মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

লালমনিরহাটে এসিডদগ্ধে গৃহবধূর মৃত্যু! আসামী গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

লালমনিরহাটে এসিডদগ্ধে গৃহবধূর মৃত্যু! আসামী গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

গোপনাঙ্গে এসিডদগ্ধের শিকার গৃহবধূ আমেনা খাতুন (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয় বছর পর মারা গেছেন। গত ২১ আগস্ট' রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে পুনরায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও প্রধান আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় রাস্তায় নেমে এসেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

বুধবার নিহত আমেনার পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আসামীকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন। লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ অংশ গ্রহন করেন।

মানববন্ধনে নিহত আমেনার মা জাহানারা বেগম, নানা লোকমান হাকিম, ভাই জাকির হোসেন, এলাকাবাসী মহুবার রহমান, আওয়াল ইমন, স্বপ্না রানী রায়, লালমনিরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড মহিলাদলের সভাপতি স্বপ্না আক্তার, সাধারণ সম্পাদক নাসিমা ইয়াসমিন প্রমূখ বক্তব্য দেন।


বক্তারা বলেন, আমেনাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। শেষে গোপন অঙ্গে এসিড ঢেলে দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও এসিড ঢেলে দেওয়া স্থানে ক্যান্সার হয়। দীর্ঘ নয় বছর পর গত ২১ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমেনা বেগমের মৃত্যু হয়। এটা একটি অমানবিক কাজ। এটা একটি সভ্য সমাজ কখনো মেনে নিতে পারে না। তারা প্রধান আসামী আফজাল হোসেন আপনসহ অন্যান্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও  ফাঁসির দাবী জানান।

মানববন্ধনে নিহত আমেনার ভাই জাকির হোসেন বলেন, নয় বছর আগে তাঁর বোন আমেনা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার আফজাল হোসেন আপনের সঙ্গে। বিয়ের পর যৌতুকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। বোনকে করা হতো শারিরীক নির্যাতন । 

এমনকি যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে শশুরবাড়ীতে আমেনার বসতঘরের শয়নকক্ষে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেয় স্বামী। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হন। পরে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও দীর্ঘ নয় বছরেও বিচার কাজ শেষ হয়নি। তবে এ মামলার প্রধান আসামী আফজাল হোসেন আপনের  মা আছিয়া বেগমকে গ্রেফতার করলেও বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।

নিহত আমেনার ভাই জাকির আরো বলেন, গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বোনের মৃত্যু হয়। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।

মানববন্ধনে নিহত গৃহবধূর আমেনার মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এসিড ঢেলে দেওয়ার কারনে গোপন অঙ্গে ঘা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরেও মেয়ে আমেনার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১২ আগস্ট তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মেয়ে মারা যায়। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।


এবিষয়ে, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল সাকিব সজিব জানান, হাসপাতালে ওই গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। মামলার প্রধান আসামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লালমনিরহাটে এসিডদগ্ধে গৃহবধূর মৃত্যু! আসামী গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গোপনাঙ্গে এসিডদগ্ধের শিকার গৃহবধূ আমেনা খাতুন (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নয় বছর পর মারা গেছেন। গত ২১ আগস্ট' রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে পুনরায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও প্রধান আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় রাস্তায় নেমে এসেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।


বুধবার নিহত আমেনার পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আসামীকে গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন করেছেন। লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ অংশ গ্রহন করেন।


মানববন্ধনে নিহত আমেনার মা জাহানারা বেগম, নানা লোকমান হাকিম, ভাই জাকির হোসেন, এলাকাবাসী মহুবার রহমান, আওয়াল ইমন, স্বপ্না রানী রায়, লালমনিরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড মহিলাদলের সভাপতি স্বপ্না আক্তার, সাধারণ সম্পাদক নাসিমা ইয়াসমিন প্রমূখ বক্তব্য দেন।


বক্তারা বলেন, আমেনাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। শেষে গোপন অঙ্গে এসিড ঢেলে দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও এসিড ঢেলে দেওয়া স্থানে ক্যান্সার হয়। দীর্ঘ নয় বছর পর গত ২১ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমেনা বেগমের মৃত্যু হয়। এটা একটি অমানবিক কাজ। এটা একটি সভ্য সমাজ কখনো মেনে নিতে পারে না। তারা প্রধান আসামী আফজাল হোসেন আপনসহ অন্যান্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও  ফাঁসির দাবী জানান।


মানববন্ধনে নিহত আমেনার ভাই জাকির হোসেন বলেন, নয় বছর আগে তাঁর বোন আমেনা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী এলাকার আফজাল হোসেন আপনের সঙ্গে। বিয়ের পর যৌতুকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। বোনকে করা হতো শারিরীক নির্যাতন । 


এমনকি যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে শশুরবাড়ীতে আমেনার বসতঘরের শয়নকক্ষে তাঁর গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেয় স্বামী। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হন। পরে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলেও দীর্ঘ নয় বছরেও বিচার কাজ শেষ হয়নি। তবে এ মামলার প্রধান আসামী আফজাল হোসেন আপনের  মা আছিয়া বেগমকে গ্রেফতার করলেও বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।


নিহত আমেনার ভাই জাকির আরো বলেন, গত ২১ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বোনের মৃত্যু হয়। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।

মানববন্ধনে নিহত গৃহবধূর আমেনার মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। এসিড ঢেলে দেওয়ার কারনে গোপন অঙ্গে ঘা হয়েছিলো। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরেও মেয়ে আমেনার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১২ আগস্ট তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মেয়ে মারা যায়। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই।


এবিষয়ে, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল সাকিব সজিব জানান, হাসপাতালে ওই গৃহবধূ মৃত্যুর ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। মামলার প্রধান আসামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই