মুক্তির লড়াই

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করান নিজের জমিতে

হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থলীর কাজ করানো এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিন্মমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে  লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 


➡️ হাজিরা দিয়ে চেম্বারে না থেকে চলে যান মাঠে। 

➡ডাক্তারের জমিতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে করান কাজ। 

➡️ যাতায়াতে সব সময় ব্যবহার করেন বিক্রয় প্রতিনিধির গাড়ি। 

➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিরোধের নিকট থেকে গিফট ও উৎকোচ গ্রহণ। 

➡️ হাসপাতালে বসে ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ঔষধ লিখেন। 

➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে মাঠে ও ব্যক্তিগত কাজ করানোর মধ্য দিয়ে অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ডাক্তার। 

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জোভেনটেক লাইফ  সাইন্স নামক ঔষধ কোম্পানির উপজেলা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মারুফ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে আসেন ডাক্তার অরুন। এরপর  প্রশাসনিক ভবনে থাকা পাঞ্চ মেশিনে ৮.৩০ মিনিটে  হাজিরা দিয়ে একই মোটরসাইকেল উঠে চলে যান হাসপাতাল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিজের জমিতে। সেখানে গিয়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যা ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ করান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে নিজের জমিতে ও ব্যক্তিগত নানা কাজ করান। যার প্রমান হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পাওয়া যাবে। কিং ফার্মা নামে আরেকটি ওষুধ কোম্পানির এম পি ও মেহেদী হাসানকেও তিনি একইভাবে ব্যক্তিগত কাজে লাগান। এমনকি হাসপাতালে নিজের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় সামলানোর কাজও এই বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি করে থাকেন। 

এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা তার কৃষিকাজ সহ গৃহস্থলীর কাজ করে থাকেন। প্রতিদানস্বরূপ তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং নিন্মমানের কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন, যা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয় কাছের কিছু বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ডাঃ অরুন কুমার দাস। 


নিয়মিত অফিস ফাকি দিয়ে এভাবে চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব দেখেন না। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অরুন কুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই  প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমনটি আমি নিয়মিত করি না। বিশেষ কারনে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছি। ভুল হয়েছে, আর কখনো যাবো না। 


অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে বিক্রয় কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর  বিষয়ে  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাব।

ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষটি আমি জানতে পেরেছি,খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থলীর কাজ করানো এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিন্মমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে  লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 


➡️ হাজিরা দিয়ে চেম্বারে না থেকে চলে যান মাঠে। 

➡ডাক্তারের জমিতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে করান কাজ। 

➡️ যাতায়াতে সব সময় ব্যবহার করেন বিক্রয় প্রতিনিধির গাড়ি। 

➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিরোধের নিকট থেকে গিফট ও উৎকোচ গ্রহণ। 

➡️ হাসপাতালে বসে ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ঔষধ লিখেন। 

➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে মাঠে ও ব্যক্তিগত কাজ করানোর মধ্য দিয়ে অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ডাক্তার। 


বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জোভেনটেক লাইফ  সাইন্স নামক ঔষধ কোম্পানির উপজেলা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মারুফ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে আসেন ডাক্তার অরুন। এরপর  প্রশাসনিক ভবনে থাকা পাঞ্চ মেশিনে ৮.৩০ মিনিটে  হাজিরা দিয়ে একই মোটরসাইকেল উঠে চলে যান হাসপাতাল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিজের জমিতে। সেখানে গিয়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যা ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ করান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে নিজের জমিতে ও ব্যক্তিগত নানা কাজ করান। যার প্রমান হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পাওয়া যাবে। কিং ফার্মা নামে আরেকটি ওষুধ কোম্পানির এম পি ও মেহেদী হাসানকেও তিনি একইভাবে ব্যক্তিগত কাজে লাগান। এমনকি হাসপাতালে নিজের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় সামলানোর কাজও এই বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি করে থাকেন। 

এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা তার কৃষিকাজ সহ গৃহস্থলীর কাজ করে থাকেন। প্রতিদানস্বরূপ তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং নিন্মমানের কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন, যা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয় কাছের কিছু বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ডাঃ অরুন কুমার দাস। 


নিয়মিত অফিস ফাকি দিয়ে এভাবে চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব দেখেন না। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অরুন কুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই  প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমনটি আমি নিয়মিত করি না। বিশেষ কারনে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছি। ভুল হয়েছে, আর কখনো যাবো না। 


অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে বিক্রয় কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর  বিষয়ে  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাব।


ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষটি আমি জানতে পেরেছি,খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।




মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই