মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

বুড়িচংয়ের আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার

বুড়িচংয়ের আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার  বাহেরচর গ্রামের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর  কলেজ ছাত্র তুহিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনাকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবু এবং তার ছেলে দিদারুল আলম নাফিজ (১৫)। মঙ্গলবার (২ জুন) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ সালে সাইফুল ইসলামের মেয়ে নেহা এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে চলে যায়। এ ঘটনার পর তুহিনকে সন্দেহ করে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক আটক করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে স্টিলের পাইপ ও লোহার রড দিয়ে বুকে, পিঠে এবং পায়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তুহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তুহিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি ওঠে।
মামলাটির তদন্তভার পরবর্তীতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


তবে মামলার প্রধান আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবির একটি চৌকস দল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
বুধবার (৩ জুন) গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


বুড়িচংয়ের আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার  বাহেরচর গ্রামের বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর  কলেজ ছাত্র তুহিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনাকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাবু এবং তার ছেলে দিদারুল আলম নাফিজ (১৫)। মঙ্গলবার (২ জুন) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ সালে সাইফুল ইসলামের মেয়ে নেহা এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাড়ি থেকে চলে যায়। এ ঘটনার পর তুহিনকে সন্দেহ করে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক আটক করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে স্টিলের পাইপ ও লোহার রড দিয়ে বুকে, পিঠে এবং পায়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তুহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তুহিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি ওঠে।
মামলাটির তদন্তভার পরবর্তীতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


তবে মামলার প্রধান আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবির একটি চৌকস দল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
বুধবার (৩ জুন) গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই