মুক্তির লড়াই

রাজনীতি

আমি বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না

মৃত্যুই তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছে!

মৃত্যুই তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছে!

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’— নির্বাচনী মাঠে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সামনে এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় চিরতরে বিদায় নিলেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার দিনভর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ নম্বর শুহিলপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শোডাউন ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। কিন্তু কে জানত, সেই শোডাউন আর জয়সূচক বক্তব্যই হবে তাঁর জীবনের শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি!

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শালিখা গ্রামে নানার বাড়ি থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক এই সহ-সভাপতি। দুই শতাধিক মোটরসাইকেল ও অর্ধশত সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে এলাকায় সুবিশাল শোডাউন করেন তিনি। পরে শালিখা গ্রামের অলিগলিতে হেঁটে ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ ও কুশল বিনিময় করেন।


পরিবারের সদস্যরা জানান, দিনভর প্রচারণা শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান খোকন। রাত ১২টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাঁর মেজো ছেলে মো. সাঈদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা সারাদিন প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। রাতে সুস্থভাবেই বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বুক ব্যথায় সব শেষ হয়ে গেল।’

বিএনপি নেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি লেখেন, ‘মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে গ্রহণ করতে হবে এটি চিরন্তন সত্য, তবে কিছু মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। সাইফুল ইসলাম খোকন কাকার অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মহান আল্লাহ উনার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে বেহেশত নসীব করুন।’

এক রাতের ব্যবধানে প্রিয় রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়ে স্তব্ধ পুরো শুহিলপুর। যে প্রার্থী কয়েক ঘণ্টা আগেও নির্বাচনী ময়দানে পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে ।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মৃত্যুই তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিয়েছে!

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’— নির্বাচনী মাঠে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সামনে এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় চিরতরে বিদায় নিলেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম খোকন।


সোমবার দিনভর আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ নম্বর শুহিলপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শোডাউন ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। কিন্তু কে জানত, সেই শোডাউন আর জয়সূচক বক্তব্যই হবে তাঁর জীবনের শেষ রাজনৈতিক কর্মসূচি!


স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শালিখা গ্রামে নানার বাড়ি থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক এই সহ-সভাপতি। দুই শতাধিক মোটরসাইকেল ও অর্ধশত সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে এলাকায় সুবিশাল শোডাউন করেন তিনি। পরে শালিখা গ্রামের অলিগলিতে হেঁটে ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ ও কুশল বিনিময় করেন।


পরিবারের সদস্যরা জানান, দিনভর প্রচারণা শেষ করে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান খোকন। রাত ১২টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।


মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাঁর মেজো ছেলে মো. সাঈদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা সারাদিন প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। রাতে সুস্থভাবেই বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বুক ব্যথায় সব শেষ হয়ে গেল।’


বিএনপি নেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি লেখেন, ‘মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে গ্রহণ করতে হবে এটি চিরন্তন সত্য, তবে কিছু মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। সাইফুল ইসলাম খোকন কাকার অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মহান আল্লাহ উনার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে বেহেশত নসীব করুন।’


এক রাতের ব্যবধানে প্রিয় রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়ে স্তব্ধ পুরো শুহিলপুর। যে প্রার্থী কয়েক ঘণ্টা আগেও নির্বাচনী ময়দানে পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন, তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে ।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই