মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

প্রকল্পে নকশা নিয়ে নানা প্রশ্ন

দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি লালমনিরহাটের রত্নাই সেতুর কাজ

দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি লালমনিরহাটের রত্নাই সেতুর কাজ

লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম সংযোগ সড়কের রত্নাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্পে নকশাগত জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৮৫ শতাংশ। এতে দুই জেলার লাখো মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর ১৩০ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২৮৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি লিমিটেড ২০২৩ সালের ৮ মার্চ নির্মাণকাজ শুরু করে।


বর্তমানে নদীর ওপর পুরনো স্টিলের বেইলি সেতুটি দিয়েই লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের মানুষ চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরু হওয়ায় বড় যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে সরকারি নকশা অনুসরণ করা হয়নি। সড়কটি বাঁকানোভাবে নির্মাণ করায় ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পে ৬০০ ফুট রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে প্রায় ৩০০ ফুট নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় ৩২ হাজার ঘনফুট বোল্ডার ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এস এম রেজা মোরশেদ বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্তন আনা হবে।


লালমনিরহাট সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি পরিদর্শনের জন্য বিভাগের সার্ভেয়ার দল পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সেতুটি চালু হলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। তবে নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও নকশা অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের সুফল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি লালমনিরহাটের রত্নাই সেতুর কাজ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম সংযোগ সড়কের রত্নাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্পে নকশাগত জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৮৫ শতাংশ। এতে দুই জেলার লাখো মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট এলাকায় রত্নাই নদীর ওপর ১৩০ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২৮৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি লিমিটেড ২০২৩ সালের ৮ মার্চ নির্মাণকাজ শুরু করে।


বর্তমানে নদীর ওপর পুরনো স্টিলের বেইলি সেতুটি দিয়েই লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের মানুষ চলাচল করছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরু হওয়ায় বড় যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে সরকারি নকশা অনুসরণ করা হয়নি। সড়কটি বাঁকানোভাবে নির্মাণ করায় ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।


অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পে ৬০০ ফুট রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে প্রায় ৩০০ ফুট নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে প্রায় ৩২ হাজার ঘনফুট বোল্ডার ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে অর্ধেকেরও কম ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এস এম রেজা মোরশেদ বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্তন আনা হবে।


লালমনিরহাট সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পর বিষয়টি পরিদর্শনের জন্য বিভাগের সার্ভেয়ার দল পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সেতুটি চালু হলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। তবে নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও নকশা অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত না হলে প্রকল্পের সুফল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই