বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে ‘৩০ বিলিয়ন বনাম ৩০ বিলিয়ন’ কাঠামো
২০২৬ সালের মে মাসে বেইজিংয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সরকারি পর্যায়ের একটি বাণিজ্য পরিষদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। এরপর ২০ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অষ্টম দফা অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চীন-মার্কিন বাণিজ্য পরিষদের কার্যপ্রণালি, ‘৩০ বিলিয়ন বনাম ৩০ বিলিয়ন’ সমতুল্য শুল্ক হ্রাস কাঠামোর দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালির নির্দেশিকা এবং শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই পক্ষ। কার্যপ্রণালি অনুযায়ী, বাণিজ্য পরিষদের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও উন্নত করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা এবং বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় সমাধান করা। ধারণা করা হচ্ছে, চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং মতপার্থক্যের বিষয়গুলো কমিয়ে আনতে বাণিজ্য পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য পরিষদের কাঠামোর অধীনে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য শুল্ক হ্রাস কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে, ২০২৪ সালের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে প্রত্যেক পক্ষের প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের আমদানি পণ্যের ওপর নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আইন ও বিধি অনুযায়ী সমতুল্য হারে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা দেওয়া হবে। এর আওতাভুক্ত ৯০ শতাংশেরও বেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিকভাবে আরোপিত সব অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে এবং এসব পণ্য সর্বাধিক অনুকূল শুল্ক সুবিধা পাবে। দুই পক্ষ নিজ নিজ বাজারের চাহিদা ও শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমতুল্য শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকা নির্ধারণ করেছে। চীন থেকে আমদানি করা খেলনা, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, শিশুদের পণ্য, রান্নাঘর ও বাথরুমের সামগ্রী এবং উৎসবের উপহারসহ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কৃষিপণ্য, ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কয়লাসহ প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে চীন। দুই পক্ষ নিজ নিজ শুল্ক হ্রাসের আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকা যৌথভাবে প্রকাশ করতে সম্মত হয়েছে। এরপর নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই সময়ে শুল্ক হ্রাস কার্যকর করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটাতে কৃষিপণ্য, জ্বালানি, শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারেও এটি সহায়ক হবে। এ ছাড়া, দুই পক্ষ বাণিজ্য পরিষদের অধীনে একটি কৃষি কার্যকারী দল গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। কার্যকারী দলটি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বাজারে প্রবেশাধিকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে, বাণিজ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলা করবে এবং কৃষি ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করবে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দলটির প্রথম বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন জানিয়েছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট উদ্বেগগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সূত্র: স্বর্ণা, ফয়সল, লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়তে সব দেশের সঙ্গে কাজ করবে
শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণে উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বয়ের নির্দেশনা সি চিন পিংয়ের
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব, চীনের প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান সি চিন পিং সম্প্রতি উচ্চতর স্তরের শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন।তিনি বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ এবং সমাজের স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। চীন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ দেশ।সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, নতুন যাত্রাপথে নতুন যুগের চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্রের চিন্তাধারাকে প্রধান নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পার্টির সর্বাত্মক নেতৃত্ব জোরদার করতে হবে, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সমন্বয় করতে হবে এবং শাস্তি ও প্রতিরোধের পাশাপাশি সমস্যার লক্ষণ ও মূল কারণ—উভয়ের সমাধানে গুরুত্ব দিতে হবে।আইনের শাসনের সহায়তা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সক্ষমতা আরও বাড়ানো, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সক্ষমতা জোরদার, জননিরাপত্তা পরিচালনার মান উন্নত এবং সামাজিক পরিচালনাব্যবস্থা আরও পরিপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি প্রতিরোধ ও নিরসনের মাধ্যমে দেশকে আরও নিরাপদ, সমাজকে আরও সুশৃঙ্খল, পরিচালনাকে আরও কার্যকর এবং জনগণকে আরও সন্তুষ্ট করার আহ্বান জানান।শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণবিষয়ক সম্মেলন ২৮ সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সি চিন পিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ও আইনবিষয়ক কমিটির সম্পাদক ছেন ওয়েনছিং সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দৃঢ় নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণে অর্জিত সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত হয়েছে এবং ‘শান্তি’ চীনের শাসনব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।তার মতে, এর মূল কারণ হলো, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মূল নেতৃত্ব হিসেবে সি চিন পিংয়ের নেতৃত্ব এবং নতুন যুগের চীনা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজতন্ত্রের চিন্তাধারার বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা।ছেন ওয়েনছিং বলেন, সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি অটলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সি চিন পিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা গভীরভাবে অধ্যয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বে শাস্তি ও প্রতিরোধের সমন্বয় এবং বিভিন্ন পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চতর স্তরের শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সদস্য এবং জননিরাপত্তামন্ত্রী ওয়াং সিয়াও হং বলেন, সি চিন পিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা গভীরভাবে অধ্যয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘চারটি আরও’ লক্ষ্য দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করতে হবে। চিন্তাধারার নেতৃত্ব জোরদার, মূল কাজের ওপর গুরুত্ব, পদ্ধতি উদ্ভাবন, তৃণমূল ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং কাজের কাঠামো আরও পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে।সম্মেলনে শান্তিপূর্ণ চীন নির্মাণের ক্ষেত্রে ৬০টি মডেল শহর এবং ১৬০টি মডেল কাউন্টিকে স্বীকৃতি ও নামকরণ করা হয়। পুরস্কৃত প্রতিনিধিরা সম্মেলনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সূত্র: স্বর্ণা, ফয়সল, লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
চীন-মার্কিন সম্পর্কের নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু : সি চিন পিং
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় স্বাগত ভোজের আয়োজন করেন। স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে হোয়াইট হাউসে এ ভোজের আয়োজন করা হয়। সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ান হোয়াইট হাউসে পৌঁছালে ট্রাম্প ও মেলানিয়া তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের স্ত্রীরা একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং ভোজে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভোজ শুরু হওয়ার পর সি চিন পিং ও ট্রাম্প পৃথক ভাষণ দেন। চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নে আগ্রহী ও সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং মধ্যশরৎ উৎসবের শুভকামনা জানান সি চিন পিং। সি চিন পিং বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সফলভাবে চীন সফর করেছেন। ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা পরস্পরের দেশে সফর করেছেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এবারের সফরে আবারও অনেক নতুন ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, যা চীন-মার্কিন গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং সম্পর্কে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, দুই শতাধিক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। এর পরপরই চীনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক পণ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদান-প্রদানও শুরু হয় তখন। তিনি বলেন, ৮০ বছরেরও বেশি আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাপানি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। রক্ত ও অগ্নিপরীক্ষায় গড়ে ওঠা এই বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যাবে। ৫০ বছরেরও বেশি আগে দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিল টেবিল টেনিস কূটনীতি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিকরা ‘ছোট একটি বল বড় একটি বলকে নাড়ায়’—এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে চীন-মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মহান প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। ২০ বছরেরও বেশি আগে রোনাল্ড সাকোলস্কি নামের এক মার্কিন নাগরিক চীনের মরুকরণ নিয়ন্ত্রণকর্মী ইন ইয়ু চেনকে বৃক্ষরোপণে সহায়তা করেছিলেন। তাঁদের গল্প বহু চীনা মানুষকে মুগ্ধ করেছিল এবং এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে। সি চিন পিং বলেন, চীন-মার্কিন মানবিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও হৃদয়ের যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক। একইসঙ্গে এটি চীন-মার্কিন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য জনসমর্থনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে। সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন-মার্কিন সম্পর্ক আবারও একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। এই দুই লক্ষ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। তিনি বলেন, উভয়পক্ষের উচিত বড় দেশের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বড় দেশগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে সহাবস্থানের নতুন পথ অন্বেষণ করা। সি চিন পিং বলেন, ইতিহাসের স্রোত বয়ে চলেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্ভাবনাও বিস্তীর্ণ। উভয়পক্ষকে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং চীন-মার্কিন ‘বন্ধুত্বের সুন্দর ফুলের’ যত্ন নিয়ে যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গত মে মাসে চীন সফরের সময় চীনা জনগণের উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাঁর মনে গভীর ও সুন্দর ছাপ ফেলেছিল। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে দুই দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মৈত্রী উদযাপন করছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় দেশেরই সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও তাঁদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও লালন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনতে ইচ্ছুক।’ ভোজসভাটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোজ চলাকালে মার্কিন শিল্পীরা চমৎকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। সূত্র: আনন্দী, ফয়সল, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশন গ্রেফতার
বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকা’র উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ ফল উৎসব অনুষ্ঠিত