বেইজিংয়ে তৃতীয় চীন-মার্কিন ট্র্যাক ১.৫ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত এ সংলাপে চীনের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং মার্কিন এশিয়া সোসাইটির বোর্ডের সহসভাপতি জন এল. থর্নটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও ব্যবসায়িক মহলের প্রায় ৪০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
চীন-মার্কিন ট্র্যাক ১.৫ সংলাপের যাত্রা শুরু ২০২৩ সালে। এটি সরকারি আনুষ্ঠানিক কূটনীতি বা ‘ট্র্যাক ১’ এবং সম্পূর্ণ বেসরকারি কূটনীতি বা ‘ট্র্যাক ২’-এর মধ্যবর্তী একটি যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, কৌশলগত, ব্যবসায়িক, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ও বিভিন্ন সামাজিক মহলের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গঠনমূলক চীন-মার্কিন কৌশলগত স্থিতিশীলতার নতুন কাঠামো নিয়ে আরও ঐকমত্যে পৌঁছাতে দুই পক্ষের বাস্তব ফলাফলভিত্তিক প্রচেষ্টা চালানো উচিত।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সংলাপে বলেন, বর্তমানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের নেতাদের মধ্যে অর্জিত ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাণিজ্য, কূটনীতি, সামরিক বিষয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে বিনিময় ও যোগাযোগ বজায় রাখছে। এর ফলে দুই দেশের উন্নয়নের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সাল চীন-মার্কিন সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দুই বৃহৎ দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময়ের সঠিক পদ্ধতি খুঁজে বের করতে ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। দুই পক্ষের উচিত দুই দেশের নেতাদের মধ্যে অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়ন করা, যোগাযোগ ও সংলাপ জোরদার করা এবং যৌথভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
মার্কিন এশিয়া সোসাইটির বোর্ডের সহসভাপতি জন এল. থর্নটন বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চীন-মার্কিন গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার ধারণা প্রস্তাব করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ধারণাকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, এটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের জন্য একটি নির্দেশক কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।
সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষও এই কাঠামোর যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হবে।
চীন-মার্কিন ট্র্যাক ২ এআই সংলাপের মার্কিন প্রধান আলোচক ক্রেগ মুন্ডি বলেন, এই ট্র্যাক ১.৫ সংলাপ একটি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া দুই পক্ষই নতুন কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহযোগিতামূলক উদ্যোগ খুঁজছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউএস-চায়না বিজনেস কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি ক্রেইগ বি. অ্যালেন বলেন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সবসময়ই চীন-মার্কিন সম্পর্কের একটি মৌলিক অংশ। প্রযুক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ যৌথ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে আরও গভীর হবে। তাঁর মতে, বিচ্ছিন্নতা হলে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কোনো পক্ষই এর ব্যয় বহন করতে পারবে না।
সম্প্রতি চীনের বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আরও জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এআই ইকোসিস্টেমের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার চাপ দেওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, এআই থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন ঝুঁকি যৌথভাবে মোকাবিলার মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করা।
নিক্সন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ক্রিস্টোফার নিক্সন কক্স বলেন, সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্দিষ্ট ‘স্যান্ডবক্স’ বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে ব্যবহারের অনেক ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়, তাহলে মানবতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: অনুপমা-ফয়সল-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
বেইজিংয়ে তৃতীয় চীন-মার্কিন ট্র্যাক ১.৫ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত এ সংলাপে চীনের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় সরকার, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং মার্কিন এশিয়া সোসাইটির বোর্ডের সহসভাপতি জন এল. থর্নটনসহ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও ব্যবসায়িক মহলের প্রায় ৪০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
চীন-মার্কিন ট্র্যাক ১.৫ সংলাপের যাত্রা শুরু ২০২৩ সালে। এটি সরকারি আনুষ্ঠানিক কূটনীতি বা ‘ট্র্যাক ১’ এবং সম্পূর্ণ বেসরকারি কূটনীতি বা ‘ট্র্যাক ২’-এর মধ্যবর্তী একটি যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, কৌশলগত, ব্যবসায়িক, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ও বিভিন্ন সামাজিক মহলের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গঠনমূলক চীন-মার্কিন কৌশলগত স্থিতিশীলতার নতুন কাঠামো নিয়ে আরও ঐকমত্যে পৌঁছাতে দুই পক্ষের বাস্তব ফলাফলভিত্তিক প্রচেষ্টা চালানো উচিত।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সংলাপে বলেন, বর্তমানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের নেতাদের মধ্যে অর্জিত ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাণিজ্য, কূটনীতি, সামরিক বিষয়, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে বিনিময় ও যোগাযোগ বজায় রাখছে। এর ফলে দুই দেশের উন্নয়নের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সাল চীন-মার্কিন সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দুই বৃহৎ দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময়ের সঠিক পদ্ধতি খুঁজে বের করতে ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, চীন-মার্কিন সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। দুই পক্ষের উচিত দুই দেশের নেতাদের মধ্যে অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়ন করা, যোগাযোগ ও সংলাপ জোরদার করা এবং যৌথভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
মার্কিন এশিয়া সোসাইটির বোর্ডের সহসভাপতি জন এল. থর্নটন বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চীন-মার্কিন গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার ধারণা প্রস্তাব করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই ধারণাকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, এটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের জন্য একটি নির্দেশক কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।
সংলাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষও এই কাঠামোর যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে বলে তিনি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হবে।
চীন-মার্কিন ট্র্যাক ২ এআই সংলাপের মার্কিন প্রধান আলোচক ক্রেগ মুন্ডি বলেন, এই ট্র্যাক ১.৫ সংলাপ একটি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া দুই পক্ষই নতুন কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহযোগিতামূলক উদ্যোগ খুঁজছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউএস-চায়না বিজনেস কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি ক্রেইগ বি. অ্যালেন বলেন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সবসময়ই চীন-মার্কিন সম্পর্কের একটি মৌলিক অংশ। প্রযুক্তিগত আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ যৌথ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতার পরিবর্তে আরও গভীর হবে। তাঁর মতে, বিচ্ছিন্নতা হলে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কোনো পক্ষই এর ব্যয় বহন করতে পারবে না।
সম্প্রতি চীনের বৃহৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আরও জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এআই ইকোসিস্টেমের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার চাপ দেওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বলেন, এআই থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন ঝুঁকি যৌথভাবে মোকাবিলার মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ করা।
নিক্সন ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ক্রিস্টোফার নিক্সন কক্স বলেন, সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্দিষ্ট ‘স্যান্ডবক্স’ বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে ব্যবহারের অনেক ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়, তাহলে মানবতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: অনুপমা-ফয়সল-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

আপনার মতামত লিখুন