মুক্তির লড়াই

সারাদেশ

বরুড়ায় আয়রনযুক্ত পানির দুর্ভোগ চরমে, আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপনের দাবি

বরুড়ায় আয়রনযুক্ত পানির দুর্ভোগ চরমে, আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপনের দাবি

বরুড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানীয় জলে তীব্র গন্ধ, স্বাদের তারতম্য এবং অতিরিক্ত আয়রনের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় উপজেলার মানুষ রান্নাবান্না, গোসল ও কাপড় ধোয়ার কাজে পুকুরের পানি ব্যবহার করতেন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অগভীর নলকূপের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু অধিকাংশ নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় সেই পানি পান করা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রেই গৃহস্থালির কাজেও ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানির দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক স্বাদ এবং বাসনপত্র, কাপড়চোপড় ও স্যানিটারি সামগ্রীতে লালচে শদাগ পড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।


খোশবাস ইউনিয়নের মামুন হান্নান বলেন, নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় কাপড় ধুলে অল্পদিনেই লালচে দাগ পড়ে যায়। সাদা কাপড় ব্যবহার করা কঠিন হয়ে গেছে। বাসনপত্রেও মরিচার মতো দাগ জমে থাকে। নিরাপ,দ পানির ব্যবস্থা এখন জরুরি।

আড্ডা ইউনিয়নের এমদাদুল হক,লক্ষীপুর ইউনিয়নের ডাবুরিয়া গ্রামের আব্দুল  জলিল বলেন, পানির গন্ধ ও স্বাদের কারণে অনেক সময় এই পানি পান করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির জন্য আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়। সরকার দ্রুত আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন করলে হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।

স্থানীয়রা জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় একসময় সাবমারসিবল মোটরসংবলিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল। এতে অনেক মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পেলেও ব্যাপক চাহিদার তুলনায় প্রকল্পের পরিধি ছিল সীমিত। পরে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আর কোনো স্থাপনা করা হয়নি। ফলে নিরাপদ পানির সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বরুড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির চাহিদা রয়েছে। জনগণের এই দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এদিকে স্থানীয়দের দাবি, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই বরুড়া উপজেলার আয়রনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, সময়োপযোগী এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপজেলার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের নিরাপদ পানির সংকট অনেকাংশে দূর হবে।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


বরুড়ায় আয়রনযুক্ত পানির দুর্ভোগ চরমে, আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপনের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরুড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানীয় জলে তীব্র গন্ধ, স্বাদের তারতম্য এবং অতিরিক্ত আয়রনের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় উপজেলার মানুষ রান্নাবান্না, গোসল ও কাপড় ধোয়ার কাজে পুকুরের পানি ব্যবহার করতেন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অগভীর নলকূপের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু অধিকাংশ নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় সেই পানি পান করা তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রেই গৃহস্থালির কাজেও ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানির দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক স্বাদ এবং বাসনপত্র, কাপড়চোপড় ও স্যানিটারি সামগ্রীতে লালচে শদাগ পড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।


খোশবাস ইউনিয়নের মামুন হান্নান বলেন, নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় কাপড় ধুলে অল্পদিনেই লালচে দাগ পড়ে যায়। সাদা কাপড় ব্যবহার করা কঠিন হয়ে গেছে। বাসনপত্রেও মরিচার মতো দাগ জমে থাকে। নিরাপ,দ পানির ব্যবস্থা এখন জরুরি।

আড্ডা ইউনিয়নের এমদাদুল হক,লক্ষীপুর ইউনিয়নের ডাবুরিয়া গ্রামের আব্দুল  জলিল বলেন, পানির গন্ধ ও স্বাদের কারণে অনেক সময় এই পানি পান করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির জন্য আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়। সরকার দ্রুত আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন করলে হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।

স্থানীয়রা জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় একসময় সাবমারসিবল মোটরসংবলিত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল। এতে অনেক মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পেলেও ব্যাপক চাহিদার তুলনায় প্রকল্পের পরিধি ছিল সীমিত। পরে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আর কোনো স্থাপনা করা হয়নি। ফলে নিরাপদ পানির সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বরুড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির চাহিদা রয়েছে। জনগণের এই দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এদিকে স্থানীয়দের দাবি, নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই বরুড়া উপজেলার আয়রনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট স্থাপন এবং নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, সময়োপযোগী এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপজেলার হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের নিরাপদ পানির সংকট অনেকাংশে দূর হবে।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই