মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

নীলফামারীতে শিশুশ্রম প্রতিরোধে মানববন্ধন

নীলফামারীতে শিশুশ্রম প্রতিরোধে মানববন্ধন

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিশু শ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে 

রবিবার (১৪ জুন) সকালে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)যৌথভাবে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।


সনাক সভাপতি আকতারুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ইয়েস দলনেতা সাখাওয়াত হোসেন, সহ-দলনেতা বর্ষা প্রামাণিক, ইয়েস সদস্য আব্দুল কুদ্দুস উৎস, কুমারী বৃষ্টি রানী রায় এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান।

বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, যা শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। দেশের উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে আকতারুল আলম রাজু বলেন, “বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবতায় শিশুশ্রম এখনো উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পখাত ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোতে শিশুদের সম্পৃক্ততা দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং সুশাসনের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।”

কর্মসূচিতে টিআইবির পক্ষ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নির্মূলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, সকল শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতকে অধিকতর নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ করা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।

টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সালে শিশু শ্রমিকদের দুর্দশা ও তাদের সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ চালু করে। প্রতি বছর ১২ জুন দিবসটি পালিত হলেও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।”


সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব, শোষণমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


নীলফামারীতে শিশুশ্রম প্রতিরোধে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শিশু শ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে 

রবিবার (১৪ জুন) সকালে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)যৌথভাবে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।


সনাক সভাপতি আকতারুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ইয়েস দলনেতা সাখাওয়াত হোসেন, সহ-দলনেতা বর্ষা প্রামাণিক, ইয়েস সদস্য আব্দুল কুদ্দুস উৎস, কুমারী বৃষ্টি রানী রায় এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান।

বক্তারা বলেন, শিশুশ্রম একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা, যা শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। দেশের উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে শিশুদের শ্রমে নয়, শিক্ষার আলোয় এগিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই।

সভাপতির বক্তব্যে আকতারুল আলম রাজু বলেন, “বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবতায় শিশুশ্রম এখনো উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান। বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পখাত ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোতে শিশুদের সম্পৃক্ততা দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং সুশাসনের ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।”


কর্মসূচিতে টিআইবির পক্ষ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নির্মূলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, সকল শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতকে অধিকতর নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ করা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।


টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান বলেন, “আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সালে শিশু শ্রমিকদের দুর্দশা ও তাদের সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ চালু করে। প্রতি বছর ১২ জুন দিবসটি পালিত হলেও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।”


সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব, শোষণমুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই