ঢাকা   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

কচুয়ায় শত বছরের ঐতিহ্যের বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীদের ঢল



কচুয়ায় শত বছরের ঐতিহ্যের বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীদের ঢল

বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া বিশ্বরোড বটতলায়  শীতলা পূজা অর্চনা ও মনসা মুড়ায়  শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গ্রামবাংলার এই প্রাচীন উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

​উপজেলার বিভিন্ন মনসা মুড়া, কড়ইয়া বটতলা , সাচার, রহিমানগর ও নাউলা সহ প্রায় ২০টি স্থানে  বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী মেলায় বক্তদের ভীর দেখা গেছে। তবে কড়ইয়া বটতলা ও মনসা মুড়া এই মেলাটি তার শত বছরের ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। 

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল, মাটির তৈরি পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল এবং বাঁশ-বেতের তৈরি তৈজসপত্রের বিশাল সমাহার, ছোট-বড় সবার বিনোদনের জন্য মেলায় বসানো হয়েছে বিশালাকার নাগরদোলা ও নানা রকম সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। মেলার ঐতিহ্যবাহী মুড়লি, কদমা, বাতাসা আর খৈ-এর গন্ধে ম ম করছে বাতাস। সেই সঙ্গে রয়েছে গরম জিলাপির দীর্ঘ লাইন।


​তীব্র গরম উপেক্ষা করেই মেলায় ভিড় জমিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বৈশাখী সাজে রঙিন হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে এসেছেন দর্শনার্থীরা। 

মেলা কমিটির সদস্য সুজন পোদ্দার জানান, এ বছর মেলায় লোকসমাগম বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবছরই মেলার আয়োজন করে থাকি।

​মেলায় আসা সুর্বনা আক্তার মিম এক দর্শনার্থী বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে এই মেলায় আসতাম। এখন সন্তানদের নিয়ে এসেছি। এই মেলা আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

মেলার বিশাল জনসমুদ্র সামাল দিতে প্রশাসন ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

​শত বাধা আর আধুনিকতার ভিড়ে কচুযার এই শত বছরের বৈশাখী মেলা আজও টিকে আছে বাঙালির মিলনমেলা হিসেবে। মেলার এই উৎসবমুখর পরিবেশ যেন জানান দিচ্ছে বাঙালি তার সংস্কৃতিকে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসে।

ছবি: উপজেলার মনমা মুড়ায় শীতলা পূজা অর্চনা ও শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায় ভক্তদের ভিড়।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


কচুয়ায় শত বছরের ঐতিহ্যের বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীদের ঢল

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদপুরের কচুয়া পৌরসভার কড়ইয়া বিশ্বরোড বটতলায়  শীতলা পূজা অর্চনা ও মনসা মুড়ায়  শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে । গ্রামবাংলার এই প্রাচীন উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

​উপজেলার বিভিন্ন মনসা মুড়া, কড়ইয়া বটতলা , সাচার, রহিমানগর ও নাউলা সহ প্রায় ২০টি স্থানে  বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী মেলায় বক্তদের ভীর দেখা গেছে। তবে কড়ইয়া বটতলা ও মনসা মুড়া এই মেলাটি তার শত বছরের ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। 


মেলায় আগত দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল, মাটির তৈরি পুতুল, হাঁড়ি-পাতিল এবং বাঁশ-বেতের তৈরি তৈজসপত্রের বিশাল সমাহার, ছোট-বড় সবার বিনোদনের জন্য মেলায় বসানো হয়েছে বিশালাকার নাগরদোলা ও নানা রকম সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। মেলার ঐতিহ্যবাহী মুড়লি, কদমা, বাতাসা আর খৈ-এর গন্ধে ম ম করছে বাতাস। সেই সঙ্গে রয়েছে গরম জিলাপির দীর্ঘ লাইন।


​তীব্র গরম উপেক্ষা করেই মেলায় ভিড় জমিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বৈশাখী সাজে রঙিন হয়ে মেলা প্রাঙ্গণে এসেছেন দর্শনার্থীরা। 


মেলা কমিটির সদস্য সুজন পোদ্দার জানান, এ বছর মেলায় লোকসমাগম বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা প্রতিবছরই মেলার আয়োজন করে থাকি।


​মেলায় আসা সুর্বনা আক্তার মিম এক দর্শনার্থী বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার হাত ধরে এই মেলায় আসতাম। এখন সন্তানদের নিয়ে এসেছি। এই মেলা আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।


মেলার বিশাল জনসমুদ্র সামাল দিতে প্রশাসন ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।

​শত বাধা আর আধুনিকতার ভিড়ে কচুযার এই শত বছরের বৈশাখী মেলা আজও টিকে আছে বাঙালির মিলনমেলা হিসেবে। মেলার এই উৎসবমুখর পরিবেশ যেন জানান দিচ্ছে বাঙালি তার সংস্কৃতিকে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসে।



ছবি: উপজেলার মনমা মুড়ায় শীতলা পূজা অর্চনা ও শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায় ভক্তদের ভিড়।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত