জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা
পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় এক আবেগঘন ধর্মীয় মিলনমেলায়। তাকবিরের ধ্বনি আর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে দেশের প্রধান ঈদ জামাতে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই জাতীয় ঈদগাহে জড়ো হতে থাকেন হাজারো মুসল্লি। নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত হন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহে পৌঁছান।ঈদের এই কেন্দ্রীয় জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশ নেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ ময়দান হয়ে ওঠে এক বিশাল ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।খুতবায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের জন্যও দোয়া করা হয়।প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন নজরদারির আওতায়। মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পল্টন, হাইকোর্ট মোড় ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল ও পার্কিংয়ের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে জাতীয় ঈদগাহের এই প্রধান জামাত দেশবাসীর মাঝে ঈদের সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
১৬১ ভিআইপির উৎসব এবার লোহার ফটকের ওপারে / কারাগারের দেয়ালে বন্দি ঈদ!
একসময় ঈদ মানেই ছিল রাজনৈতিক নেতাদের ব্যস্ততা, অনুসারীদের ভিড়, ঈদগাহে গণসংযোগ আর ক্ষমতার প্রদর্শনী। কেউ নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে ঈদের নামাজে অংশ নিতেন, কেউ বা গণভবনের আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময়ে মাততেন রাজনৈতিক আড্ডায়। অথচ সময়ের নির্মম পরিহাসে এবার সেই পরিচিত অনেক মুখের ঈদ কাটবে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে।পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬১ জন ভিআইপি বন্দি। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দুই শতাধিক ভিআইপি আসামি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬১ জন আইন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির বন্দি বা ‘ডিভিশন’ সুবিধা পাচ্ছেন।নিরাপত্তাজনিত কারণে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৬০ জন হেভিওয়েট বন্দিকে রাখা হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে। কঠোর নজরদারির মধ্যেই সেখানে কাটবে তাদের ঈদের দিন।কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে দেশের সব কারাগারে সাধারণ বন্দি ও ভিআইপি বন্দিদের জন্য একই ধরনের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।ঈদের দিনের শুরু হবে সেমাই বা পায়েস এবং মুড়ির নাশতায়। দুপুরে পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার—পোলাও, গরুর মাংস, একটি আস্ত মুরগির রোস্ট, ডিম, মিষ্টান্ন, কোল্ড ড্রিংকস, পান ও সুপারি। অন্য ধর্মাবলম্বী বন্দিদের জন্য গরুর মাংসের পরিবর্তে রাখা হয়েছে খাসির মাংসের ব্যবস্থা। রাতের খাবারে থাকবে সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ ভাজা।শুধু খাবার নয়, ঈদকে কিছুটা আনন্দময় করতে বিভিন্ন কারাগারে আয়োজন করা হচ্ছে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও। ঈদের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন বন্দিরা পরিবারের সদস্যদের আনা খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বজনদের সাক্ষাতের জন্য কারাফটকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে থাকা ভিআইপি বন্দিদের ঈদের দিন সকালে একসঙ্গে জামাতে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে। পরে তারা নিজেদের মধ্যে কুশল বিনিময়ও করতে পারবেন। এছাড়া ঈদের দিন ও পরবর্তী দুই দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ এবং মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার কারণে আগে থেকে অনুমোদিত নম্বরেই ফোনালাপ সীমাবদ্ধ থাকবে।ক্ষমতার চূড়ায় থাকা মানুষদের জন্য এবারের ঈদ তাই এক ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। রাজনৈতিক মঞ্চ, ক্ষমতার বলয় আর প্রটোকলের বাইরে, লোহার গেট আর কারাপ্রাচীর ঘেরা জীবনে তাদের ঈদ যেন সময়ের এক নীরব বার্তা—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, সময়ই শেষ কথা বলে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর খবর, ঘটনাস্থলে পুলিশ
ঘুম ভাঙতেই রাজধানীতে শোকের ছায়া— মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যঘেরা এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই হাসপাতালে ছুটে যায় থানা পুলিশ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে যান ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম।বুধবার (২৭ মে) সকালে তিনি জানান, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালজুড়ে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
ঐশ্বরিক আনুগত্যের মহোৎসব বনাম সংশয়বাদের ব্যবচ্ছেদ / জিলহজ্জের সমাজতাত্ত্বিক দর্শন ও শ্বাশত শিক্ষা
সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম
বিচারহীনতার সংস্কৃতি বনাম জননিরাপত্তা / রামিসা হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ফিরিয়ে আনার লড়াই
অবক্ষয়ের কালবেলা ও বিপন্ন শৈশব / বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর কত কাড়বে রামিসা-আছিয়াদের প্রাণ?