মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

হামে শিশু মৃত্যুর দায়: ড. ইউনূস ও নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেশে চলমান হামের প্রকোপে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যর্থতা এবং আশঙ্কাজনক হারে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলাটি করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, ড. ইউনূসের তৎকালীন বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবু জাফর। মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, দেশে হামের টিকা সংকট মোকাবিলায় চরম উদাসীনতা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নজিরবিহীন ব্যর্থতার কারণেই শত শত শিশুর অকাল মৃত্যু ঘটেছে। প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলাই এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।এর আগে গত ২০ মে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ) বাংলাদেশে হামের টিকা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, দেশে হামের টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তত ১০ বার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ৫টি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে টিকা ক্রয়ের জন্য অর্থের কোনো সংকট ছিল না; মূলত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা এবং ক্রয়সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই সময়মতো টিকা আনা সম্ভব হয়নি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শিশুদের।প্রসঙ্গত, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম এবং হামজনিত বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০ জনে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ৪০২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৪ জন। বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার তালিকায় সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল মোটরসাইকেল।বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১ হাজার ২৯৪ জন আহত হন। একই সময়ে ৩১টি রেল দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত এবং ১৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩৮ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪০ জন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ঈদের সময়ে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত ও ১৮০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের হার ছিল ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ২১ শতাংশ, বাস ১৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, অবৈধ ব্যাটারিচালিত যান ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কার ও মাইক্রোবাস ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, নছিমন-করিমন ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সিএনজি অটোরিকশা ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ।গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়েছিলেন।দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে, ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কার ঘটনায়, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এবং বাকিগুলো অন্যান্য কারণে সংঘটিত হয়েছে।স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে বৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া গর্ত, ভাঙাচোরা অবকাঠামো, চালকদের আইন অমান্যের প্রবণতা এবং বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চলাচল দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একটানা ও বিশ্রামহীনভাবে চালানো হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।তিনি জানান, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার পর ৮০ জন চালক জনরোষের শিকার হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, ৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৩ জন শিক্ষক, ১ জন চিকিৎসক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে— জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, সড়কে রোড সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, মিডিয়ান ও ডিভাইডার না থাকা, নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, উল্টোপথে যান চলাচল, চাঁদাবাজি এবং দীর্ঘ সময় বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো।প্রাণহানি কমাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা চালু করা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের সুপারিশ করেছে।সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, যাত্রী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক আলমগীর কবির লিটুসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ৪০২ প্রাণ, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড: মাত্র ১৯ দিনেই বিচার সম্পন্ন, নজিরবিহীন দ্রুততায় রায়

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন নাগরিকরা।রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং রায় ঘোষণার আগে এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায়ের বিস্তারিত অংশ পাঠ শুরু করেন।দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে, যা বিচারিক অঙ্গনে বিরল এক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ১৯ মে সংঘটিত হয় হৃদয়বিদারক এ ঘটনা। পরদিন রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতা ও লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। মাত্র চার দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিরা। পরে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী স্বপ্না খাতুন তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান। কিছু সময় পর মেয়েকে স্কুলে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের বাসার সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান তারা।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে।নৃশংসতা, বর্বরতা ও মানবিক মূল্যবোধকে নাড়িয়ে দেওয়া এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও রায়ে একদিকে যেমন ক্ষতবিক্ষত পরিবার কিছুটা ন্যায়বিচারের আশ্বাস পেয়েছে, অন্যদিকে শিশু নির্যাতন ও নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড: মাত্র ১৯ দিনেই বিচার সম্পন্ন, নজিরবিহীন দ্রুততায় রায়
হামে শিশু মৃত্যুর দায়: ড. ইউনূস ও নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হামে শিশু মৃত্যুর দায়: ড. ইউনূস ও নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেশে চলমান হামের প্রকোপে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ব্যর্থতা এবং আশঙ্কাজনক হারে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলাটি করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান, ড. ইউনূসের তৎকালীন বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবু জাফর। মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেন, দেশে হামের টিকা সংকট মোকাবিলায় চরম উদাসীনতা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় নজিরবিহীন ব্যর্থতার কারণেই শত শত শিশুর অকাল মৃত্যু ঘটেছে। প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলাই এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।এর আগে গত ২০ মে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ) বাংলাদেশে হামের টিকা পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, দেশে হামের টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তত ১০ বার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ৫টি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে টিকা ক্রয়ের জন্য অর্থের কোনো সংকট ছিল না; মূলত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা এবং ক্রয়সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই সময়মতো টিকা আনা সম্ভব হয়নি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শিশুদের।প্রসঙ্গত, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম এবং হামজনিত বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০ জনে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেবেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গ ফোরামে হান চেংয়ের চার দফা প্রস্তাব

বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান চেং। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম’র ২৯তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে শতাব্দীতে একবার ঘটে এমন পরিবর্তন দ্রুততর হচ্ছে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও শাসন ঘাটতিও বাড়ছে।’প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্যে হান চেং বলেন, এ প্রেক্ষাপটে চীনের প্রস্তাবিত “গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ” এরইমধ্যে প্রায় ১৬০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমর্থন পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ফ্রেন্ডস গ্রুপ’ গঠনের মাধ্যমে বহুপাক্ষিকতা রক্ষা এবং একতরফাবাদ বিরোধী একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়া হয়েছে।এ সময় হান চেং জোর দিয়ে বলেন, চীন এই উদ্যোগের প্রবর্তক হিসেবে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষকে এক করে বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়নে কাজ করছে। চীন-রাশিয়া উভয়ই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শাসন উদ্যোগ বাস্তবায়নে চারটি মূল প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও গণতান্ত্রিক করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও কণ্ঠস্বর বাড়াতে হবে।হান চেং বলেন, ২০২৬ সাল চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনা বছর, যা দেশের উন্নয়নের নতুন রূপরেখা এবং বিশ্বের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার প্রতিফলন।ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে হান চেং উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ এবং তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ও করেন। তথ্য ও ছবি- সিনহুয়া

রূপগঞ্জে এনসিপির ফল উৎসব পণ্ড, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ফল উৎসব হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পণ্ড হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেছেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় উৎসবের প্যান্ডেল একাধিকবার ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন।শনিবার (৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, রূপগঞ্জে এনসিপির উদ্যোগে শনিবার একটি ফল উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় নির্মিত প্যান্ডেল ভেঙে দেওয়া হয়। পরে শনিবার সকালে পুনরায় স্টেজ ও প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ শুরু হলে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মাইকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিনতাই করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তার দাবি, হামলার সময় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন রক্তাক্ত হয়েছেন।ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।এনসিপির এই নেতা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা প্রদানকারী দুষ্কৃতিকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সহিংসতার সংস্কৃতি রোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

৭ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাজারে বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা জাহেদ। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)।২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার তুরাগ থানার নিশাতনগর (পশ্চিম উত্তরা সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত।দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন BGMEA-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাশন, টেক্সটাইল, পোশাক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক শিক্ষাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজনেস স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্মার্ট টেক্সটাইল, সাসটেইনেবল ফ্যাশন, ডিজিটাল ডিজাইন ও অটোমেশনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, BUFT-এ পড়াশোনার মাধ্যমে তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন।নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য। ফ্যাশন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে BUFT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান

এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। রোববার সংগঠনটি চাঞ্চল্যকর অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা, গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও মানবাধিকার কর্মীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদে এ অনুষ্ঠানে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা  প্রদান করেছে এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন। সংগঠনের কেন্দ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়ার সভাপতিত্বে সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখত। তিনি বলেন, আজকের প্রজন্ম জেগে উঠেছে, দেশের উন্নয়নে প্রেসক্লাব ইউনিটি ও হোসাইনিয়া পাক দরবার শরীফ আত্মনিবেদিত হয়ে বিশ্বমন্ডলে শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা জাগ্রত করার আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্ট সিনিয়র আইনজীবী লতিফুর রহমান সম্মিলিত মানবাধিকার কর্মীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেসক্লাব এর নতুন কমিটিকে সাথে নিয়ে ডা মাঈনুদ্দীন স্বেচ্ছাশ্রমে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কাজে সম্পৃক্ত হতে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। উদ্ভাধনী আলোচনায় কেন্দ্রীয় প্রধান নির্বাহী পরিচালক ইন্জিনিয়র এম সোহেল আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের সাথে রয়েছি, কখনো দায়িত্ব পালনে বিচলিত হইনি, আমৃত্যু আপনাদের পাশে থাকব ইনশাল্লাহ। এ সময় ঢাকা বিভাগীয় শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের হাততালিতে শুভেচ্ছা জানান। কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ মজুমদার, আনজার শাহ,আবু আহাদ আল মাহমুদ দীপু মীর, আলমগীর ওয়েচী, মোঃ জাকির হোসেন, আনছারুল হক, মোঃ শাকিল হাওলাদার স্বাধীন, বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক ভূঁইয়া, তাছলিমা আক্তার লিজা, হাসুরা বেগম, মোঃ মানিক মিয়া, ফুল চান্দ বাবু,নূরে আলম,নাছির উদ্দিন পলাশ,আহম উল্যাহ, কাজী নূরুল আজিম, মোঃ আবু সালেক ভূঁইয়া, এম জি বাবর ও  আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ। সংগঠনের সাদা মনের সাদা সম্মাননা ১০ গুণীজনদের প্রদান শেষে সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্মরণ  ও জাতীর শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া কামনা করা হয়।

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।একই সঙ্গে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন তিনি।সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে আকস্মিকভাবে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসা সেবা, ওয়াসরুম সহ অবকাঠামোগত অবস্থা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এছাড়াও হাসপাতালের রন্ধনশালায় রোগীদের পরীক্ষামূরক খেয়ে দেখেন তিনি।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টটির কথা বললাম। উনি কাজ করতে বলেছেন। আমি বলেছি এটা পুরানো ভবন, এটা ভাঙতে হবে। নতুন ভবন করতে হবে। অক্সিজেন প্ল্যান্টের বিদ্যুতের সাব-স্টেশন দিতে হবে। তিনি কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করতে বলেছেন। আর এটার সাথে ১০০ শয্যার কাজ করে ফেলব।”তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সামনের রাস্তার ব্যাপারে আমি সওজের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নেবেন।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান।

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

প্রয়োজন ৪ লক্ষ টাকা / হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

১৩ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু অর্পিতা। এই বয়সে তার দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং তার খাদ্যনালী ব্লক হয়ে আছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।অর্পিতার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে। তার বাবা বিষ্ট রঞ্জন সাহা একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের এমন দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শুনে দিশেহারা পুরো পরিবার। দিনের পর দিন মেয়ের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্পিতার অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে জমানো সব সম্বল শেষ করেছেন অর্পিতার বাবা। এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তারা।বিষ্ট রঞ্জন সাহা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি একজন বাবা, আমার সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছেন ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"আপনার সামান্য একটু সহায়তা হয়তো ছোট্ট অর্পিতার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থতার হাসি। দানশীল ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন:সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:বিকাশ নম্বর: ০১৩২৮৪২৪৭৮৫ (অর্পিতার বাবা - বিষ্ট রঞ্জন সাহা)একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে আজই এগিয়ে আসুন। আপনার এই সহযোগিতা হয়তো একটি শিশুকে নতুন জীবন দিতে পারে।

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।