মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

নীলফামারীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির সমাবেশ

নীলফামারীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির সমাবেশ

দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, প্রতি দলিলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নীলফামারীতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, নীলফামারী জেলা শাখা।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী সরকার। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।



সভাপতির বক্তব্যে মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, দলিল লেখকদের দাবির বিষয়ে এর আগেও সমাবেশ করা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে নীলফামারীতে বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ঢাকার রাজপথে বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের কথাও বলেন তিনি।


সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী সরকার বলেন, দলিল লেখকদের পেশা একটি প্রাচীন পেশা। এ পেশার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষ যুক্ত। তিনি দলিল লেখকদের প্রতি দলিলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে নীলফামারী শহীদ মিনারে বিভাগীয় সমাবেশ করার কথাও জানান তিনি।

দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবি

সমাবেশের ব্যানারে উল্লেখ করা সাত দফা দাবি হলো—


১. পেশাচ্যুত না করার দাবি:

দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না।

২. প্রতি দলিলে ৫ হাজার টাকা সম্মানী:

দলিল লেখকদের প্রতি দলিলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩. লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখকের মাধ্যমে দলিল মুসাবিদা:

লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কেউ দলিল মুসাবিদা করতে পারবেন না এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করতে পারবেন না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৪. অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স প্রদানে বিধিনিষেধ:

থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৫. বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ:

থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে।

৬. পেশাগত কারণে আসামি না করার দাবি:

পক্ষগণের সরবরাহ করা কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয় উল্লেখ করে দলিল লেখা বা মুসাবিদাকারী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে দলিল লেখকদের মামলায় আসামি করা যাবে না।

৭. দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন:

দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে তারা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তারা। সমাবেশ শেষে দেশ ও জনগণের মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নীলফামারীতে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখক সমিতির সমাবেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, প্রতি দলিলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নীলফামারীতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, নীলফামারী জেলা শাখা।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী সরকার। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।



সভাপতির বক্তব্যে মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, দলিল লেখকদের দাবির বিষয়ে এর আগেও সমাবেশ করা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে নীলফামারীতে বিভাগীয় সমাবেশ করা হবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ঢাকার রাজপথে বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের কথাও বলেন তিনি।


সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী সরকার বলেন, দলিল লেখকদের পেশা একটি প্রাচীন পেশা। এ পেশার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষ যুক্ত। তিনি দলিল লেখকদের প্রতি দলিলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে নীলফামারী শহীদ মিনারে বিভাগীয় সমাবেশ করার কথাও জানান তিনি।

দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবি

সমাবেশের ব্যানারে উল্লেখ করা সাত দফা দাবি হলো—


১. পেশাচ্যুত না করার দাবি:

দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না।

২. প্রতি দলিলে ৫ হাজার টাকা সম্মানী:

দলিল লেখকদের প্রতি দলিলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করতে হবে।

৩. লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখকের মাধ্যমে দলিল মুসাবিদা:

লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কেউ দলিল মুসাবিদা করতে পারবেন না এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করতে পারবেন না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৪. অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স প্রদানে বিধিনিষেধ:

থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৫. বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ:

থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে।

৬. পেশাগত কারণে আসামি না করার দাবি:

পক্ষগণের সরবরাহ করা কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয় উল্লেখ করে দলিল লেখা বা মুসাবিদাকারী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে দলিল লেখকদের মামলায় আসামি করা যাবে না।

৭. দলিল লেখক কাউন্সিল গঠন:

দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে তারা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন তারা। সমাবেশ শেষে দেশ ও জনগণের মঙ্গল কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই