ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাবলা মাথাভাঙ্গা গ্রামে গড়ে উঠেছে মানবতার এক অনন্য উদাহরণ। লাগবে না এক টাকাও। ভাঙ্গাচুরা একটি মসজিদ। আর ঠিক পাশেই প্রাকৃতিক স্নিগ্ধ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রম হোটেল। মসজিদে নামাজ আদায় করলে মিলছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খাবার।
এখানে নেই লাভ-লোকসানের হিসাব, নেই লাভের চিন্তা। বরং মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই হলো তার আনন্দ। একজন মানুষ যিনি আল্লাহর ঘরের জন্য দান করেছেন। সেই জমির উপরই নির্মাণ করেছেন একটি সাধারন মসজিদ।
মসজিদের পাশে খোলা আকাশের নিচেয় বাশের চরাটের উপর তার হোটেল। শুধু তাই নয়, কেউ যদি টাকা দিতে অপারগতা হন, তবুও তাকে বিনা খরচে খাবার দেওয়া হয়। আর যারা সামথর্য অনুযায়ী দিতে পারেন, তাদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। এই হোটেলে মাত্র ৩০ টাকায় আনলিমিটেড খিচুড়ি ও ডিম ভাজি, ৪০ টাকায় মাংসসহ খিচুড়ি এবং ৭০ টাকায় পেট ভরে বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় গরু কিংবা পোল্ট্রির মাংসও পরিবেশন করা হয়। পথচারী, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এখানে খাবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফ্রী দেওয়া হয়। এই মানবিক উদ্যোগের উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ মন্ডল একজন সাধারণ মানুষ। নিজের জমিতে মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন এই ‘মানবতার হোটেল’। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে নিজ হাতে রান্না করা থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন এবং পরিষ্কারের কাজও তিনি নিজেই করেন। কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল মজিদ মন্ডল। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলে তার হৃদযন্ত্রে ব্লক ধরা পড়ে। তবে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে তিনি আরও দৃঢ় মনোবলে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার বিশ্বাস, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই তাকে নতুন জীবন দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে ‘পাগল’ বললেও, তাতে তিনি দমে যাননি। বরং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মানবিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তবে এসবের বিষয়ে পরিবারে বঁাধা আসে কিন্তু তার পরেও তিনি থেমে যাননি। এলাকাবাসীর মতে, আব্দুল মজিদ মন্ডল এই উদ্যোগ শুধু একটি দৃষ্টান্তই নয়, বরং মানবতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার মসজিদে এলাকার এক মোয়াজ্জেম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ফ্রী ইমামতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এখন গ্রামবাসীও তার কাজে সহযোগীতা করেন।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাবলা মাথাভাঙ্গা গ্রামে গড়ে উঠেছে মানবতার এক অনন্য উদাহরণ। লাগবে না এক টাকাও। ভাঙ্গাচুরা একটি মসজিদ। আর ঠিক পাশেই প্রাকৃতিক স্নিগ্ধ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রম হোটেল। মসজিদে নামাজ আদায় করলে মিলছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খাবার।
এখানে নেই লাভ-লোকসানের হিসাব, নেই লাভের চিন্তা। বরং মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়াই হলো তার আনন্দ। একজন মানুষ যিনি আল্লাহর ঘরের জন্য দান করেছেন। সেই জমির উপরই নির্মাণ করেছেন একটি সাধারন মসজিদ।
মসজিদের পাশে খোলা আকাশের নিচেয় বাশের চরাটের উপর তার হোটেল। শুধু তাই নয়, কেউ যদি টাকা দিতে অপারগতা হন, তবুও তাকে বিনা খরচে খাবার দেওয়া হয়। আর যারা সামথর্য অনুযায়ী দিতে পারেন, তাদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। এই হোটেলে মাত্র ৩০ টাকায় আনলিমিটেড খিচুড়ি ও ডিম ভাজি, ৪০ টাকায় মাংসসহ খিচুড়ি এবং ৭০ টাকায় পেট ভরে বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনেক সময় গরু কিংবা পোল্ট্রির মাংসও পরিবেশন করা হয়। পথচারী, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এখানে খাবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফ্রী দেওয়া হয়। এই মানবিক উদ্যোগের উদ্যোক্তা আব্দুল মজিদ মন্ডল একজন সাধারণ মানুষ। নিজের জমিতে মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন এই ‘মানবতার হোটেল’। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে নিজ হাতে রান্না করা থেকে শুরু করে খাবার পরিবেশন এবং পরিষ্কারের কাজও তিনি নিজেই করেন। কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুল মজিদ মন্ডল। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলে তার হৃদযন্ত্রে ব্লক ধরা পড়ে। তবে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে তিনি আরও দৃঢ় মনোবলে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তার বিশ্বাস, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই তাকে নতুন জীবন দিয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে ‘পাগল’ বললেও, তাতে তিনি দমে যাননি। বরং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মানবিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তবে এসবের বিষয়ে পরিবারে বঁাধা আসে কিন্তু তার পরেও তিনি থেমে যাননি। এলাকাবাসীর মতে, আব্দুল মজিদ মন্ডল এই উদ্যোগ শুধু একটি দৃষ্টান্তই নয়, বরং মানবতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তার মসজিদে এলাকার এক মোয়াজ্জেম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ফ্রী ইমামতি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এখন গ্রামবাসীও তার কাজে সহযোগীতা করেন।

আপনার মতামত লিখুন