মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

তামাকমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক প্রস্তাবিত বাজেট: বিটিসিএর উদ্বেগ

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক ব্যবহার হ্রাসের পরিবর্তে তামাক শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস (বিটিসিএ)। সংগঠনটির মতে, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, ই-সিগারেট ও ভেপজাতীয় পণ্যকে কর কাঠামোর আওতায় এনে কার্যত বৈধতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে বিটিসিএর আহ্বায়ক ইকবাল মাসুদ এবং মডারেটর সুশান্ত সিনহা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, ফারহানা জামান লিজা, সামিউল হাসান সজীব, আবু রায়হান ও ইব্রাহীম খলিল এসব মন্তব্য করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার একদিকে দেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে এমন বাজেট প্রস্তাব দিয়েছে যা সেই লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসলেও সরকার সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার ধারা প্রত্যাহার করে এসব পণ্যকে করের আওতায় এনে বাজারে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।বিটিসিএর নেতৃবৃন্দের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের কোটি কোটি কিশোর ও তরুণ নতুন ধরনের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকিতে পড়বে। তারা বলেন, স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব আয়ের চিন্তা থেকে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াবে এবং তামাকজনিত রোগ, উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও অকালমৃত্যুর কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হবে।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও তা জনস্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট নয়। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেট বিক্রি হয় নিম্নস্তরের বাজারে, অথচ ওই স্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এই বৃদ্ধি কার্যত অকার্যকর বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।বিটিসিএ জানায়, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডভেলোরেম করের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট (স্পেসিফিক এক্সাইজ) কর আরোপের সুপারিশ করে আসছেন। কিন্তু সেই সুপারিশ উপেক্ষা করায় সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে এবং তামাক কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে।সংগঠনটির মতে, নিম্নস্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্য বৃদ্ধি, বিড়ি, জর্দা ও গুলের মূল্য কার্যকরভাবে না বাড়ানো এবং নতুন নিকোটিনজাত পণ্যকে বৈধতা দেওয়ার ফলে এবারের বাজেট তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।তবে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, ডিজিটাল ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ এবং তামাকজাত পণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বৃদ্ধির মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিটিসিএ। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব হবে।বিবৃতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্মূল্যায়ন এবং জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা প্রয়োজন।

বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নীতিগত দলিল। প্রতি বছরের মতো ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটও দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কতটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা যায়।বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষ যে সমস্যাটির মুখোমুখি সবচেয়ে বেশি হচ্ছেন, সেটি হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য। বাজারে প্রতিদিন চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, মাছ, মাংস, সবজি, দুধসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের মাসিক আয়ের বড় অংশ ব্যয় করছেন শুধু খাদ্য কেনার জন্য। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সংকুচিত করতে হচ্ছে।অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যস্ফীতি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও যখন তা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রায় অবস্থান করে, তখন তা জনগণের জীবনমান, সঞ্চয়, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিও উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে।তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও মূল্যস্ফীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতি মুনাফার প্রবণতা, মজুতদারি, অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কার্যকর বাজার তদারকির অভাব বহু ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে তার সুফল ভোক্তারা পান না। বরং মাঝখানে বিভিন্ন স্তরে অযৌক্তিক মূল্য সংযোজনের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে বাজেটে লক্ষ্য নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়, লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক নীতি।বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শুল্ক কমিয়ে বা কর অব্যাহতি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কারণ অনেক ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর সুবিধা ভোক্তার কাছে না গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফায় পরিণত হয়। এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে হবে। বর্তমানে কৃষক অনেক সময় ন্যায্যমূল্য পান না, অথচ ভোক্তাকে অতিরিক্ত দামে সেই পণ্য কিনতে হয়। এর অর্থ হলো উৎপাদক ও ভোক্তার মাঝখানে অস্বাভাবিক মূল্য ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, কোল্ড স্টোরেজ, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, ডিজিটাল বিপণন এবং সরাসরি কৃষক-ভোক্তা সংযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।বর্তমান সময়ে পরিবহন ব্যয়ও বাজারদর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। মহাসড়কে চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়, যানজট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অদক্ষতা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই শুধু বাজার মনিটরিং নয়, লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, দেশের কৃষি এখনও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। কৃষক যদি উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ পান, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, উন্নত বীজ, মানসম্মত সার, সেচ সুবিধা এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারি সহায়তা পান, তাহলে খাদ্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।বর্তমান বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে বাস্তবে যেন প্রকৃত দরিদ্র, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী, দিনমজুর, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং শহরের নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী এসব সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা ভোগ করেন। এই অনিয়ম বন্ধে ডিজিটাল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।এবারের বাজেটে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয় অব্যাহত রাখতে রাজস্ব বাড়ানো প্রয়োজন, তবে কর ব্যবস্থাকে অবশ্যই জনবান্ধব রাখতে হবে। করের আওতা বাড়াতে হবে, কিন্তু একই সঙ্গে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাজস্ব আদায়ে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারি আয়ও বাড়বে।বাংলাদেশের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু উচ্চ সুদহার, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা সংকটে রয়েছেন। তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, কর সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, রপ্তানিমুখী খাত এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।বর্তমানে ডিজিটাল বাজার ব্যবস্থাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ই-কমার্স, অনলাইন মুদি বাজার এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। এতে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। সরকার যদি ডিজিটাল বাণিজ্যের জন্য স্বচ্ছ নীতিমালা বাস্তবায়ন করে, তাহলে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে অর্থ সরবরাহ, ঋণের সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা না গেলে শুধু বাজেট দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই আর্থিক নীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য।বাজেট বাস্তবায়নের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুশাসন নিশ্চিত করা। উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়ক্ষেপণ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অপচয় বন্ধ করা না গেলে জনগণের করের অর্থ কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না। প্রতিটি প্রকল্পে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও খাদ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। অতিবৃষ্টি, খরা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করছে। ফলে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই জলবায়ু সহনশীল কৃষি, খাদ্য সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।জাতীয় বাজেটের প্রকৃত সফলতা উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কতটা উন্নত হলো, বাজারে মূল্য কতটা স্থিতিশীল থাকল এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়ল, তার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। যদি চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, মাংস, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে, তাহলে এই বাজেট সত্যিকার অর্থেই জনকল্যাণমুখী বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে।সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ, কার্যকর বাজার তদারকি, কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, কৃষি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভোক্তাবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যেমন মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, তেমনি এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনেও ফিরে আসবে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি।লেখক পরিচিতি:লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল(শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক)

বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সড়কের ইট

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় আধা কিলোমিটার কাঁচা সড়কে ইট ও বালু ফেলে দ্রুত চলাচল উপযোগী করে তোলে। তবে সফর শেষে ওই সড়ক থেকে ইট অপসারণের ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি প্রস্তুত করতে ভাড়া করা ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনো স্থায়ী সড়ক নির্মাণকাজ ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নকাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারি অর্থায়নে ভাড়া করা উপকরণ ব্যবহার করে এ ধরনের অস্থায়ী সড়ক নির্মাণের বিধান ও আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে জিয়াবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য আগেই ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের কার্যাদেশও দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি কার্পেটিং করা হবে।জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি চৌকিরদহ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে তিনি তার পৈতৃক ভিটা জিয়াবাড়ী পরিদর্শনে যান। সফরকে কেন্দ্র করে সড়কটিকে দ্রুত চলাচল উপযোগী করতে অস্থায়ীভাবে ইট ভাড়া নিয়ে সোলিং করা হয়।সংশ্লিষ্টর ব্যক্তিরা জানান, যেহেতু সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্প আগে থেকেই অনুমোদিত ছিল, তাই দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার উপযোগী করার পরিবর্তে সাময়িকভাবে ১০ লাখ টাকায় ইট ভাড়া নিয়ে বিছিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সফর শেষে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে সেই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়।এলজিইডির বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণের জন্য বরাদ্দ আগে থেকেই ছিল। সে কারণে অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত ইট পরে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ইটগুলো ক্রয় করা হয়নি; ভাড়াভিত্তিক ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়েছিল।এতে সরকারি অর্থের সাশ্রয় হয়েছে এবং স্থায়ী নির্মাণকাজে কোনো বাধা থাকছে না।অস্থায়ী সোলিংয়ের দায়িত্বে থাকা আতিকুর রহমান বলেন, ‘এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ভাটা থেকে ইট এনে সড়কে বিছানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সেই ইট আবার ভাটায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ এতে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় ছাড়া অতিরিক্ত কোনো অপচয় হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানান, প্রকল্পের আওতায় সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। কিছু জায়গায় সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং সড়কের পাশের সুরক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নের অপেক্ষায় ছিল। এখন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ দৃশ্যমান হওয়ায় তারা আশাবাদী। অনেকেই মনে করছেন, সাময়িক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্থায়ী ও টেকসই সড়ক নির্মাণই এলাকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে বাগবাড়ী ও জিয়াবাড়ী এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াত আরো সহজ হবে। ফলে এলাকাবাসী দীর্ঘ মেয়াদে এর সুফল ভোগ করতে পারবে।এদিকে সুশাসনের জন্য প্রশাসন (সুপ্র) বগুড়ার সম্পাদক কে জী এম ফারুক বলেন, একটি কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে নতুন করে আর কোনো রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই। শুধু রাষ্ট্রীয় কোনো অতিথির সফরকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ব্যয় রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে কাঁচা সড়কে ইট বিছিয়ে প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর সড়ক থেকে ইট তুলে নেওয়ায় চরম ছলচাতুরীর আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সরকারি যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হোক, সেটার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সড়কের ইট
বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসায় সৌদি হজমন্ত্রী

বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসায় সৌদি হজমন্ত্রী

বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সঙ্গে সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহ-এর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টার-এ অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অসাধারণ দক্ষতা, সুশৃঙ্খলতা এবং সফল সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ বছর বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।ড. আল-রাবিয়াহ বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রীকে আন্তরিক নেতৃত্বের মাধ্যমে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সফল হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন।বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করতে সৌদি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) পবিত্র হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং হাজীদের সেবার মানোন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বিশেষভাবে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্মার্ট ভিড় ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সমন্বয়, তথ্য-প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে সেবার সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রশংসা করেন।ধর্মমন্ত্রী আরও জানান যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজ সফলভাবে আয়োজন এবং বিশ্বের লাখো হাজীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করার জন্য পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, এবং সৌদি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমানদের সেবায় সৌদি আরব যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি আশ্বাস দেন যে, হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের পাশে থাকবে।বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মোঃ কামরুল ইসলাম এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বদলে যাওয়া বিশ্বে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বেইজিং-পিয়ংইয়ং সম্পর্ক

বিশ্বের শতবর্ষব্যাপী পরিবর্তনের দ্রুততর বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং-এর উত্তর কোরিয়া সফর কেবল চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই ছিল না, বরং নতুন যুগে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের দিকনির্দেশনার জন্য একটি সুপরিকল্পিত রূপরেখাও ছিল।এই সফরকালে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং "শীর্ষ-পর্যায়ের পরিকল্পনা" এবং "কৌশলগত দিকনির্দেশনা"—এই দুটি মূল শব্দ সামনে আনেন, যা চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ককে এমন এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায় যেখানে দিকনির্দেশনা, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়ন কেবল ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নয়, বরং নতুন যুগে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা, জনগণের মধ্যকার বন্ধন এবং কৌশলগত সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া, যা উভয় দেশের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক একটি ব্যাপক কাঠামো তৈরি করে। এই কাঠামোর মূল চাবিকাঠি হলো ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে বাস্তব সহযোগিতায়, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় এবং দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গঠনমূলক শক্তিতে রূপান্তরিত করা।প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর স্বাক্ষরিত প্রবন্ধ থেকে শুরু করে আলোচনায় দেওয়া ভাষণ পর্যন্ত, কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের মূল অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে এই সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপন্থা প্রস্তাব করেছেন।প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চারটি দিক থেকে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের মূল অবস্থান পদ্ধতিগতভাবে স্পষ্ট করেছেন। সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত দিকনির্দেশনা ‘কে পথ দেখাবে’—এই প্রশ্নের উত্তর দেয়, অভিন্ন সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ‘আমরা কেন একসাথে চলব’—এই প্রশ্নের জবাব দেয়, অভিন্ন নিয়তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব ‘ভিত্তি কোথায়?’—এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেয়, এবং উচ্চ-পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা ‘ভবিষ্যতে কীভাবে কাজ করতে হবে’—এই প্রশ্নের দিকে নির্দেশ করে। এই চারটি মাত্রা একে অপরকে সমর্থন করে, যা নতুন যুগে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের প্রকৃতি ও গতিপথ বোঝার জন্য একটি মৌলিক কাঠামো তৈরি করে।আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেছেন যে “তিনটি জিনিস অপরিবর্তিত থাকবে”: চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়ার দৃঢ় অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে, উত্তর কোরিয়ার সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি দৃঢ় সমর্থন অপরিবর্তিত থাকবে, এবং উভয় পক্ষের অভিন্ন স্বার্থ ও অনুকূল কৌশলগত পরিবেশ রক্ষার দৃঢ় সংকল্প অপরিবর্তিত থাকবে। এর গভীরতর অর্থ হলো, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক কোনো বাহ্যিক চাপ বা স্বল্পমেয়াদী স্বার্থের ফল নয়, বরং এটি অভিন্ন ইতিহাস, অভিন্ন স্বার্থ, অভিন্ন নিরাপত্তা এবং অভিন্ন উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সিদ্ধান্ত।প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট কাঠামো এবং যৌক্তিকভাবে প্রগতিশীল চারটি দফা পেশ করেছেন। প্রথমত, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি সুসংহত করার জন্য উচ্চ-পর্যায়ের বিনিময়কে পথনির্দেশক নীতি হিসেবে মেনে চলতে হবে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি হলো শীর্ষ নেতাদের দ্বারা বজায় রাখা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, যারা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দিকনির্দেশনা ও সুর নির্ধারণ করেছেন। চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের জন্য বাহ্যিক ঝড় মোকাবিলা এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উচ্চ-পর্যায়ের বিনিময় একটি মূল প্রক্রিয়া। দ্বিতীয়ত, আমাদের অবশ্যই জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে এবং বাস্তবসম্মত সহযোগিতার স্তরকে উন্নত করতে হবে। চীন উত্তর কোরিয়ার সাথে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করতে, সহযোগিতা প্রসারিত করতে এবং সীমান্ত পারাপারের সম্পূর্ণ পুনঃউন্মোচন ও বেসামরিক বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হওয়াকে জনগণের মধ্যে বিনিময় প্রসারের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক।সহযোগিতা যত বেশি বাস্তব হবে, বন্ধুত্ব তত উষ্ণ হবে; বিনিময় যত ঘনিষ্ঠ হবে, সম্পর্ক তত বেশি স্থিতিস্থাপক হবে। তৃতীয়ত, আমাদের অবশ্যই বন্ধুত্বের উত্তরাধিকারের চালিকাশক্তিকে মেনে চলতে হবে এবং জনগণের মধ্যে সংযোগের বন্ধনকে শক্তিশালী করতে হবে। অংশগ্রহণমূলক, বাস্তব এবং টেকসই সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্বকে উভয় দেশের জনগণের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের, বাস্তব জীবনে প্রবেশ করতে হবে। চতুর্থত, আমাদের অবশ্যই ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের নীতি মেনে চলতে হবে এবং কৌশলগত সহযোগিতার তাত্পর্যকে সমৃদ্ধ করতে হবে। চীন-উত্তর কোরিয়া কৌশলগত সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের দেশগুলোর অভিন্ন নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অধিকার রক্ষা করা এবং ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আরও যুক্তিসঙ্গত সমন্বয়কে উত্সাহিত করা।কিম জং-উনের প্রতিক্রিয়া চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের প্রতি উত্তর কোরিয়ার উচ্চ স্বীকৃতিকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্ক "অটুট"। কিম জং-উন বলেন যে, নতুন যুগে উত্তর কোরিয়া-চীন বন্ধুত্বকে সুসংহত ও বিকশিত করা হলো জনগণের পছন্দ, সময়ের প্রয়োজন এবং উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি "অবিরাম কৌশলগত পছন্দ ও অটল কৌশলগত সংকল্প"। উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন হলো উত্তর কোরিয়ার "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাথমিক কৌশলগত উদ্যোগ"।চীন স্পষ্টভাবে উত্তর কোরিয়ার সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে সমর্থন করে, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়াকে তার মূল স্বার্থ রক্ষায় চীনকে স্পষ্টভাবে সমর্থন করে। প্রধান নীতিগত বিষয়গুলিতে পারস্পরিক সমর্থন নতুন যুগে উভয় পক্ষের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্তম্ভ গঠন করে। চীন "তিনটি জিনিস যা পরিবর্তন হবে না"-এর উপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া "অটুট" এবং "কৌশলগত পছন্দ"-এর উপর জোর দিয়েছে। এই বিবৃতিগুলো একে অপরের প্রতিধ্বনি করে, যা নতুন যুগে উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্কের স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য একটি দ্বিমুখী রাজনৈতিক অঙ্গীকার তৈরি করে।উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে আরও বাস্তবসম্মত সহযোগিতামূলক তাত্পর্য রয়েছে। উচ্চ-পর্যায়ের বিনিময়কে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থায়, দলীয় বিনিময়কে শাসনে পারস্পরিক শিক্ষায়, বাস্তবসম্মত সহযোগিতাকে জনগণের কল্যাণে, বিপ্লবী ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারকে যুবসমাজের পরিচয়ে এবং কৌশলগত সহযোগিতাকে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার প্রকৃত সক্ষমতায় রূপান্তরিত করা উচিত। এই বৈঠকের তাত্পর্য শুধু এর সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভ্যর্থনা এবং সবচেয়ে উত্সাহব্যঞ্জক পরিবেশের মধ্যেই নিহিত নয়, বরং রাজনৈতিক ঐকমত্যকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, সহযোগিতামূলক প্রকল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী গতিতে রূপান্তরিত করার দৃঢ় ইচ্ছার মধ্যেও নিহিত।এক নতুন ঐতিহাসিক সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক রাষ্ট্রপ্রধানের কূটনীতি, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা, জনগণের মধ্যকার বন্ধন এবং কৌশলগত সমন্বয় দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই নতুন পর্যায়ের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব ও বাস্তব সহযোগিতার নিবিড়তর সমন্বয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার নিবিড়তর সমন্বয় এবং দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক শাসনের নিবিড়তর সমন্বয়।প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর স্বাক্ষরিত প্রবন্ধে যেমনটি বলেছেন, "সময় পরীক্ষা করে ও পরিশুদ্ধ করে, এবং আসল সোনা আগুনে প্রকাশিত হয়।" এই বৈঠকটি রাষ্ট্রপ্রধানের কূটনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করেছে; বাস্তবসম্মত সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়নের পরিধি প্রসারিত করেছে; জনগণের মধ্যকার বন্ধনের মাধ্যমে সামাজিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। এবং কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে, এটি পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে সাড়া দিয়ে নতুন যুগে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য আরও দৃঢ় রাজনৈতিক, সহযোগিতামূলক এবং কৌশলগত ভিত্তি স্থাপন করেছে।লেখক: জেং চি ইয়ং, ডিন, ইনস্টিটিউট অফ কান্ট্রি অ্যান্ড রিজিওনাল স্টাডিজ, থিয়ানচিন ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটি।

চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ আ'লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আটক

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মোটরসাইকেল চুরির হোতা আব্দুস সালামকে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ আটক করেছে থানা পুলিশ।মঙ্গলবার (০৯ জুন) গভীর রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চৌরাস্তায় স্থানীয় শতাধিক লোকজন ও মোটরসাইকেলের মালিকসহ আ.লীগ নেতা ও দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুস সালামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।মোটরসাইকেলের মালিক ফরহাদ জানান, আমার বাড়ী থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। পরে মোটরসাইকেল ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে আব্দুস সালাম আমার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেয়। পরে মোটরসাইকেলটি সে দিতে আসলে আমরা সকলে তাঁকে ধরে রাখি এবং থানা পুলিশকে খবর দিলে তাঁরা গিয়ে আব্দুস সালামকে থানায় নিয়ে যায়। সে (আব্দুস সালাম) ঠাকুরগাঁও জেলার শত শত মানুষের মোটরসাইকেল চুরি করে টাকার বিনিময়ে পরে ছেড়ে দেয়।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূক্তভোগী সোহেল রানা নামে অভিযোগ করেন। আমার গাড়ী হারাইছিল ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে বের করে দিয়েছে আ.লী নেতা আব্দুস সালাম।ভূক্তভোগী সাহেরুল ইসলাম নামে জানান, আমার কাছ থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার বাবদ ৫১ হাজার টাকা নেয়। ভূক্তভোগী শাহজাহান নামে আরেকজন জানান, গত ২ বছর আগে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে পালসার একটি গাড়ী উদ্ধার করেছি আব্দুস সালামের মাধ্যমে ।এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী থানায় মোটরসাইকেল মালিক ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে আব্দুস সালামকে প্রধান আসামী করে আরও কয়েকজনের নামে এজাহারনামীয় নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ বুলবুল ইসলাম জানান, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত রাতে মহিষমারী একটি বাশঝাড় থেকে একটি চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ আব্দুস সালামকে স্থানীয় জনগণ অবরুদ্ধ করে রাখে আমাদের খবর দিলে থানা পুলিশ গিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। আজ দুপুরে তাঁকে ঠাকুরগাঁও আলাদতে প্রেরণ করা হয়েছে।

৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

পবায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

রাজশাহীর পবা উপজেলায় ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে এক ব্যতিক্রমী ও উৎসবমুখর প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১২ জুন (শুক্রবার) স্থানীয় সবসার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ফুটবল লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্বকাপের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উন্মাদনাকে মাঠের লড়াইয়ে রূপ দিতে এই ম্যাচের আয়োজন করেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদী তরুণরা। খেলায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে নামে— 'বড় আমগাছী আর্জেন্টিনা সমর্থক দল' বনাম 'বড় আমগাছী ব্রাজিল সমর্থক দল'।উক্ত ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কে এইচ রানা শেখ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড়গাছী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোঃ বাবুল হোসেন। এমতাবস্থায় উপস্থিত নওহাটা পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক  দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সম্রাট আলী।বিশ্বকাপের এই চিরপরিচিত দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সবসার উচ্চ বিদ্যালয় এলাকাসহ পুরো পবা জুড়ে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দুই দলের সমর্থকরাই তাদের প্রিয় দলের জার্সি পরে মাঠে এসে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেন।আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলাটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এলাকার সর্বস্তরের ফুটবলপ্রেমী ও সাধারণ দর্শক মাঠে উপস্থিত থেকে এই জমজমাট ম্যাচটি উপভোগ করেন।

শতবর্ষী বাংগরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়: পুনর্মিলনীর নামে 'ফান্ড রাইজিং', ৮ বছরেও মিলল না লাখ লাখ টাকার হিসাব

শতবর্ষী বাংগরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়: পুনর্মিলনীর নামে 'ফান্ড রাইজিং', ৮ বছরেও মিলল না লাখ লাখ টাকার হিসাব

১৫০ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কুমিল্লার মুরাদনগরের 'বাংগরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়'। কিন্তু সেই দীর্ঘ ঐতিহ্যে এবার দাগ লাগতে বসেছে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের নামে অর্থ আত্মসাতের এক ধোঁয়াশাপূর্ণ ঘটনায়। বিদ্যালয়ের ১৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৮ সালে একটি জাঁকজমকপূর্ণ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও, দীর্ঘ ৮ বছর পার হয়ে গেলেও তা আজো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে কয়েক হাজার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ রেজিস্ট্রেশন ফি আদায় করা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১,০০০ টাকা এবং তৎকালীন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি বিদ্যালয়টিতে পড়ুয়া ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর কোনো শিক্ষার্থীই এর বাইরে ছিল না; তাদের জন্য এই রেজিস্ট্রেশন ছিল সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা আসার সুস্পষ্ট আলামত মিলেছে।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সুদীর্ঘ ৮টি বছর পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত মোট কত টাকা উঠেছে তার সঠিক কোনো হিসাব খোদ অনুষ্ঠান কমিটির ট্রাস্টি মিজানুর রহমানও জানেন না। কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় আদৌ এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান কোনোদিন হবে কি না, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। সাম্প্রতিক সময়ে এই অর্থ আদায় ও অনুষ্ঠান না হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট মহলে শুরু হয় তোলপাড়। একে অপরকে ফোন দেওয়া এবং নিজের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর এক নোংরা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান সেলিমের বক্তব্যে। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা ব্যাংকে জমা আছে। তবে অন্যদের সংগৃহীত কোনো টাকা তার হাতে আসেনি।প্রধান শিক্ষক সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, "বাংগরা গ্রামের গাজী আক্তার, প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাদেক ও মিজানসহ বেশ কয়েকজন এই টাকা সংগ্রহ করেছে। তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ বা হিসাব আমরা পাইনি।" কাঙ্ক্ষিত এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।অনুষ্ঠান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী আক্তার টাকা তোলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,"আমার কাছে সংগৃহীত মোট ৩৭ হাজার টাকা গচ্ছিত আছে। আরও কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আসার কথা থাকলেও তা আমরা শেষ পর্যন্ত পাইনি। তাছাড়া, এতদিন পর্যন্ত কমিটির কেউ বা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ বা কথা বলেনি। যে কারণে সংগৃহীত অর্থ এবং রেজিস্ট্রেশনের বই এখনো কাউকে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।" তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই দ্রুত এই অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষ্যে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।"এ বিষয়ে ট্রাস্টি মিজানুর রহমান জানান, অনুষ্ঠান কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক অগ্রণী ব্যাংকে একটি যৌথ হিসাব খোলা আছে। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, আজ পর্যন্ত সেই অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয় কর্তৃক উত্তোলনকৃত টাকা ছাড়া আর কোন টাকা জমা হয়নি! উল্টো তিনি নিজের পকেট থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে রেখেছেন বলে দাবি করেন।দীর্ঘ ৮ বছর ধরে অনুষ্ঠান না হওয়া এবং লাখ লাখ টাকার হিসাব না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বলেন, "বিদ্যালয়ের প্রতি আবেগের জায়গা থেকে আমরা দূর-দূরান্ত ও প্রবাস থেকেও রেজিস্ট্রেশন ফি পাঠিয়েছিলাম। অথচ সুনির্দিষ্ট হিসাব না দিয়ে এখন একে অপরের ওপর দায় চাপানোর নাটক চলছে। আমরা এই আর্থিক অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, টাকার সঠিক হিসাব এবং যেকোনো মূল্যে দ্রুত এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের বাস্তবায়ন চাই।

রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রোববার সংগঠনটি চাঞ্চল্যকর অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা, গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও মানবাধিকার কর্মীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদে এ অনুষ্ঠানে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা  প্রদান করেছে এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন। সংগঠনের কেন্দ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখত। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম জেগে উঠেছে, দেশের উন্নয়নে প্রেসক্লাব ইউনিটি ও হোসাইনিয়া পাক দরবার শরীফ আত্মনিবেদিত হয়ে বিশ্বমন্ডলে শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা জাগ্রত করার আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট সিনিয়র আইনজীবী লতিফুর রহমান সম্মিলিত মানবাধিকার কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেসক্লাব এর নতুন কমিটিকে সাথে নিয়ে ডা মাঈনুদ্দীন স্বেচ্ছাশ্রমে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজে সম্পৃক্ত হতে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। উদ্ভাধনী আলোচনায় কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী পরিচালক ইন্জিনিয়র এম সোহেল আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের সাথে রয়েছি, কখনো দায়িত্ব পালনে বিচলিত হইনি, আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকব ইনশাল্লাহ। এ সময় ঢাকা বিভাগীয় শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের হাততালিতে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ মজুমদার, আনজার শাহ,আবু আহাদ আল মাহমুদ দীপু মীর, আলমগীর ওয়েচী, মোঃ জাকির হোসেন, আনছারুল হক, মোঃ শাকিল হাওলাদার স্বাধীন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক ভূঁইয়া, তাছলিমা আক্তার লিজা, হাসুরা বেগম, মোঃ মানিক মিয়া, ফুল চান্দ বাবু,নূরে আলম,নাছির উদ্দিন পলাশ,আহম উল্যাহ, কাজী নূরুল আজিম, মোঃ আবু সালেক ভূঁইয়া, এম জি বাবর ও  আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ। সংগঠনের সাদা মনের সাদা সম্মাননা ১০ গুণীজনদের প্রদান শেষে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মরণ  ও জাতীর শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া কামনা করা হয়।

বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালকে এ কে এম আবু তাহের এর  নামে’ ঘোষণা!

বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালকে এ কে এম আবু তাহের এর নামে’ ঘোষণা!

বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে “এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল” নামকরণের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।জানা যায়, মরহুম সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহের ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসপাতালটির জন্য জমি ক্রয় করে প্রদান করেন এবং হসপিটাল টি টেন্ডার করে কাজ শুরু করেন। ২০০৪ সালে তিনি মারা গেলে তার ছেলে বর্তমান গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন উপ নির্বাচনে এমপি হন। পরবতী সরকার এসে কাজটি এগিয়ে না নেয়ার কারনে আলোর মুখ দেখেনি হসপিটাল টি।  যদিও প্রথমদিকে ২০০০ সালের দিকে পয়ালগাছা এলাকায় ২০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন সরকারের মহিলা এমপি অধ্যাপিকা পান্না কায়সারের। পরবর্তীতে সেই স্থানে বর্তমানে একটি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হাসপাতালটি সোনাইমুড়ী এলাকায় স্থানান্তরিত হয়ে নির্মিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ কিংবা ২০০৬ সালের দিকে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও নানা কারণে এটি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। যদি ও এ হসপিটাল এর নামে ডাক্তার নিয়োগ রয়েছে।  অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ নেই।  ডাক্তাররা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এটাচম্যান্টে যোগদান করেন।  ফলে দীর্ঘ দুই দশক ধরে এলাকার মানুষ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এখনো আলোর মুখ দেখেনি এ হসপিটাল টি।আজ ৯ জুন ২৬ ইং  হাসপাতালটির নাম পরিবর্তন করে মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের নামে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, নামকরণের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অবহেলিত হাসপাতালটি দ্রুত চালু হবে এবং বরুড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি আপ্রাণ চেষ্টার এ হসপিটাল টির আলোর মুখ দেখায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।এ বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদুর রহমান বলেন, কিছু জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি ফেলে দ্রুত হসপিটাল টি চালু করা যাবে। মাননীয় গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন স্যার কে এ বিষয় অবহিত করেছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি বলেন, আজ ও হসপিটাল টি ভিজিট করেছি। ভবন আছে, লোকবল নেই। আশা করি দ্রুত এ বিষয় সমাধান হয়ে হসপিটাল টি চালু হবে।

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের অবহেলায় চিকিৎসা সেবা হচ্ছে ব্যাহত

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের অবহেলায় চিকিৎসা সেবা হচ্ছে ব্যাহত

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র সরকারি হসপিটাল বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের অবহেলায় স্বাস্থ্য সেবা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ‎সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত  হাসপাতালের আউটডোরের চেম্বারে উপস্থিত থেকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও সকাল দশটার সময়ও অনেক চিকিৎসক থাকেন অনুপস্থিত। সরেজমিনে সকাল দশটায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী ও অবস কনসালটেন্ট ডাঃ শাহনাজ বেগমের চেম্বারের সামনে গিয়ে দেখা যায় প্রচুর নারী রোগী দাঁড়িয়ে আছেন সেবা গ্রহনের জন্য ডাক্তার চেম্বারে নেই, এছাড়াও এ সময় অনেক মেডিকেল অফিসারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায় যে সকল ডাক্তারদের চেম্বারের সামনেই রোগী দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু ডাক্তারগন চেম্বারে নেই।‎এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডাঃ সাজেদুর রহমান কে মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি জানান তিনি ৪র্থ তলায় আছেন, কল পাওয়ার পর পর তিনি দ্বিতীয় তলায় ও নিচ তলায় গিয়ে বিভিন্ন রুম ঘুরে দেখেন এবং সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সকল ডাক্তার গন দ্রুত চেম্বারে এসে রোগী দেখা শুরু করেন।‎এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রধান ডাক্তার সাজেদুর রহমান বলেন, যারা নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে আসেন নি তাদের কে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সকল আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান।‎এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডাঃ আলীনূর মুহাম্মদ বশির আহমেদ প্রতিবেদক কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন সকল কথা শুনেন এবং যারা সময় মতো হাসপাতালে আসেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানান।‎

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালকে এ কে এম আবু তাহের এর  নামে’ ঘোষণা!

বরুড়ার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালকে এ কে এম আবু তাহের এর নামে’ ঘোষণা!

বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে “এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল” নামকরণের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।জানা যায়, মরহুম সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহের ২০০১ সালে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসপাতালটির জন্য জমি ক্রয় করে প্রদান করেন এবং হসপিটাল টি টেন্ডার করে কাজ শুরু করেন। ২০০৪ সালে তিনি মারা গেলে তার ছেলে বর্তমান গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন উপ নির্বাচনে এমপি হন। পরবতী সরকার এসে কাজটি এগিয়ে না নেয়ার কারনে আলোর মুখ দেখেনি হসপিটাল টি।  যদিও প্রথমদিকে ২০০০ সালের দিকে পয়ালগাছা এলাকায় ২০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন সরকারের মহিলা এমপি অধ্যাপিকা পান্না কায়সারের। পরবর্তীতে সেই স্থানে বর্তমানে একটি সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং হাসপাতালটি সোনাইমুড়ী এলাকায় স্থানান্তরিত হয়ে নির্মিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ কিংবা ২০০৬ সালের দিকে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও নানা কারণে এটি আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। যদি ও এ হসপিটাল এর নামে ডাক্তার নিয়োগ রয়েছে।  অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ নেই।  ডাক্তাররা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এটাচম্যান্টে যোগদান করেন।  ফলে দীর্ঘ দুই দশক ধরে এলাকার মানুষ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এখনো আলোর মুখ দেখেনি এ হসপিটাল টি।আজ ৯ জুন ২৬ ইং  হাসপাতালটির নাম পরিবর্তন করে মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের নামে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, নামকরণের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন অবহেলিত হাসপাতালটি দ্রুত চালু হবে এবং বরুড়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে। গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি আপ্রাণ চেষ্টার এ হসপিটাল টির আলোর মুখ দেখায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।এ বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাজেদুর রহমান বলেন, কিছু জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি ফেলে দ্রুত হসপিটাল টি চালু করা যাবে। মাননীয় গৃহায়ণ গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন স্যার কে এ বিষয় অবহিত করেছি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি বলেন, আজ ও হসপিটাল টি ভিজিট করেছি। ভবন আছে, লোকবল নেই। আশা করি দ্রুত এ বিষয় সমাধান হয়ে হসপিটাল টি চালু হবে।