মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

চীন-কিরগিজস্তান সম্পর্কের ‘স্বর্ণযুগ’ আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়

কিরগিজস্তান সময় ৩১ আগস্ট সকালে, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ বিশকেকের হারমনি প্রাসাদে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশকেকের শরতের আকাশ ছিল পরিষ্কার ও মনোরম। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ান গাড়িতে করে হারমনি প্রাসাদে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট জাপারভ ও তাঁর স্ত্রী আইগুল জাপারোভা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রেসিডেন্ট জাপারভ সি চিন পিংয়ের জন্য স্বাগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সি চিন পিং জাপারভের সঙ্গে মঞ্চে আরোহণ করেন। সামরিক ব্যান্ড চীন ও কিরগিজস্তানের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। দুই রাষ্ট্রপ্রধান গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। সি চিন পিং গার্ড অব অনারের মাঝ বরাবর এসে কিরগিজ ভাষায় গার্ড সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান। গার্ড সদস্যরা এর জবাবে বলেন, ‘অগ্রসর! অগ্রসর!’ পরে দুই রাষ্ট্রপ্রধান সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এরপর দুই রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের স্ত্রীরা হারমনি প্রাসাদের মূল অংশে প্রবেশ করে দুই দেশের জাতীয় পতাকার সামনে যৌথ ছবি তোলেন। স্বাগত অনুষ্ঠান শেষে দুই রাষ্ট্রপ্রধান বৈঠকে বসেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রথমে চীনা সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কিরগিজস্তানের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। সি চিন পিং বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের যৌথ নেতৃত্বে চীন-কিরগিজস্তান সম্পর্ক দ্রুত উন্নত হয়েছে। সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হয়েছে, যা দুই দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, চলতি বছর চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র উদ্বোধনী বছর। চীন চীনা বৈশিষ্ট্যের আধুনিকীকরণের মাধ্যমে শক্তিশালী দেশ গঠন ও জাতীয় পুনর্জাগরণের মহান লক্ষ্য বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে। কিরগিজস্তানও পূর্ণ শক্তিতে ‘২০৩০ সালের আগে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করছে। চীন কিরগিজস্তানের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার, শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বিনিময় গভীর এবং আরও বাস্তবমুখী ও জনগণের কাছে দৃশ্যমান সহযোগিতার ফলাফল সৃষ্টি করতে প্রস্তুত বলে জানান সি চিন পিং। এর মাধ্যমে চীন-কিরগিজস্তান অভিন্ন ভবিষ্যৎ কমিউনিটি নির্মাণ আরও গভীর ও বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও দৃঢ় পারস্পরিক সমর্থন চীন-কিরগিজস্তান সম্পর্কের সুস্থ ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। চীন কিরগিজস্তানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ় সমর্থন জানায় এবং দেশটির নিজস্ব জাতীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী উন্নয়নের পথ বেছে নেওয়াকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, দুই দেশের মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চীন কিরগিজস্তানের সঙ্গে দৃঢ় পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। চীন-কিরগিজস্তান চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর দুই দেশের চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব ও দৃঢ় পারস্পরিক সমর্থনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি প্রদান করবে। সি চিন পিং আরও বলেন, দুই দেশের বাস্তবমুখী সহযোগিতা গভীর করতে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা পরিকল্পনা ভালোভাবে বাস্তবায়ন, বাণিজ্যপণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বাণিজ্য ও আন্তসীমান্ত ই-বাণিজ্যের মতো নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তিনি চীন-কিরগিজস্তান-উজবেকিস্তান রেলপথকে আঞ্চলিক জনগণের উন্নয়নের প্রত্যাশা বহনকারী ‘পরিবহনের প্রধান ধমনী’ হিসেবে উল্লেখ করে এর উচ্চমানের নির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বন্দর আধুনিকীকরণ, ব্যবস্থাপনা, মান ও নিয়মের মতো ‘নরম সংযোগ’ গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সম্পদ পুনর্ব্যবহার ও সবুজ খনিজ সহযোগিতায় আরও প্রকল্প বাস্তবায়ন, সমগ্র শিল্পশৃঙ্খলে সহযোগিতা, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ যৌথ পরীক্ষাগার নির্মাণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি। সি চিন পিং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যাতায়াত বাড়ানো এবং যুবসমাজ, গণমাধ্যম, পর্যটন, খেলাধুলা, চিকিৎসা ও স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন। এর মাধ্যমে চীন-কিরগিজস্তান বন্ধুত্বের সামাজিক ও জনসমর্থনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের উচিত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, ‘তিনটি সন্ত্রাসী শক্তি’, মাদক পাচার ও আন্তসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে যৌথভাবে মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। চীন কিরগিজস্তানকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে আরও বড় ভূমিকা পালনে সমর্থন জানায় এবং জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ যৌথভাবে বাস্তবায়ন, আধিপত্যবাদ ও শক্তির রাজনীতির বিরোধিতা, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতায় অটল থাকা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় কিরগিজস্তানের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানান সি চিন পিং। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে চীন ও কিরগিজস্তানের থিয়েনচিন শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক যৌথ উন্নয়ন এবং সংস্থাটির উন্নয়নকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ বলেন, কিরগিজস্তানের ৩৫তম স্বাধীনতা দিবসে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে আতিথেয়তা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছেন। এই সফর কিরগিজস্তান-চীনের গভীর বন্ধুত্ব ও উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থাকে আরও সুস্পষ্ট করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। জাপারভ বলেন, কিরগিজস্তান ও চীন প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং প্রাচীন সিল্ক রোড দুই দেশকে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন যুগের সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করেছে এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, কিরগিজস্তানের উন্নয়নের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চীন নিঃস্বার্থ সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী এবং ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের উদ্বোধন উপলক্ষে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। জাপারভ বলেন, চীনের শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘আমি আত্মনিবেদিত হয়ে জনগণকে কখনও হতাশ করব না’—এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মঙ্গোলিয়া শিখতে আগ্রহী। চীন কিরগিজস্তানের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকার দিক এবং কিরগিজস্তানের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তিনি বলেন, কিরগিজস্তান দৃঢ়ভাবে এক-চীন নীতি মেনে চলে এবং পারস্পরিক সম্মান, সাম্য ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী সম্পর্ক গভীর করতে প্রস্তুত। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, সবুজ অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও যুবসমাজের মধ্যে বিনিময় জোরদারের পাশাপাশি যৌথভাবে ‘তিনটি সন্ত্রাসী শক্তি’ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় চীনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। কিরগিজস্তান-চীন-উজবেকিস্তান রেলপথ নির্মাণকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নিয়ে এটিকে নতুন যুগের ‘ইস্পাত রেশমপথ’ ও কিরগিজস্তান-চীন বন্ধুত্বের নতুন সেতুতে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন জাপারভ। তিনি আরও বলেন, সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আরও ন্যায্য ও স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করছে। কিরগিজস্তান জাতিসংঘ, শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, চীন-মধ্য এশিয়া প্রক্রিয়া এবং বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থাসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করতে প্রস্তুত। বৈঠকে জাপারভ কিরগিজ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে চীনের সিচাংয়ের জিরং এলাকায় ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে গভীর সমবেদনা জানান। সি চিন পিং এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকার দেশে-বিদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার, দুর্যোগপীড়িতদের স্থানান্তর ও পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা এবং গৌণ দুর্যোগ প্রতিরোধে পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করছে। চীন নেপালকেও জরুরি সহায়তা দিয়েছে বলেও তিনি জানান। বৈঠকের পর দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মধ্যে নতুন যুগের সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বের উচ্চমানের উন্নয়ন সংক্রান্ত যৌথ ঘোষণা’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মধ্যে চিরস্থায়ী শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া বিনিয়োগ, পরিবহন, শুল্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ শহরসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা-সংক্রান্ত নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। সফরকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, মানবিক বিষয় ও গণমাধ্যমসহ ২০টির বেশি ক্ষেত্রে সহযোগিতা-সংক্রান্ত নথি স্বাক্ষর করে দুই পক্ষ। ঐদিন দুপুরে প্রেসিডেন্ট জাপারভ ও আইগুল জাপারোভা হারমনি প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ানের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন। সাই ছি ও ওয়াং ই-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ

এসসিওর উন্নয়নে চীন-রাশিয়ার সমন্বিত নেতৃত্বের ওপর জোর

কিরগিজস্তান সময় সোমবার বিকেলে বিশকেকে ২০২৬ সালের শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উল্লেখ করেন, গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিন চীনে সফলভাবে রাষ্ট্রীয় সফর করেছেন। আমরা কৌশলগত উচ্চতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চমান ও উচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করেছি এবং নতুন পরিস্থিতিতে চীন-রাশিয়া সহযোগিতা গভীরতর করার বিষয়ে ঐকমত্য অর্জন করেছি। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সক্রিয়ভাবে তা বাস্তবায়ন করছে এবং ইতিমধ্যে অনেক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। উভয় দেশের বিনিময় ও সহযোগিতা জোরালো উন্নয়নের গতি ধরে রেখেছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের কৌশলগত নেতৃত্ব ও উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় চীন-রাশিয়া সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে, পদক্ষেপ আরও সুদৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে শতবর্ষব্যাপী পরিবর্তন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে অনিশ্চিত ও অনুমানাতীত উপাদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের জনগণের শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা ও জয়-জয় অর্জনের আকাঙ্ক্ষা পরিবর্তিত হয়নি। শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। চীন রাশিয়াসহ সব পক্ষের সঙ্গে একযোগে সংস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে, সংস্থাকে সুস্থিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহায়তা করতে এবং বৈশ্বিক শাসন সংস্কারে নেতৃত্ব দেওয়া ও সমতাভিত্তিক সুশৃঙ্খল বিশ্ব বহুমেরুকরণ এগিয়ে নেওয়ার শক্তিকে শক্তিশালী করতে ইচ্ছুক। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, অস্থির ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখে রাশিয়া ও চীন ক্রমাগতভাবে সর্বাত্মক কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করছে, সমতা, পারস্পরিক বিশ্বাস ও পারস্পরিক সমর্থন বজায় রাখছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। রাশিয়া-চীন সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আদর্শ উদাহরণে পরিণত হয়েছে। রাশিয়া চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখতে, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিল্প, পরিবহন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে এবং জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘনিষ্ঠ করতে চায়, যাতে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত নতুন সাফল্য অর্জন করে। সব পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী, সক্রিয় ও দক্ষ আঞ্চলিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। রাশিয়া ও চীনের উচিত শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে সংহতি ও সহযোগিতা ক্রমাগত জোরদার করা এবং নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করা। রাশিয়া চীনের সঙ্গে জাতিসংঘ, ব্রিকস প্রক্রিয়া, জি-২০-সহ বহুপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা এপেক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনে চীনকে সমর্থন দিতে এবং বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি একসঙ্গে রক্ষা করতে ইচ্ছুক। দুই রাষ্ট্রপ্রধান যৌথভাবে আগ্রহের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছেন। বৈঠকের সময় চীনা নেতা ছাই ছি ও ওয়াং ই প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: স্বর্ণা-তৌহিদ-লিলি,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

এসসিওর উন্নয়নে চীন-রাশিয়ার সমন্বিত নেতৃত্বের ওপর জোর

জিপিএ-৫ স্কাউটদের জন্য শিক্ষাবাজেটে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা-শিক্ষামন্ত্রী

বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিলেন-এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মেধাবী স্কাউট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বাজেট থেকে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।মন্ত্রী বলেন, এইমাত্র আমাকে স্লিপ দেওয়া হলো-স্কাউটের জন্য বাজেট বাড়াতে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেধাবী স্কাউটদের দিকে তাকিয়ে তিনি যোগ করেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেখলে ভালো লাগে। কিন্তু যারা ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে।” আগামী শনিবার কচুয়ায় যারা পরীক্ষায় ফেল করেছে, তাদের সঙ্গে তিনি বসবেন বলেও জানান।স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্কাউট শিক্ষার্থীদের শেখায় জনসেবা, নেতৃত্ব, মানুষকে ভালোবাসা এবং দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার মন্ত্র। এই শিক্ষাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আজকের সচিবরাও একসময় শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়েই তারা আজ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আজকের শিক্ষার্থীরাও একদিন সেই জায়গায় পৌঁছাবে-এমন প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেন।দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি ও নৈতিকতাহীন পরিবেশ থেকে সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফুটবল প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করছেন। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা চলছে। কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস কালচার, ‘লার্নিং হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ চলছে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নৈতিকতা ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। লেখাপড়া করতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। জাতি গঠন করতে হলে শৃঙ্খলায় আসতে হবে এবং আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হবে। আগামী বাংলাদেশ আজকের শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে।উপস্থিত মেধাবী স্কাউটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ভালো ফল করেছে তাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে। আগামী প্রজন্মকে যোগ্য ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

জিপিএ-৫ স্কাউটদের জন্য শিক্ষাবাজেটে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা-শিক্ষামন্ত্রী
জিপিএ-৫ স্কাউটদের জন্য শিক্ষাবাজেটে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা-শিক্ষামন্ত্রী

জিপিএ-৫ স্কাউটদের জন্য শিক্ষাবাজেটে ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা-শিক্ষামন্ত্রী

বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দিলেন-এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মেধাবী স্কাউট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বাজেট থেকে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।মন্ত্রী বলেন, এইমাত্র আমাকে স্লিপ দেওয়া হলো-স্কাউটের জন্য বাজেট বাড়াতে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেধাবী স্কাউটদের দিকে তাকিয়ে তিনি যোগ করেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেখলে ভালো লাগে। কিন্তু যারা ভালো ফল করতে পারেনি, তাদের নিয়েও আমাদের কাজ করতে হবে।” আগামী শনিবার কচুয়ায় যারা পরীক্ষায় ফেল করেছে, তাদের সঙ্গে তিনি বসবেন বলেও জানান।স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্কাউট শিক্ষার্থীদের শেখায় জনসেবা, নেতৃত্ব, মানুষকে ভালোবাসা এবং দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার মন্ত্র। এই শিক্ষাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আজকের সচিবরাও একসময় শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়েই তারা আজ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। আজকের শিক্ষার্থীরাও একদিন সেই জায়গায় পৌঁছাবে-এমন প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেন।দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি ও নৈতিকতাহীন পরিবেশ থেকে সমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফুটবল প্রতিযোগিতায় উৎসাহিত করছেন। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা চলছে। কারিকুলামে চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস কালচার, ‘লার্নিং হ্যাপিনেস’ এবং কারিগরি শিক্ষা যুক্ত করা হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ চলছে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নৈতিকতা ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। লেখাপড়া করতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। জাতি গঠন করতে হলে শৃঙ্খলায় আসতে হবে এবং আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হবে। আগামী বাংলাদেশ আজকের শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে।উপস্থিত মেধাবী স্কাউটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ভালো ফল করেছে তাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে। আগামী প্রজন্মকে যোগ্য ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।

স্মার্ট প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীকে নতুন অভিজ্ঞতায় রূপ দিচ্ছে বেইজিং

আগামী মাসে ২০২৬ সালের চীন আন্তর্জাতিক সেবা বাণিজ্য মেলা বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। চীনের উচ্চ-স্তরের উন্মুক্তকরণের একটি জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, এবারের মেলা সেবা-বাণিজ্যের মূল ক্ষেত্রগুলোয় অর্জিত সাফল্য প্রদর্শন এবং সহযোগিতা অন্বেষণের ওপর আলোকপাত করবে। ৩ শতাধিক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক কোম্পানি এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করবে।চীনে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের কাউন্সিলর এবং চীনে ইনোভেশন নরওয়ের প্রধান হেনিং ক্রিস্টোফারসেন সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, এবারের মেলার প্রধান অতিথিরাষ্ট্র হিসেবে নরওয়ে, শৌকাং পার্কে ২৬০ বর্গমিটারের একটি জাতীয় প্যাভিলিয়ন স্থাপন করবে। এতে সামুদ্রিক শিল্প, সামুদ্রিক ও প্রাণী পুষ্টি, কৃষি, শক্তি, স্বাস্থ্য, ডিজিটাল পরিষেবার পণ্য ও সাফল্য প্রদর্শন করা হবে।এই মেলায় প্রথমবারের মতো ধারাবাহিক ‘বিদেশী পরিষেবা প্রচার ও রোডশো’ কার্যক্রম আয়োজন করা হবে এবং প্রথমবারের মতো ‘বিদেশী সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রদর্শনী এলাকা’-ও স্থাপন করা হবে। এর অর্থ, আইন, হিসাবরক্ষণ, বিজ্ঞাপন ও মানবসম্পদ ক্ষেত্রে বৈদেশিক পরিষেবা প্রদানকারী ৩০টিরও বেশি সংস্থাকে একত্রিত করা হবে, যা এক জায়গায় সব ধরনের বৈদেশিক পরিষেবা প্রদান করতে সক্ষম।অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা এবং সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে আশাবাদী। চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের মোট পরিষেবা বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৭৭৯.৭৫ বিলিয়ন ইউয়ান, যা গত বছরের তুলনায় ৮.৩ শতাংশ বেশি। ব্যক্তিগত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলোয় রপ্তানি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, যা পরিষেবা বাণিজ্যের বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বেইজিং চীনের সেবা বাণিজ্য মেলায় সংস্কৃতি, বাণিজ্য, পর্যটন এবং ক্রীড়ার একীকরণকে আরও গভীর করা হবে।মেলা চলাকালে দুটি প্রিমিয়াম নাইট ট্যুর রুট খোলা হবে। প্রদর্শকরা ইয়ংতিং নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে, শিল্প ঐতিহ্য পার্ক পরিদর্শন করতে এবং কল্পবিজ্ঞান প্রকল্প ও স্থানীয় সুস্বাদু খাবারের অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।আন্তর্জাতিক ধারা ও ধারণাকে কাজে লাগিয়ে, এই সম্মেলন ও প্রদর্শনী শহরটি একটি বাগান-শৈলীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী কেন্দ্র গড়ে তুলছে, যা প্রদর্শনীর আয়োজন, ব্যবসায়িক আলোচনা পরিচালনা, সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রসার এবং অবসর বিনোদনের সুযোগ প্রদান করতে পারবে। এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক বিনিময় মঞ্চ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে এবং আন্তঃদেশীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে সহজতর করতে পারবে।সম্মেলন ও প্রদর্শনী শহরের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্মার্ট প্রযুক্তি। পার্কটি একটি স্মার্ট প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার জন্য, অপারেশন ও পরিষেবাকেন্দ্র এবং এআই-চালিত শৌক্য পার্ক মিনি-প্রোগ্রামকে আপগ্রেড করেছে। এই প্ল্যাটফর্মটি এক ক্লিকে ভেন্যুর তথ্য, পার্কিং নেভিগেশন, ক্যাটারিং পরিষেবা এবং পরিবহন সংযোগে প্রবেশাধিকার দেবে; পাশাপাশি, পার্কের যাত্রী ও যানবাহন প্রবাহের রিয়েল-টাইম হিট অ্যানালাইসিস করে, প্রদর্শক ও দর্শনার্থীদের ওয়ান-স্টপ স্মার্ট পরিষেবা প্রদান করবে। সূত্র: ছাই,আলিম,ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ

দলের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিই বিএনপির সবচেয়ে বড় সম্পদ.. গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

দলের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তিকেই বিএনপির সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, “দলের মধ্যে ঐক্য থাকলে সরকার শক্তিশালী হবে, আর বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকলে কুমিল্লার অগ্রগতিকেও কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না।”মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, “পদ ইমপর্টেন্ট না, কাজ হলো ইমপর্টেন্ট। দলের নেতা একজনই, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর নামেই শ্লোগান হবে। ভাইদের শ্লোগানটা এবার বন্ধ করেন।”তিনি আরও বলেন, “আজকে যদি কুমিল্লার বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকে, সবাই ভালো থাকবে। আমরা দিনকে দিন পিছিয়ে যাচ্ছি। পদ অল্প কয়টা, এমপি অল্প কয়টা। সবাইকে তো পদে বসানো সম্ভব না।”জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “অনেকগুলো শক্তির সঙ্গে লড়াই করে তারেক রহমান স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে। আপনারা যদি এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকেন তাহলে সরকার থাকবে। এদেশে গণতন্ত্র থাকুক অনেকে চায় না। সাধারণ মানুষ অল্পতে ধৈর্য হারায়। কিন্তু আপনারা পাশে থাকলে আমরা তা মোকাবিলা করব।”তিনি বলেন, “আপনারা পাশে থাকলে কুমিল্লা বিভাগ হবে। দলের মধ্যে বিভেদ নয়, মিল-মহব্বত দরকার। দল আপনাকে কোনো না কোনোভাবে মূল্যায়ন করবে।”বৈশ্বিক সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান- এটা তারেক রহমানের শ্লোগান। ব্যাংক খালি অবস্থায় আছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশে যুদ্ধ চলছে। যে গ্যাসের জন্য আমরা প্রতি বছর ভর্তুকি দিই, গত ৭ মাসের ভর্তুকি একমাসে দিতে হয়েছে। তবে বিশ্বাস, তারেক রহমান ও আমাদের সরকার এই সংকট মোকাবিলা করবে।”তিনি আরও জানান, “সাধারণ মানুষের জন্য আমরা প্রতিটি শহরে ভবন করব। স্মার্ট সিটি করব। ছয় মাসের সরকার। সময় দিতে হবে। দল শক্তিশালী তো সরকার শক্তিশালী।”মন্ত্রী বলেন, “গত ১৬-১৭ বছর আমরা কথা বলতে পারি নাই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঠিকমতো উদযাপন করতে পারিনি। পুলিশের হামলা, ছাত্রলীগের হামলা। দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু ছিল না। আজকে অনেক মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা কথা বলতে পারছি।”তিনি আরও বলেন, “যতবার দেশ সমস্যায় পড়েছে, ততবার জিয়া পরিবার এগিয়ে এসে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। একাত্তরের ২৬ মার্চ যদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন, তাহলে জাতি বিভ্রান্ত ছিল।”কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নজরুল হক ভূঁঞা স্বপন প্রমুখ।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ভিপি ওয়াসিম।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ।টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

কালীগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

কালীগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত দুইশত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্টানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছার ক্রেষ্ট তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদ। উল্লেখ্য, এবারে ২০২৬ এর এসএসসির ফলাফলে উপজেলার ২৮টি মাধ্যমিক ও ৩ টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছে।কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গিয়াস উদ্দিন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, সরকারী নলডাঙ্গা ভ্থষন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন তোতা, সলিমুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিদৌরা আক্তারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধানগন। শেষে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে শুভেচ্ছার ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়। 

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রেহানা প্লাজায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দৈনিক দিন প্রতিদিনের সহকারী সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান পিন্টুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক প্রতিদিনের খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ও কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার প্রধান উপদেষ্টা সুমন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাইম ২৪-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দৈনিক দিন প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি আয়শা আক্তার জেসিকা, শনিআখড়া পপুলার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদা শামীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হালিম শিকদার ও হাজী মো. নজরুল ইসলাম।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়-নীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ইসলামের শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের একপর্যায়ে স্থানীয় মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থী ও পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। মিলাদ শেষে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগঅনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কদমতলী থানা প্রেসক্লাব, ঢাকার আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের সদস্যদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।প্রস্তুতি কমিটিতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—সভাপতি: সরকার জামাল, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসাধারণ সম্পাদক: মো. জাহিদ হাসান পিন্টু, দৈনিক দিন প্রতিদিনসাংগঠনিক সম্পাদক: আশিকুর রহমান, দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকাসিনিয়র সহসভাপতি: কবির হোসেন মঞ্জু, দৈনিক প্রতিদিনের খবরসহসভাপতি: হালিম শিকদার, দৈনিক বাংলা ভূমি; এস কে সবুজ আহমেদ, দৈনিক মুক্তির লড়াই; মাকসুদুর রহমান, টাইম ২৪যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: শামীম হোসেন অর্নব, প্রথম আলো; নাছির সরদার, দৈনিক রূপবানীসহসাধারণ সম্পাদক: সামাদ সরওয়ার, নাগরিক টিভি; সোহেল আহমেদ, চ্যানেল এসদপ্তর সম্পাদক: এস এম সোহাগ রানা, টাইম ২৪মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: ইভা রহমান, দৈনিক বাংলা ভূমিঅর্থ সম্পাদক: তাহের শেখ, প্রতিদিনের খবরপ্রচার সম্পাদক: লিটন গাজী, সাহারা টিভিসাংস্কৃতিক সম্পাদক: এম এ এইচ মাসুদ, বার্তা বিচিত্রাতথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক: মো. শাওন, দৈনিক আলোর সময়সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক: মো. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশের আলোত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক: দিপু ভূঁইয়া, আওয়ার বাংলাদেশপাঠাগার সম্পাদক: রুহুল আমীন হাওলাদার, দৈনিক সবার আগেকার্যকরী সদস্য: মো. জসিমউদ্দিন, সাহারা টিভি; নাছির মোল্লা, দৈনিক মাতৃভূমি; চৌধুরী ওহেদুন্নবী সানী, দৈনিক স্বাধীন কাগজ; শরিফুল হক, তথ্যবাণী; মো. হাকিম, দৈনিক ভোরের কথা; বাদল, রাজধানী টিভি; শাওন, প্রতিদিনের আলো এবং শাহারীয়া ইসলাম বাপ্পি।আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তুতি কমিটির মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সকল সদস্যের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা।অনুষ্ঠানের পরিশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং সর্বস্তরের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ । 

বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

সরকারি হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন / বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নি ও শাকপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফি (২০), পিতা- রশিদ, গ্রাম শাকপুর; আবুল হোসেন (৪০), পিতা- মনির হোসেন, শাকপুর; আনাস (৪ মাস), পিতা- রিয়াদ হোসেন, শাকপুর এবং সামিয়া (২৬ মাস), পিতা- মিল্লাত হোসেন, শাকপুর।এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আয়ান (৩ মাস), পিতা- মো. বাহার, গ্রাম বামন্ডা, উপজেলা চান্দিনা; নিলুফা বেগম (৪০), স্বামী- ফরিদ উদ্দিন, মহেশপুর, বরুড়া; নিরুদা (৭০), স্বামী- মৃত সীতিম সরকার, শাকপুর, বরুড়া এবং কুহিনূর বেগম (৩৫), স্বামী- মো. বিল্লাল হোসেন, শাকপুরকে।এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্য, আহতদের কাউকেই বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সবসময় পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, “রেবিস ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে।”স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ওয়ার্ডে যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় হাসপাতাল এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহীল কাফী বলেন, "রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ  খায়রুল আলম বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।"স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালের জলাবদ্ধতা ও মশা-মাছির উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানও আরও উন্নত হবে।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ ।