মুক্তির লড়াই

অপরাধ

কিসের শক্তিতে প্রকাশ্যে

জুলাই গণহত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আখতারুজ্জামান-আনোয়ারের প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী তৎপরতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

জুলাই গণহত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আখতারুজ্জামান-আনোয়ারের প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী তৎপরতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেনের নাম রয়েছে যথাক্রমে ২২৯ ও ২৩০ নম্বর আসামি হিসেবে।মামলার নথিতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারার একই সঙ্গে তাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের পরিচয়ে প্রকাশ্য কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রাপ্ত এজাহার ও আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং-৬২,তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৬-এ দণ্ডবিধির ১৪৩,১৪৮, ১৪৯, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০২ ধারা হত্যা। ১৪৮ ও ১৪৯ ধারায় বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গায় সংশ্লিষ্টতার বিষয় রয়েছে।মামলার এজাহারে ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে যাত্রাবাড়ী থানাধীন বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে ফুটওভার ব্রীজের নিচে সংগঠিত সংহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আর আগে বাদী মো. বাবুল আদালতে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন।আদালতের নথিতে মামলাটি সি.আর. মামলা নং - ৬৫০/২৬ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। আদালতের একটি আদেশে অভিযোগের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ১৫৬(৩) ধারা অনুযায়ী যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানা ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলা নং - ৬২ হিসেবে তা রুজু করে এবং ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে নথি প্রেরণ করেন।মামলাটি বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করছেন বলে যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায় এবং অতি দ্রুতই তদন্তকাজ শেষ করে আদালতে রিপোর্ট  জমা দিবেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) খন্দকার সালেহ আবু নাঈম প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। 


মামলার এজাহারসংক্রান্ত নথিতে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলায় মোট ২৫৭ জন আসামির নাম এবং অজ্ঞাত হিসাবে আরও ১৫০/২০০ জন আসামির কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই তালিকায় ২২৯ নম্বরে আখতারুজ্জামান খান পিতা: মনির হোসেন খান এবং ২৩০ নম্বরে আনোয়ার হোসেন পিতা: তমিজ উদ্দিন এর নাম রয়েছে। প্রাপ্ত নথিতে আখতারুজ্জামান পিতা: মনির হোসেন খান কে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অপরদিকে আনোয়ার হোসেন পিতা: তমিজ উদ্দিন কে পল্টন থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে সাং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি, শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ (৩য় তলা),গুলিস্থান, পল্টন,ঢাকা-১০০০ ব্যবহার করা হয়েছে। 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী , আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেন গং যাত্রাবাড়ী থানাধীন বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর সামনে ফুটওভার ব্রীজের নীচে ফুটপাতের উপর অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৫ আগষ্ট ২০২৪, তারিখ সকাল ১১ টার সময় জুলাই আন্দোলনকারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের উপর প্রকাশ্যে হামলা চালায়।এই হামলায় বাদীর সহোদর ছোট ভাইসহ অনেকে নিহত ও আহত হন।বাদী তার সহোদর ছোট ভাইয়ের এই মৃত্যুকে আসামীদের পরিকল্পিত খুন বলে স্বাক্ষী,প্রমান দাখিল করেছেন-যা বর্তমানে তদন্তাধীন। 

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেনের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের পরিচয়ে সক্রিয় হচ্ছেন। আখতারুজ্জামান ও আনোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রেও এমন পরিচয় পরিবর্তন ঘটেছে কি না, ঘটলে কোন সংগঠনের অনুমোদনে এবং কোন পদে তারা রয়েছেন—তা যাচাই করার দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে আখতারুজ্জামান বর্তমানে নিজেকে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর আত্নপ্রকাশ করা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (NDF) ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন,বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন  এবং সংগ্রাম পরিষদের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে ।

মামলার নথিতে জুলাই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি থাকার পরও আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেন গং বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিচয়ে প্রকাশ্যে প্রেসক্লাবের সামনে এবং অন্যান্য বিভিন্নস্থানে সভা-সমাবেশ,মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কুচক্রী মহলের দেয়া অর্থের বিনিময়ে সরকার বিরোধী বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এ বিষয় পুলিশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-জনমনের প্রশ্ন?কারা এদের অর্থের যোগানদাতা, এদের মূল পরিকল্পনা কি-তা তদন্ত করা জরুরি। 

এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“বিষয়টি আমি দেখছি।মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে,অতি দ্রুতই তদন্তকাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সকল ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

আখতারুজ্জামান খানকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর নতুন অভিযোগগুলোর একটি হলো হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি, চাঁদা গ্রহণ এবং অর্থের বিনিময়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ। 

স্থানীয়ভাবে সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি করা, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব ব্যবহার করে মালিকপক্ষকে চাপের মুখে ফেলা, শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক মালিকপক্ষকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে সমঝোতার নামে মালিকপক্ষ থেকে অর্থগ্রহণ অথবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি,এমনকি শ্রমিকদের সংগঠিত নিজ হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার মানসে শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে জিম্মি করা,মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ তৈরি করা এবং দ্বন্দ নিরসনের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সাথে আখতারুজ্জামান খান এবং আনোয়ার হোসেন গং জড়িত রয়েছেন। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননা এবং নাম প্রকাশ করতেও ভয় পান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিষ্ঠান মালিক ও শ্রমিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন , আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন নামক সংগঠন এর মাধ্যমে নিয়মিত শ্রমিকদের থেকে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করেন এবং এসব শ্রমিকদের সংগঠিত করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালান বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামক জোট সংগঠনের ব্যানারে। মূলত এই ব্যানারের আড়ালে এরা ফ্যাসিস্টদের পুনরুদ্ধারে এবং সরকার পতনের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে জানা যায়।আরও জানা যায়, এদের মাধ্যমে হোটেল, মোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ করেন চাঁদাবাজী,কেউ বাধা দিলে করেন নির্যাতন, হুমকি ধামকি,এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক ও মালিক তাদের অভিযোগ এর সত্যতা প্রমাণে আখতারুজ্জামান খান এবং আনোয়ার হোসেন গং এর সম্পত্তির তদন্তের দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানিয়েছেন ।তাদের দাবি দুদক আসাদুজ্জামান গং এর সম্পত্তির অনুসন্ধান করলেই তাদের চাঁদার অর্থগ্রহণের এবং অর্থের বিনিময়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়টা প্রমাণিত হয়ে যাবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মালিক ও শ্রমিক বাংলাদেশ হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সুইটমিট,মিষ্টি বেকারি সেক্টর এর উন্নয়নের স্বার্থে এবং মালিক-শ্রমিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ এর নিশ্চিত করার প্রয়োজনে এ ধরনের কুচক্রী আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেন সিন্ডিকেট এর গ্রেফতার এর মাধ্যমে যথাযথ আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এর জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


আখতারুজ্জামানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একাধিক ভিডিও বক্তব্যও এই প্রতিবেদকের নজরে এসেছে।

ভিডিও বক্তব্যগুলোতে তিনি বর্তমান সরকার, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তব্যে দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট, শ্রমিকদের মজুরি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আমলাদের বিরুদ্ধে কমিশন-বাণিজ্য, অনিয়ম ও সম্পদ বৃদ্ধির মতো অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব ও আন্দোলনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিওর বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বরং আওয়ামী রেজিম এর পুতুল বলেও মন্তব্য করেন এবং সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একদিকে জুলাই হত্যা মামলায় এজাহাতভুক্ত আসামি হিসেবে নাম থাকা এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতা পরিচয়ে প্রকাশ্যে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা—অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বক্তব্য----এসব ঘটনা একই সাংগঠনিক কাঠামো বা বিশেষ কোন উদ্দেশ্যের অংশ কি না--তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে স্পর্শকাতর এতসব ঘটনার পরও থানা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয় কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন ?

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন জুলাই গণ অভভুত্থানে ৮৫ জন শহীদ এর পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চীফ প্রসিকিউটর জনাব আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এর বিচার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচারকাজ সম্পন্ন করার কাজ চলমান। তিনি আরও বলেন,যাত্রাবাড়ী হত্যাকাণ্ডের যেসব মামলা এখনও স্থানীয় থানায় রয়েছে সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালের আওতায় নেয়া হবে।ইতিমধ্যে শহিদ তাইম ভূইয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে চিফ প্রসিকিউটর জানান।।।

জনমনে এখন মূল প্রশ্ন -এমন একটি গণহত্যা সম্পন্ন হওয়া এলাকায় সংঘটিত হওয়া ইতিহাসের ঘৃণ্যতম মানবতারবিরোধী জুলাই হত্যা মামলার আসামীরা প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে কোন অদৃশ্য শক্তির বলে আজও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিসহ সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে - জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এরা কি প্রশাসন ও বিচার বিভাগ থেকেও শক্তিশালী? সাধারণ জনগণ কি সর্বদা এদের হাতে নিগৃহীত ও নিষ্পেশিত হতেই থাকবে?

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে দ্রুতই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্তপূর্বক আদালতের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে সবার প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জুলাই গণহত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আখতারুজ্জামান-আনোয়ারের প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী তৎপরতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেনের নাম রয়েছে যথাক্রমে ২২৯ ও ২৩০ নম্বর আসামি হিসেবে।মামলার নথিতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারার একই সঙ্গে তাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের পরিচয়ে প্রকাশ্য কর্মকান্ডে সক্রিয় থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


প্রাপ্ত এজাহার ও আদালতের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থানার মামলা নং-৬২,তারিখ ১৭ জুলাই ২০২৬-এ দণ্ডবিধির ১৪৩,১৪৮, ১৪৯, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০২ ধারা হত্যা। ১৪৮ ও ১৪৯ ধারায় বেআইনি সমাবেশ ও দাঙ্গায় সংশ্লিষ্টতার বিষয় রয়েছে।মামলার এজাহারে ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে যাত্রাবাড়ী থানাধীন বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সামনে ফুটওভার ব্রীজের নিচে সংগঠিত সংহিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।


আর আগে বাদী মো. বাবুল আদালতে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেন।আদালতের নথিতে মামলাটি সি.আর. মামলা নং - ৬৫০/২৬ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। আদালতের একটি আদেশে অভিযোগের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮ সালের ১৫৬(৩) ধারা অনুযায়ী যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানা ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে মামলা নং - ৬২ হিসেবে তা রুজু করে এবং ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে নথি প্রেরণ করেন।মামলাটি বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করছেন বলে যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায় এবং অতি দ্রুতই তদন্তকাজ শেষ করে আদালতে রিপোর্ট  জমা দিবেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) খন্দকার সালেহ আবু নাঈম প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। 


মামলার এজাহারসংক্রান্ত নথিতে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলায় মোট ২৫৭ জন আসামির নাম এবং অজ্ঞাত হিসাবে আরও ১৫০/২০০ জন আসামির কথা উল্লেখ রয়েছে। ওই তালিকায় ২২৯ নম্বরে আখতারুজ্জামান খান পিতা: মনির হোসেন খান এবং ২৩০ নম্বরে আনোয়ার হোসেন পিতা: তমিজ উদ্দিন এর নাম রয়েছে। প্রাপ্ত নথিতে আখতারুজ্জামান পিতা: মনির হোসেন খান কে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অপরদিকে আনোয়ার হোসেন পিতা: তমিজ উদ্দিন কে পল্টন থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে সাং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি, শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ (৩য় তলা),গুলিস্থান, পল্টন,ঢাকা-১০০০ ব্যবহার করা হয়েছে। 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী , আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেন গং যাত্রাবাড়ী থানাধীন বর্ণমালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর সামনে ফুটওভার ব্রীজের নীচে ফুটপাতের উপর অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৫ আগষ্ট ২০২৪, তারিখ সকাল ১১ টার সময় জুলাই আন্দোলনকারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের উপর প্রকাশ্যে হামলা চালায়।এই হামলায় বাদীর সহোদর ছোট ভাইসহ অনেকে নিহত ও আহত হন।বাদী তার সহোদর ছোট ভাইয়ের এই মৃত্যুকে আসামীদের পরিকল্পিত খুন বলে স্বাক্ষী,প্রমান দাখিল করেছেন-যা বর্তমানে তদন্তাধীন। 


রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেনের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অতীতে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের পরিচয়ে সক্রিয় হচ্ছেন। আখতারুজ্জামান ও আনোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রেও এমন পরিচয় পরিবর্তন ঘটেছে কি না, ঘটলে কোন সংগঠনের অনুমোদনে এবং কোন পদে তারা রয়েছেন—তা যাচাই করার দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে আখতারুজ্জামান বর্তমানে নিজেকে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর আত্নপ্রকাশ করা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (NDF) ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন,বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন  এবং সংগ্রাম পরিষদের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে ।


মামলার নথিতে জুলাই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি থাকার পরও আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেন গং বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিচয়ে প্রকাশ্যে প্রেসক্লাবের সামনে এবং অন্যান্য বিভিন্নস্থানে সভা-সমাবেশ,মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কুচক্রী মহলের দেয়া অর্থের বিনিময়ে সরকার বিরোধী বক্তব্য বিবৃতি প্রদান করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ষড়যন্ত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এ বিষয় পুলিশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে-জনমনের প্রশ্ন?কারা এদের অর্থের যোগানদাতা, এদের মূল পরিকল্পনা কি-তা তদন্ত করা জরুরি। 


এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“বিষয়টি আমি দেখছি।মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে,অতি দ্রুতই তদন্তকাজ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সকল ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”


আখতারুজ্জামান খানকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর নতুন অভিযোগগুলোর একটি হলো হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি, চাঁদা গ্রহণ এবং অর্থের বিনিময়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ। 

স্থানীয়ভাবে সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবি করা, দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব ব্যবহার করে মালিকপক্ষকে চাপের মুখে ফেলা, শ্রমিকদের দিয়ে জোরপূর্বক মালিকপক্ষকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে সমঝোতার নামে মালিকপক্ষ থেকে অর্থগ্রহণ অথবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার হুমকি,এমনকি শ্রমিকদের সংগঠিত নিজ হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার মানসে শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে জিম্মি করা,মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ তৈরি করা এবং দ্বন্দ নিরসনের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের সাথে আখতারুজ্জামান খান এবং আনোয়ার হোসেন গং জড়িত রয়েছেন। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননা এবং নাম প্রকাশ করতেও ভয় পান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিষ্ঠান মালিক ও শ্রমিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন , আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন নামক সংগঠন এর মাধ্যমে নিয়মিত শ্রমিকদের থেকে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করেন এবং এসব শ্রমিকদের সংগঠিত করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালান বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামক জোট সংগঠনের ব্যানারে। মূলত এই ব্যানারের আড়ালে এরা ফ্যাসিস্টদের পুনরুদ্ধারে এবং সরকার পতনের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে জানা যায়।আরও জানা যায়, এদের মাধ্যমে হোটেল, মোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এ করেন চাঁদাবাজী,কেউ বাধা দিলে করেন নির্যাতন, হুমকি ধামকি,এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক ও মালিক তাদের অভিযোগ এর সত্যতা প্রমাণে আখতারুজ্জামান খান এবং আনোয়ার হোসেন গং এর সম্পত্তির তদন্তের দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানিয়েছেন ।তাদের দাবি দুদক আসাদুজ্জামান গং এর সম্পত্তির অনুসন্ধান করলেই তাদের চাঁদার অর্থগ্রহণের এবং অর্থের বিনিময়ে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়টা প্রমাণিত হয়ে যাবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মালিক ও শ্রমিক বাংলাদেশ হোটেল, রেস্টুরেন্ট, সুইটমিট,মিষ্টি বেকারি সেক্টর এর উন্নয়নের স্বার্থে এবং মালিক-শ্রমিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ এর নিশ্চিত করার প্রয়োজনে এ ধরনের কুচক্রী আখতারুজ্জামান খান ও আনোয়ার হোসেন সিন্ডিকেট এর গ্রেফতার এর মাধ্যমে যথাযথ আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এর জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


আখতারুজ্জামানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একাধিক ভিডিও বক্তব্যও এই প্রতিবেদকের নজরে এসেছে।

ভিডিও বক্তব্যগুলোতে তিনি বর্তমান সরকার, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তব্যে দ্রব্যমূল্য, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট, শ্রমিকদের মজুরি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আমলাদের বিরুদ্ধে কমিশন-বাণিজ্য, অনিয়ম ও সম্পদ বৃদ্ধির মতো অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।


জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব ও আন্দোলনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিওর বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বরং আওয়ামী রেজিম এর পুতুল বলেও মন্তব্য করেন এবং সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।


একদিকে জুলাই হত্যা মামলায় এজাহাতভুক্ত আসামি হিসেবে নাম থাকা এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতা পরিচয়ে প্রকাশ্যে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা—অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বক্তব্য----এসব ঘটনা একই সাংগঠনিক কাঠামো বা বিশেষ কোন উদ্দেশ্যের অংশ কি না--তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে স্পর্শকাতর এতসব ঘটনার পরও থানা বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসকল ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয় কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন ?


এদিকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন জুলাই গণ অভভুত্থানে ৮৫ জন শহীদ এর পরিবার ও আহতদের নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চীফ প্রসিকিউটর জনাব আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ এর বিচার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচারকাজ সম্পন্ন করার কাজ চলমান। তিনি আরও বলেন,যাত্রাবাড়ী হত্যাকাণ্ডের যেসব মামলা এখনও স্থানীয় থানায় রয়েছে সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালের আওতায় নেয়া হবে।ইতিমধ্যে শহিদ তাইম ভূইয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে চিফ প্রসিকিউটর জানান।।।

জনমনে এখন মূল প্রশ্ন -এমন একটি গণহত্যা সম্পন্ন হওয়া এলাকায় সংঘটিত হওয়া ইতিহাসের ঘৃণ্যতম মানবতারবিরোধী জুলাই হত্যা মামলার আসামীরা প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে কোন অদৃশ্য শক্তির বলে আজও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিসহ সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে - জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এরা কি প্রশাসন ও বিচার বিভাগ থেকেও শক্তিশালী? সাধারণ জনগণ কি সর্বদা এদের হাতে নিগৃহীত ও নিষ্পেশিত হতেই থাকবে?

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে দ্রুতই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্তপূর্বক আদালতের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন বলে সবার প্রত্যাশা।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই