তরুণ প্রজন্মের ধ্বংস ও সম্মিলিত প্রতিরোধের অপরিহার্য আহ্বান / মাদকের বিষবাষ্পে নিমজ্জিত জাতি
বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ জাতীয় সংকটের সম্মুখীন, যেখানে মাদকের বিস্তার দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, পরিবারের বন্ধন ছিন্ন করছে, সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং জাতির সামগ্রিক অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবসম্পদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। সাম্প্রতিক জাতীয় গবেষণা অনুসারে দেশে বর্তমানে প্রায় আটাত্তর লক্ষ থেকে তিরাশি লক্ষ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় চার দশমিক আট শতাংশের সমান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাঁজা সেবনকারী প্রায় একান্ন লক্ষ থেকে একাত্তর লক্ষের মতো, তারপর ইয়াবা বা মেথামফেটামিন প্রায় তেইশ লক্ষ, অ্যালকোহল বিশ লক্ষসহ কোডিনযুক্ত সিরাপ, ঘুমের ওষুধ, হেরোইন এবং অন্যান্য সিন্থেটিক মাদকের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই সংখ্যা শুধু সংখ্যা নয়, বরং জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার এক ভয়ংকর সূচক, যেখানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের কিশোর, তরুণ-তরুণী এমনকি শিশুরাও এই বিষাক্ত জালে আটকে পড়ছে। ফলস্বরূপ মেধাশূন্যতা, অপরাধপ্রবণতা, পরিবার ভাঙন ও সামাজিক অস্থিরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছেন যে, গত সতেরোই ফেব্রুয়ারি থেকে একত্রিশে মে পর্যন্ত সারাদেশে ত্রিশ হাজার সাতশ চুয়াল্লিশটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যাতে নয় হাজার দুইশ একান্নটি মামলা দায়ের করে নয় হাজার ছয়শ পঁচাশি জন মাদক চোরাকারবারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে, যার ভিত্তিতে দুই হাজার ছাব্বিশ-সাতাশ অর্থবছরের প্রথম ষাট দিনে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, উপজেলা-জেলা ও মেট্রোপলিটন থানাভিত্তিক তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং গত এক মে থেকে দেশব্যাপী মাদক, অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারে সুনির্দিষ্ট অভিযান চলছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হয়ে ব্যবসায়ীদের পুনরায় সক্রিয় হওয়া, সীমান্তপথে অবাধ চোরাচালান, অনলাইন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আড়ালে চালান পরিবহন, ভেজাল বিষাক্ত মাদকের কারণে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং প্রকাশ্য বেচাকেনা দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত মাদকের বিস্তারকে অসহনীয় করে তুলেছে। টেকনাফ, উখিয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সীমান্ত এলাকায় মাদকের বড় বড় চালান আসছে, যেখানে অনেক ব্যবসায়ী রাজনৈতিক আশ্রয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের হাটবাজার পর্যন্ত ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে, শিশুরা জুতার সলিউশন বা পলিথিনে মাদক নিয়ে নেশা করছে এবং মাদকাসক্তদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতি মেধাশূন্য হওয়ার চরম হুমকির মুখে পড়েছে।জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউএনওডিসির ওয়ার্ল্ড ড্রাগ রিপোর্ট ২০২৫ অনুসারে, বিশ্বব্যাপী দুই হাজার তেইশ সালে তিনশ ষোলো মিলিয়ন মানুষ মাদক ব্যবহার করেছে, যা পনেরো থেকে চৌষট্টি বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর ছয় শতাংশ এবং এই সংখ্যা দশ বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিশ্বব্যাপী প্রবণতা আরও ভয়াবহ, কারণ দেশটি গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল আসছে, অন্যদিকে ভারত থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল ড্রাগস ঢুকছে এবং আধুনিক কৌশলে নারী-শিশু, অ্যাম্বুল্যান্স, সবজির গাড়ি, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চালান পৌঁছাচ্ছে। দুই হাজার চব্বিশ-পঁচিশ সালে ইয়াবা জব্দের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।শুধু আইন প্রয়োগ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, কারণ ইউএনওডিসির মতে ধরা পড়া মাদক মাত্র দশ শতাংশ, বাকিটা অবাধে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে সীমান্তে ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তি, বিজিবি-পুলিশ-কাস্টমসের সমন্বয় জোরদার করতে হবে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষ করে মিয়ানমার-ভারতের সাথে বৃদ্ধি করতে হবে, মাদক মামলায় জামিন কঠিন করা, দ্রুত বিচার, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। চাকরি ও শিক্ষায় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা, সরকারি-বেসরকারি রিহ্যাব সেন্টার বৃদ্ধি করে মাদকাসক্তদের রোগী হিসেবে চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। ইউএনওডিসি, ডব্লিউএইচও, ইউএনএইডসের সুপারিশ অনুসারে নিডল-সিরিঞ্জ প্রোগ্রাম, অপয়েড সাবস্টিটিউশন থেরাপি, এইচআইভি প্রতিরোধ ও কাউন্সেলিংসহ সমন্বিত প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হবে। বেসরকারি সংস্থা যেমন মানস তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা ও পুনর্বাসনে কাজ করছে, যা আরও সম্প্রসারিত করা দরকার।পরিবারই প্রথম প্রতিরোধের ক্ষেত্র। সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হওয়া, চলাফেরা ও বন্ধুবান্ধবের ওপর নজরদারি, খোলামেলা আলোচনা ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সেমিনার, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করে যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইমাম, পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতারা জুমার খুতবা ও সভায় মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করে সামাজিক বয়কটের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চলচ্চিত্র ও নাটকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটিয়ে মাদককে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। সীমান্ত এলাকায় বৈধ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মাদকের আকর্ষণ কমানো, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দূর করে দুর্নীতিমুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তোলা এবং সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও জনতার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।মাদক কেবল একজন ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেয় না, বরং তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয় পুরো পরিবার, সমাজ ও জাতির সুন্দর ভবিষ্যৎ। বর্তমানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের এক বড় অংশ এই বিষাক্ত নেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজকাঠামোর ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গ্রাম-শহর নির্বিশেষে মাদকের নীল দংশন ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের টহলের অভাব, সামাজিক শাসনের দুর্বলতা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং ভয়ের সংস্কৃতি মাদক ব্যবসায়ীদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন ও কিশোর গ্যাংয়ের উত্থান ঘটছে, অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চিকিৎসকরা বলছেন, মাদকাসক্তদের মৃত্যুর মূল কারণ বিষক্রিয়া, হার্ট, লিভার, কিডনির সমস্যা, এইচআইভি, হেপাটাইটিসের ঝুঁকি এবং মানসিক অবক্ষয়, যা জাতির কর্মক্ষম প্রজন্মকে ধ্বংস করছে।এই পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন ও সমাজপতিদের সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। ইতি মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা কর্মশালা চলছে, যা আরও ব্যাপক করতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রয়াসে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। ইউএনওডিসির সুপারিশ অনুসারে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণ জোরদার করতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি, নিজে মাদক থেকে দূরে থাকব, সমাজকেও এর বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করব, একটি মাদকমুক্ত সুস্থ শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলে স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। এই লড়াই আমাদের অস্তিত্বের লড়াই এবং জয় আমাদের হতেই হবে।লেখক: সাংবাদিক ও সংগঠক।
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান
বাংলাদেশ: বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সম্প্রতি পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। পাকিস্তানের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেই সাবমেরিনটিকে কমিশনও (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) করেছে। সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি দেন তিনি। সেখানে শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে।“পিএনএস হ্যাঙ্গর সিরিজের আরও ৭টি সাবমেরিন শিগগিরই পাকস্তিানের নৌবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সিরিজের সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি বজায় রাখবে। ”, দ্য মর্নিংকে বলেছেন কমোডর ফারুক।১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হ্যাঙ্গর।তবে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর বঙ্গপোসাগর ছেড়ে চলে যায় পাকিস্তান। এতদিন মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানি নৌবাহিনীর উপস্থিতি।অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে এমন একটি এলাকা যেখানে ভারত উল্লেখযোগ্য ভৌগোলিক এবং কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি হওয়ায়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য বঙ্গোপসাগর ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই বিস্তৃত জলরাশি, যার উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলো হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নৌ শক্তিগুলোর উত্থানের মধ্যেও এই দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক।এ কারণেই শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মন্তব্যটি তাৎপর্যপূর্ণ।দ্য মর্নিংকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক পিএনএস হ্যাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান এই শ্রেণির আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।গত ৭ জুন এই সংবাদটি প্রকাশ করেছে দ্য মর্নিং।উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর কোনো একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা নয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের উপকূলরেখা থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত আঞ্চলিক সমুদ্রসীমার উপর সার্বভৌমত্ব এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে।এই সীমার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক জলসীমা, যেখানে এমনকি বিদেশি সামরিক জাহাজগুলোও মূলত অবাধে চলাচল করতে পারে।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন (Yao Wen)।আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২০২৬ -২০২৭ সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কারিগরি শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইনে প্রতারণা: গ্রেফতার দুই
অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ০২ (দুই) জন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।গ্রেফতারকৃতরা হলো- (১) মো. রাকিবুল হোসেন (২৬), পিতা- মো. আনিছুর রহমান, মাতা- মোছা. রশিদা বানু, সাং- আইসঢাল, হাজীপাড়া, ইউনিয়ন-কামারপুকুর, থানা-সৈয়দপুর, জেলা-নীলফামারী ও (২) মো. রনি ইসলাম @ খাজা মোহাম্মদ আলী (১৯), পিতা- মো. রফিকুল ইসলাম, মাতা- মোছা. ময়না খাতুন, স্থায়ী ঠিকানা- মৌলভীপাড়া, ডাকঘর-ফাজিলপুর, থানা-তারাগঞ্জ, জেলা-রংপুর। সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল গত ১৭/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানাধীন কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধকার্যে ব্যবহৃত ০৬টি মোবাইল ফোন এবং ১২টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর মামা ভুক্তভোগী একজন ওমান প্রবাসী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। যোগাযোগকারী পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধুও এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে মর্মে জানিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। পরবর্তীতে কথিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বন্ধু ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোবাইল ফোন, ইমু, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিভিন্ন প্রসেসিং, অনলাইন আবেদন, ফরম পূরণ ও ভিসা সংক্রান্ত খরচের কথা বলে অর্থ দাবি করে। প্রথম ধাপে সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে মোট ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আরও অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতারক কর্তৃক একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। বরং ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’সহ অন্যান্য যোগাযোগকারীদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায় এবং তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীর সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি একটি সংঘবদ্ধ পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার ভাগ্নে বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী (ডিএমপি) থানায় মামলা নং-০৪, তারিখ ০২/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তে সিআইডি জানতে পারে যে, গ্রেফতারকৃত রনি ইসলাম নিজেকে ‘খাজা মোহাম্মদ আলী’ নামে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফেসবুক পেজ পরিচালনা করত। পেজটিতে অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট ও অভিবাসন সংক্রান্ত আকর্ষণীয় ভিডিওসহ প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে আসছিল। একই সঙ্গে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগের জন্য অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ান নম্বরভিত্তিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে সহজেই প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়।তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রাকিবুল হোসেন প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ, স্থানান্তর এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করত। তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য প্রযুক্তি দ্বারা বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হোসেন ও মো. রনি ইসলামদ্বয়কে গ্রেফতার করে সিপিসি ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশে চাকরি বা অভিবাসন সংক্রান্ত যেকোনো প্রস্তাব গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকারী সংস্থা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার জন্য সিআইডির পক্ষ হতে জনগণকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী-গভর্নর র্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না, বেতন বাড়লে কমবে দুর্নীতি। আপনি কি তাই মনে করেন?
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব
প্রবাসীকে ৮ টুকরা করে হত্যা, পরকীয়া প্রেমিকাকে গ্রেফতারের পর কারণ জানাল ডিএমপি
প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতা গড়ে তুলতে জেএ টিভির প্রতিনিধি কর্মশালা অনুষ্টিত
তরুণ প্রজন্মের ধ্বংস ও সম্মিলিত প্রতিরোধের অপরিহার্য আহ্বান / মাদকের বিষবাষ্পে নিমজ্জিত জাতি
বাংলাদেশ আমাদের / ঐক্য ও সম্প্রীতিই হোক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বড়ো হাতিয়ার
রেমিট্যান্সের প্রশংসা দেশের অর্থনীতির নীরব নায়ক প্রবাসীরা কতটা নিরাপদ
বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ