মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

আত্রাইয়ে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

আত্রাইয়ে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

নওগাঁর আত্রাইয়ে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর (PPR) রোগ প্রতিরোধ ও দূরীকরণের লক্ষ্যে বিনামূল্যে টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ রক্ষা, খামারিদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আত্রাইয়ের বাস্তবায়নে এ টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবু আনাছের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম (রেজু)। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল চকলেট, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাকসুদুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পিএম কামরুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান, শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাযাহারুল ইসলাম।


এ ছাড়া প্রবীণ হিতৈষী সংগঠনের মোঃ মজিবর রহমান, মোছাঃ আক্তারুন নেছা, আহমেদ আলী, মোছাঃ রমিছা বিবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবীণ হিতৈষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, খামারি, পশুপালক এবং প্রিন্ট, অনলাইন ও অন্যান্য গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পিপিআর বা Peste des petits ruminants ছাগল ও ভেড়ার একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH) জানিয়েছে, রোগটি আক্রান্ত পশুর মধ্যে  অসুস্থতা ও মৃত্যুহার সৃষ্টি করতে পারে এবং যেসব অঞ্চলে ছাগল-ভেড়া মানুষের জীবিকা ও আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, সেখানে এর অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। 

রোগে আক্রান্ত পশুর জ্বর, দুর্বলতা, চোখ ও নাক দিয়ে স্রাব, মুখের ভেতরে ক্ষত, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। টিকাদান পিপিআর নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পিপিআর রোগের বিস্তার থেকে ছাগল ও ভেড়াকে সুরক্ষিত রাখতে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আত্রাই উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার ছোট ও প্রান্তিক পশুপালকদেরও টিকাদানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, অনেক পরিবার বাড়িতে অল্পসংখ্যক ছাগল-ভেড়া পালন করে সংসারের বাড়তি আয় করে থাকে। এসব পশু রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবার সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। ফলে রোগ প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারি ও পশুপালকদের নির্ধারিত সময়ে পশুকে টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পশুর মধ্যে অস্বাভাবিক জ্বর, খাবারে অনীহা, মুখে ক্ষত, নাক-চোখ দিয়ে স্রাব, শ্বাসকষ্ট বা ডায়রিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু টিকা প্রদান নয়—খামারিদের সচেতনতা, রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্ত পশুর বিষয়ে দ্রুত তথ্য দেওয়া এবং পশুর চলাচল ও খামারের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সতর্ক থাকাও রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আত্রাইয়ে ছাগল ও ভেড়া পালন অনেক পরিবারের আয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিনামূল্যে টিকা প্রদানের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট খামারির বাড়িতে পশু পালনকারীরা যেন টিকা কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

তাদের ভাষ্য, সময়মতো টিকাদান ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে পশুর রোগজনিত ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি খামারিদের আর্থিক নিরাপত্তাও বাড়তে পারে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্রাইয়ের বিভিন্ন এলাকার ছাগল ও ভেড়াকে পর্যায়ক্রমে পিপিআর টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ব্যাপক টিকাদান ও জনসচেতনতার মাধ্যমে উপজেলার পশুপালকদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


আত্রাইয়ে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর আত্রাইয়ে ছাগল ও ভেড়ার পিপিআর (PPR) রোগ প্রতিরোধ ও দূরীকরণের লক্ষ্যে বিনামূল্যে টিকা প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ রক্ষা, খামারিদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আত্রাইয়ের বাস্তবায়নে এ টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবু আনাছের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম (রেজু)। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল চকলেট, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাকসুদুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পিএম কামরুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হান্নান, শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাযাহারুল ইসলাম।


এ ছাড়া প্রবীণ হিতৈষী সংগঠনের মোঃ মজিবর রহমান, মোছাঃ আক্তারুন নেছা, আহমেদ আলী, মোছাঃ রমিছা বিবিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবীণ হিতৈষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, খামারি, পশুপালক এবং প্রিন্ট, অনলাইন ও অন্যান্য গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


পিপিআর বা Peste des petits ruminants ছাগল ও ভেড়ার একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH) জানিয়েছে, রোগটি আক্রান্ত পশুর মধ্যে  অসুস্থতা ও মৃত্যুহার সৃষ্টি করতে পারে এবং যেসব অঞ্চলে ছাগল-ভেড়া মানুষের জীবিকা ও আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, সেখানে এর অর্থনৈতিক প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। 


রোগে আক্রান্ত পশুর জ্বর, দুর্বলতা, চোখ ও নাক দিয়ে স্রাব, মুখের ভেতরে ক্ষত, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। টিকাদান পিপিআর নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। 


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পিপিআর রোগের বিস্তার থেকে ছাগল ও ভেড়াকে সুরক্ষিত রাখতে নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আত্রাই উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বিনামূল্যে পিপিআর টিকা প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার ছোট ও প্রান্তিক পশুপালকদেরও টিকাদানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বক্তারা আরও বলেন, অনেক পরিবার বাড়িতে অল্পসংখ্যক ছাগল-ভেড়া পালন করে সংসারের বাড়তি আয় করে থাকে। এসব পশু রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবার সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। ফলে রোগ প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব রয়েছে।


প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারি ও পশুপালকদের নির্ধারিত সময়ে পশুকে টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পশুর মধ্যে অস্বাভাবিক জ্বর, খাবারে অনীহা, মুখে ক্ষত, নাক-চোখ দিয়ে স্রাব, শ্বাসকষ্ট বা ডায়রিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।


সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু টিকা প্রদান নয়—খামারিদের সচেতনতা, রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্ত পশুর বিষয়ে দ্রুত তথ্য দেওয়া এবং পশুর চলাচল ও খামারের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সতর্ক থাকাও রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আত্রাইয়ে ছাগল ও ভেড়া পালন অনেক পরিবারের আয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বিনামূল্যে টিকা প্রদানের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট খামারির বাড়িতে পশু পালনকারীরা যেন টিকা কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।


তাদের ভাষ্য, সময়মতো টিকাদান ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে পশুর রোগজনিত ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি খামারিদের আর্থিক নিরাপত্তাও বাড়তে পারে।


উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্রাইয়ের বিভিন্ন এলাকার ছাগল ও ভেড়াকে পর্যায়ক্রমে পিপিআর টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ব্যাপক টিকাদান ও জনসচেতনতার মাধ্যমে উপজেলার পশুপালকদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরি হবে।



মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই