মুক্তির লড়াই

অপরাধ

রামপালে ঘুষ বানিজ্যের ভিডিও ভাইরাল, জেলা প্রশাসকের চিঠি

রামপালে ঘুষ বানিজ্যের ভিডিও ভাইরাল, জেলা প্রশাসকের চিঠি

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি'সহ বিভিন্ন  ঘুষ বানিজ্যর কোনোভাবেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। গোপন বা প্রকাশ্যে এসব ঘুষ বানিজ্য মনে হয় হাতের মোহা। ফলে সেবা প্রত্যাশিরা পড়ছে চরম বিড়ম্বনায়। আশেপাশে ঘাপটি মেরে থাকা দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের ফলে হারাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, শ্রেণীভেদে নামজারি'সহ বিভিন্ন কাজে দিতে হয় বিশাল অংকের টাকা। 

রামপাল ভূমি অফিসের এইসব ঘুষ বানিজ্যের চিত্র দীর্ঘদিনের। তবে এসব বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। 

সম্প্রতি নামজারি করতে আসা এক ভুক্তভোগীর কাছ থেক কানুনগো নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। যা ভিডিওতে ধারণ করেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। এরপর জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয় উপজেলাজুড়ে। 

ঘুষ বানিজ্যের বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী'র নজরে আসলে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ কানুনগো মোঃ আবুল বশারের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় কারণ দর্শানোর নোটিশ। ওই নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে নিজ অফিস কক্ষে বসে নামজারি কেসের প্রতিবেদন প্রদানের বিনিময়ে সেবা গ্রহীতাদের নিকট হতে নিয়মবহির্ভূতভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে, যার ৩ (তিন) মিনিট ৫৬ (ছাপ্পান্ন) সেকেন্ড এবং ৫ (পাঁচ) মিনিট ২২ (বাইশ) সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ২ (দুই)টি ভিডিও ক্লিপের তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। উক্ত ভিডিও ক্লিপসের বিষয়ে নোটিশে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারী সেবা প্রদানের বিনিময়ে উৎকোচ গ্রহণ করার দায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ - এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক 'অসদাচরণ' এর দায়ে কানুনগো মোঃ আবুল বশারের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত গঠন করে উপজেলা ভূমি অফিস।


পরবর্তীতে গত ১২ আগষ্ট তথ্য'সহ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযুক্ত কানুনগো মোঃ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেওয়া হয় আরেকটি চিঠি। 

ওই চিঠির আলোকে গত ৮ সেপ্টেম্বর-০৫.৪৪.০১০০.০১৪.১৯.২০,২৬- নং স্মারকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন অভিযুক্ত কানুনগো মোঃ আবুল বশারের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর আর্জি জানিয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর দিয়েছেন চিঠি। তবে দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হলেও আলোচিত এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।

অন্যদিকে কানুনগো মোঃ আবুল বাশারের উৎকোচ নেওয়া এই ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নামধারী কিছু সাংবাদিক নিয়েছেন বিশেষ সুবিধাও। এমনকি ঘুষ বানিজ্যের ভাইরাল ভিডিও ও বিভাগীয় মামলা নিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের চিঠিকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানহানি ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ্য করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে মুষল ধারার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো - এই ঘুষ বানিজ্যের ভাইরাল ভিডিও ও বিভাগীয় মামলা নিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের চিঠি'টা  আসলেই কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)'এর ব্যবহার না-কি কোনো ধোঁয়ার জাল বা কুয়াশা আক্রমণ❓

এ বিষয়ে একাধিক ভূমি অফিসে তাদের কাঙ্খিত সেবা নিতে আশা একাধিক সেবা গ্রহীতারা

জানান, সরকারি নিয়মের বাইরে অনৈতিকভাবে বিভিন্ন কলাকৌশলে আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় বড়ো অংকের টাকা। এইসব টাকা দিতে অপারগতা জানালে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন  বাহানা বা অজুহাত। তখন বলা হয় আমার কাগজে বিভিন্ন সমস্যা। তবে ওই একই আবেদনের ফাইল টাকা দিলে হয়ে যায় সব ঠিকঠাক। 

সেবা গ্রহীতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, আমরা শুনেছি এই চিটিতে নাকি কানুনগোকে কিছুই করতে পারবে না। তিনি বলাবলি করেন উপরে সব ম্যানেজ হয়ে গেছে। এসব ছোটখাটো বিষয়। তার হাত অনেক লম্বা। দীর্ঘদিন দালানচক্র চুষে খাচ্ছে আমাদের। আমরা ঘুষখোর ওই কানুনগো মোঃ আবুল বাশারের অপসারণ চাই, শাস্তি চাই।

এ অভিযোগের ব্যাপারে  অভিযুক কানুনগো মোঃ আবুল বশারের কাছে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কি বলবো আপনি এসিল্যান্ড স্যারদের কাছে শোনেন বলেই ফোনকলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি ঘটনার তিনদিন পর আমার কানে আসে। এরপর ওইদিনই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেই এবং সেটি সন্তোষজনক না হওয়ায় জেলা প্রশাসন বরাবর অভিযুক্ত গঠন করে চিঠি দিয়েছি। আমি রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসকে দূর্নীতিমুক্ত করতে বন্ধপরিকর। এবং যাহারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের কোনো পরিচয় নেই তারা অপরাধী। আমি তাদের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি বা নেবো।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


রামপালে ঘুষ বানিজ্যের ভিডিও ভাইরাল, জেলা প্রশাসকের চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি'সহ বিভিন্ন  ঘুষ বানিজ্যর কোনোভাবেই লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। গোপন বা প্রকাশ্যে এসব ঘুষ বানিজ্য মনে হয় হাতের মোহা। ফলে সেবা প্রত্যাশিরা পড়ছে চরম বিড়ম্বনায়। আশেপাশে ঘাপটি মেরে থাকা দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের ফলে হারাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, শ্রেণীভেদে নামজারি'সহ বিভিন্ন কাজে দিতে হয় বিশাল অংকের টাকা। 


রামপাল ভূমি অফিসের এইসব ঘুষ বানিজ্যের চিত্র দীর্ঘদিনের। তবে এসব বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী কঠোর হস্তে ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। 

সম্প্রতি নামজারি করতে আসা এক ভুক্তভোগীর কাছ থেক কানুনগো নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। যা ভিডিওতে ধারণ করেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। এরপর জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয় উপজেলাজুড়ে। 


ঘুষ বানিজ্যের বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী'র নজরে আসলে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ কানুনগো মোঃ আবুল বশারের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় কারণ দর্শানোর নোটিশ। ওই নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে নিজ অফিস কক্ষে বসে নামজারি কেসের প্রতিবেদন প্রদানের বিনিময়ে সেবা গ্রহীতাদের নিকট হতে নিয়মবহির্ভূতভাবে নগদ অর্থ গ্রহণ করেছে, যার ৩ (তিন) মিনিট ৫৬ (ছাপ্পান্ন) সেকেন্ড এবং ৫ (পাঁচ) মিনিট ২২ (বাইশ) সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ২ (দুই)টি ভিডিও ক্লিপের তথ্য পেয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। উক্ত ভিডিও ক্লিপসের বিষয়ে নোটিশে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারী সেবা প্রদানের বিনিময়ে উৎকোচ গ্রহণ করার দায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ - এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক 'অসদাচরণ' এর দায়ে কানুনগো মোঃ আবুল বশারের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত গঠন করে উপজেলা ভূমি অফিস।


পরবর্তীতে গত ১২ আগষ্ট তথ্য'সহ বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযুক্ত কানুনগো মোঃ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেওয়া হয় আরেকটি চিঠি। 


ওই চিঠির আলোকে গত ৮ সেপ্টেম্বর-০৫.৪৪.০১০০.০১৪.১৯.২০,২৬- নং স্মারকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন অভিযুক্ত কানুনগো মোঃ আবুল বশারের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর আর্জি জানিয়ে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর দিয়েছেন চিঠি। তবে দীর্ঘ প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হলেও আলোচিত এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।


অন্যদিকে কানুনগো মোঃ আবুল বাশারের উৎকোচ নেওয়া এই ভিডিওকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নামধারী কিছু সাংবাদিক নিয়েছেন বিশেষ সুবিধাও। এমনকি ঘুষ বানিজ্যের ভাইরাল ভিডিও ও বিভাগীয় মামলা নিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের চিঠিকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্মানহানি ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ্য করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে মুষল ধারার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো - এই ঘুষ বানিজ্যের ভাইরাল ভিডিও ও বিভাগীয় মামলা নিতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের চিঠি'টা  আসলেই কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)'এর ব্যবহার না-কি কোনো ধোঁয়ার জাল বা কুয়াশা আক্রমণ❓



এ বিষয়ে একাধিক ভূমি অফিসে তাদের কাঙ্খিত সেবা নিতে আশা একাধিক সেবা গ্রহীতারা

জানান, সরকারি নিয়মের বাইরে অনৈতিকভাবে বিভিন্ন কলাকৌশলে আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় বড়ো অংকের টাকা। এইসব টাকা দিতে অপারগতা জানালে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন  বাহানা বা অজুহাত। তখন বলা হয় আমার কাগজে বিভিন্ন সমস্যা। তবে ওই একই আবেদনের ফাইল টাকা দিলে হয়ে যায় সব ঠিকঠাক। 


সেবা গ্রহীতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, আমরা শুনেছি এই চিটিতে নাকি কানুনগোকে কিছুই করতে পারবে না। তিনি বলাবলি করেন উপরে সব ম্যানেজ হয়ে গেছে। এসব ছোটখাটো বিষয়। তার হাত অনেক লম্বা। দীর্ঘদিন দালানচক্র চুষে খাচ্ছে আমাদের। আমরা ঘুষখোর ওই কানুনগো মোঃ আবুল বাশারের অপসারণ চাই, শাস্তি চাই।


এ অভিযোগের ব্যাপারে  অভিযুক কানুনগো মোঃ আবুল বশারের কাছে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কি বলবো আপনি এসিল্যান্ড স্যারদের কাছে শোনেন বলেই ফোনকলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি ঘটনার তিনদিন পর আমার কানে আসে। এরপর ওইদিনই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেই এবং সেটি সন্তোষজনক না হওয়ায় জেলা প্রশাসন বরাবর অভিযুক্ত গঠন করে চিঠি দিয়েছি। আমি রামপাল উপজেলা ভূমি অফিসকে দূর্নীতিমুক্ত করতে বন্ধপরিকর। এবং যাহারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের কোনো পরিচয় নেই তারা অপরাধী। আমি তাদের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি বা নেবো।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত মুক্তির লড়াই