ঢাকা   বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
মুক্তির লড়াই

প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন ‘আন্ডা রফিক’, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা



‎নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একাধিক মামলা ও গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে ‘আন্ডা রফিক’-এর প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর হঠাৎ করে তার এমন দৃশ্যমান উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

‎স্থানীয়দের দাবি, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। কখনো ব্যক্তিগত গাড়িতে, আবার কখনো অনুসারীদের নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিষয়টি জানাজানি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর ভাষ্য, যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ও মামলা, সে যদি প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারে, তাহলে আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। অনেকেই মনে করছেন, প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে তিনি এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

‎রফিকুল ইসলাম রফিক, যিনি ‘আন্ডা রফিক’ নামে পরিচিত, স্থানীয়দের মতে একসময় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিম বিক্রি করতেন। পরবর্তীতে জমি কেনাবেচা ও আবাসন খাতে জড়িয়ে দ্রুত অর্থসম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন।

‎২০১৬ সালে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, জমি দখল ও প্রতারণার অভিযোগ ক্রমেই বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

‎তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভুয়া দলিল তৈরি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি, সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ‘রংধনু গ্রুপ’ ও রংধনু বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডের নামও এসেছে অভিযোগে।

‎জমি সংক্রান্ত একটি আলোচিত ঘটনায় জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ মার্চ একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় সাড়ে সাত একর জমি বিক্রির পর একই বছরের ১ জুন সেই জমির অংশবিশেষ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পুনরায় বিক্রি করা হয়। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ওঠে।

‎এছাড়া ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই অর্থের কিছু অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

‎সিআইডি সূত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তার একাধিক ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং রাজধানীর একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় তার সম্পত্তিও আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে।

‎এতসব অভিযোগ ও মামলার পরও তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ায় বিস্মিত স্থানীয়রা। তাদের মতে, সবাই জানে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

‎এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে। 

অভিযুক্ত রফিকের মুঠোফোনে (01713238717) একাধিকবার কল করে পাওয়া যায়নি। 

নারায়ণগঞ্জ গ সার্কেল এএসপি মেহেদী ইসলাম, পুলিশ পাহাড়ার বিষয়টি জানেন না বলে সাংবাদিককে মুঠোফোনে জানান।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬


প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন ‘আন্ডা রফিক’, প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image

‎নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একাধিক মামলা ও গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে ‘আন্ডা রফিক’-এর প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর হঠাৎ করে তার এমন দৃশ্যমান উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

‎স্থানীয়দের দাবি, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। কখনো ব্যক্তিগত গাড়িতে, আবার কখনো অনুসারীদের নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিষয়টি জানাজানি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে।

‎এলাকাবাসীর ভাষ্য, যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ও মামলা, সে যদি প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারে, তাহলে আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। অনেকেই মনে করছেন, প্রভাব ও ক্ষমতার কারণে তিনি এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

‎রফিকুল ইসলাম রফিক, যিনি ‘আন্ডা রফিক’ নামে পরিচিত, স্থানীয়দের মতে একসময় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিম বিক্রি করতেন। পরবর্তীতে জমি কেনাবেচা ও আবাসন খাতে জড়িয়ে দ্রুত অর্থসম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন।

‎২০১৬ সালে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, জমি দখল ও প্রতারণার অভিযোগ ক্রমেই বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

‎তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভুয়া দলিল তৈরি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি, সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ। এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ‘রংধনু গ্রুপ’ ও রংধনু বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেডের নামও এসেছে অভিযোগে।

‎জমি সংক্রান্ত একটি আলোচিত ঘটনায় জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ মার্চ একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় সাড়ে সাত একর জমি বিক্রির পর একই বছরের ১ জুন সেই জমির অংশবিশেষ অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে পুনরায় বিক্রি করা হয়। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ওঠে।

‎এছাড়া ভুয়া নথিপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই অর্থের কিছু অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।

‎সিআইডি সূত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা রয়েছে। ইতোমধ্যে তার একাধিক ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং রাজধানীর একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় তার সম্পত্তিও আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়েছে।

‎এতসব অভিযোগ ও মামলার পরও তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ায় বিস্মিত স্থানীয়রা। তাদের মতে, সবাই জানে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

‎এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে। 

অভিযুক্ত রফিকের মুঠোফোনে (01713238717) একাধিকবার কল করে পাওয়া যায়নি। 


নারায়ণগঞ্জ গ সার্কেল এএসপি মেহেদী ইসলাম, পুলিশ পাহাড়ার বিষয়টি জানেন না বলে সাংবাদিককে মুঠোফোনে জানান।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত