কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা। নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, বিধিমালা লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গত ১১ জুন দৈনিক বাংলাদেশ কণ্ঠ-এ প্রকাশিত "কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক, শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা" শীর্ষক প্রতিবেদনের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন খান। সদস্য হিসেবে ছিলেন সহকারী প্রোগ্রামার মাসুদ রানা এবং মন্ত্রণালয়ের অপর এক কর্মকর্তা। তদন্তকারী দল কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হয়ে নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান জামাল নাসেরের দায়িত্বকালীন সময়ে গঠিত ১১ সদস্যের নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে মোট ৩৮ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যমান প্রবিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহমুদুল হাসান নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি সাবেক চেয়ারম্যানের চাচাতো শ্যালক বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একইভাবে বোর্ডের মসজিদের ইমাম পদে সাবেক চেয়ারম্যানের আপন শ্যালককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া ইমরান হোসেন নামে এক কর্মচারী প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুয়া প্রতিবন্ধী সনদ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রকৃতপক্ষে শারীরিক প্রতিবন্ধী নন। তদন্ত কমিটি এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষ করে ১৬ জন অফিস সহায়ক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি, প্রয়োজনীয় বিধি অনুসরণ না করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তকালে বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকেও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তদন্ত চলাকালে সাবেক চেয়ারম্যান জামাল নাসের, বোর্ডের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারী দল নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করেন।
তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, উল্লিখিত সকল অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা। নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, বিধিমালা লঙ্ঘন এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
গত ১১ জুন দৈনিক বাংলাদেশ কণ্ঠ-এ প্রকাশিত "কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে নিয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্ক, শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা" শীর্ষক প্রতিবেদনের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন খান। সদস্য হিসেবে ছিলেন সহকারী প্রোগ্রামার মাসুদ রানা এবং মন্ত্রণালয়ের অপর এক কর্মকর্তা। তদন্তকারী দল কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে উপস্থিত হয়ে নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক চেয়ারম্যান জামাল নাসেরের দায়িত্বকালীন সময়ে গঠিত ১১ সদস্যের নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে মোট ৩৮ জনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যমান প্রবিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহমুদুল হাসান নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি সাবেক চেয়ারম্যানের চাচাতো শ্যালক বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একইভাবে বোর্ডের মসজিদের ইমাম পদে সাবেক চেয়ারম্যানের আপন শ্যালককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া ইমরান হোসেন নামে এক কর্মচারী প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভুয়া প্রতিবন্ধী সনদ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি প্রকৃতপক্ষে শারীরিক প্রতিবন্ধী নন। তদন্ত কমিটি এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষ করে ১৬ জন অফিস সহায়ক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি, প্রয়োজনীয় বিধি অনুসরণ না করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তকালে বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকেও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
তদন্ত চলাকালে সাবেক চেয়ারম্যান জামাল নাসের, বোর্ডের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারী দল নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করেন।
তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানান, তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, উল্লিখিত সকল অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন