মুক্তির লড়াই

মতামত

মানুষের স্মৃতিতে অমলিন বরুড়ার সাবেক সাংসদ ও একেএম আবু তাহের

মানুষের স্মৃতিতে অমলিন বরুড়ার সাবেক সাংসদ ও একেএম আবু তাহের

২৩ সেপ্টেম্বর। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দেখতে দেখতে তাঁর মৃত্যুর দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সময়ের স্রোতে অনেক মুখ, অনেক স্মৃতি হারিয়ে গেলেও বরুড়ার মানুষের কাছে এ কে এম আবু তাহের এখনো এক পরিচিত ও স্মরণীয় নাম।

বরুড়ার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এ কে এম আবু তাহের কর্মজীবনে ব্যবসা ও শিল্পের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় তাঁকে নিয়ে যায় রাজনীতির অঙ্গনে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুমিল্লা-৭, বর্তমান কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর তিনবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধিই ছিলেন না, বরুড়ার মানুষের সুখ-দুঃখ ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়েও কাজ করেছেন বলে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও স্থানীয়দের স্মৃতিচারণে উঠে আসে।

রাজনীতির পাশাপাশি দেশের ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাতেও এ কে এম আবু তাহেরের ছিল গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি। প্রকাশিত জীবনীমূলক তথ্যে তাঁকে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা, স্পন্সর ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একজন জনপ্রতিনিধি ও শিল্পপতির পরিচয়ের বাইরেও বরুড়ার মানুষের কাছে তাঁর আরেকটি পরিচয় বিশেষভাবে স্মরণীয়—জনকল্যাণে তাঁর উদ্যোগ ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে আজও আলোচনায় রয়েছে ‘এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতাল’। ২০২৬ সালে সোনাইমুড়ীর ২০ শয্যা হাসপাতালটি তাঁর নামে নামকরণের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। একটি নাম যখন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের সেবার সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন সেই নামটি আর শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় থাকে না—তা হয়ে ওঠে মানুষের স্মৃতির অংশ।


দীর্ঘ ২২ বছর পরও এ কে এম আবু তাহেরকে ঘিরে বরুড়ায় রয়েছে নানা স্মৃতি। তাঁর নামে গঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার খবরও সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর সেই ধারাবাহিকতাই হয়তো একজন মানুষের চলে যাওয়ার পরও তাঁর নামকে বাঁচিয়ে রাখে।

জীবনের শেষ ঠিকানা মৃত্যু হলেও মানুষের জন্য করা কাজের কোনো মৃত্যু নেই। এ কে এম আবু তাহেরও আজ শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর নাম রয়েছে সংসদের ইতিহাসে, ব্যবসা ও শিল্পের অঙ্গনে, স্বাস্থ্যসেবার একটি প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে এবং সর্বোপরি বরুড়ার মানুষের স্মৃতিতে।

২৩ সেপ্টেম্বর এলেই তাই বরুড়ার অনেক মানুষের মনে পড়ে যায় সেই মানুষটির কথা—যিনি একসময় জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের কথা বলেছিলেন, শিল্পোদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সমাজসেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন।

সময় চলে যায়, প্রজন্ম বদলায়, মানুষ হারিয়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের কর্ম ও স্মৃতি তাঁদের মৃত্যুর বহু বছর পরও মানুষের মুখে মুখে বেঁচে থাকে। বরুড়ার ইতিহাসে এ কে এম আবু তাহের তেমনই একটি নাম—যাঁকে তাঁর জন্মভূমি ও কর্মভূমির মানুষ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মানুষের স্মৃতিতে অমলিন বরুড়ার সাবেক সাংসদ ও একেএম আবু তাহের

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২৩ সেপ্টেম্বর। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। দেখতে দেখতে তাঁর মৃত্যুর দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। সময়ের স্রোতে অনেক মুখ, অনেক স্মৃতি হারিয়ে গেলেও বরুড়ার মানুষের কাছে এ কে এম আবু তাহের এখনো এক পরিচিত ও স্মরণীয় নাম।


বরুড়ার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এ কে এম আবু তাহের কর্মজীবনে ব্যবসা ও শিল্পের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় তাঁকে নিয়ে যায় রাজনীতির অঙ্গনে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুমিল্লা-৭, বর্তমান কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর তিনবার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে নির্বাচিত হয়ে অষ্টম জাতীয় সংসদেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধিই ছিলেন না, বরুড়ার মানুষের সুখ-দুঃখ ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়েও কাজ করেছেন বলে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও স্থানীয়দের স্মৃতিচারণে উঠে আসে।


রাজনীতির পাশাপাশি দেশের ব্যবসা ও ব্যাংকিং খাতেও এ কে এম আবু তাহেরের ছিল গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি। প্রকাশিত জীবনীমূলক তথ্যে তাঁকে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা, স্পন্সর ডিরেক্টর ও চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে একজন জনপ্রতিনিধি ও শিল্পপতির পরিচয়ের বাইরেও বরুড়ার মানুষের কাছে তাঁর আরেকটি পরিচয় বিশেষভাবে স্মরণীয়—জনকল্যাণে তাঁর উদ্যোগ ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা।


স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে আজও আলোচনায় রয়েছে ‘এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতাল’। ২০২৬ সালে সোনাইমুড়ীর ২০ শয্যা হাসপাতালটি তাঁর নামে নামকরণের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। একটি নাম যখন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের সেবার সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন সেই নামটি আর শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় থাকে না—তা হয়ে ওঠে মানুষের স্মৃতির অংশ।


দীর্ঘ ২২ বছর পরও এ কে এম আবু তাহেরকে ঘিরে বরুড়ায় রয়েছে নানা স্মৃতি। তাঁর নামে গঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার খবরও সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর সেই ধারাবাহিকতাই হয়তো একজন মানুষের চলে যাওয়ার পরও তাঁর নামকে বাঁচিয়ে রাখে।


জীবনের শেষ ঠিকানা মৃত্যু হলেও মানুষের জন্য করা কাজের কোনো মৃত্যু নেই। এ কে এম আবু তাহেরও আজ শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর নাম রয়েছে সংসদের ইতিহাসে, ব্যবসা ও শিল্পের অঙ্গনে, স্বাস্থ্যসেবার একটি প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে এবং সর্বোপরি বরুড়ার মানুষের স্মৃতিতে।


২৩ সেপ্টেম্বর এলেই তাই বরুড়ার অনেক মানুষের মনে পড়ে যায় সেই মানুষটির কথা—যিনি একসময় জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের কথা বলেছিলেন, শিল্পোদ্যোক্তা হয়ে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সমাজসেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন।


সময় চলে যায়, প্রজন্ম বদলায়, মানুষ হারিয়ে যায়। কিন্তু কিছু মানুষের কর্ম ও স্মৃতি তাঁদের মৃত্যুর বহু বছর পরও মানুষের মুখে মুখে বেঁচে থাকে। বরুড়ার ইতিহাসে এ কে এম আবু তাহের তেমনই একটি নাম—যাঁকে তাঁর জন্মভূমি ও কর্মভূমির মানুষ আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই