ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

আত্রাইয়ে তীব্র জ্বালানি সংকট: লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তবুও মিলছে না তেল



আত্রাইয়ে তীব্র জ্বালানি সংকট: লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তবুও মিলছে না তেল

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পালশা এলাকায় অবস্থিত নূর বানু ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে তীব্র জ্বালানি সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই সংকট এখন স্থানীয় জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন শত শত মানুষ তেলের আশায় ভিড় জমালেও অধিকাংশই হতাশ হয়ে ফিরছেন—যা পুরো এলাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগেই তেল নেওয়ার আশায় ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই লাইন কয়েকশ’ মিটার ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। 


যারা পাচ্ছেন, তাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকার তেল। এতে করে দৈনন্দিন যাতায়াত, পেশাগত কাজকর্ম এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন দিন ধরে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বিশাল লাইন দেখে ফিরে গেছি। আজ আর উপায় না পেয়ে বোতল নিয়ে এসেছি। এত কষ্ট করেও নিশ্চিত নই তেল পাব কি না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্টটা কেউ বুঝছে না।


ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু তেলের অভাবে কাজ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসে জবাবদিহি করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।

শুধু ব্যক্তিগত যানবাহনই নয়, তেলের সংকটের কারণে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকেরা পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। ফলে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও যাতায়াতই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীদের জন্য এই সংকট বিশেষ দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।


এদিকে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, সীমিত সরবরাহ এবং অনিশ্চয়তার কারণে স্টেশন এলাকায় মাঝে-মধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।

এসআই মোঃ আর্শাফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল জমা হচ্ছে। তেলের স্বল্পতার কারণে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা কখনো কখনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। আমরা নিয়মিত উপস্থিত থেকে সিরিয়াল বজায় রাখার চেষ্টা করছি এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করছি।”

স্টেশন কর্তৃপক্ষ এই সংকটের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, উপর মহল থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।


স্টেশনের মালিক মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, আমি নিজেও এই পরিস্থিতিতে বিব্রত। উপর থেকে যে পরিমাণ তেল আসে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার তেল দিচ্ছি। আমি নিজে উপস্থিত থেকে চেষ্টা করছি যেন সবাই কিছুটা হলেও তেল পায়।

আজকে ২৯/০৩/২০২৬ইং রবিবার মোটরসাইকেল চালক মোঃ আতাউর রহমান বলেন:

আমি সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা প্রর্যন্ত যোগাযোগ করছি, তেল নেওয়ার জন্য, ফিলিং স্টেশনে গেলে তারা বলেন, কোন তেল নেই,

যখন আমরা তেল পাবো-সংঙ্গে সংঙ্গে জানানো হবে। 

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, এই সংকট শুধুমাত্র একটি ফিলিং স্টেশনকেন্দ্রিক নয়; বরং এটি বৃহত্তর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। যথাসময়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সমস্যা আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজার মনিটরিং জোরদার, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা চালু এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্রাইবাসীর একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত এই তীব্র জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অন্যথায় জনজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬


আত্রাইয়ে তীব্র জ্বালানি সংকট: লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, তবুও মিলছে না তেল

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পালশা এলাকায় অবস্থিত নূর বানু ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে তীব্র জ্বালানি সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কয়েকদিন ধরে চলমান এই সংকট এখন স্থানীয় জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন শত শত মানুষ তেলের আশায় ভিড় জমালেও অধিকাংশই হতাশ হয়ে ফিরছেন—যা পুরো এলাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার আগেই তেল নেওয়ার আশায় ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই লাইন কয়েকশ’ মিটার ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না। 


যারা পাচ্ছেন, তাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকার তেল। এতে করে দৈনন্দিন যাতায়াত, পেশাগত কাজকর্ম এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন দিন ধরে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বিশাল লাইন দেখে ফিরে গেছি। আজ আর উপায় না পেয়ে বোতল নিয়ে এসেছি। এত কষ্ট করেও নিশ্চিত নই তেল পাব কি না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্টটা কেউ বুঝছে না।


ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু তেলের অভাবে কাজ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসে জবাবদিহি করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।


শুধু ব্যক্তিগত যানবাহনই নয়, তেলের সংকটের কারণে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকেরা পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। ফলে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও যাতায়াতই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীদের জন্য এই সংকট বিশেষ দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।


এদিকে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, সীমিত সরবরাহ এবং অনিশ্চয়তার কারণে স্টেশন এলাকায় মাঝে-মধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।


এসআই মোঃ আর্শাফুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল জমা হচ্ছে। তেলের স্বল্পতার কারণে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা কখনো কখনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। আমরা নিয়মিত উপস্থিত থেকে সিরিয়াল বজায় রাখার চেষ্টা করছি এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করছি।”


স্টেশন কর্তৃপক্ষ এই সংকটের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, উপর মহল থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।


স্টেশনের মালিক মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, আমি নিজেও এই পরিস্থিতিতে বিব্রত। উপর থেকে যে পরিমাণ তেল আসে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার তেল দিচ্ছি। আমি নিজে উপস্থিত থেকে চেষ্টা করছি যেন সবাই কিছুটা হলেও তেল পায়।


আজকে ২৯/০৩/২০২৬ইং রবিবার মোটরসাইকেল চালক মোঃ আতাউর রহমান বলেন:

আমি সকাল ৭টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা প্রর্যন্ত যোগাযোগ করছি, তেল নেওয়ার জন্য, ফিলিং স্টেশনে গেলে তারা বলেন, কোন তেল নেই,

যখন আমরা তেল পাবো-সংঙ্গে সংঙ্গে জানানো হবে। 


এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, এই সংকট শুধুমাত্র একটি ফিলিং স্টেশনকেন্দ্রিক নয়; বরং এটি বৃহত্তর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। যথাসময়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সমস্যা আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজার মনিটরিং জোরদার, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা চালু এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।


বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্রাইবাসীর একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত এই তীব্র জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অন্যথায় জনজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত