মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

মুক্ত বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে একমত চীন ও নর্ডিক দেশগুলো

৬ দিনের নর্ডিক সফর শেষ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সফরে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং নানা ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয়পক্ষ।সফরকালে ওয়াং ই ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া চার দেশ এক চীন নীতির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।উভয়পক্ষ মুক্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। চীন জানায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত থাকবে এবং নর্ডিক দেশগুলোও চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন

বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণে উৎসর্গ, সম্মানিত পাঁচ চীনা গবেষক

বিজ্ঞান শুধু গবেষণাগারের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। কখনও তা ছুটে যায় মহাকাশে, কখনও পাহাড়ি তৃণভূমিতে  ইয়াকের জীবন বাঁচায়, কখনও আবার একটি হ্রদের হারিয়ে যাওয়া প্রাণ ফিরিয়ে আনে। কোথাও বা অসংখ্য মায়ের মাতৃত্বের স্বপ্নকে নিরাপদ করে তোলে। এমনই পাঁচ বিজ্ঞানীকে ‘সবচেয়ে সুন্দর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকর্মী’ হিসেবে সম্মান জানিয়েছে চীন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাঁচজনের কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও লক্ষ্য এক, গবেষণাকে মানুষের জীবনের কল্যাণে কাজে লাগানো।  এই তালিকায় রয়েছেন পেইহাং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চীনের প্রথম মহাকাশ স্টেশনের পেলোড বিশেষজ্ঞ কুই হাইছাও। ২০২৩ সালে শেনচৌ-১৬ অভিযানে তিনি টানা ১৫৪ দিন মহাকাশে অবস্থান এবং ৬৮টি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি মহাকাশ রোবোটিক্স এবং কক্ষপথে ভাসমান মহাকাশ বর্জ্য নিয়ে গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।কুই বলেন, একসময় চীন দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি মানববাহী মহাকাশ মিশন পরিচালনা করত। এখন বছরে দুটি মিশন পরিচালিত হচ্ছে। এই অগ্রগতি দেশের মহাকাশ গবেষণার দ্রুত বিকাশেরই প্রতিফলন।   পরিবেশ সংরক্ষণে অবদানের জন্য সম্মানিত হয়েছেন ৭৭ বছর বয়সী শাংহাই চিয়াও তং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক খং হাইনান। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়ুননানের আরহাই হ্রদের দূষণ কমাতে কাজ করেছেন। তার প্রচেষ্টায় হ্রদের পানির মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। ১১ বছরের অপেক্ষার পর ২০১৭ সালে হ্রদে বিরল জলজ উদ্ভিদ আবার দেখা যায়, যা সুস্থ জলজ পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত।চিকিৎসা গবেষণায় স্বীকৃতি পেয়েছেন ওয়েস্ট চায়না হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ছেন লেই। তিনি সন্তান ধারণক্ষম বয়সী মৃগীরোগে আক্রান্ত নারীদের জন্য বিশ্বের প্রথম বিশেষ তথ্যভান্ডার গড়ে তুলেছেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগই তাকে এই গবেষণায় অনুপ্রাণিত করে।  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় ছিংহাই-সিচাং মালভূমিতে চার দশক ধরে ইয়াকের উন্নত প্রজনন ও পালন-পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন গবেষক সং রেনত্য। তার গবেষণার সুফল পেয়ে স্থানীয় পশুপালকেরা স্নেহভরে তাকে ডাকেন ‘ডক্টর ইয়াক’ নামে। অন্যদিকে থ্রি গর্জেস গ্রুপের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ হুয়াং কুইইউন ইতোমধ্যে ২ হাজার ১৬০টি বিরল উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি উত্তর চীনে মরুকরণ রোধেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন।হুয়াংয়ের ভাষায়, ‘বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন পাখির দুটি ডানার মতো। একটি ছাড়া অন্যটি পূর্ণতা পায় না।‘ তাই গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও বৈজ্ঞানিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মহাকাশ গবেষণা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কিংবা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ— এই পাঁচ বিজ্ঞানীর কাজ প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান তখনই সবচেয়ে সুন্দর হয়ে ওঠে যখন তা মানুষের জীবন, প্রকৃতি এবং ভবিষ্যৎকে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করে।তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন।

বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণে উৎসর্গ, সম্মানিত পাঁচ চীনা গবেষক

বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার, কর্মস্থলেও অনুপস্থিতি / চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
ঢাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনে উদ্যোগ: দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত

ঢাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনে উদ্যোগ: দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত

দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকে আরও গতিশীল করতে ঢাকায় ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভিসা সেন্টার স্থাপনের লক্ষ্যে জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, উত্তর মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, পর্তুগাল ও মরিশাসসহ যেসব দেশে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের চাহিদা রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে তাদের কোনো ভিসা সেন্টার নেই, সেসব দেশের ভিসা সেন্টার ঢাকায় চালুর জন্য আলোচনা চলছে।বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশগামী কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং ইউরোপমুখী বৈধ শ্রম অভিবাসন আরও বৃদ্ধি পাবে।ইউরোপে দক্ষ কর্মীর নতুন সুযোগসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণ, কৃষি, হসপিটালিটি, সেবা খাত এবং শিল্পক্ষেত্রে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ইউরোপের নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিসা সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে কর্মীদের তৃতীয় দেশে গিয়ে ভিসা আবেদন করার প্রয়োজন কমবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডে জোরমধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জানান, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার পুনরায় সচল করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বাজার চালু হলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নির্দেশনাবিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।চলতি বছরের ৫ মার্চ, ২৪ মার্চ ও ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরুদক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠানোর জন্য দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।জাপানের জন্য ‘জাপান সেল’জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। এই সেলের আওতায় জাপানে কর্মী প্রেরণকারী ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) সমন্বিতভাবে কাজ করছে।সরকারের আশা, নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ভিসা সেন্টার স্থাপন এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের রেমিট্যান্স আয় আরও শক্তিশালী হবে।

মুক্ত বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে একমত চীন ও নর্ডিক দেশগুলো

৬ দিনের নর্ডিক সফর শেষ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সফরে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং নানা ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয়পক্ষ।সফরকালে ওয়াং ই ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক দশম, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইউনাস গাহর স্টোরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থকে সম্মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া চার দেশ এক চীন নীতির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।উভয়পক্ষ মুক্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। চীন জানায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত থাকবে এবং নর্ডিক দেশগুলোও চীনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।তথ্য ও ছবি: সিজিটিএন

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে: নাজমুন নাহার বেবী

​২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরের কচুয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন বীজ, সার ও ফলজ চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৮৬ জন কৃষকের মাঝে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।​শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রণোদনা প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমেই কচুয়াসহ সারা দেশে কৃষিখাতে সমৃদ্ধি আসবে। তিনি আরও বলেন, কৃষি উপকরণের পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেলের সভাপতিত্বে ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি খায়রুল আবেদীন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুবাস, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার মোট ১৩শ জন কৃষককে রোপা আমন ধানের বীজ, সার এবং বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৮৬ জন কৃষকের হাতে হ্যান্ড স্প্রে মেশিন, ফিতা পাইপ, এলএলপি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার (ধান কাটার যন্ত্র), ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, ফুট পাম্প ও ধান মাড়াই যন্ত্র তুলে দেওয়া হয়।​এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উত্তর অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিয়াজী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুস সালাম শান্ত, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর নবী সুমন, ছাত্রদলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সম্রাট রইসুদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় কৃষকরা।ছবি: কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী।

১২ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর
র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র‍্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

মামলা চেয়ে থানায় তরুণ / নোয়াখালীতে ফিফা সভাপতি-রেফারির বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচে নিজের প্রিয় দল মিসরের পরাজয় ও রেফারিংয়ে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে নোয়াখালীতে এক তরুণ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় গিয়েছেন। অভিযোগে ম্যাচে পূর্বপরিকল্পিত জালিয়াতি ও কোটি কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করার দাবি তুলে ওই তরুণ ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।গতকাল বুধবার ( ৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা মো. রাকিব (২২) সুধারাম থানায় ওই অভিযোগ নিয়ে যান। তার বাবার নাম মো. সিরাজ।লিখিত অভিযোগে তিনি নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মান্যকারী ফুটবল সমর্থক হিসেবে দাবি করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শাস্তির দাবি জানান। অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হিসেবে ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ রেফারি ছাড়াও আরও ১৫/২০ জন প্রতারক ওই ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করেন।লিখিত অভিযোগে মো. রাকিব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে (৭ জুলাই) তিনি এবং তার এলাকার অন্যান্য ক্রীড়ামোদী শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বসে রুপালী পর্দায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মিশর বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। খেলা চলাকালীন ম্যাচের শুরু থেকেই বিবাদী রেফারি এবং ফিফা সভাপতি সুপরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী প্রতারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করেন।রাকিবের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র ১৪তম মিনিটে মিশর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিসর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিশর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিশরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিশরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিশর দলের খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়।বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিশর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।এ নিয়ে রাকিব আরও বলেন, আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি দেখার পর থেকে তিনিসহ তার অভিযোগের সাক্ষীরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই অন্যায়ের বিচার হওয়া উচিত। যার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় তিনি একই অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাবেন, প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন।জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম তরুণের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই অভিযোগ আমাদের নেওয়ার সুযোগ নেই। পরে ওই তরুণকে বুঝিয়ে বলা হলে তিনি অভিযোগ নিয়ে চলে যান।  

মুরাদনগরে প্রধান শিক্ষক শূন্য ৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

মুরাদনগরে প্রধান শিক্ষক শূন্য ৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৪টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৯৩টি পদও  শূন্য । দীর্ঘদিন যাবত পদ গুলো শূন্য থাকায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদও ২০৪টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১১০ জন। তবে তাদের মধ্যে ৪১ জন চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।এদিকে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ১ হাজার ২৪১টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ হাজার ১৪৮ জন। বাকি ৯৩টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।একাধিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়। আবার দাপ্তরিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিস বা বিভিন্ন সভায় অংশ নিতে হলে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা রেখে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।মটকিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, “প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও করতে হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা কম থাকায় কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে বা দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের সংকটও রয়েছে। শিক্ষার মান বজায় রাখতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।”অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা হোক।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর মোল্লা বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় আমাদের কিছুটা বেগ পোহাতে হচ্ছে। মূলত এ নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে কিছু আইনি জটিলতা বা মামলা ছিল, যা ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। শিক্ষক সংকট দূর করতে খুব শিগগিরই পদোন্নতি, নতুন নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। সাময়িক এই সংকট কাটিয়ে উঠে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

সমাজের প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন "বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেজ)" প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার সহকারী পরিচালক তাসলিমা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৫, আজিমপুরের সমাজসেবা অফিসার মো. জহির উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালীউল্লাহ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, যশোরের সমাজসেবা অফিসার (রেজি.) মো. আব্দুল কাদের, প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং পৌর সমাজকর্মী সোহেল রানা।বক্তারা বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ শুধু নিজের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করতে পারেন না, বরং পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবীর প্রত্যেককে এককালীন ১৮ হাজার টাকা অনুদান এবং প্রশিক্ষণ সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগকে তাদের আত্মনির্ভরশীল জীবনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার, কর্মস্থলেও অনুপস্থিতি / চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অদৃশ্য কারণে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ

চরম ভোগান্তিতে রোগীরা / অদৃশ্য কারণে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গত ২৯ জুন ২০২৬ থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি রোগীদের রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়াসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে বাধ্য হয়ে অনেকেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করছেন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে জরুরি রোগী স্থানান্তরে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মোহাম্মদ খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলেন। কখনও তিনি বরাদ্দসংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আবার কখনও দাবি করেন, কয়েকটি পেট্রোল পাম্প জ্বালানি সরবরাহে অপারগতা প্রকাশ করায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন।এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "অ্যাম্বুলেন্স বন্ধের কারণ হিসেবে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। এটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) ব্যক্তিগত বা মনগড়া বক্তব্য।"সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক টিপু জানান, "অফিস থেকেই আমাকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করা হয়েছে। অফিস থেকে নির্দেশ পেলেই আমি আবার অ্যাম্বুলেন্স চালাব। প্রতিদিন রোগী ও তাদের স্বজনরা আমাকে ফোন দেন। আমি সবাইকে বলি, অফিস থেকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। শুনেছি বাজেট-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে গাড়িটি বন্ধ রয়েছে।"সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় রোগীদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে তাঁর বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (বড়বাবু) শাহি আলমের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে জরুরি এই সেবা বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। রোগীর স্বজনরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিডল্যান্ড হাসপাতালের সেই ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে আদালতের তলবে

কুমিল্লায় সিজারের পর রোগীর পেটে কাপড় রেখে সেলাই / মিডল্যান্ড হাসপাতালের সেই ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে আদালতের তলবে

কুমিল্লায় সিজার অপারেশনের সময় এক প্রসূতি রোগীর পেটে কাপড় রেখে সেলাই করার অভিযোগে চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসককে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ধার্য তারিখে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।মামলার বাদী মো. এনামুল হক মজুমদার অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে মাকসুদা আক্তার (২৪) ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার মিডল্যান্ড হাসপাতালে সিজার অপারেশন করান। ওই সময় জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর পেটের ভেতরে একটি কাপড় রেখে সেলাই করা হয়।অভিযোগে বলা হয়, অপারেশনের পর থেকেই মাকসুদা আক্তার তীব্র পেটব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। পরে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় তাঁর শরীরে টেক্সটাইলোমা (Textiloma) শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল কুমিল্লার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে রোগীর পেট থেকে কাপড়টি বের করা হয়।বাদীপক্ষের দাবি, চিকিৎসা অবহেলার কারণে ভুক্তভোগীর প্রায় আট লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এখনও শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। মামলার সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এবং রোগীর পেট থেকে বের করা কাপড়ের ছবিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় দায়ের করা মামলাটি কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (কগ নং-১)-এ সি.আর. ৬৭৩/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। সদস্য ছিলেন ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর, ডেপুটি সিভিল সার্জন, কুমিল্লা এবং ডা. ফারিয়া জাকরিন আনসারী, মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন কার্যালয়, কুমিল্লা। তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসা অবহেলার ঘটনায় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা হয়েছে।কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ দায় কোনোভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারবে না।আদালত অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নাজনীন জাহান লুবনাকে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ জন

সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামের মৃত্যুর হার, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৯ জন। বিশেষ করে সিলেটে হামে মৃত্যুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সিলেটে নতুন করে হাম উপসর্গে আরো ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৫ বছর বয়সী শিশু আবু হুরাইরা হবিগঞ্জ  জেলার বানিয়চং উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৭৯ জন। রোববার (৫ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭৫ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে একজন ২২ বছর বয়সী নার্স এবং বাকী ৮৬ জন শিশু। এর মধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন।মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন সুনামগঞ্জ জেলার, এরপর ৩১ জন সিলেটের, মৌলভীবাজারের ১১ ও হবিগঞ্জের ৮ জন রয়েছেন।এদিকে সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৪১৮ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩৪ জন সুনামগঞ্জ  জেলার, সিলেটের ১৩১, হবিগঞ্জের ৩৭ ও মৌলভীবাজারের ১৬ জন রয়েছেন।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৭৫ জন রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ১১২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৪, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৪, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ১, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ১, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন ভর্তি রয়েছেন।06/07/26, 15:07:15

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার, কর্মস্থলেও অনুপস্থিতি / চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।