চীন-মার্কিন সম্পর্কের নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দু : সি চিন পিং
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় স্বাগত ভোজের আয়োজন করেন। স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে হোয়াইট হাউসে এ ভোজের আয়োজন করা হয়। সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ান হোয়াইট হাউসে পৌঁছালে ট্রাম্প ও মেলানিয়া তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দুই রাষ্ট্রপ্রধান ও তাঁদের স্ত্রীরা একসঙ্গে ছবি তোলেন এবং ভোজে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভোজ শুরু হওয়ার পর সি চিন পিং ও ট্রাম্প পৃথক ভাষণ দেন। চীন-মার্কিন সম্পর্কের উন্নয়নে আগ্রহী ও সমর্থনকারী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং মধ্যশরৎ উৎসবের শুভকামনা জানান সি চিন পিং। সি চিন পিং বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সফলভাবে চীন সফর করেছেন। ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানরা পরস্পরের দেশে সফর করেছেন, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি আরও বলেন, এবারের সফরে আবারও অনেক নতুন ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে, যা চীন-মার্কিন গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্কের ভিত্তি আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং সম্পর্কে নতুন কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, দুই শতাধিক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা অর্জন করে। এর পরপরই চীনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক পণ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার মাধ্যমে বাণিজ্যিক আদান-প্রদানও শুরু হয় তখন। তিনি বলেন, ৮০ বছরেরও বেশি আগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাপানি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। রক্ত ও অগ্নিপরীক্ষায় গড়ে ওঠা এই বন্ধুত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে যাবে। ৫০ বছরেরও বেশি আগে দীর্ঘদিনের বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছিল টেবিল টেনিস কূটনীতি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিকরা ‘ছোট একটি বল বড় একটি বলকে নাড়ায়’—এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে চীন-মার্কিন সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মহান প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। ২০ বছরেরও বেশি আগে রোনাল্ড সাকোলস্কি নামের এক মার্কিন নাগরিক চীনের মরুকরণ নিয়ন্ত্রণকর্মী ইন ইয়ু চেনকে বৃক্ষরোপণে সহায়তা করেছিলেন। তাঁদের গল্প বহু চীনা মানুষকে মুগ্ধ করেছিল এবং এটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে। সি চিন পিং বলেন, চীন-মার্কিন মানবিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও হৃদয়ের যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক। একইসঙ্গে এটি চীন-মার্কিন বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য জনসমর্থনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে। সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন-মার্কিন সম্পর্ক আবারও একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার মহান করার প্রস্তাব দিয়েছেন, আর চীনা জাতির মহান পুনরুত্থান বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। এই দুই লক্ষ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। তিনি বলেন, উভয়পক্ষের উচিত বড় দেশের দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সময়ের প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বড় দেশগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে সহাবস্থানের নতুন পথ অন্বেষণ করা। সি চিন পিং বলেন, ইতিহাসের স্রোত বয়ে চলেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্ভাবনাও বিস্তীর্ণ। উভয়পক্ষকে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে এবং চীন-মার্কিন ‘বন্ধুত্বের সুন্দর ফুলের’ যত্ন নিয়ে যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনা করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গত মে মাসে চীন সফরের সময় চীনা জনগণের উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাঁর মনে গভীর ও সুন্দর ছাপ ফেলেছিল। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে দুই দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মৈত্রী উদযাপন করছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—উভয় দেশেরই সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা ভিন্ন হলেও তাঁদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও লালন করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা বয়ে আনতে ইচ্ছুক।’ ভোজসভাটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। ভোজ চলাকালে মার্কিন শিল্পীরা চমৎকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। সূত্র: আনন্দী, ফয়সল, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
কিশোর গ্যাং: এক ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি, যেন ঘরে ঘরে জন্ম নিচ্ছে আতঙ্ক
গত এক মাসের খবরগুলো পড়লে বুক কেঁপে ওঠে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামের গলি-সবখানেই একই ছবি। কিশোর গ্যাং। নামে ‘কিশোর’, কাজে ভয়ংকর। ছুরি-চাপাতি হাতে মহড়া, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, আর এখন হত্যাও। এ যেন এক সামাজিক ক্যান্সার, যা ধীরে ধীরে পুরো জাতির শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরদিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় তার রক্তাক্ত মরদেহ। মাথায় বাঁশের লাঠির আঘাত। প্রধান অভিযুক্ত ১৯ বছরের সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ আরও কয়েকজন কিশোর গ্রেপ্তার হয়। তুহিন নিজেই একটি গ্যাং গড়ার চেষ্টা করছিল। টিকটকের ভিডিও, অস্ত্রের মহড়া, ‘হিরো’ হওয়ার নেশা-সব মিলেমিশে এক নিষ্পাপ শিশুর জীবন কেড়ে নেয়। অপ্রতিমের বাবা বলেন, “দশটা ফোন চাইলেও দিতাম।” কিন্তু ফোনের জন্যই শিশু হত্যা!এ ঘটনার পর কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। অনেককে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়, কেউ কেউ মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকায় আদালতে পাঠানো হয়। অপরাধ সন্দেহে দাউদকান্দি থানায় আটকের পর কিছু কিশোর থানার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে বেরিয়ে যায়। কুমিল্লা শহরেই অন্তত ২০টি গ্যাং সক্রিয়। চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে অন্তত ২৫টি আলোচিত অপরাধে এদের নাম এসেছে। টিকটকে অস্ত্র হাতে মহড়ার ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ভয়ে শাটার নামিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ছেন।রাজধানীতেও কম নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে কিশোর গ্যাং হামলা চালায়। কর্মচারী ইমরানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার ঘোষণা দিয়েছেন, “মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।” কিন্তু ঘোষণার দুদিন পরই এমন ঘটনা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাং লিডার ‘কুত্তা শ্রাবণ’ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। চাঁদাবাজি, ছিনতাই-সবই তার দলের কাজ।র্যাবের হালনাগাদ তথ্য বলছে, দেশে এখন ৩৩৯টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। আগে ছিল ২৩৭টি। ঢাকায় একাই ১২৭ থেকে ১৫৯টি গ্যাং। সারা দেশে সদস্য সংখ্যা হাজার হাজার। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা-কোথাও বাদ যায়নি। অপরাধের প্রায় ৪০ শতাংশই কিশোরদের হাতে। খুন, ছিনতাই, চাঁদা, মাদক, ধর্ষণ-সবই।চাঁদার জন্য পরিবারে ছুরি, নদীর তীরে অস্ত্রের মহড়া শুধু ঢাকা-কুমিল্লা নয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বরই কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক সাংবাদিক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলা চালায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং। বাড়ি নির্মাণের সময় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কিরিচ ও হাতুড়ি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় নুর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী কহিনুর আক্তার ও ছেলে মনিরুল মোস্তফাকে। রক্তাক্ত পরিবার, ভাঙা স্বপ্ন-এ যেন এক নতুন বাস্তবতা।বরিশাল নগরীতেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোটরসাইকেলে চড়ে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্রের মহড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নদীর তীরে একে অন্যের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা ভয়ে কাঁপছেন। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দুই ডজনের বেশি গ্যাং সক্রিয়। চট্টগ্রামে শতাধিক গ্রুপ, রাজশাহীতে ছিনতাই-মারধর, ঢাকার দক্ষিণখানে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ সাত সদস্য গ্রেপ্তার-সবখানেই একই কাহিনি। পল্লবীর সবুজবাংলায় গণমাধ্যমকর্মীর বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনাও ঘটেছে। দেশজুড়ে এখন প্রায় ৩৮৬ থেকে ৪০০টি গ্যাং, সদস্য সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের বেশি।কেন এমন হচ্ছে? অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব, নাকি আরো ভয়ংকর কিছু? সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় নেই, স্ক্রিন সময় বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারির অভাব। রাজনৈতিক সংগঠনগুলো কিশোরদের হাতিয়ার বানাচ্ছে। রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা ভঙ্গুর, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল। মাদকের অবাধ বিচরণ। অনলাইন জুয়া ও টিকটক-ফেসবুকের নেশায় কিশোররা ‘হিরো’ হতে চায়। দ্রুত টাকা, ক্ষমতা, ভয় দেখানোর আকাঙ্ক্ষা। পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, মূল্যবোধ হারাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া যেন গ্যাং তৈরির নতুন কারখানা।এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে? এক প্রজন্ম যদি অস্ত্র হাতে বেড়ে ওঠে, তাহলে সমাজ কীভাবে বাঁচবে? রাষ্ট্র কীভাবে?একমাত্র পুলিশ নয়, পুরো জাতিকে জাগতে হবেকরণীয় একমাত্র পুলিশি অভিযান নয়। এটি বহুমুখী যুদ্ধ।পরিবারকে ফিরে আসতে হবে। বাবা-মাকে সন্তানের বন্ধু হতে হবে। রাতের আড্ডা, মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার, অদ্ভুত বন্ধুত্ব-সবকিছুতে নজর রাখতে হবে। স্কুল-কলেজে কাউন্সেলিং চালু করতে হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে বিকল্প পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীল কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে। গ্যাংয়ের বদলে স্পোর্টস ক্লাব, যুব ক্লাব গড়ে তুলতে হবে।রাষ্ট্রকে শক্ত হতে হবে। কিশোর অপরাধীদের জন্য বিশেষ আইন ও সংশোধনাগার জোরদার করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে বারবার মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়ানোর সুযোগ বন্ধ করতে হবে। পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সোশ্যাল মিডিয়ায় সহিংস কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা।সমাজকে জাগতে হবে। পাড়া-মহল্লায় কমিটি গড়ে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ-সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমকে শুধু খবর নয়, সচেতনতা তৈরির মাধ্যমও হতে হবে।কিশোর গ্যাং কোনো অমোঘ বিপর্যয় নয়। এটি আমাদের ব্যর্থতার ফসল। আমরা যদি এখনই জেগে না উঠি, তাহলে আগামী প্রজন্ম হাতের মুঠোয় অস্ত্র নিয়ে বেড়ে উঠবে। অপ্রতিমের মতো নিষ্পাপ শিশুরা আরও মরবে। ঘরে ঘরে আতঙ্ক বাড়বে।সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র-সবাই মিলে যদি একযোগে দাঁড়ায়, তাহলে এই ভয়ংকর ব্যাধি থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারে। একটি সুস্থ, নিরাপদ, মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, সাহস এবং ঐক্য।আজকের কিশোর আগামীর নাগরিক। তাদের হাতে অস্ত্র নয়, কলম ও স্বপ্ন তুলে দিতে হবে। নয়তো ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক।
চীনের প্রেসিডেন্টের ওয়াশিংটন সফর: চীন-মার্কিন সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং স্থানীয় সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিশেষ বিমানে ওয়াশিংটনে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেন।ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী ফেং লি ইউয়ানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ম্যাডাম ফেং লি ইউয়ানকে আতিথেয়তা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি আকর্ষণকারী একটি সফর। প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একজন মহান নেতা। এটি একটি চমৎকার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।বিমানবন্দরে মার্কিন শিশুরা সি চিন পিং ও ফেং লি ইউয়ানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। লালগালিচার দুই পাশে গার্ড অব অনার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের সালাম জানায়। সামরিক ব্যান্ড চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। এ সময় ২১ বার তোপধ্বনি করা হয় এবং শ্রদ্ধা জানাতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে।সি চিন পিং এক লিখিত ভাষণে চীনা জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।সি চিন পিং উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মহান দেশ এবং দুই দেশের জনগণই মহান হৃদয়ের অধিকারী। চীন ও মার্কিন জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। উভয় পক্ষের স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। দুই দেশের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া। চীনা জাতির মহান পুনরুজ্জীবন বাস্তবায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় মহান করে তোলার লক্ষ্য গঠনমূলক কাজ করা ও পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হওয়া। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষ একে অপরের সাফল্যে অবদান রাখতে পারে এবং বিশ্বকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের সময় চীন-মার্কিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে দুই দেশ একটি গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত একে অপরের দিকে এগিয়ে আসা, সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রতিযোগিতা সীমিত রাখা এবং মতভেদ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শান্তির জন্য সহায়ক একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা। নতুন যুগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই বৃহৎ দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সঠিক পথ খুঁজে বের করতে হবে।সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে এবং সময়ের পরিবর্তন ঘটছে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক যুক্তি পরিবর্তিত হয়নি। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষাও অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন প্রত্যাশারও পরিবর্তন ঘটেনি।তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক এবং বিশ্ব পরিস্থিতি-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে গভীরভাবে মতবিনিময় করতে, চীন-মার্কিন গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্কের বিষয়বস্তুকে ধারাবাহিকভাবে সমৃদ্ধ করতে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিনিময় ও সহযোগিতার পরিসর সম্প্রসারণ করতে তিনি আগ্রহী। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগ স্থাপন এবং বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।সি চিন পিং বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সফর অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধি করবে এবং বিশ্বশান্তির ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করবে।চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ছাই ছি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্যান্য সফরসঙ্গী একই বিমানে ওয়াশিংটনে পৌঁছান।চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য ও উপপ্রধানমন্ত্রী হে লি ফেং এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেংও বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।সি চিন পিং বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে তাঁর অবস্থানস্থল হোটেলে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা প্রবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা সড়কের দুই পাশে জড়ো হন। তাঁরা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে স্বাগত জানান।সূত্র: আনন্দী, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
কদমতলী থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশন গ্রেফতার
বিএনপি নেতা রাজেশের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসী মহড়া • মামলা সত্ত্বেও নীরব প্রশাসন / পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকির মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা
অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকা’র উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ ফল উৎসব অনুষ্ঠিত