মুক্তির লড়াই

মতামত

শহীদ জিয়া: স্বাধীনতার ঘোষক থেকে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি

শহীদ জিয়া: স্বাধীনতার ঘোষক থেকে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি

​বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এমন এক নাম, যা সংকটে সাহস আর আঁধারে আলোকবর্তিকার সমার্থক। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ জাতি যখন এক দিশেহারা ও নেতৃত্বহীন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, তখন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর বজ্রকণ্ঠের স্বাধীনতার ঘোষণা নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়েছিল। সেই ঘোষণা কেবল একটি বার্তা ছিল না; বরং তা ছিল মুক্তিকামী জনতার সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা।

​রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের আবাহন: 

​স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে যখন চরম অব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দুর্নীতির করাল গ্রাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তখন রাষ্ট্রকাঠামো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। বিশ্বদরবারে নবজাতক বাংলাদেশ পরিচিতি পায় এক ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ ও মানুষের স্বার্থে হাল ধরেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান।

​স্বনির্ভরতার স্বপ্ন ও আধুনিক বাংলাদেশ:

​জিয়াউর রহমান কেবল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাই ফিরিয়ে আনেননি, বরং ভিক্ষুক জাতির অপবাদ ঘুচিয়ে একটি ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশের’ ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নেয়:

​অর্থনৈতিক বিপ্লব: মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন এবং বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে তিনি এক গতিশীল অর্থনীতির সূচনা করেন।

​উৎপাদনের রাজনীতি: ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ ও কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেন।

​আন্তর্জাতিক মর্যাদা: তিনি মুসলিম বিশ্বের সাথে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC)-এর স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

​ইতিহাসের ধ্রুবতারা:

​যিনি যুদ্ধের ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তিনি সেই একই নিষ্ঠা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামোকে পুনর্গঠন করে এক আধুনিক ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশের ভিত গড়ে দেওয়ার কারণে তিনি আজ ইতিহাসের ধ্রুবতারা।

​"দেশ ও জনগণের স্বার্থে যিনি প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।"

​মর্মান্তিক বিদায় ও অবিনশ্বর আদর্শ:

​১৯৮১ সালের ৩০শে মে ভোরের আলো ফোটার আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল পথভ্রষ্ট সেনাসদস্যের নির্মম বুলেটে শাহাদাতবরণ করেন এই মহান নেতা। ঘাতকের বুলেটে তাঁর নশ্বর দেহ স্তব্ধ হলেও তাঁর আদর্শ, উন্নয়ন ও দেশপ্রেমের চেতনাকে মুছে ফেলা যায়নি।

​আজ এই শোকাবহ দিনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


শহীদ জিয়া: স্বাধীনতার ঘোষক থেকে আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

​বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এমন এক নাম, যা সংকটে সাহস আর আঁধারে আলোকবর্তিকার সমার্থক। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ জাতি যখন এক দিশেহারা ও নেতৃত্বহীন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, তখন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর বজ্রকণ্ঠের স্বাধীনতার ঘোষণা নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়েছিল। সেই ঘোষণা কেবল একটি বার্তা ছিল না; বরং তা ছিল মুক্তিকামী জনতার সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা।


​রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের আবাহন: 

​স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে যখন চরম অব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দুর্নীতির করাল গ্রাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তখন রাষ্ট্রকাঠামো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। বিশ্বদরবারে নবজাতক বাংলাদেশ পরিচিতি পায় এক ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ ও মানুষের স্বার্থে হাল ধরেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান।


​স্বনির্ভরতার স্বপ্ন ও আধুনিক বাংলাদেশ:


​জিয়াউর রহমান কেবল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাই ফিরিয়ে আনেননি, বরং ভিক্ষুক জাতির অপবাদ ঘুচিয়ে একটি ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশের’ ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নেয়:


​অর্থনৈতিক বিপ্লব: মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন এবং বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে তিনি এক গতিশীল অর্থনীতির সূচনা করেন।


​উৎপাদনের রাজনীতি: ‘খাল কাটা কর্মসূচি’ ও কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেন।


​আন্তর্জাতিক মর্যাদা: তিনি মুসলিম বিশ্বের সাথে ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেন এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC)-এর স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।


​ইতিহাসের ধ্রুবতারা:


​যিনি যুদ্ধের ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশপ্রেমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তিনি সেই একই নিষ্ঠা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামোকে পুনর্গঠন করে এক আধুনিক ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশের ভিত গড়ে দেওয়ার কারণে তিনি আজ ইতিহাসের ধ্রুবতারা।


​"দেশ ও জনগণের স্বার্থে যিনি প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।"


​মর্মান্তিক বিদায় ও অবিনশ্বর আদর্শ:


​১৯৮১ সালের ৩০শে মে ভোরের আলো ফোটার আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল পথভ্রষ্ট সেনাসদস্যের নির্মম বুলেটে শাহাদাতবরণ করেন এই মহান নেতা। ঘাতকের বুলেটে তাঁর নশ্বর দেহ স্তব্ধ হলেও তাঁর আদর্শ, উন্নয়ন ও দেশপ্রেমের চেতনাকে মুছে ফেলা যায়নি।


​আজ এই শোকাবহ দিনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই