মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

‘জনগণই প্রথম’ ধারণায় চীনের উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থা

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী শিল্পায়ন ও বিশ্বায়নকে এগিয়ে নিয়েছে আধুনিকায়নের পাশ্চাত্য পথ। এটি মানবসভ্যতায় ইতিবাচক অবদান রেখেছে এবং আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবেও কাজ করেছে। কিন্তু এর প্রভাবে অনেকের মধ্যে একটি বদ্ধমূল ধারণা তৈরি হয়েছে যে, আধুনিকায়নের জন্য শুধু একটি পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট পথই অনুসরণ করতে হবে।প্রকৃতপক্ষে, আধুনিকায়নের কোনো সর্বজনীন ছাঁচ কখনোই ছিল না। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি নিজ দেশের বাস্তবতার ভিত্তিতে ‘জনগণই প্রথম’ - এই মূল মূল্যবোধকে বিকশিত করেছে এবং ‘আধুনিকায়ন মানেই পাশ্চাত্যায়ন’-এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দিয়েছে।চীনের হাজার বছরের শাসন-সংস্কৃতিতে প্রোথিত ‘জনগণই প্রথম’-এই আধুনিক মূল্যবোধ ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবনে এনেছে গভীর পরিবর্তন। উন্নত দেশগুলোর যে অর্জনে শত শত বছর লেগেছে, চীন তা কয়েক দশকেই অর্জন করেছে। এমনকি এখন সবচেয়ে দুর্গম অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা।উন্নয়নে গতি সঞ্চার করা এই ধারণার সাংস্কৃতিক শিকড় খুঁজে পাওয়া যাবে হাজার বছর ধরে চলে আসা প্রাচীন চীনা প্রবাদ ও চিন্তাধারায়। ১০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার পথে দেখা গেছে এর বাস্তব প্রতিফলন। অনেক দেশ ইতোমধ্যেই এর বৈশ্বিক তাৎপর্য স্বীকার করেছে।‘জনগণই প্রথম’ ধারণার গঠন:‘জনগণই প্রথম’ হলো চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একটি মূল ধারণা। এটি মার্ক্সবাদের জনগণভিত্তিক চিন্তাধারার সমকালীন উত্তরাধিকার ও সৃজনশীল বিকাশের প্রতিনিধিত্ব করে।প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই জনগণের সেবাকে মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। নতুন যুগের জন্য চীনা বৈশিষ্ট্যের সমাজতন্ত্রের ওপর সি চিন পিংয়ের চিন্তাধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ‘জনগণই প্রথম’ কোনো বিমূর্ত রাজনৈতিক ঘোষণা নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শিক ব্যবস্থা, যেখানে তাত্ত্বিক উৎস, সাংস্কৃতিক শিকড়, বাস্তব যুক্তি ও বৈশ্বিক মূল্যবোধ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত সিপিসির ১৮তম জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে, সি চিন পিংকে কেন্দ্র করে সিপিসির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ‘আন্তরিকভাবে জনগণের সেবা করা’র মৌলিক নীতিকে সংস্কার ও উন্নয়ন, জনগণের জীবন-জীবিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক শাসনের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমেই গড়ে উঠেছে একটি জনকেন্দ্রিক উন্নয়ন দর্শন।‘জনগণই প্রথম’ ধারণার সাংস্কৃতিক শিকড়:‘জনগণই প্রথম’ ধারণাটি চীনের ঐতিহ্যবাহী জনমুখী চিন্তাধারার একটি সৃজনশীল রূপান্তর। হাজার বছর আগে ‘শাংশু’ গ্রন্থে বলা হয়েছিল, ‘জনগণই রাষ্ট্রের ভিত্তি; ভিত্তি শক্ত হলে রাষ্ট্র শান্তিতে থাকে।’প্রাচীন চীনা দার্শনিক মেংচি ব্যাখ্যা করেছিলেন, ‘জনগণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রাষ্ট্র তার পরে, শাসক সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ।’ পরবর্তী প্রজন্মগুলো যেভাবে শাসন-জ্ঞান অর্জন করেছে সেটাকে বোঝানো যায় এই প্রবাদ দিয়ে—‘জল যেমন নৌকাকে ভাসাতে পারে, তেমনি ডুবিয়েও দিতে পারে’। অর্থাৎ সরকারের উত্থান সবসময় জনগণের সমর্থনের ওপরই নির্ভর করে।তবে ঐতিহ্যবাহী জনমুখী চিন্তাধারা মূলত শাসকের নিজের অবস্থান সুরক্ষিত রাখার জন্য জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি শাসন কৌশল ছিল। সেখানে জনগণ শাসনের বিষয় না হয়ে সবসময় শাসনের বস্তু ছিল। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ‘জনগণই প্রথম’ ধারণা এই ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দিয়েছে। এই ধারণা জনমুখী চিন্তাধারা থেকে জনগণকে গুরুত্ব দেওয়ার মূল ভাবনাটিকে গ্রহণ করেছে এবং তা মার্ক্সবাদের ‘জনগণই কর্তা’—এই অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে গভীরভাবে যুক্তও করেছে। এর ফলে ‘শাসনের বস্তু’ থেকে জনগণ ‘দেশের মালিক’-এ পরিণত হয়েছে। হাজার বছর ধরে চলে আসা জনমুখী প্রজ্ঞা এই যুগে পেয়েছে নতুন প্রাণশক্তি। ‘দেশই জনগণ, জনগণই দেশ’—সি চিন পিংয়ের উত্থাপিত এই নতুন যুগের রাজনৈতিক ঘোষণা ‘জনগণই প্রথম’ নীতির মূল্যবোধের গভীর অনুসন্ধানকে তুলে ধরে।‘জনগণই প্রথম’ ধারণার বাস্তবায়ন:নতুন যুগের চীনের শাসনব্যবস্থায় ‘জনগণই প্রথম’ একটি মৌলিক মূল্যবোধ। জনগণের জীবন-জীবিকার সুরক্ষায় এই নীতির প্রতিফলন দেখা যায় প্রায় ১০ কোটি গ্রামীণ দরিদ্র মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করার ঐতিহাসিক সাফল্যে। এর মাধ্যমেই হাজার বছর ধরে চীনকে জর্জরিত করে আসা চরম দারিদ্র্যের সমস্যার সমাধান হয়েছে। সেইসঙ্গে ১৪০ কোটি মানুষের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসাব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।জরুরি পরিস্থিতিতে ‘জীবন প্রথম’ নীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য সংকটের সময় মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকেই দেওয়া হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সীমাবদ্ধতা যা-ই থাকুক না কেন, প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করাই এই নীতির লক্ষ্য।সংস্কারের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ‘সংস্কার ও উন্মুক্তকরণ মানুষের স্বার্থে’ কাজ করবে। সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো বাস্তবে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে কি না, মূল্যায়ন হবে সেটার ভিত্তিতেই।এই নীতি জনগণের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং নিশ্চিত করে যে সংস্কারের সুফল যেন সমাজের সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়।ক্ষমতা পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘জনগণের কল্যাণ’কে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সাফল্য এবং ‘জনগণের সন্তুষ্টি’কে সর্বোচ্চ মূল্যায়নের মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, যাতে ক্ষমতা সবসময় জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়।‘জনগণই প্রথম’ ধারণার বৈশ্বিক তাৎপর্য:‘জনগণই প্রথম’ ধারণার বাস্তব তাৎপর্য অনেক আগেই চীনের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক শাসনেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে ধারণাটি।দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আধুনিকায়নের পথ গড়ে উঠেছে পুঁজির যুক্তিকে কেন্দ্র করে। এর ফলে সম্পদের বৈষম্য ও সামাজিক বিভাজন ক্রমে বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের ব্যবধানও বেড়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।চীনের ‘জনগণই প্রথম’ নীতি প্রমাণ করেছে, কোনো দেশ পুঁজির মুনাফা ও সংখ্যালঘুদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মৌলিক স্বার্থকে স্থান দিতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষতা ও ন্যায্যতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি নিজস্ব আধুনিকায়নের পথ তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে ‘পুঁজির অগ্রাধিকার’-এর ফাঁদ থেকেও বেরিয়ে আসা সম্ভব।ধারণাটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন শাসন-সমাধানও তুলে ধরেছে। এটি বৈশ্বিক মানবাধিকার শাসনকে ‘সংখ্যালঘুদের জন্য ফাঁকা বুলি’ থেকে ‘উন্নয়নের মাধ্যমে মানবাধিকারের প্রসার’-এর বাস্তবমুখী পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। চীনা মূল্যবোধের মাধ্যমে আরও ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসংগত বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও নতুন গতি এনেছে এ ধারণা।সূত্র:রুবি-ফয়সল-লাবণ্য,চায়না মিডিয়া গ্রুপ । 

ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করান নিজের জমিতে / হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থলীর কাজ করানো এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিন্মমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে  লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ➡️ হাজিরা দিয়ে চেম্বারে না থেকে চলে যান মাঠে। ➡ডাক্তারের জমিতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে করান কাজ। ➡️ যাতায়াতে সব সময় ব্যবহার করেন বিক্রয় প্রতিনিধির গাড়ি। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিরোধের নিকট থেকে গিফট ও উৎকোচ গ্রহণ। ➡️ হাসপাতালে বসে ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ঔষধ লিখেন। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে মাঠে ও ব্যক্তিগত কাজ করানোর মধ্য দিয়ে অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ডাক্তার। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জোভেনটেক লাইফ  সাইন্স নামক ঔষধ কোম্পানির উপজেলা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মারুফ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে আসেন ডাক্তার অরুন। এরপর  প্রশাসনিক ভবনে থাকা পাঞ্চ মেশিনে ৮.৩০ মিনিটে  হাজিরা দিয়ে একই মোটরসাইকেল উঠে চলে যান হাসপাতাল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিজের জমিতে। সেখানে গিয়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যা ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ করান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে নিজের জমিতে ও ব্যক্তিগত নানা কাজ করান। যার প্রমান হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পাওয়া যাবে। কিং ফার্মা নামে আরেকটি ওষুধ কোম্পানির এম পি ও মেহেদী হাসানকেও তিনি একইভাবে ব্যক্তিগত কাজে লাগান। এমনকি হাসপাতালে নিজের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় সামলানোর কাজও এই বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি করে থাকেন। এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা তার কৃষিকাজ সহ গৃহস্থলীর কাজ করে থাকেন। প্রতিদানস্বরূপ তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং নিন্মমানের কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন, যা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয় কাছের কিছু বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ডাঃ অরুন কুমার দাস। নিয়মিত অফিস ফাকি দিয়ে এভাবে চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব দেখেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অরুন কুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই  প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমনটি আমি নিয়মিত করি না। বিশেষ কারনে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছি। ভুল হয়েছে, আর কখনো যাবো না। অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে বিক্রয় কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর  বিষয়ে  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাব।ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষটি আমি জানতে পেরেছি,খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

এক নজরে মোহাম্মদপুরের দলিল জালিয়াতি ও দখলচক্রান্ত:

​ঢাকার মোহাম্মদপুরের পুলপাড় জাফরাবাদ এলাকায় ভূমি মালিকানা নিয়ে ভূমিদস্যু মো. রেজাউল করিম ও মো. গিয়াস উদ্দিন ভুইয়ার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ভয়াবহ জালিয়াতি ও রক্তক্ষয়ী জবরদখল চালিয়েছে।​মূল চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহ​দ্বৈত দলিল রহস্য: ২০০৮ সালের ৫ মার্চ সম্পাদিত ১৪৩৩ নং দলিলটি দুটি ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। আদালতের মামলায় এটি কুতুবউদ্দিনের নামে ‘হেবা’ দলিল হলেও, গিয়াস ও রেজাউলের দাবি এটি তাদের ক্রয়কৃত ‘সাব-কবলা’ দলিল।​রহস্যজনক নামজারি: দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০২৫ সালে এসে প্রকৃত মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. জোবায়ের হোসেনকে (যিনি ওই জমিতে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে ভোগদখলে আছেন) কোনো নোটিশ না দিয়েই এসি (ল্যান্ড) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাত্র এক দিনেই নামজারি সম্পন্ন করে চক্রটি।​সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট: গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে গিয়াস ও রেজাউলের নেতৃত্বে ১০০-১৫০ জনের সশস্ত্র দল জোবায়ের হোসেনের ৮ তলা ভবনে হামলা চালায়। এ সময় অফিসের অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. সাইফুল ইসলাম টুলুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করা হয়, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ ৫ লক্ষ টাকা, মূল্যবান দলিলপত্র ও জিনিসপত্র লুট করে একটি ফ্ল্যাট জবরদখল করা হয়।​আইনগত পদক্ষেপ: এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-১১, তারিখ: ০২/০৭/২০২৬)।​এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি​১. বালাম বইয়ের অসংগতি দূর করতে ফরেনসিক তদন্ত করা।২. জালিয়াতিতে সহায়তাকারী সাব-রেজিস্ট্রি ও এসি (ল্যান্ড) অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা।৩. প্রধান অভিযুক্ত মো. গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া ও মো. রেজাউল করিমসহ জড়িত সব সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

এক নজরে মোহাম্মদপুরের দলিল জালিয়াতি ও দখলচক্রান্ত:
কক্সবাজার ঘিরে কেন এত আগ্রহ পরাশক্তিদের

পর্যটন নগরী নয়, কক্সবাজার এখন ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু / কক্সবাজার ঘিরে কেন এত আগ্রহ পরাশক্তিদের

নীল সমুদ্র, দীর্ঘ বালুকাবেলা, পাহাড় আর পর্যটনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত কক্সবাজার। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালে গত কয়েক বছরে বদলে গেছে জেলার কৌশলগত গুরুত্ব। এখন কক্সবাজার শুধু পর্যটনের শহর নয়; এটি একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল, মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট, মাদক ও সীমান্ত অপরাধের কেন্দ্র এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন রেল যোগাযোগ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশকে যুক্ত করার সম্ভাব্য আঞ্চলিক করিডোর। ফলে কক্সবাজার এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৌশলগত হিসাব-নিকাশেরও অংশ হয়ে উঠেছে।উদ্বাস্তু পুনর্বাসন থেকে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকক্সবাজারের ইতিহাসের সঙ্গে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের সম্পর্ক বহু পুরনো। আঠারো শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স আরাকানি উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়ে এ অঞ্চলে আসেন।চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলে উদ্বাস্তুদের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও কক্স বেছে নেন বাঁকখালী ও নাফ নদীর মধ্যবর্তী দক্ষিণাঞ্চল। বাঁকখালী নদীর তীরে বসতি স্থাপনের পাশাপাশি তিনি একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারেই ‘কক্সের বাজার’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।কক্সের উদ্যোগের পেছনে মানবিকতার পাশাপাশি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্বার্থ। বনভূমি আবাদ, কৃষি সম্প্রসারণ, রাজস্ব আদায় এবং পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বলয় তৈরির পরিকল্পনাও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।দুই শতাব্দীর বেশি সময় পর কক্সবাজারের গুরুত্ব যেন আবারও সেই ইতিহাসের দিকে ফিরে গেছে। উদ্বাস্তু, সীমান্ত ও নিরাপত্তার পুরনো বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বন্দর, বাণিজ্য, জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা।কুনমিং থেকে কক্সবাজার—নতুন করিডোরের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর কক্সবাজারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক যোগাযোগ করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছে।প্রস্তাবিত করিডোরটি চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে ইয়াঙ্গুন এবং রাখাইনের কিয়াকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে এর সঙ্গে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।এই ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের গুরুত্ব বোঝার জন্য শুধু বাংলাদেশের মানচিত্র দেখলেই হবে না। এর পূর্বে মিয়ানমারের রাখাইন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং কাছাকাছি রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে অঞ্চলটি বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।মাতারবাড়ী বদলে দিচ্ছে কক্সবাজারের অর্থনৈতিক পরিচয়দীর্ঘদিন কক্সবাজারের অর্থনীতি পর্যটননির্ভর হলেও এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠছে বৃহৎ জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো।বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালুর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে। সম্প্রসারণ করা হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরও।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের অর্থনীতি শুধু পর্যটননির্ভর থাকবে না। বন্দর, লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করা হলে বড় প্রকল্পগুলোই ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ববাসীর নজর২০১৬ সালের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে বলে সরকারি তথ্য রয়েছে।রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানব পাচার, মাদক এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি।তাদের মতে, দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে সংকটের প্রভাব শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো অঞ্চলের ওপর পড়তে পারে।মানব পাচারের ভয়ংকর রুটকক্সবাজারের আরেকটি বড় বাস্তবতা মানব পাচার। সীমান্তবর্তী অবস্থান, সমুদ্রপথ এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নারী, শিশু ও তরুণদের দেশের বাইরে পাঠানোর নামে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। কখনো সমুদ্রপথে, কখনো স্থলপথে তাদের পাচারের চেষ্টা করা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানব পাচার বড় সমস্যা। বাস্তুচ্যুত বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এ বিষয়ে অভিযান জোরদার করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মানব পাচার বন্ধে শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পাচারকারীদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, স্থানীয় দালালচক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পথ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।কক্সবাজারে নিরাপত্তার নতুন সমীকরণকক্সবাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন বহুমাত্রিক। একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত, অন্যদিকে সমুদ্রপথ। এর সঙ্গে রয়েছে শরণার্থী ক্যাম্প, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বন্দর, পর্যটন, সীমান্ত ও শরণার্থী—প্রতিটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।সেন্টমার্টিন—রাজনীতি ও ভূরাজনীতির আলোচনায়কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপও গত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেন্টমার্টিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর দ্বীপটির পর্যটন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।বিশ্লেষকদের মতে, সেন্টমার্টিনের গুরুত্বকে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই দ্বীপকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয় জড়িত।রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়কক্সবাজারের রাজনৈতিক গুরুত্বও দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকেই এ জেলা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।চকরিয়ার হারবাং এলাকার খান বাহাদুর মৌলভি জালালুদ্দীন আহমদ বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন এবং অবিভক্ত বাংলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রামুর রশিদনগরের সন্তান মৌলভি ফরিদ আহমদ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী ছিলেন।বর্তমান সময়েও জাতীয় রাজনীতিতে কক্সবাজারের প্রভাব রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক শিকড় এ জেলায়।ফলে কক্সবাজারের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সীমান্তনীতি এখন জাতীয় রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণে কক্সবাজারকক্সবাজারের সামনে এখন একদিকে বিপুল সম্ভাবনা, অন্যদিকে বড় চ্যালেঞ্জ।পর্যটন, বন্দর, জ্বালানি, রেল, বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক বাণিজ্য—সব মিলিয়ে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ব্যাপক। কিন্তু একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, মানব পাচার, মাদক, সীমান্ত অপরাধ ও পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জাতীয় কৌশল।পর্যটন উন্নয়নকে যেমন পরিবেশবান্ধব করতে হবে, তেমনি বন্দর ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুক্ত করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, মানব পাচার দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাও সমান জরুরি।কারণ কক্সবাজার এখন আর শুধু পর্যটনের শহর নয়।এটি একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী সংকটের কেন্দ্র, অন্যদিকে মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট। একই সঙ্গে এটি বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।আর এ কারণেই কক্সবাজারের ওপর এখন শুধু বাংলাদেশের নয়—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোরও নজর।

বিশ্ব এআই মঞ্চে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেখাল চীন

বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের চলতি বছরের আসরে উন্মোচিত হলো চীনের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল কিমি কে-৩। ২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারযুক্ত মডেলটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন-সোর্স মডেল। এআই খাতে চীনের ধারাবাহিক অগ্রগতির আরেক মাইলফলক হয়েছে এটি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এতে করে দেশটির সামগ্রিক এআই সক্ষমতায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে চীন তার উন্নয়নের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সাফল্য বিশ্বের সঙ্গে ভাগও করে নিচ্ছে।চীনের বেশ কয়েকটি বৃহৎ ওপেন-সোর্স মডেল ধারাবাহিক ও সমন্বিত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এগুলো বৈশ্বিক এআই উন্নয়নে দিচ্ছে নতুন সমাধান ও পথের সন্ধান। সম্মেলনে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ডনিং ৮০০০ (সামিট)’ সিস্টেম। এটি চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ১ লাখ জিপিইউ-সমৃদ্ধ এআই সুপারক্লাস্টার। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বৃহৎ পরিসরের দেশীয় কম্পিউটিং শক্তি এখন শুধু তৈরির পর্যায়ে আটকে নেই, বরং তা কার্যকর ব্যবহার, ব্যাপক আকারে পরিষেবা প্রদান এবং প্রতিলিপিযোগ্যতার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।‘সুপার-ইন্টেলিজেন্ট ফিউশন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডনিং ৮০০০ (সামিট)। প্রচলিত বিভাজনভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে এটি বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটিং শক্তির সমন্বিত ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়। ২০টিরও বেশি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা সিস্টেমটি জাতীয় সুপারকম্পিউটিং ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের কম্পিউটিং পরিষেবা দিচ্ছে।সম্মেলনে প্রদর্শিত একটি স্মার্ট ফার্মেসি রোবট মাত্র ৭০ সেকেন্ডে ওষুধ শনাক্ত, বাছাই ও সরবরাহ করতে পারে। পরিবেশ বুঝে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিপুণ পরিচালনার মতো একাধিক সক্ষমতা নিশ্চিত করেছে এই রোবটের কার্যকারিতা।‘এক মস্তিষ্ক, একাধিক যন্ত্র’ প্রযুক্তির ক্রমাগত বিকাশের ফলে রোবটগুলো আরও স্পষ্টভাবে দেখতে, চিন্তা করতে এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারছে। এসব রোবট এখন আর শুধু গবেষণাগার বা প্রদর্শনী বুথে সীমাবদ্ধ নেই। শাংহাইয়ের বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং রাতের শিফটেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।সম্মেলনে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন আরেকটি এআই রোবট বিশেষ নজর কেড়েছে। মাল্টিমোডাল পারসেপশন, দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি এবং আবেগ বোঝার সক্ষমতাসম্পন্ন এই রোবট ইতোমধ্যেই দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষকে সঙ্গ দিতে পারছে।জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন এবং চায়না মিডিয়া গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা’ প্রকাশ করেছে। এতে এআই খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো এবং এআই-সমর্থিত টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করার বিষয়ে জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই-সম্পর্কিত বিশেষায়িত ক্ষেত্রে ৫ হাজার প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করবে চীন। একই সঙ্গে আসিয়ান, আরব লীগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন, সিইএলএসি, এসসিও ও ব্রিকস দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক এআই প্রয়োগ সহযোগিতা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।জাতিসংঘের সর্বজনীন আগাম সতর্কীকরণ উদ্যোগের প্রতি সাড়া দিয়ে চীনের তৈরি বুদ্ধিমান আবহাওয়া-সংক্রান্ত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘মাচু’ এখন বিশ্বের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে ‘মাচু’ ব্যবস্থার প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ৩০টি দেশের।চীন এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিপ্লবের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ এআই পেটেন্টের অধিকারীও চীন। দায়িত্বশীল বড় দেশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক গণপণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে দেশটি।২০২৬ সালের বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের এআই শিল্পে একের পর এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন উঠে এসেছে। সম্মেলনে প্রদর্শিত এসব বিস্ময়কর সাফল্য শুধু প্রদর্শনী বুথের চোখধাঁধানো প্রযুক্তি নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ভবিষ্যৎ জীবনের দরজা খুলে দেওয়ারও চাবিকাঠি।  সূত্র: লিলি-ফয়সল,চায়না মিডিয়া গ্রুপ ।

ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মানববন্ধন; যোগদানপত্র প্রত্যাহারের দাবি, আইনের সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুর রহমান লিটল / হত্যা মামলার আসামি চেয়ারম্যানের যোগদান ঘিরে উত্তাল দেবিদ্বার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান পদে যোগদানকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার যোগদানপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।বিক্ষোভকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনে নিহত রুবেল হত্যা মামলার একজন আসামিকে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হলে তা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তারা অবিলম্বে যোগদানপত্র প্রত্যাহার এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান।কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান লিটল বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কর্মসূচি নয়। এটি নীতি, জবাবদিহি এবং ৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন।”তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ প্রত্যাশা করেছিল। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।লিটল বলেন, “যারা জাতীয় পর্যায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন, আমরা তাদের সম্মান করি। কিন্তু গণতন্ত্রে কোনো নেতৃত্বই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। জনগণের প্রশ্নের জবাব দেওয়াই গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম শর্ত।”তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পর্যায়ে এক ধরনের নীতির কথা বলা হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যত্যয় ঘটছে। এতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আস্থাহীনতা তৈরি হচ্ছে।ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান মাসুদকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে যে অভিযোগ, মামলা ও বিতর্ক রয়েছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বিচার অবশ্যই আদালত করবেন। তবে জনগণের কাছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই। রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই আইনের প্রয়োগে ভিন্ন মানদণ্ড সৃষ্টি করতে পারে না।”তিনি আরও বলেন, “সংসদে এক নীতি আর নির্বাচনী এলাকায় আরেক নীতি চলতে পারে না। নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় কঠিন সময়ে নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করার মাধ্যমে। নীতি হবে এক, আইন হবে এক, বিচারও হতে হবে সবার জন্য সমান।”মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দ্বৈত মানদণ্ড পরিহার করা জরুরি। তারা প্রশাসনের প্রতি বিচারাধীন মামলার দ্রুত অগ্রগতি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্যসচিব আব্দুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ মিয়া, দেবিদ্বার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, মো. মনির, মো. কবির, বিএনপির নেতা বুলু পাঠান এবং উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। এতে মো. কামরুজ্জামান মাসুদের যোগদানপত্র প্রত্যাহার, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।দেবিদ্বারের এ কর্মসূচি স্থানীয় একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনের সমতা, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

প্রধান শিক্ষক মাসহুরার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্যসহ বিস্তর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরার) বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে ও অর্থ বাণিজ্যসহ বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিস্ট দপ্তরে বেশকয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। আর প্রশাসন বলছেন, ক্ষমতা স্বল্পতা থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কার্যত প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে নতুন করে সতেরো জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই সতেরো জন শিক্ষক-কর্মচারির কাছ থেকে অর্থ বাণিজ্যিকরণ, সময়মত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের দেয়া বেশকিছু লেপটপ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, সরকারের দেয়া বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।শুধু তাই নয় প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনা ও সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সাথে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমত কোনমতে দায়সারছেন প্রতিষ্ঠানের। একের পর এক অভিযোগ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিস্ট দপ্তরে জমা পড়লেও কার্যত ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা সৃষ্টির পাশাপাশি মারমুখি আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। অভিযোগকারীদের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের বেশকয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) একজন মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী। সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এলাকায় জেলা শহরে অবস্থিত এই প্রতিবন্ধী স্কুলে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কেক কাটেন এমন অভিযোগ সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়। স্কুলটিতে তার ভাই-ভাবিসহ পরিবারের ৯ জনকে নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছেন। আর সেকারণেই রাজত্ব কায়েম করছিল। তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতিত হয় অন্যান্য শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে বাঁধা প্রদান করছেন। উপায় না পেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয় জেলা প্রশাসকের সংশ্লিস্ট দপ্তরে। তারপরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ না নিলে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবরে পরার আশঙ্কার পাশাপাশি শিক্ষক কর্মচারিরা পথে বসবে বলে জানান প্রতিষ্ঠান সংশ্লিস্টরা।অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) সব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা যদি পারে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) দায়িত্বে থাকা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি কোন কথাই কর্নপাত করছেন না। ক্ষমতা স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসন থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে লিখিত জবাব প্রেরণের। দ্রুতেই সময়ের মধ্যে না দিলে তার বিরুদ্ধে কার্যত প্রদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও

সমাজের প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন "বাংলাদেশের প্রান্তিক পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন (২য় ফেজ)" প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৯ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর আজিমপুরে অবস্থিত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৩-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার সহকারী পরিচালক তাসলিমা খাতুন। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকার উপপরিচালক আবু সাঈদ মো. কাওছার রহমান।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৫, আজিমপুরের সমাজসেবা অফিসার মো. জহির উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খাগড়াছড়ির উপপরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালীউল্লাহ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, যশোরের সমাজসেবা অফিসার (রেজি.) মো. আব্দুল কাদের, প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং পৌর সমাজকর্মী সোহেল রানা।বক্তারা বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন মানুষ শুধু নিজের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করতে পারেন না, বরং পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা ৩০ জন প্রান্তিক পেশাজীবীর প্রত্যেককে এককালীন ১৮ হাজার টাকা অনুদান এবং প্রশিক্ষণ সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগকে তাদের আত্মনির্ভরশীল জীবনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান।

হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করান নিজের জমিতে / হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থলীর কাজ করানো এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিন্মমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে  লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ➡️ হাজিরা দিয়ে চেম্বারে না থেকে চলে যান মাঠে। ➡ডাক্তারের জমিতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে করান কাজ। ➡️ যাতায়াতে সব সময় ব্যবহার করেন বিক্রয় প্রতিনিধির গাড়ি। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিরোধের নিকট থেকে গিফট ও উৎকোচ গ্রহণ। ➡️ হাসপাতালে বসে ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ঔষধ লিখেন। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে মাঠে ও ব্যক্তিগত কাজ করানোর মধ্য দিয়ে অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ডাক্তার। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জোভেনটেক লাইফ  সাইন্স নামক ঔষধ কোম্পানির উপজেলা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মারুফ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে আসেন ডাক্তার অরুন। এরপর  প্রশাসনিক ভবনে থাকা পাঞ্চ মেশিনে ৮.৩০ মিনিটে  হাজিরা দিয়ে একই মোটরসাইকেল উঠে চলে যান হাসপাতাল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিজের জমিতে। সেখানে গিয়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যা ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ করান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে নিজের জমিতে ও ব্যক্তিগত নানা কাজ করান। যার প্রমান হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পাওয়া যাবে। কিং ফার্মা নামে আরেকটি ওষুধ কোম্পানির এম পি ও মেহেদী হাসানকেও তিনি একইভাবে ব্যক্তিগত কাজে লাগান। এমনকি হাসপাতালে নিজের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় সামলানোর কাজও এই বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি করে থাকেন। এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা তার কৃষিকাজ সহ গৃহস্থলীর কাজ করে থাকেন। প্রতিদানস্বরূপ তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং নিন্মমানের কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন, যা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয় কাছের কিছু বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ডাঃ অরুন কুমার দাস। নিয়মিত অফিস ফাকি দিয়ে এভাবে চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব দেখেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অরুন কুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই  প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমনটি আমি নিয়মিত করি না। বিশেষ কারনে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছি। ভুল হয়েছে, আর কখনো যাবো না। অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে বিক্রয় কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর  বিষয়ে  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাব।ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষটি আমি জানতে পেরেছি,খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব

বরুড়ায় সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ: ডাক্তারকে কৈফিয়ত তলব

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণ ও হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুহাম্মদ নাহিদ হোসাইনের কাছে লিখিত কৈফিয়ত তলব করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।জানা যায়, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আনজার শাহ। এ সময় নিজের পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পরও ডাঃ নাহিদ হোসাইন তাঁর সাথে যথাযথ আচরণ না করে অসদাচরণ করেন এবং তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা বিষয়টি মৌখিক ও লিখিতভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ আকারে দাখিল করেন।অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আচরণ একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার সম্পর্কিত পরিপন্থী। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডাঃ নাহিদ হোসাইনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক কৈফিয়ত তলব পত্র প্রেরণ করেন। চিঠিতে ঘটনার বিষয়ে সুস্পষ্ট, বিস্তারিত ও লিখিত ব্যাখ্যা পত্র প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে দপ্তরে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই কৈফিয়ত তলব পত্রের অনুলিপি সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং কুমিল্লার সিভিল সার্জন বরাবর।স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সিভিল সার্জন সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল গেট ও আশপাশে ভাসমান ডাস্টবিন নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধারাবাহিকতায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের সাথে ঘটে এই অনভিপ্রেত ঘটনা।স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সুশীল সমাজ এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের সৌজন্যমূলক ও শালীন আচরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে অনেকে মনে করছেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে এ ধরনের জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লিখিত কৈফিয়ত পর্যালোচনা করবে কর্তৃপক্ষ।

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের আশা

বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্তের আশা

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মানুষের জন্য সুখবর। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এ খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।ইতিমধ্যে  ১০১ শয্যা উন্নতি করনের চিঠি স্বাস্থ্য  মন্ত্রানালয় থেকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।বর্তমানে হাসপাতালের সাইনবোর্ডে ৫০ শয্যার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে মাত্র ৩১ শয্যা নিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। অনেক রোগীকেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১০১ শয্যায় উন্নীত হলে রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ, নতুন জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। এতে বরুড়া উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবেন।স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এটি বরুড়ার স্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তারা দ্রুত প্রকল্পের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ ১০১ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।এদিকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের খবরে বরুড়াবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বরুড়া সরকারি হাসপাতালে এসএসসি ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ইসিজি মেশিন প্রদান

বরুড়া সরকারি হাসপাতালে এসএসসি ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ইসিজি মেশিন প্রদান

বরুড়া হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রোগীদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা বরুড়া সরকারি হাসপাতালে একটি আধুনিক ইসিজি (ECG) মেশিন প্রদান করেছেন।এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোঃ বশির আহমদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান, ২০০৫ ব্যাচের প্রতিনিধিত্বকারী ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলামসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।এই ইসিজি মেশিনের মাধ্যমে হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগের দ্রুত ও নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সহজ হবে, ফলে বরুড়া ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।ওরাই আপনজন সংগঠন, বরুড়া, কুমিল্লার পক্ষ থেকে এই মহৎ ও মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ২০০৫ ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। সমাজের কল্যাণে এমন উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে—এই প্রত্যাশা রইল।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি দিয়ে কাজ করান নিজের জমিতে / হাজিরা দিয়ে লাপাত্তা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ অরুন কুমার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুন কুমার দাসের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে ব্যক্তিগত ও গৃহস্থলীর কাজ করানো এবং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিন্মমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে  লেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ➡️ হাজিরা দিয়ে চেম্বারে না থেকে চলে যান মাঠে। ➡ডাক্তারের জমিতে বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে করান কাজ। ➡️ যাতায়াতে সব সময় ব্যবহার করেন বিক্রয় প্রতিনিধির গাড়ি। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিরোধের নিকট থেকে গিফট ও উৎকোচ গ্রহণ। ➡️ হাসপাতালে বসে ব্যবস্থাপত্রে নিম্নমানের ঔষধ লিখেন। ➡️ বিক্রয় প্রতিনিধিদেরকে দিয়ে মাঠে ও ব্যক্তিগত কাজ করানোর মধ্য দিয়ে অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ডাক্তার। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জোভেনটেক লাইফ  সাইন্স নামক ঔষধ কোম্পানির উপজেলা মেডিকেল প্রমোশন অফিসার মারুফ হোসেনের মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে আসেন ডাক্তার অরুন। এরপর  প্রশাসনিক ভবনে থাকা পাঞ্চ মেশিনে ৮.৩০ মিনিটে  হাজিরা দিয়ে একই মোটরসাইকেল উঠে চলে যান হাসপাতাল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিজের জমিতে। সেখানে গিয়ে ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে দিয়ে নিজের বাগান পরিচর্যা ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিকাজ করান। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিস ফাঁকি দিয়ে ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে নিজের জমিতে ও ব্যক্তিগত নানা কাজ করান। যার প্রমান হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দেখলেই পাওয়া যাবে। কিং ফার্মা নামে আরেকটি ওষুধ কোম্পানির এম পি ও মেহেদী হাসানকেও তিনি একইভাবে ব্যক্তিগত কাজে লাগান। এমনকি হাসপাতালে নিজের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় সামলানোর কাজও এই বিক্রয় প্রতিনিধিদের দিয়ে তিনি করে থাকেন। এরকম বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা তার কৃষিকাজ সহ গৃহস্থলীর কাজ করে থাকেন। প্রতিদানস্বরূপ তিনি রোগীদের অপ্রয়োজনীয় এবং নিন্মমানের কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন, যা সাধারণ রোগীদের আর্থিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু তাই নয় কাছের কিছু বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে নানা ধরনের আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন ডাঃ অরুন কুমার দাস। নিয়মিত অফিস ফাকি দিয়ে এভাবে চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসব দেখেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অরুন কুমার দাসের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই  প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এমনটি আমি নিয়মিত করি না। বিশেষ কারনে বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে বাইরে গিয়েছি। ভুল হয়েছে, আর কখনো যাবো না। অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে বিক্রয় কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর  বিষয়ে  উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, চিকিৎসা সেবার মতো স্থানে এমন অনিয়ম ও পেশাগত দায়িত্বহীনতার বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাব।ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, বিষটি আমি জানতে পেরেছি,খতিয়ে দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।