নওগাঁর আত্রাইয়ে ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৫০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভোঁপাড়া ইউনিয়নের ভড়-তেঁতুলিয়া গ্রামের সেভেন স্টার মোড় থেকে কিছু সামনে নির্মাণাধীন সড়কটিতে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানিতে ধস দেখা দিয়েছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটি পিচ- ঢালাই করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ইট ও বালু ফেলে রাখা হয়েছে। মাঝেমধ্যে কিছু নির্মাণ সামগ্রী এনে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি। কাজ শেষ করার নির্ধারিত তারিখ ছিল একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও কাজটি এখনো শেষ হয়নি। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। স্থানীয়ভাবে আব্দুল কুদ্দুস ও এস এম রুবেল নামের দুই ব্যক্তি উপ- ঠিকাদার হিসেবে কাজটি করছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে সড়কের অংশবিশেষ ধসে গেছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংবাদ লেখা পর্যন্ত সড়কটির কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিন বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে আমরা আপত্তি জানিয়ে আসছি। ঠিকাদারের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
একই গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় রাব্বি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ চলছে। একদিন বালু ফেলে রেখে গেলে কয়েক মাস আর কাউকে দেখা যায় না। আবার কয়েক মাস পর নিম্নমানের ইট ও খোয়া ফেলে রেখে চলে যেতে দেখা যায়। এভাবে মাসের পর মাস পার হচ্ছে, কিন্তু কাজ শেষ হচ্ছে না। আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সড়কটি শুধু গ্রামের মানুষের চলাচলের পথ নয়; এর সঙ্গে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন, আত্রাই উপজেলা প্রধান ডাকঘর, জমির নামজারি ও খাজনা-সংক্রান্ত সেবা কেন্দ্র এবং কাশিয়াবাড়ি হাটখোলায় যাতায়াতের বিষয়টিও জড়িত। এ ছাড়া আত্রাই নদীর বাঁধসংলগ্ন এলাকার মানুষের চলাচলের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই কাজের মান যাচাই করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নিতিশ কুমার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর কার্যালয়ের লোক পাঠিয়ে ঠিকাদারকে অনিয়ম সংশোধন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া এবং মানসম্মতভাবে দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত মান বজায় রেখে সড়কের কাজ শেষ করা হোক। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান তাঁরা।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
নওগাঁর আত্রাইয়ে ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৫০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভোঁপাড়া ইউনিয়নের ভড়-তেঁতুলিয়া গ্রামের সেভেন স্টার মোড় থেকে কিছু সামনে নির্মাণাধীন সড়কটিতে নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানিতে ধস দেখা দিয়েছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটি পিচ- ঢালাই করার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ইট ও বালু ফেলে রাখা হয়েছে। মাঝেমধ্যে কিছু নির্মাণ সামগ্রী এনে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি। কাজ শেষ করার নির্ধারিত তারিখ ছিল একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও কাজটি এখনো শেষ হয়নি। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। স্থানীয়ভাবে আব্দুল কুদ্দুস ও এস এম রুবেল নামের দুই ব্যক্তি উপ- ঠিকাদার হিসেবে কাজটি করছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে সড়কের অংশবিশেষ ধসে গেছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংবাদ লেখা পর্যন্ত সড়কটির কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিন বলেন, কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে আমরা আপত্তি জানিয়ে আসছি। ঠিকাদারের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
একই গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় রাব্বি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ চলছে। একদিন বালু ফেলে রেখে গেলে কয়েক মাস আর কাউকে দেখা যায় না। আবার কয়েক মাস পর নিম্নমানের ইট ও খোয়া ফেলে রেখে চলে যেতে দেখা যায়। এভাবে মাসের পর মাস পার হচ্ছে, কিন্তু কাজ শেষ হচ্ছে না। আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সড়কটি শুধু গ্রামের মানুষের চলাচলের পথ নয়; এর সঙ্গে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন, আত্রাই উপজেলা প্রধান ডাকঘর, জমির নামজারি ও খাজনা-সংক্রান্ত সেবা কেন্দ্র এবং কাশিয়াবাড়ি হাটখোলায় যাতায়াতের বিষয়টিও জড়িত। এ ছাড়া আত্রাই নদীর বাঁধসংলগ্ন এলাকার মানুষের চলাচলের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাই কাজের মান যাচাই করে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নিতিশ কুমার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর কার্যালয়ের লোক পাঠিয়ে ঠিকাদারকে অনিয়ম সংশোধন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া এবং মানসম্মতভাবে দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করে নির্ধারিত মান বজায় রেখে সড়কের কাজ শেষ করা হোক। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন