মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

পাল্টাপাল্টি মামলায় পুরুষশূন্য মুশরীভূজা

পাল্টাপাল্টি মামলায় পুরুষশূন্য মুশরীভূজা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে মুশরীভূজা গ্রাম। মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে আতঙ্কে অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবসায়ী আসাদুল হক (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আজিনুর খাতুন বাদী হয়ে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের ছোট ভাইকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নুরেশা বেগম বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন অনেককেও দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় মুশরীভূজা গ্রাম অনেকটা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদকপ্রাপ্ত মুশরীভূজা গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক বলেন, ‘এ মামলায় আমার স্ত্রী ও সন্তানকেও আসামি করা হয়েছে। আমার বয়স প্রায় ৭০ বছর। ঘটনার দিন আমি বাড়িতেই ছিলাম। আমার স্ত্রী রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর আমার ছেলেও ঘটনাস্থলে যায়নি। এরপরও তাদের আসামি করা হয়েছে। তারা এখন বাড়িতে থাকতেও ভয় পাচ্ছে। এ বয়সে তাদের ছাড়া আমার দেখাশোনা ও রান্নাবান্না করার কেউ নেই। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মামলাতেই অনেক নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছেন মামলা দিয়েছেন। ফলে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন। অনেকে নিরাপদে নিজ বাড়িতে ঘুমাতেও পারছেন না।’

গ্রামের বাসিন্দা হাসনা বেগম বলেন, ‘সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে। কেউ কাউকে ছাড়ছেন না। এতে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

তবে নিহত আসাদুল হকের ছেলে আশিক আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত, তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সময় যারা হামলা ও মারধরে অংশ নিয়েছেন, তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত নন—এমন কাউকে আসামি করা হয়নি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করা হবে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না।’


আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


পাল্টাপাল্টি মামলায় পুরুষশূন্য মুশরীভূজা

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে মুশরীভূজা গ্রাম। মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে আতঙ্কে অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবসায়ী আসাদুল হক (৪৫) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আজিনুর খাতুন বাদী হয়ে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।


অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের ছোট ভাইকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নুরেশা বেগম বাদী হয়ে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন অনেককেও দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় মুশরীভূজা গ্রাম অনেকটা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।


সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদকপ্রাপ্ত মুশরীভূজা গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক বলেন, ‘এ মামলায় আমার স্ত্রী ও সন্তানকেও আসামি করা হয়েছে। আমার বয়স প্রায় ৭০ বছর। ঘটনার দিন আমি বাড়িতেই ছিলাম। আমার স্ত্রী রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, আর আমার ছেলেও ঘটনাস্থলে যায়নি। এরপরও তাদের আসামি করা হয়েছে। তারা এখন বাড়িতে থাকতেও ভয় পাচ্ছে। এ বয়সে তাদের ছাড়া আমার দেখাশোনা ও রান্নাবান্না করার কেউ নেই। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি।’


স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মামলাতেই অনেক নিরপরাধ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছেন মামলা দিয়েছেন। ফলে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন। অনেকে নিরাপদে নিজ বাড়িতে ঘুমাতেও পারছেন না।’


গ্রামের বাসিন্দা হাসনা বেগম বলেন, ‘সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে। কেউ কাউকে ছাড়ছেন না। এতে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’


তবে নিহত আসাদুল হকের ছেলে আশিক আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত, তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সময় যারা হামলা ও মারধরে অংশ নিয়েছেন, তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত নন—এমন কাউকে আসামি করা হয়নি।’


চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করা হবে। নির্দোষ কাউকে হয়রানি করা হবে না।’



মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই