মুক্তির লড়াই

মতামত

কুমেক নিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল নয়, চাই নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও কার্যকর সংস্কার

কুমেক নিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল নয়, চাই নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও কার্যকর সংস্কার

সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) পরিদর্শন নিয়ে যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, সেখানে একটি বিষয় নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার—মাননীয় কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন মহোদয়ের সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে মাঠপর্যায়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখা এবং রোগীদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে একই সঙ্গে যেভাবে বিষয়টি নিয়ে একতরফাভাবে মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে, সেটি দুঃখজনক। কোনো প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে কথা বলার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং পুরো বিষয়টি যাচাই করা জরুরি। কুমেকের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বক্তব্যও যথাযথভাবে সামনে আসা প্রয়োজন ছিল।

আমার বিশ্বাস, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় একজন ভালো ও মানবিক মানুষ। তাই তাঁর কাছে অনুরোধ—কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকৃত চিত্রটি যেন কোনো একক অভিযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার ভিত্তিতে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়।

কুমেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি পদকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রতিটি বিভাগ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হাসপাতালে যদি কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, পর্দার অন্তরালে কী আছে তা খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, রোগীর স্বার্থই হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সিন্ডিকেটমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


কুমেকের পরিচালক ডা. শাহজাহান সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা, তিনি একজন সৎ ও ভালো মানুষ। তাঁর অতীত কর্মজীবন, দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর আসা চাপ বা প্রতিকূলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত কর্মকাণ্ড যেন একজন কর্মকর্তার মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড না হয়—এটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সেটি প্রমাণ ও নথির ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের মধ্যেও যদি কোনো ধরনের বিভাজন বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে থাকে, সেটিও প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোনো একটি পক্ষের অভিযোগ শুনেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং প্রকৃত সমস্যাটি চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করে। 

পরিচালক মহোদয়ের প্রতিও আমার বিনীত পরামর্শ—আপনি আরও দায়িত্বশীল ও দৃঢ় ভূমিকা নিন। কোনো বিভাগ বা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দিন, প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র চালাচালি করুন, সিদ্ধান্তগুলো লিখিতভাবে নথিভুক্ত করুন। প্রশাসনিকভাবে যা যা করার প্রয়োজন, নিয়ম মেনে করুন। ভবিষ্যতের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের যথাযথ ডকুমেন্টেশন রাখুন। কারণ সঠিক নথিই একদিন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও সত্য তুলে ধরবে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজকে ঘিরে মানুষের অনেক বড় স্বপ্ন। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাই সমস্যার সমাধান করতে হলে কাউকে এককভাবে দায়ী না করে পুরো ব্যবস্থাটিকে মূল্যায়ন করতে হবে।

আমরা মিডিয়া ট্রায়াল চাই না; আমরা চাই সত্য উদঘাটন, জবাবদিহিতা ও সংস্কার।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে প্রত্যাশা—কুমেকের পর্দার অন্তরালে কী আছে, কোথায় সমস্যা, কোথায় ব্যর্থতা এবং কোথায় সিন্ডিকেট বা প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। রোগীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমেককে একটি আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলুন।

আর পরিচালক মহোদয়ের প্রতি প্রত্যাশা—আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন, প্রয়োজনে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিন এবং সবকিছুর লিখিত রেকর্ড রাখুন।

কুমেক কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়—এটি মানুষের প্রতিষ্ঠান, মানুষের আস্থার জায়গা। এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মানুষের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

আল্লাহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তৌফিক দিন।

ইনশাআল্লাহ, সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হবে। 

মোঃ ইলিয়াছ আহমদ 

সাংবাদিক। 

৪/৯/২৬ ইং।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুমেক নিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল নয়, চাই নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও কার্যকর সংস্কার

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) পরিদর্শন নিয়ে যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, সেখানে একটি বিষয় নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার—মাননীয় কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন মহোদয়ের সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হিসেবে মাঠপর্যায়ে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখা এবং রোগীদের সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

তবে একই সঙ্গে যেভাবে বিষয়টি নিয়ে একতরফাভাবে মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে, সেটি দুঃখজনক। কোনো প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নিয়ে কথা বলার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং পুরো বিষয়টি যাচাই করা জরুরি। কুমেকের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর বক্তব্যও যথাযথভাবে সামনে আসা প্রয়োজন ছিল।

আমার বিশ্বাস, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় একজন ভালো ও মানবিক মানুষ। তাই তাঁর কাছে অনুরোধ—কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকৃত চিত্রটি যেন কোনো একক অভিযোগ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার ভিত্তিতে নয়, বরং সামগ্রিকভাবে খতিয়ে দেখা হয়।

কুমেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ফলে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি পদকে দায়ী করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রতিটি বিভাগ, প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—হাসপাতালে যদি কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থেকে থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, পর্দার অন্তরালে কী আছে তা খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়, রোগীর স্বার্থই হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সিন্ডিকেটমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।


কুমেকের পরিচালক ডা. শাহজাহান সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা, তিনি একজন সৎ ও ভালো মানুষ। তাঁর অতীত কর্মজীবন, দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর আসা চাপ বা প্রতিকূলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত কর্মকাণ্ড যেন একজন কর্মকর্তার মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড না হয়—এটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সেটি প্রমাণ ও নথির ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।

বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের মধ্যেও যদি কোনো ধরনের বিভাজন বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে থাকে, সেটিও প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোনো একটি পক্ষের অভিযোগ শুনেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং প্রকৃত সমস্যাটি চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করে। 

পরিচালক মহোদয়ের প্রতিও আমার বিনীত পরামর্শ—আপনি আরও দায়িত্বশীল ও দৃঢ় ভূমিকা নিন। কোনো বিভাগ বা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দিন, প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র চালাচালি করুন, সিদ্ধান্তগুলো লিখিতভাবে নথিভুক্ত করুন। প্রশাসনিকভাবে যা যা করার প্রয়োজন, নিয়ম মেনে করুন। ভবিষ্যতের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপের যথাযথ ডকুমেন্টেশন রাখুন। কারণ সঠিক নথিই একদিন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও সত্য তুলে ধরবে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজকে ঘিরে মানুষের অনেক বড় স্বপ্ন। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাই সমস্যার সমাধান করতে হলে কাউকে এককভাবে দায়ী না করে পুরো ব্যবস্থাটিকে মূল্যায়ন করতে হবে।

আমরা মিডিয়া ট্রায়াল চাই না; আমরা চাই সত্য উদঘাটন, জবাবদিহিতা ও সংস্কার।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে প্রত্যাশা—কুমেকের পর্দার অন্তরালে কী আছে, কোথায় সমস্যা, কোথায় ব্যর্থতা এবং কোথায় সিন্ডিকেট বা প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। রোগীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কুমেককে একটি আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলুন।

আর পরিচালক মহোদয়ের প্রতি প্রত্যাশা—আপনি আপনার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন, প্রয়োজনে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিন এবং সবকিছুর লিখিত রেকর্ড রাখুন।

কুমেক কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয়—এটি মানুষের প্রতিষ্ঠান, মানুষের আস্থার জায়গা। এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মানুষের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।

আল্লাহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তৌফিক দিন।

ইনশাআল্লাহ, সত্য ও ন্যায়ের বিজয় হবে। 


মোঃ ইলিয়াছ আহমদ 

সাংবাদিক। 

৪/৯/২৬ ইং।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই