মুক্তির লড়াই

সম্পত্তির জন্য সৎ মা ও ভাইকে হত্যা, দুই বছর পর রহস্য উদঘাটন

নিখোঁজের আড়ালে ছিল জোড়া হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমঃ সম্পত্তির জন্য সৎ মা ও ভাইকে হত্যা, ০২ বছর পর সিআইডি কর্তৃক রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ২০১২ সালের কোনো এক সময়, জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট পেরিয়ে বিধবা কমলা খাতুন নতুন করে সংসার জীবনে পা রাখেন। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বিপত্নীক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। দু’জনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। অতীতের বেদনা ভুলে তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন শান্তি ও ভালোবাসার একটি ছোট সংসারের।সেই সংসারকে আরও পরিপূর্ণ করে জন্ম নেয় তাদের পুত্র সন্তান নোমান। অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদের প্রথম পক্ষের সংসারে ছিল পাঁচ ছেলে, যাদের মধ্যে তিনজন এখন জীবিত। সময়ের সাথে সাথে বড় হতে থাকে পরিবারটি। সৎ সন্তান, তাদের স্ত্রী-সন্তান এবং নিজের সন্তানকে নিয়ে কমলা খাতুন ধীরে ধীরে একটি বড় পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন।প্রায় সাত-আট বছর আগে আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু হলে সংসারের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পরও কমলা খাতুন তার একমাত্র ছেলে নোমান এবং সৎ সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করছিলেন। বাহ্যিকভাবে সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হতো।কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে যায় সবকিছু। ২০২৪ সালের ১০ মার্চ, ভিকটিমের সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ৯ মার্চ থেকে তাদের সৎ মা নিখোঁজ রয়েছেন এবং মোবাইল ফোনেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।এ খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে আসেন কমলা খাতুনের ছোট বোন রহিমা বেগম। তিনি এসে সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর ও সাইফুল ইসলাম রাজন রাজুকে তার বোন সম্পর্কে  জিজ্ঞাসা করলে তারাও কমলা খাতুনকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান। তারা রহিমা বেগমকে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এ বিষয়ে তারা থানায় জিডিও করা হয়েছে বলে তথ্য দেন।কিন্তু রহিমা বেগম তাদের কথায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি। তার মনে জন্ম নেয় গভীর সন্দেহ। বোনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তিনি কোনো স্বাভাবিকতা খুঁজে পাননি। অবশেষে তিনি নিজেই বাদী হয়ে ১৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। সেখানে (০১) সাগর(৩৫), (০২) রাজু (৩০), (০৩) শ্যামলী (৪৫) ও (০৪) কাজল (৩৮) নামীয় ০৪ জনকে সন্দেহভাজন বিবাদী করা হয়।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিজ্ঞ আদালত প্রথমে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নোয়াখালীকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। পরে আরও গভীর অনুসন্ধানের জন্য মামলাটি সিআইডি নোয়াখালীকে হস্তান্তর করা হয়।এরপর শুরু হয় সন্তানসহ এক নিখোঁজ নারীর রহস্য উদ্ঘাটনের দীর্ঘ অনুসন্ধান। প্রায় তিন মাস ধরে নানা অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ ও সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর অবশেষে ২০২৪ সালের ৪ জুন সিআইডির অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সোনাইমুড়ি থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় রুজু হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।অনুসন্ধান থেকে অপহরণ মামলা রুজু ও তদন্ত কার্যক্রমঃএবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় অপহরণ মামলার তদন্ত কার্যক্রম। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সিআইডি গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। জানা যায়, মৃত্যুর আগে আবুল কালাম আজাদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা খাতুন এবং তাদের একমাত্র শিশু সন্তান নোমানের নামে বসতবাড়িসহ সংলগ্ন প্রায় ৩০ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছিলেন। বর্তমান বাজারমূল্যে যার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে প্রথম সংসারের সন্তানদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল।বিশেষ করে এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান ওরফে সাগর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে সম্পত্তি নিজেদের নামে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কমলা খাতুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে একটি জমি বিক্রির অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও সৎমা ও সৎ সন্তানদের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়।তদন্তে আরও উঠে আসে, ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযুক্তরা কমলা খাতুন ও তার শিশু ছেলে নোমানকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সেই ঘটনার পর থেকেই মা ও ছেলেকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে ভিকটিম কমলা খাতুনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন সিআইডি জনৈক এক ব্যবহারকারী কাছ থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ব্যবহারকারীকে  জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোবাইল ফোনটি ঢাকার সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ভাঙারি মালামালের সঙ্গে বিক্রি করা হয়েছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে সিআইডি ওই বাসা এবং এর ভাড়াটিয়াদের তথ্য বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে।তদন্তে তখন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সিআইডি জানতে পারে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম রাজন রাজু একসময় ওই বাসাতেই ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।আসামী গ্রেফতার ও খুনের লোমহর্ষক তথ্য প্রাপ্তিঃদীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। সিআইডি নোয়াখালীর একটি চৌকস আভিযানিক দল এলআইসি, সিআইডির সহায়তায় গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২১ মে রাতে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার ভাটিকাশর এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে রাজন ওরফে রাজু (৪০)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন, ২২ মে সন্ধ্যায়, সোনাইমুড়ী জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে আরেক এজাহারভুক্ত আসামি জিয়াউর রহমান ওরফে সাগর (৪৫) এবং তদন্তে উঠে আসা সহযোগী অভিযুক্ত আশিকুর রহমান টিপু (৩২)-কে গ্রেফতার করা হয়।পরবর্তীতে আদালতের অনুমতিতে তিন দিনের রিমান্ডে এনে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে এক ভয়াবহ ও শিউরে ওঠার মতো হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা।জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করে যে, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ঘটনার প্রায় পনেরো দিন আগেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে আগেই একটি গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়, যাতে হত্যার পর লাশ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া যায়।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাতে কমলা খাতুন ও তার শিশু ছেলে নোমানের খাবারের পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। গভীর রাতে তারা অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে, হাত দিয়ে গলা চেপে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে মা ও শিশুপুত্রকে হত্যা করা হয়।হত্যার পর অপরাধের কোনো চিহ্ন যাতে না থাকে, সেজন্য তারা ভিকটিমদের পরনের কাপড় খুলে ফেলে এবং পূর্বপ্রস্তুত জায়গায় লাশ দুটি পুঁতে রাখে। পরে ব্যবহৃত গামছা ও পরিধেয় কাপড় আগুনে পুড়িয়ে ফেলে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যমতে পুকুর সেচ ও দেহাবশেষ উদ্ধারঃ তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪/০৫/২০২৬ খ্রি. সকালে সিআইডির একটি দল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সন্দিগ্ধ পুকুর সেচে ও ভেকুর সাহায্যে খনন করে ও লুকিয়ে রাখা দেহাবশেষ উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।  ভিকটিম কমলা খাতুন ও শিশু নোমানের দেহাবশেষ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষের সুরতহাল প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে দেহাবশেষ ভিকটিমদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।গ্রেফতারকৃত আসামীদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানঃগ্রেফতারকৃত ০৩ জন অভিযুক্ত বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় নিজ দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।  দেহাবশেষ থেকে সংগৃহীত নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।  বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি, নোয়াখালী ইউনিট। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন ও অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঈদযাত্রায় মর্মান্তিক মৃত্যু / কালিহাতিতে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে নিহত ১৫

ঈদকে সামনে রেখে বাড়ি ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের মাতমে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। নিহতরা সবাই ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের পথে ট্রাকে করে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, বিকট শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে তারা ট্রাকের নিচে চাপা পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, রডবোঝাই ট্রাকটিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রী নিহত হন।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন বন্ধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

কালিহাতিতে রডবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে নিহত ১৫

সিলেটে অপরাধ জগতের অন্তরালে বাপ্পির ভয়ংকর ফাঁদ, স্বস্থি ফিরে পেয়েছে তোপখানাবাসী

বিগত আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বেপরোয়া হয়ে উঠে ছিলো কিশোর গ্যাং এর হোতা আসাদুল আলম বাপ্পি। সুরমা নদী পার ঘেষা তোপখানা, কাজিরবাজার, সুরমা মার্কেট, ক্বিন ব্রিজ এলাকা ছিলো তার ত্রাস জগতের নৈরাজ্য। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিনিয়ত ঘটতো ওই এলাকায়, আর এসব এর নেতৃত্ব দিতো বাপ্পি। তার বিরুদ্ধে থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশের খাতায়ও সে অপরাধী। মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের জন্য বাপ্পীর রয়েছে নিজস্ব সিন্ডিকেট। সেই সাথে রয়েছে তার কিশোর গ্যাং। পকেটে সব সময় ছোরা নিয়ে ঘুরে বেড়াত সে। তার জন্য নাজেহাল কাজীরবাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষজন।সব অপরাধ ছাপিয়ে এবার বাপ্পী সিলেটে র‌্যাব সদস্য ইমন হত্যার দায়ে কারাবন্দি। ইমন আচার্য নিহতের ঘটনায় সুজিত আচার্য বাদী হয়ে শনিবার (২৩ মে ২০২৬ইং) এসএমপির কোতোয়ালি থানায় বাপ্পীকে প্রধান আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন।এদিকে, ঘাতক বাপ্পী নগরীর কাজিরবাজার এলাকার মোগলটুলা ২৪ নং বাসার বাসিন্দা ও ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেনের ছেলে।জানা গেছে, আসাদুল আলম বাপ্পি ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সে পিতার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিলো। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।কোতোয়ালি থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, বাপ্পী সিলেটের চিহ্নিত অপরাধী। সে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদকের চারটি মামলা রয়েছে। ইমন হত্যার দায় স্বীকার করে বাপ্পী আদালতের বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দিয়েছে।পুলিশ জানায় : শুক্রবার (২২ মে ২০২৬ই) নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের ধাওয়া চলাকালে সাদা  পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসে আসাদুল আলম বাপ্পিকে ঝাপটে ধরেন। এসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পরপরই বাপ্পিকে আটক করে পুলিশ এবং তার কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত বাপ্পি একটি এলাকায় বাসার ভেতরে ঢুকে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

সিলেটে অপরাধ জগতের অন্তরালে বাপ্পির ভয়ংকর ফাঁদ, স্বস্থি ফিরে পেয়েছে তোপখানাবাসী
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্তের দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং প্রবিধানমালা চূড়ান্তের দাবি

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে দ্রুত ফ্রন্ট-অফ-প্যাক (এফওপি) লেবেলিং প্রবিধানমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার সকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাদ্যের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং চালুর ফলে ভোক্তারা স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সচেতন হয়েছেন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে। একইসঙ্গে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে উদ্যোগী হয়েছে।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সতর্কবার্তাসহ সহজবোধ্য ও দৃশ্যমান প্রতীকী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাঁদের দাবি, ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং প্যাকেটের সামনের অংশে দৃশ্যমান সতর্কবার্তা যুক্ত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা খাদ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সহজেই ধারণা পেতে পারেন।মানববন্ধনে জানানো হয়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ইতোমধ্যে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং বিষয়ে খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। জনস্বার্থে এ নীতিমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান বলেন, “বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্যাকেটজাত খাবারের ওপর কার্যকর স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের ৪৪টি দেশের মতো বাংলাদেশেও ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং নীতিমালা চালু করা সময়ের দাবি।”আয়োজকরা বলেন, “দেখুন-বুঝুন-তারপর কিনুন”— এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, স্বাস্থ্যব্যয় হ্রাস এবং সচেতন সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।মানববন্ধন সমন্বয় করেন আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং, প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন, সোনালী সকাল, মুক্তাক্ষর, ভয়েস ইয়ুথ, মিশন গ্রীন বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রকল্প সমন্বয়কারী মাহবুবা রহমান।

চীনা সংস্কৃতিকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম শেনচেন মেলা

২২তম চীন (শেনচেন) আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক শিল্প মেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ চীনের কুয়াংতোং প্রদেশের শেনচেন শহরে এ আয়োজনের উদ্বোধন হয়। পাঁচ দিনব্যাপী চলমান এ মেলায় সাংস্কৃতিক শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ৬ হাজার ৩১২টি প্রদর্শক বুথ অংশ নিয়েছে।  প্রদর্শন করা হচ্ছে এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি সাংস্কৃতিক পণ্য। শেনচেন বিশ্ব প্রদর্শনী ও সম্মেলন কেন্দ্রে মোট আটটি প্রদর্শনী হল স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুয়াংতং-হংকং-ম্যাকাও গ্রেটার বে এরিয়ার সাংস্কৃতিক শিল্প উদ্ভাবন নিয়ে একটি বিশেষ হলও রয়েছে।এ বছরের মেলায় প্রথমবারের মতো এপেক অর্থনীতির জন্য এক বিশেষ প্রদর্শনী এলাকা স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পর্যটনের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলটির বিশেষ পণ্য, বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পণ্য এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক খাবারও প্রদর্শীত হচ্ছে।চলতি বছরের নভেম্বরেই শেনচেনে ৩৩তম এপেক অর্থনৈতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মেলাটি বর্তমানে চীনের অন্যতম শীর্ষ সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং চীনা সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।তথ্য ও ছবি: সিসিটিভি

আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি পদ দেওয়ায় তীব্র বিতর্ক

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া নাইমুর রহমান মাসুমের নাম। স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তার পরিবারের একাধিক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকলেও তাকে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তৃণমূল বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।রায়পুরা থানা কৃষক ধলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল রোব সরকার ও রায়পুরা থানা কৃষক ধলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল রোব সরকার বলেন, মাসুমের ছোট ভাই জিসান মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তার চাচা মুকুল উদ্দিন রায়পুরা থানা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। মাসুমের মা অতীতে উত্তর মির্জানগর ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু তাই নয়, নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও মিছিলেও তাকে অংশ নিতে দেখা গেছে।এমন রাজনৈতিক পটভূমির একজনকে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করাকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে মনে করছেন বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন, “যাদের পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তারা কীভাবে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসে?”তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করা ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠনের আদর্শিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে ভবিষ্যতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।নেতাকর্মীরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে আনা হলে সেটি সংগঠনের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াবে।”এ বিষয়ে নাইমুর রহমান মাসুম বলেন, আমার পরিবারে অন্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও আমি বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)।২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার তুরাগ থানার নিশাতনগর (পশ্চিম উত্তরা সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত।দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন BGMEA-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাশন, টেক্সটাইল, পোশাক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক শিক্ষাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজনেস স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্মার্ট টেক্সটাইল, সাসটেইনেবল ফ্যাশন, ডিজিটাল ডিজাইন ও অটোমেশনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, BUFT-এ পড়াশোনার মাধ্যমে তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন।নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য। ফ্যাশন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে BUFT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি

প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি

যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার জয়নগর এলাকায় আসামির বোন শিল্পী আক্তারের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা প্রথম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা ১ম গলির ২৬০/১ নম্বর ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়। তদন্তে জানা যায়, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন সময়ে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন তাসলিমা। গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগ্নি হালিমা আক্তার মিলে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাথরুমে নিয়ে মরদেহের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ১৮ মে র‌্যাব এ মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেপ্তার করে। পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

প্রয়োজন ৪ লক্ষ টাকা / হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

১৩ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু অর্পিতা। এই বয়সে তার দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং তার খাদ্যনালী ব্লক হয়ে আছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।অর্পিতার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে। তার বাবা বিষ্ট রঞ্জন সাহা একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের এমন দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শুনে দিশেহারা পুরো পরিবার। দিনের পর দিন মেয়ের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্পিতার অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে জমানো সব সম্বল শেষ করেছেন অর্পিতার বাবা। এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তারা।বিষ্ট রঞ্জন সাহা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি একজন বাবা, আমার সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছেন ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"আপনার সামান্য একটু সহায়তা হয়তো ছোট্ট অর্পিতার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থতার হাসি। দানশীল ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন:সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:বিকাশ নম্বর: ০১৩২৮৪২৪৭৮৫ (অর্পিতার বাবা - বিষ্ট রঞ্জন সাহা)একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে আজই এগিয়ে আসুন। আপনার এই সহযোগিতা হয়তো একটি শিশুকে নতুন জীবন দিতে পারে।

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা

শাহরাস্তিতে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইঞ্জিনিয়ার মকবুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ৪ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও ছানি অপারেশন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বলশিদ হাজি আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন জানান, ৪ শতাধিক রোগী দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে। এতে ২৫ জন রোগীকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়। এছাড়া রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। যাদেরকে অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে তাদের সবাইকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢাকায় নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অপারেশন করা হবে। এছাড়াও যাতায়াত থাকা খাওয়া সহ সকল ব্যয় ফাউন্ডেশন বহন করবে। ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন জানান, পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প উপজেলা জুড়ে আয়োজন করা হবে। বিকেল পর্যন্ত ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পত্র প্রদান করেন। 

বরুড়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সুন্নতে খৎনা কর্মসূচি

ঈদের পর দিন / বরুড়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সুন্নতে খৎনা কর্মসূচি

মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে এ,কে,এম আবু তাহের ফাউন্ডেশন। পবিত্র ঈদুল আজহার পরের দিন, শনিবার ৩০ মে ২০২৬ ইং সারাদিন ব্যাপী বরুড়ার ঝলম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমধর্মী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সুন্নতে খৎনা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।এ আয়োজনে জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক ফোরামের শতাধিক অভিজ্ঞ ডাক্তার অংশগ্রহণ করবেন। সাধারণ রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি শিশুদের সুন্নতে খৎনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে সম্পূর্ণ ফ্রি।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে চিতড্ডা, ঝলম, আড্ডা, আদ্রা ইউনিয়ন এবং পৌরসভা দেওড়া এলাকার রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আরো ৪টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। আয়োজকরা সকলকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। 

মানসিক স্বাস্থ্য দক্ষতা বাড়াতে আহ্ছানিয়া মিশন কেন্দ্রের কর্মশালা

মানসিক স্বাস্থ্য দক্ষতা বাড়াতে আহ্ছানিয়া মিশন কেন্দ্রের কর্মশালা

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ব্যাসিকস অব অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২১ মে) ৩ টায় রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কর্মরত সকল কর্মীদের অংশগ্রহণে এ কর্মশালার আয়োজন করে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ রাহানুল ইসলাম। এছাড়া প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য সেক্টরের সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলী।কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরূপণ এবং যেকোনো সংকটকালীন পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবেলার ব্যবহারিক কৌশল ও তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে আত্মহানি প্রবণতা, মানসিক অস্থিরতা, জরুরি কাউন্সেলিং এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হয়।আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে মানসিক সংকটের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যায়ন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। এই কর্মশালা অংশগ্রহণকারীদের জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলায় আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।এছাড়াও কর্মশালায় তিনটি ড্রাগ ট্রিটমেন্ট কেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

প্রয়োজন ৪ লক্ষ টাকা / হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

১৩ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু অর্পিতা। এই বয়সে তার দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং তার খাদ্যনালী ব্লক হয়ে আছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।অর্পিতার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে। তার বাবা বিষ্ট রঞ্জন সাহা একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের এমন দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শুনে দিশেহারা পুরো পরিবার। দিনের পর দিন মেয়ের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্পিতার অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে জমানো সব সম্বল শেষ করেছেন অর্পিতার বাবা। এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তারা।বিষ্ট রঞ্জন সাহা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি একজন বাবা, আমার সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছেন ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"আপনার সামান্য একটু সহায়তা হয়তো ছোট্ট অর্পিতার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থতার হাসি। দানশীল ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন:সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:বিকাশ নম্বর: ০১৩২৮৪২৪৭৮৫ (অর্পিতার বাবা - বিষ্ট রঞ্জন সাহা)একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে আজই এগিয়ে আসুন। আপনার এই সহযোগিতা হয়তো একটি শিশুকে নতুন জীবন দিতে পারে।