হাকিকুল ইসলাম খোকন : গত মঙ্গলবার,৯ ই জুন ২০২৬, বিকাল সাড়ে ৭টায় নিউইয়র্ক এর জ্যামাইকা ষ্টার কাবাব রেষ্টুরেন্টে ,নিউক্লিয়াস ও বিএলএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ,স্বাধীন বাংলার অন্যতম রুপকার , সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধের প্সংগঠক সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় প্রয়ান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খবর আইবিএননিউজ ।সভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজুল আলম খান সৃতি পরিষদ নিউইয়র্কের সভাপতি ডা:মুজিবুল হক। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দীন।
সভার শুরুতে মরহুমের সৃতির প্রতি এবং ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন,১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ,১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট,৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাসহ আজ পর্যন্ত সকল গনতন্ত্রীন আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ,সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাঈদ তারেক ,এডভোকেট মুজিবুর রহমান,বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস,লিগ্যাল কনসালটেন্ট এডভোকেট মুজিবুর রহমান,অধ্যাপক ও কলামিস্ট হুসনে আরা,বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ,সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন,জেএসএফ সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কবি ছালেহা ইসলাম,অধ্যাপক শেখ মিজান ,আজিজুর রহমান ,এম আব্দুল কাদের,দীপন গাজী ,এম নজরুল ইসলাম , আবুল হোসেন ,, আব্দুর রহিমপ্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।
বক্তারা সিরাজুল আলম খানের ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে বলেন ,তিনি একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংক শাস্ত্রে অনার্স পাশ করলেও সেই সময় " কনভেকশোনেল মুভমেন্টে "যোগদানের কারণে কারাবরণ ওবিশ্ববিদ্যালয় এবং হল থেকে বহিষ্কার করায় মাষ্টার্স সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ছিল অসীম লেখাপড়া। সে কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিতেন। তিনি ছিলেন আজীবন দেশের মানুষ ও জনগণের জন্য একজন নিবেদিত প্রান পুরুষ।১৯৬৩ সালের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের পর তিনি আর কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেননি। কিন্তু মূল সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সারাজীবন ছিলেন একজন অগ্রসর রাষ্ট্র চিন্তা শীল ব্যক্তি। যে কারনে ই '৬৩ সালেই আব্দুর রাজ্জাক , কাজী আরেফ আহমদকে নিয়ে স্বাধীন বাংলার নিউক্লিয়াস গঠন করেন। এবং তাদের নেতৃত্বেই '৬৬সালের ছয় দফা ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান ,,এবং ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের সময় বি এল এফ গঠন করে শসস্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছিলেন। তাদের চিন্তার কারনেই পাকিস্তানের আপোষকামী ধারা থেকে বেরিয়ে বাংগালীর মুক্তির জন্য আলাদা রাষ্ট্র করেন। এবং সাম্য ,গনতন্ত্র,সামাজিক ন্যায় বিচার,ও মূল্যবোধ ইত্যাদি সংযোজন করে মুজিব নগর সরকারের পক্ষথেকে "ডিকলারেশন অব ইনডিপেনডেন্স "ঘোষনা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর মানুষের আশা আকাংখা বাস্তবায়নের জন্য বৃটিশ ভাবধারার দুর্নীতিবাজ আমলা তন্ত্রের পরিবর্তে দেশ গড়ার অংগিকার নিয়ে একটি বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করে ছিলেন। কিন্তু বংগবন্ধু ,, আওয়ামী লীগ সে দিন ,সিরাজুল আলম খান সহ তরুন মেধাবী ও সাহসী যুক্তিযোদ্ধাদের কথা না শুনে বৃটিশ ,,পাকিস্থানের সেই প্রশাসন দিয়ে ই দেশ শাসন শুরু করলেন। বরং যারা এই প্রস্তাবনা করেন ,তারাই বংগবন্ধুর বিরাগভাজন হন। যে কারনেই ৭২সালের ৩১ অক্টোবর জাসদের জন্ম হয়। পথহারা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ,,এবং জাসদের অস্থির রাজনীতির কারনে ই স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পরে ও দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। সিংগাপুর ,মালয়েশিয়া সহ পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হওয়ার পর ও অনেক উন্নত। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে ,,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ,ইতিহাস ,ন্যুনতম প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দিয়ে ৭১ এর পরাজিত শত্রুরা ক্ষমতায় আসার পায়তারা করছে। আমাদের মধ্যে অনৈক্য ভূল চিন্তাধারা ,রাষ্ট্রপরিচালনায় চরম ব্যার্থতার ঘুষ,দুর্নীতি ,রাষ্ট্রের সম্পত্তি লুটপাট ,ব্যাংকের টাকা বিদেশে টাকা পাচারের মাধ্যমে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
রাষ্ট্র চিন্তাবিধ সিরাজুল আলম খান জাতীর স্বার্থে বিভিন্ন সময় লেখনীর মাধ্যমে জাতির দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতাশীনদের বুঝতে অসুবিধে ,, অথবা হীনমন্যতার কারনে তার চিন্তা ধারাকে আমলে নেওয়া হয়নি। তা' নাহলে নব্বইয়ের দশকে প্রথম দিকে তিনি ,রাষ্ট্র কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা সম্বলিত ১৪ দফা কর্মসূচি প্রনয়ন করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জাতীয় সংসদে দু কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ,(৩০০+২০০ মোট ৫০০ আসনের )।
রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ,সংবিধানের ৭০ ধারা সহ কালা কানুন বাতিল করে সংবিধান সংস্কার ,,বাংলাদেশকে ৭/৯ টি প্রদেশে বিভক্ত করে আমলাতন্ত্র মুক্ত ,নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা দেশ পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচন কালীন সরকার ,স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন ,স্থায়ী জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন ,মাইক্রো ক্রেডিট ,,এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য সিরাজুল আলম খানের প্রস্তাবনা পয়তাল্লিশ বছর আগে ছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নাম না বলে (দাদার)কিছু দফার আলোচনা ও করলেও কিন্তু বর্তমান বি এন পি সরকার তা বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ নিবে বলে মনে হয় না। এই সরকার সেই পুরনো পথেই হাটছে। তাদের সুবিধাজনক ভাবে রাষ্ট্রকে জনগণের শোষণ ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকার জন্য যা করার সব কিছুরই পদক্ষেপ নিচ্ছে ।
মানুষ ভূলের উর্ধ্বে নয়। সিরাজুল আলম খান ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু আমরা জাতির স্বার্থে তার জীবনের ভালো দিক গুলো আলোচনা ও বাস্তবায়নের উদ্দোগে নিতে পারি। তিনি জীবনে কখনো ভোগের রাজনীতি করেন নাই। জাতীর সামনে ত্যাগের রাজনীতির এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। ঢাকার সাধারণ একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যু বরন করেন। তার কোন বাড়ি ,গাড়ি ,ব্যাংক একাউন্ট ,পরিবার উত্তরাধিকার ,কিছু ই রেখে যাননি। রেখে গেছেন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ । তার অছিয়ত অনুযায়ী ,"কোন শোক সভা নয় ,পূষ্পমাল্য বা শহীদ মিনারে লাশের ডিসপ্লে নয় , মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনারও চাননি। শুধু মায়ের একটা সাদা শাড়ি দিয়ে মুড়ে গ্রামের বাড়িতে ম/ বাবার কবরের পাশে যেন পুতে দেওয়া হয় "।
তাই হয়েছে। এইসব ক্ষনজন্মা মানুষের ইতিহাস আমাদের স্কুল ,কলেজ, পাট্য পুস্তকে সংযোজন করা একান্ত জরুরী। তবে ই আগামী প্রজন্ম খাটি দেশ প্রেমিক হয়ে গড়ে উঠবে ।
সভায় সর্ব সম্মতি ক্রমে ,বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোহাম্মদ মতিউর রহমান কে সভাপতি এবং হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন কে সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজুল আলম খান সৃতি পরিষদ,,নিউইয়র্ক।
আগামী দুই বছরের জন্য কমিটি গঠন করা হয়।
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি করা হয়।সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লায়ন এডভোকেট মতিউর রহমানকে সভাপতি ও জেএসএফ সংগঠক হাজী আনোয়ান হোসেন লিটনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় আগামী দুই বছরের জন্য এবং দূত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আহ্বান জানানো হয় ।নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাপসনিউজকে জানান তারা অতিশিগগিরই নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবেন ।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
হাকিকুল ইসলাম খোকন : গত মঙ্গলবার,৯ ই জুন ২০২৬, বিকাল সাড়ে ৭টায় নিউইয়র্ক এর জ্যামাইকা ষ্টার কাবাব রেষ্টুরেন্টে ,নিউক্লিয়াস ও বিএলএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ,স্বাধীন বাংলার অন্যতম রুপকার , সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধের প্সংগঠক সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় প্রয়ান দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। খবর আইবিএননিউজ ।সভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজুল আলম খান সৃতি পরিষদ নিউইয়র্কের সভাপতি ডা:মুজিবুল হক। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দীন।
সভার শুরুতে মরহুমের সৃতির প্রতি এবং ১৯৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন,১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ,১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট,৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাসহ আজ পর্যন্ত সকল গনতন্ত্রীন আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান ,সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাঈদ তারেক ,এডভোকেট মুজিবুর রহমান,বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস,লিগ্যাল কনসালটেন্ট এডভোকেট মুজিবুর রহমান,অধ্যাপক ও কলামিস্ট হুসনে আরা,বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান ,সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন,জেএসএফ সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কবি ছালেহা ইসলাম,অধ্যাপক শেখ মিজান ,আজিজুর রহমান ,এম আব্দুল কাদের,দীপন গাজী ,এম নজরুল ইসলাম , আবুল হোসেন ,, আব্দুর রহিমপ্রমুখ নেতৃবৃন্দ ।
বক্তারা সিরাজুল আলম খানের ব্যক্তি জীবন সম্পর্কে বলেন ,তিনি একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংক শাস্ত্রে অনার্স পাশ করলেও সেই সময় " কনভেকশোনেল মুভমেন্টে "যোগদানের কারণে কারাবরণ ওবিশ্ববিদ্যালয় এবং হল থেকে বহিষ্কার করায় মাষ্টার্স সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজনীতি ও সমাজ বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ছিল অসীম লেখাপড়া। সে কারনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানিত শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিতেন। তিনি ছিলেন আজীবন দেশের মানুষ ও জনগণের জন্য একজন নিবেদিত প্রান পুরুষ।১৯৬৩ সালের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদের পর তিনি আর কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেননি। কিন্তু মূল সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি সারাজীবন ছিলেন একজন অগ্রসর রাষ্ট্র চিন্তা শীল ব্যক্তি। যে কারনে ই '৬৩ সালেই আব্দুর রাজ্জাক , কাজী আরেফ আহমদকে নিয়ে স্বাধীন বাংলার নিউক্লিয়াস গঠন করেন। এবং তাদের নেতৃত্বেই '৬৬সালের ছয় দফা ৬৯ এর গন অভ্যুত্থান ,,এবং ৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের সময় বি এল এফ গঠন করে শসস্র যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছিলেন। তাদের চিন্তার কারনেই পাকিস্তানের আপোষকামী ধারা থেকে বেরিয়ে বাংগালীর মুক্তির জন্য আলাদা রাষ্ট্র করেন। এবং সাম্য ,গনতন্ত্র,সামাজিক ন্যায় বিচার,ও মূল্যবোধ ইত্যাদি সংযোজন করে মুজিব নগর সরকারের পক্ষথেকে "ডিকলারেশন অব ইনডিপেনডেন্স "ঘোষনা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর মানুষের আশা আকাংখা বাস্তবায়নের জন্য বৃটিশ ভাবধারার দুর্নীতিবাজ আমলা তন্ত্রের পরিবর্তে দেশ গড়ার অংগিকার নিয়ে একটি বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করে ছিলেন। কিন্তু বংগবন্ধু ,, আওয়ামী লীগ সে দিন ,সিরাজুল আলম খান সহ তরুন মেধাবী ও সাহসী যুক্তিযোদ্ধাদের কথা না শুনে বৃটিশ ,,পাকিস্থানের সেই প্রশাসন দিয়ে ই দেশ শাসন শুরু করলেন। বরং যারা এই প্রস্তাবনা করেন ,তারাই বংগবন্ধুর বিরাগভাজন হন। যে কারনেই ৭২সালের ৩১ অক্টোবর জাসদের জন্ম হয়। পথহারা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ,,এবং জাসদের অস্থির রাজনীতির কারনে ই স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পরে ও দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। সিংগাপুর ,মালয়েশিয়া সহ পৃথিবীর অনেক দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হওয়ার পর ও অনেক উন্নত। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে ,,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ,ইতিহাস ,ন্যুনতম প্রতিষ্ঠা হয়নি। বরং ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দিয়ে ৭১ এর পরাজিত শত্রুরা ক্ষমতায় আসার পায়তারা করছে। আমাদের মধ্যে অনৈক্য ভূল চিন্তাধারা ,রাষ্ট্রপরিচালনায় চরম ব্যার্থতার ঘুষ,দুর্নীতি ,রাষ্ট্রের সম্পত্তি লুটপাট ,ব্যাংকের টাকা বিদেশে টাকা পাচারের মাধ্যমে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
রাষ্ট্র চিন্তাবিধ সিরাজুল আলম খান জাতীর স্বার্থে বিভিন্ন সময় লেখনীর মাধ্যমে জাতির দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতাশীনদের বুঝতে অসুবিধে ,, অথবা হীনমন্যতার কারনে তার চিন্তা ধারাকে আমলে নেওয়া হয়নি। তা' নাহলে নব্বইয়ের দশকে প্রথম দিকে তিনি ,রাষ্ট্র কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা সম্বলিত ১৪ দফা কর্মসূচি প্রনয়ন করেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল জাতীয় সংসদে দু কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ,(৩০০+২০০ মোট ৫০০ আসনের )।
রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ,সংবিধানের ৭০ ধারা সহ কালা কানুন বাতিল করে সংবিধান সংস্কার ,,বাংলাদেশকে ৭/৯ টি প্রদেশে বিভক্ত করে আমলাতন্ত্র মুক্ত ,নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা দেশ পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচন কালীন সরকার ,স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন ,স্থায়ী জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন ,মাইক্রো ক্রেডিট ,,এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য সিরাজুল আলম খানের প্রস্তাবনা পয়তাল্লিশ বছর আগে ছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নাম না বলে (দাদার)কিছু দফার আলোচনা ও করলেও কিন্তু বর্তমান বি এন পি সরকার তা বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ নিবে বলে মনে হয় না। এই সরকার সেই পুরনো পথেই হাটছে। তাদের সুবিধাজনক ভাবে রাষ্ট্রকে জনগণের শোষণ ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে চিরস্থায়ী ক্ষমতায় থাকার জন্য যা করার সব কিছুরই পদক্ষেপ নিচ্ছে ।
মানুষ ভূলের উর্ধ্বে নয়। সিরাজুল আলম খান ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু আমরা জাতির স্বার্থে তার জীবনের ভালো দিক গুলো আলোচনা ও বাস্তবায়নের উদ্দোগে নিতে পারি। তিনি জীবনে কখনো ভোগের রাজনীতি করেন নাই। জাতীর সামনে ত্যাগের রাজনীতির এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন। ঢাকার সাধারণ একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যু বরন করেন। তার কোন বাড়ি ,গাড়ি ,ব্যাংক একাউন্ট ,পরিবার উত্তরাধিকার ,কিছু ই রেখে যাননি। রেখে গেছেন বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ । তার অছিয়ত অনুযায়ী ,"কোন শোক সভা নয় ,পূষ্পমাল্য বা শহীদ মিনারে লাশের ডিসপ্লে নয় , মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনারও চাননি। শুধু মায়ের একটা সাদা শাড়ি দিয়ে মুড়ে গ্রামের বাড়িতে ম/ বাবার কবরের পাশে যেন পুতে দেওয়া হয় "।
তাই হয়েছে। এইসব ক্ষনজন্মা মানুষের ইতিহাস আমাদের স্কুল ,কলেজ, পাট্য পুস্তকে সংযোজন করা একান্ত জরুরী। তবে ই আগামী প্রজন্ম খাটি দেশ প্রেমিক হয়ে গড়ে উঠবে ।
সভায় সর্ব সম্মতি ক্রমে ,বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোহাম্মদ মতিউর রহমান কে সভাপতি এবং হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন কে সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট সিরাজুল আলম খান সৃতি পরিষদ,,নিউইয়র্ক।
আগামী দুই বছরের জন্য কমিটি গঠন করা হয়।
সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি করা হয়।সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লায়ন এডভোকেট মতিউর রহমানকে সভাপতি ও জেএসএফ সংগঠক হাজী আনোয়ান হোসেন লিটনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় আগামী দুই বছরের জন্য এবং দূত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আহ্বান জানানো হয় ।নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাপসনিউজকে জানান তারা অতিশিগগিরই নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবেন ।

আপনার মতামত লিখুন