুয়েক পরেই ঈদুল আজহা। বছরের এই সময়টায় বোরো ধান ঘরে তোলার খুশি জোটেনি এলাকাটির হাজারো কৃষকের ভাগ্যে। আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে ফসলের পাশাপাশি ম্লান হয়ে গেছে শত শত পরিবারের ঈদের আনন্দ।উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল (৫৭) চলতি মৌসুমে মেঘার চর জমিতে ৭ হাজার টাকা দরে ইজারা নিয়ে ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করে ছিলেন। কয়েক দিন আগেও তার মাঠজুড়ে ছিল সোনালি ধান। কিন্তু উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বৃষ্টির পানিতে চোখের সামনেই তলিয়ে গেছে স্বপ্নের ফসল। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন আছিল ধান বেইচ্যা পোলাপানরে ঈদের কাপড় দিমু, ঘরে পিঠা-পায়েস অইবো। অখন ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, সামনের দিন গুলোতে পরিবার নিয়া কী খাইয়া বাঁচমু, সেই চিন্তায় চোখে ঘুম নাই। পাওনাদাররা এখনই আইসা ভিড় করতাছে। শুধু জলিল নন, উৎসবের আগমুহূর্তে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় হাওরপাড়ের জনপদকে বিষœন করে তুলেছে। যেখানে থাকার কথা ছিল আনন্দ-উৎসব, সেখানে এখন শত শত কৃষকের কেবলই হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাস।প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করে ছিলেন সদর ইউনিয়নের কৃষক উছমান মিয়া। মাত্র ২০ বিঘা ধান কাটার পরই বানের পানিতে তার ১৩০ বিঘা জমির ধান তলিয়ে যায়। শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাকি ধান কাটতে পারেননি তিনি। শিবপাশা ইউনিয়নের কৃষক কাউছার মিয়া ও কাকাইলছেও ইউনিয়নের কৃষক লুৎফর রহমানের কাছাকাছি অবস্থা। লুৎফর বলেন, ‘পানির মধ্যে থেকে কিছু ধান কাটছি, কিন্তু যা অবস্থা তাতে এই বছর সংসার চালানোই কষ্ট হবে। খড়ও জড়ো করতে পারছি না। এখন গবাদি পশুগুলোকে সারা বর্ষা কী খাওয়াব, সেই চিন্তায় আছি। শুধু হবিগঞ্জই নয়, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার হাওরপাড়েও এখনো কৃষকের কান্না।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, পচে যাওয়া ধানের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অনেক কৃষক বুকসমান পানিতে নেমে আধপাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেই ধান গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৩৩ হাজার ৯১৩ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে  গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ে ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। হাওর অঞ্চলে কৃষিজমির প্রায় ১০ দশমিক ৭৮ ভাগ বা প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে  গেছে। আনুমানিক ২ লাখ ১৩ হাজার টন বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুই লক্ষাধিক কৃষক সরাসরি দুর্যোগের শিকার হয়েছেন। কৃষকের জন্য বোরো ধানই বছরের একমাত্র আয়ের উৎস।তথ্য মতে, এবার অতিবৃষ্টি ও আগাম বন্যায় সাতটি হাওর জেলায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জ জেলা। সুনামগঞ্জে ১৪ হাজার ৩৭১ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যায় পানিতে।  দেখার হাওর ও করচার হাওর এলাকায় পড়েছে এসব জমি। কিশোরগঞ্জে প্রায় ১৩ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে যায়। ইটনা, অষ্টগ্রাম, নিকলি, মিঠামইন, তাড়াইল এবং করিমগঞ্জ উপজেলার হাওরের জমিগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। নেত্রকোনার ১১ হাজার ৫২২ হেক্টরের বেশি জমির ধান ক্ষতি হয়েছে। খালিয়াজুড়ি, মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, বারহাট্টা, আটপাড়া এবং কেন্দুয়া এলাকার জমি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেদির হাওরের বিস্তীর্ণ  বোরো ক্ষেত তলিয়ে গেছে। মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এবং কাওয়াদীঘি হাওর ও কুলাউড়ার ভুকশিমইল ইউনিয়নের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিকেএসপি কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে মানবপাচার, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) তায়কোয়ানডো বিভাগের কোচ মোঃ রাশিদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের আড়ালে নারী পাচার, উদীয়মান খেলোয়াড়দের অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রতারণার পাহাড়সমান অভিযোগ উঠেছে। গত অক্টোবর ২০২৪-এ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত "The Global Think Tank Summit"-এ তায়কোয়ানডো সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে তাজনূর আক্তার ও ফারজানা জান্নাত রুমা নামের দুই নারীকে সাথে নিয়ে গিয়ে সেখানে অবৈধভাবে রেখে আসার মাধ্যমে তিনি সরাসরি মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই কোচ নিজেই কোরিয়ার আয়োজক কমিটির কাছে লিখিত চিঠিতে ওই দুই নারীর অবৈধ অবস্থানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা দালিলিক প্রমাণ হিসেবে বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। কেবল বিদেশে লোক পাচারই নয়, আন্তর্জাতিক'কুক্কিয়ন ড্যান' সার্টিফিকেট পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ জন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সর্বমোট ৭১,৪৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার দাবি, টাকা নেওয়ার পর তিনি সনদ প্রদান করেননি এবং টাকা ফেরত চাইলে তাদের সাথে চরম অপেশাদার ও অশালীন আচরণ করেন।মোঃ রাশিদুল হাসানের অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তিনি তায়কোয়ানডো ইউনিয়নের  সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নানের ডিজিটাল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২ লক্ষ ১৪ হাজার টাকা বকেয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনে। এই জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবং অপরাধের দায়ভার থেকে বাঁচতে মোঃ আব্দুল মান্নান ০৮ই মার্চ ২০২৬ইং তারিখে এবং মুমিত হাসান ১১ই মে ২০২৬ইং তারিখে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, বিকেএসপির একজন স্থায়ী বেতনভুক্ত কোচ হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই 'বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ইউনিয়ন'-এর নীতিনির্ধারণী পদ টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান পদবি ব্যবহার করে তিনি চাকুরির শৃঙ্খলা বিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। বর্তমানে এই সকল অপকর্মের নথিপত্র তায়কোয়ানডো ফেডারেশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় মোঃ রাশিদুল হাসান কে ফেডারেশন থেকে ১বছর আগেই বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়গুলি জানার পরে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন বিকেএসপি কোচের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের মর্যাদা ধুলিসাৎ করছে এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।


পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছেন খালেদা জিয়া ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছেন খালেদা জিয়া ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ

দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবইয়ে এক বিশাল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ‘ইতিহাস’ এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে এই ঐতিহাসিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে দীর্ঘদিনের আংশিক বা বিতর্কিত ইতিহাসের অবসান ঘটিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।পড়ুয়ারা জানবে ‘আপসহীন’ খালেদা জিয়ার অবদানএই সংস্কারের অন্যতম আলোচিত দিক হলো—সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০-পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষ করে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণে তাঁর ঐতিহাসিক অবদান এখন থেকে নতুন প্রজন্মের পাঠ্যতালিকায় স্থান পাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তরণ বুঝতে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ করা অপরিহার্য।৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ২০২৪পাঠ্যবইয়ে এবার গুরুত্বের সাথে ফিরছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর ঐতিহাসিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি দীর্ঘ সময় পাঠ্যসূচিতে অনুপস্থিত ছিল। এর পাশাপাশি সমসাময়িক ইতিহাসের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, এর প্রভাব এবং আন্দোলনের বীরত্বগাথাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ইতিহাস সচেতনতা তৈরি করবে।ইতিহাসের পাতায় সম্রাট গোপাল থেকে জিয়াউর রহমানবিজিএস বইয়ে এবার ইতিহাসের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে। যেখানে প্রাচীন বাংলার সম্রাট গোপাল (পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা) থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পর্যন্ত ১০-১২ জন ক্ষণজন্মা পুরুষের জীবনী ও অবদান বর্ণনা করা হবে। এই তালিকায় সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী ও রাজনৈতিক দর্শনও স্থান পাচ্ছে।ভারী বোঝা কমিয়ে ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা লার্নিং জয়এনসিটিবি কেবল তথ্য পরিবর্তন নয়, বরং পাঠ্যবইয়ের উপস্থাপনা ও ভাষাতেও আমূল পরিবর্তন আনছে। বর্তমানের জটিল ও মুখস্থনির্ভর পদ্ধতির বদলে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণা প্রবর্তন করা হচ্ছে। অপ্রাসঙ্গিক ও কঠিন তথ্যের চাপ কমিয়ে ভাষাকে করা হচ্ছে সহজবোধ্য ও প্রাণবন্ত। এ বিষয়ে এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানান, লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার চাপে পিষ্ট না হয়ে আনন্দের সাথে দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও বাস্তবতা শিখতে পারে।লক্ষ্য: জানুয়ারি ২০২৭-এর নতুন বইএনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, পরিমার্জন ও সম্পাদনার কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলমান। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সকল কাজ শেষ করে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে এই বস্তুনিষ্ঠ ও পরিমার্জিত বইগুলো তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল একটি পাঠ্যবই সংস্কার নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক সত্যকে কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার একটি প্রয়াস।


পাথরঘাটায় ৬ বছরের শিশু অপহরণ: মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

পাথরঘাটায় ৬ বছরের শিশু অপহরণ: মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

বরগুনার পাথরঘাটায় ৬ বছরের এক শিশু কন্যাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও মামলা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল এবং অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাথরঘাটা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।মামলার বাদী মো. আনোয়ার (৬৮) উপজেলার পূর্ব কালমেঘা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪, পাথরঘাটায় দায়ের করা নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কৃষি কাজের কথা বলে বসবাস করছিল এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ধর্মীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করে তারা বাদীর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করে। পরে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাদের শিশু পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে সন্দেহ করা হয়।এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা মাঠে মুগডাল তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তার ৬ বছরের মেয়ে মোসা. ইতি মনি ওরফে হাজেরা বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন জানান, অভিযুক্ত সেলিম খন্দকার ও তার স্ত্রী শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের দিকে যেতে দেখা গেছে।পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, শিশুটিকে জামাকাপড় কিনে দেওয়ার জন্য বাজারে নেওয়া হয়েছে এবং কিছুক্ষণ পর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুটিকে বাড়িতে না ফেরানোয় পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।বাদী আনোয়ার অভিযোগ করেন, ঘটনার পরপরই তিনি পাথরঘাটা থানায় গিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ অপহরণকারীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ছাড়া মামলা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। এমনকি অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর সচল থাকার তথ্য দেওয়ার পরও পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পরও থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) না নেওয়ায় আমরা চরম হতাশ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”পরদিন স্বজনদের নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরাও তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এদিকে পরিবারের দাবি, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে চলে যায়।মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্তদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ হলে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।এ ঘটনায় মো. সেলিম খন্দকার, তার স্ত্রী পল্লী বেগম ও সানজিদা বেগমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৬৪(ক), ৩৮৫ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।আদালতের বিচারক মো. পনির শেখ অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দেন। পরে পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অপহৃত শিশু ইতি মনি ওরফে হাজেরাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, শিশু অপহরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা জরুরি। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


বরুড়ায় কিশোর লাবিবকে নৃশংস ভাবে হত্যার চেষ্টা, আটক দুই

বরুড়ায় কিশোর লাবিবকে নৃশংস ভাবে হত্যার চেষ্টা, আটক দুই

তালের শাঁসের বাম্পার ফলন বরুড়ায়, খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

তালের শাঁসের বাম্পার ফলন বরুড়ায়, খুশি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

ডিবি পুলিশের পোষাক পড়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বরুড়ায় গ্রেফতার ৮

ডিবি পুলিশের পোষাক পড়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বরুড়ায় গ্রেফতার ৮

কটিয়াদীতে প্রবাসীর স্ত্রীর চোখ-মুখ বেঁধে লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

কটিয়াদীতে প্রবাসীর স্ত্রীর চোখ-মুখ বেঁধে লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

প্রধানমন্ত্রীর বরুড়া আগমন উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের নির্দেশনায় মাঠে নামলেন নেতাকর্মীরা!

প্রধানমন্ত্রীর বরুড়া আগমন উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের নির্দেশনায় মাঠে নামলেন নেতাকর্মীরা!

রামপুরায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার কণ্ঠশিল্পী শায়রিন

রামপুরায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার কণ্ঠশিল্পী শায়রিন

উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন জয়ন্তি ভৌমিক

উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষিকা নির্বাচিত হয়েছেন জয়ন্তি ভৌমিক

রাণীনগরে বিশেষ অভিযানে ৭জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার

রাণীনগরে বিশেষ অভিযানে ৭জন গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার

কিশোরগঞ্জে মঙ্গলবাড়িয়ার সুস্বাদু লিচু রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে

কিশোরগঞ্জে মঙ্গলবাড়িয়ার সুস্বাদু লিচু রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে

জনগণ চাইলে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ গঠন করা হবে.. প্রধানমন্ত্রী

জনগণ চাইলে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ গঠন করা হবে.. প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতি থেকে প্রযুক্তি-২০টির বেশি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী দুই নেতা

রাজনীতি থেকে প্রযুক্তি-২০টির বেশি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী দুই নেতা

 আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় যৌথ ভূমিকার বার্তা দিল চীন ও পাকিস্তান

আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় যৌথ ভূমিকার বার্তা দিল চীন ও পাকিস্তান

চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করতে চান ইউনেস্কো প্রধান খালেদ আল-আনানি

চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করতে চান ইউনেস্কো প্রধান খালেদ আল-আনানি

বিশ্ব অর্থনীতির মন্থরতায় এশিয়া-প্যাসিফিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে এপেক

বিশ্ব অর্থনীতির মন্থরতায় এশিয়া-প্যাসিফিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে এপেক

ঈদের আগে বেতন-বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, সোনারগাঁয়ে ৮ কিমি যানজটে জনদুর্ভোগ

ঈদের আগে বেতন-বোনাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ, সোনারগাঁয়ে ৮ কিমি যানজটে জনদুর্ভোগ

লাব্বাইক ধ্বনিতে কাঁপছে আরাফাত: ১৬ লাখ মুসল্লির অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

লাব্বাইক ধ্বনিতে কাঁপছে আরাফাত: ১৬ লাখ মুসল্লির অশ্রুসিক্ত প্রার্থনায় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

ধরণী মাস্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ধরণী মাস্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ডুবাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনায় বুড়িচংয়ের প্রবাসী নুরে আলমের মৃত্যু

ডুবাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনায় বুড়িচংয়ের প্রবাসী নুরে আলমের মৃত্যু

বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে মাঠে নিয়ে ধর্ষণ

বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ৭১ বছরের বৃদ্ধাকে মাঠে নিয়ে ধর্ষণ

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী