রাজধানীজুড়ে এক অদ্ভুত বাস্তবতা—সরকার বলছে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, অথচ মাঠের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পেট্রোল পাম্পে গেলে চোখে পড়ে দীর্ঘ লাইন, আর ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকরা।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১, সনি সিনেমা হল সংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কেবল এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। মাইকিং করে জানানো হচ্ছে—অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল নেই। ফলে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেক চালক।
সেখানে কথা হয় মোটরসাইকেলচালক কুদ্দুস মোল্লার সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“সকাল থেকে কালশীসহ কয়েকটি পাম্প ঘুরলাম, কোথাও তেল পেলাম না। সন্ধ্যায় বরিশাল যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন কী করবো বুঝতে পারছি না। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনাও ভেস্তে গেল।”
একই চিত্র তুলে ধরেন আরেক চালক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অকটেন যখন ৬৫ টাকা ছিল, তখন থেকেই অনেক পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন জরুরি সময়ে এসে একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।”
আরেক ভুক্তভোগী চালক জানান, কচুক্ষেতসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাননি। তার ভাষায়, “সব জায়গায় বলা হচ্ছে সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে পাম্পগুলোতে তেলই দিচ্ছে না।”
এ বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রয়কর্মী জানান, গত তিনদিন ধরে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সকালে কিছু ডিজেল থাকলেও সেটিও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক বার্তায় সংগঠনটি জানায়, জ্বালানি তেলের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় সারাদেশে পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এরই মধ্যে আতঙ্কে অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। তবে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কতটা মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, ‘সংকট নেই’—এই সরকারি বক্তব্য আর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তার খেসারত গুনছেন সাধারণ চালকরা। ঈদ সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মার্চ ২০২৬
রাজধানীজুড়ে এক অদ্ভুত বাস্তবতা—সরকার বলছে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, অথচ মাঠের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পেট্রোল পাম্পে গেলে চোখে পড়ে দীর্ঘ লাইন, আর ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকরা।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১, সনি সিনেমা হল সংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কেবল এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। মাইকিং করে জানানো হচ্ছে—অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল নেই। ফলে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেক চালক।
সেখানে কথা হয় মোটরসাইকেলচালক কুদ্দুস মোল্লার সঙ্গে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“সকাল থেকে কালশীসহ কয়েকটি পাম্প ঘুরলাম, কোথাও তেল পেলাম না। সন্ধ্যায় বরিশাল যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন কী করবো বুঝতে পারছি না। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনাও ভেস্তে গেল।”
একই চিত্র তুলে ধরেন আরেক চালক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অকটেন যখন ৬৫ টাকা ছিল, তখন থেকেই অনেক পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছিল না। এখন জরুরি সময়ে এসে একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।”
আরেক ভুক্তভোগী চালক জানান, কচুক্ষেতসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাননি। তার ভাষায়, “সব জায়গায় বলা হচ্ছে সংকট নেই, কিন্তু বাস্তবে পাম্পগুলোতে তেলই দিচ্ছে না।”
এ বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রয়কর্মী জানান, গত তিনদিন ধরে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সকালে কিছু ডিজেল থাকলেও সেটিও শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে শুধু এলপিজি বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক বার্তায় সংগঠনটি জানায়, জ্বালানি তেলের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় সারাদেশে পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এরই মধ্যে আতঙ্কে অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করে। তবে মাঠপর্যায়ে এর সুফল কতটা মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সব মিলিয়ে, ‘সংকট নেই’—এই সরকারি বক্তব্য আর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তার খেসারত গুনছেন সাধারণ চালকরা। ঈদ সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন