নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন আজ উত্তরাঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অধিকাংশ ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও রোগীরা স্টেশনটিতে সকল ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছেন।
জানা যায়, বৃহত্তর নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। শুধু নওগাঁর রানীনগর ও আত্রাই নয়, রাজশাহীর বাগমারা, নাটোরের সিংড়া ও নলডাঙ্গা, বগুড়ার নন্দীগ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।
প্রতিদিন শত শত মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে- ঢাকায় যাতায়াত করেন। বর্তমানে ঢাকাগামী মোট ৯টি আন্তঃনগর ট্রেন এই স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করলেও যাত্রাবিরতি রয়েছে মাত্র দুটি ট্রেনের— নীলসাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস। অথচ চিলাহাটি এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস এবং বুড়িমারী এক্সপ্রেস যাত্রী না নিয়েই স্টেশন অতিক্রম করে চলে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুটি ট্রেনের সীমিত আসনের কারণে অধিকাংশ সময় টিকিট পাওয়া যায় না। ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাস বা অন্যান্য পরিবহন ব্যবহার করেন, আবার অনেকে জরুরি কাজ থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় যেতে পারেন না। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীরা! চাকরিরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থী, সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা চাকরির পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও টিকিট সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো অনেক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অপরদিকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর হাসপাতালমুখী রোগী ও তাদের স্বজনদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকার ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, চাল, ধান, সবজি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষ নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন। পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা মকবুল হোসেন (৭০) তিনি আফসোস করে বলেন, আহসানগঞ্জ স্টেশন শুধু একটি রেলস্টেশন নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সেতুবন্ধন। যাত্রীসংখ্যা ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকেও স্টেশনটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তারপরও প্রয়োজনীয় যাত্রাবিরতি না থাকায় মানুষ প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে এই স্টেশন থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়, যা আশপাশের অনেক স্টেশনের তুলনায় অনেক বেশি।
অথচ সেই তুলনায় যাত্রীসেবার মান ও ট্রেনের যাত্রাবিরতি বৃদ্ধি পায়নি। ফলে স্থানীয়দের দাবি, যাত্রীচাহিদা, রাজস্ব আয় এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্টেশনটিতে আরও কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া সময়ের দাবি।
স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতে, আহসানগঞ্জ স্টেশনে সকল ঢাকা গামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু করা হলে যাত্রীচাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এতে নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর ও বগুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে জানান ।
নওগাঁ-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন,
আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকাগামী সকল ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি চালু হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি:
ট্রেন আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ছুটে যায়, অথচ প্রয়োজনের সময় আমরা সেই ট্রেনে উঠতে পারি না"— এই আক্ষেপ আজ শুধু একজন মানুষের নয়, বরং আহসানগঞ্জ ও আশপাশের লাখো মানুষের হৃদয়ের কথা।
উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করে। তাই শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও জনসেবার বৃহত্তর স্বার্থে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সকল ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এখন সময়ের ন্যায্য, যৌক্তিক ও গণমানুষের প্রাণের দাবি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরে পাবে।

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন আজ উত্তরাঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে অধিকাংশ ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় প্রতিদিন সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও রোগীরা স্টেশনটিতে সকল ঢাকাগামী ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছেন।
জানা যায়, বৃহত্তর নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। শুধু নওগাঁর রানীনগর ও আত্রাই নয়, রাজশাহীর বাগমারা, নাটোরের সিংড়া ও নলডাঙ্গা, বগুড়ার নন্দীগ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।
প্রতিদিন শত শত মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে- ঢাকায় যাতায়াত করেন। বর্তমানে ঢাকাগামী মোট ৯টি আন্তঃনগর ট্রেন এই স্টেশনের ওপর দিয়ে চলাচল করলেও যাত্রাবিরতি রয়েছে মাত্র দুটি ট্রেনের— নীলসাগর এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস। অথচ চিলাহাটি এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস এবং বুড়িমারী এক্সপ্রেস যাত্রী না নিয়েই স্টেশন অতিক্রম করে চলে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুটি ট্রেনের সীমিত আসনের কারণে অধিকাংশ সময় টিকিট পাওয়া যায় না। ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাস বা অন্যান্য পরিবহন ব্যবহার করেন, আবার অনেকে জরুরি কাজ থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় যেতে পারেন না। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীরা! চাকরিরত কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থী, সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
শিক্ষার্থীরা জানান, ভর্তি পরীক্ষা কিংবা চাকরির পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও টিকিট সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় পৌঁছানো অনেক সময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অপরদিকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর হাসপাতালমুখী রোগী ও তাদের স্বজনদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকার ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য, চাল, ধান, সবজি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষ নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন। পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দারা মকবুল হোসেন (৭০) তিনি আফসোস করে বলেন, আহসানগঞ্জ স্টেশন শুধু একটি রেলস্টেশন নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সেতুবন্ধন। যাত্রীসংখ্যা ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকেও স্টেশনটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তারপরও প্রয়োজনীয় যাত্রাবিরতি না থাকায় মানুষ প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে এই স্টেশন থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়, যা আশপাশের অনেক স্টেশনের তুলনায় অনেক বেশি।
অথচ সেই তুলনায় যাত্রীসেবার মান ও ট্রেনের যাত্রাবিরতি বৃদ্ধি পায়নি। ফলে স্থানীয়দের দাবি, যাত্রীচাহিদা, রাজস্ব আয় এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় স্টেশনটিতে আরও কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া সময়ের দাবি।
স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতে, আহসানগঞ্জ স্টেশনে সকল ঢাকা গামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু করা হলে যাত্রীচাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এতে নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর ও বগুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে জানান ।
নওগাঁ-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন,
আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি এ অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকাগামী সকল ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি চালু হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি:
ট্রেন আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ছুটে যায়, অথচ প্রয়োজনের সময় আমরা সেই ট্রেনে উঠতে পারি না"— এই আক্ষেপ আজ শুধু একজন মানুষের নয়, বরং আহসানগঞ্জ ও আশপাশের লাখো মানুষের হৃদয়ের কথা।
উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করে। তাই শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও জনসেবার বৃহত্তর স্বার্থে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সকল ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এখন সময়ের ন্যায্য, যৌক্তিক ও গণমানুষের প্রাণের দাবি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরে পাবে।

আপনার মতামত লিখুন