অবশেষে ভারত সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
২২–২৩ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ, মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য-জ্বালানি-সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বঅবশেষে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনায় নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুই দেশেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সফরের বিষয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কিংবা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনার টেবিলে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু সৌজন্য সফর হিসেবে নয়, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন ও পারস্পরিক স্বার্থের জায়গাগুলো নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে এই সফরে।আমন্ত্রণ ছিল ক্ষমতায় আসার পরইগত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই আমন্ত্রণের ধারাবাহিকতায় এবার সফরের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।প্রস্তাবিত ২২–২৩ আগস্টের সময়সূচি ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টের প্রায় এক সপ্তাহ পর। ফলে সফরটি কোনো বহুপক্ষীয় সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত না থেকে মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেন্দ্রিক রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এনডিটিভি।বৈঠকের টেবিলে যেসব ইস্যুতারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ভারসাম্য, সড়ক-রেল ও নৌ যোগাযোগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সীমান্তে প্রাণহানি, সীমান্ত অপরাধ ও আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হতে পারে।BRICS-এর আগে দ্বিপক্ষীয় সফরকে গুরুত্বপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় BRICS সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে সেখানে তার অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।তবে BRICS-এর ওই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, বহুপক্ষীয় কোনো আয়োজনের চেয়ে প্রথমে ভারতের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।হাইকমিশনারের বৈঠকের পরই গতিপ্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতির মধ্যে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও সেখানে মতবিনিময় হয়ে থাকতে পারে। এরপরই সফর আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানা গেছে।নতুন সরকারের সঙ্গে দিল্লির নতুন সমীকরণ?রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কাঠামো কেমন হবে, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা কতটা বাড়বে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সমঝোতা হবে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে দুই দেশ কীভাবে সমন্বয় করবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও অনেকটা নির্ভর করতে পারে আসন্ন সফরের আলোচনার ওপর।সবকিছু ঠিক থাকলে ২২–২৩ আগস্টের সম্ভাব্য সফর তাই শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরই নয়; বরং নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নতুন সমীকরণেরও সূচনা হতে পারে।তবে সফরের তারিখ, কর্মসূচি ও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।সূত্র: এনডিটিভি
এলএনজি টার্মিনালের অপেক্ষায় থমকে থাকা বাংলাদেশ / লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন মানুষ একটু স্বস্তির জন্য বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকে, তখন ঘরে নেমে আসা দীর্ঘ অন্ধকার কেবল আলোহীনতার নয়-এটি রাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতার নির্মম প্রতিচ্ছবি। জাতীয় গ্রিডে লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়া এবং ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় তা প্রায় তিন হাজার সাতশ পঞ্চান্ন মেগাওয়াটে পৌঁছানো পরিস্থিতির গুরুতরতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ওই সময় চাহিদা ছিল প্রায় ষোলো হাজার দুইশ বাষট্টি মেগাওয়াট, অথচ সরবরাহ নেমে আসে প্রায় বারো হাজার পাঁচশ মেগাওয়াটে। গ্রামীণ এলাকায় দিনে ছয় থেকে বারো ঘণ্টা, কোথাও কোথাও চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থ মানুষের কষ্ট বেড়েছে, কৃষকের সেচ ব্যাহত হচ্ছে, ক্ষুদ্র ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থমকে যাচ্ছে। এমনকি বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রে ক্ষুব্ধ মানুষের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।এই বাস্তবতা কেবল সাময়িক ঘাটতি নয়-এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন, গ্যাস সরবরাহ, এলএনজি আমদানি এবং সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সংকটের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসনির্ভর। অথচ বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক প্রায় আড়াই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন থাকলেও সরবরাহ সেই চাহিদার ধারেকাছেও নেই। এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দশ হাজার মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না; উৎপাদন নেমে আসছে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। কয়লার সংকট, আদানি পাওয়ার থেকে প্রত্যাশিত মাত্রায় বিদ্যুৎ না আসা, পায়রাসহ কয়েকটি কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোর উচ্চ ব্যয়-সব মিলিয়ে ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে। স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় উনত্রিশ হাজার মেগাওয়াট হলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে উৎপাদন বারো-তেরো হাজার মেগাওয়াটের আশপাশে আটকে থাকার অর্থ একটাই: কেন্দ্র নির্মাণ করলেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং আর্থিক সক্ষমতার সমন্বয়।এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু স্পষ্ট করেছেন-মেরামতের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া সরকারের সামনে আপাতত কোনো বিকল্প নেই। এফএসআরইউ ছাড়া গ্যাস নামানোর সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন, এই ক্রাইসিসের সময় আমার কিছু করার নাই। এখন শুধু আমাকে দিন গোনা ছাড়া আর ইঞ্জিনিয়াররা যে কাজ করছে, এটা করা ছাড়া আমার কিছু নাই। মেরামতের দায়িত্ব মূলত মালিকানাধীন মার্কিন কোম্পানির। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেশে আসার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সাইটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দিনরাত কাজ করছেন। এফএসআরইউ অচল থাকলেও এলএনজি কেনা বন্ধ নেই-আগের দিনই চারটি কার্গো কেনা হয়েছে। টার্মিনাল সচল হলে এগুলো আনলোড করে সংকট অনেকাংশে কমানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কম লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাপনাও চলছে।তবে মন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপনা সংকটের মূল কারণকে ঢেকে রাখতে পারে না। গত সতেরো বছরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান না করে শুধু আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও যথেষ্ট গড়ে তোলা হয়নি। দুটি এফএসআরইউয়ের পরিবর্তে চারটি স্থাপন করা হলে আজকের মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না-এ কথা মন্ত্রী নিজেই বলেছেন। বর্তমান সরকার বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে, দ্রুত কূপ খননের জন্য আরও দুটি রিগ কেনার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে; একটির কার্যাদেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, বাকি দুটিরও আগামী দুই মাসের মধ্যে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে সব টার্মিনাল কেন্দ্রীভূত থাকায় খুলনা অঞ্চলে (পায়রা, মোংলা, হিরণ পয়েন্ট) নতুন টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগকারী দলও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত পাইপলাইন ঘাটতি দূর করতে নতুন লাইন নির্মাণ এবং ভোলা থেকে গ্যাস আনার বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।তবুও সংকট কেবল অবকাঠামোর নয়। শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ কমেছে। ডাইং, ফিনিশিং, নিটিং, প্লাস্টিক ও সিরামিক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিকের আয়, রপ্তানি আয় এবং জাতীয় অর্থনীতিতে। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয়-সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। সরকার দোকানপাটের সময় সীমিত করা, সাইনবোর্ডের আলো বন্ধ রাখাসহ কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো জরুরি, কিন্তু সংকটের চিকিৎসা নয়-আপাতত ব্যথা কমানোর ব্যবস্থা মাত্র।দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া এই চক্র থেকে বেরোনো সম্ভব নয়। প্রথমত, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গতি বাড়াতে হবে; নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান, পুরোনো ক্ষেত্রের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এলএনজি আমদানিতে একক উৎস বা সীমিত সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উৎস ও চুক্তি ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে হবে। তৃতীয়ত, সৌর, বায়ু ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে হবে-ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও শিল্পাঞ্চলে সৌর প্রকল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। চতুর্থত, বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা জরুরি; কোন কেন্দ্র কত ব্যয়ে উৎপাদন করছে এবং কোন চুক্তি রাষ্ট্রের জন্য যৌক্তিক-এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানা দরকার। পঞ্চমত, উৎপাদনের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, জ্বালানি নীতিকে রাজনৈতিক মেয়াদের বাইরে নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা কোনো দলের একক সম্পদ নয়-এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার প্রশ্ন।আজকের লোডশেডিং আগামী দিনের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অন্ধকার ঘরে বসে থাকা মানুষ শুধু বিদ্যুতের অপেক্ষা করছে না-সে একটি কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার অপেক্ষা করছে। শিল্পমালিক নির্ভরযোগ্য উৎপাদন পরিবেশ চাইছেন, কৃষক নিশ্চিত সেচব্যবস্থা চাইছেন, ব্যবসায়ী স্থিতিশীল অর্থনীতি চাইছেন। এই সংকটকে সাময়িক বলে পাশ কাটানোর সময় শেষ। উত্তর কেবল আরও কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা টার্মিনাল নির্মাণে নেই। উত্তর রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তায়, দক্ষ ব্যবস্থাপনায়, স্বচ্ছতায়, বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থায় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়। মানুষ এখন আর আশ্বাসের আলো চায় না-চায় ঘরের আলো। বিদ্যুৎহীন একটি রাত হয়তো সহ্য করা যায়, কিন্তু বারবার ফিরে আসা অন্ধকার কোনো উন্নয়নশীল দেশের ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে-বাংলাদেশ কি প্রতি গ্রীষ্মে লোডশেডিংয়ের সঙ্গে আপস করবে, নাকি একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যাবে? এই সিদ্ধান্তের সময় এখনই।লেখক : সাংবাদিক ও সংগঠক।
মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: স্বরাষ্ট্রের দায়িত্বে এ্যানি, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন
মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। আর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে চলমান বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমেদের হাতে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে গতি আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।সচিবালয় সূত্রের দাবি, শুধু এই দুই মন্ত্রণালয় নয়, মন্ত্রিসভার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরেও রদবদল হতে পারে। দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।তবে কার দায়িত্বে কী পরিবর্তন আসছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্যকে আনুষ্ঠানিক বলে মনে না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য এই রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোন মন্ত্রণালয়ে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পরই নিশ্চিত হবে।
এলএনজি টার্মিনালের অপেক্ষায় থমকে থাকা বাংলাদেশ / লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন
মোহাম্মদ আলী সুমন।
হাম, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ত্রিমুখী আক্রমণে জনস্বাস্থ্য কতটা নিরাপদ?
মোহাম্মদ আলী সুমন।
প্রতারণার ফাঁদে বন্দি / সাগরপথে ইউরোপের স্বপ্ন এবং বাংলাদেশের মানবপাচার সংকট
মোহাম্মদ আলী সুমন।
শাহরাস্তিতে ৬শ পিস ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতা গ্রেফতার
জুলাই জাদুঘরে হেফাজত নেতাদের ভাস্কর্য নিয়ে আপত্তি, দ্রুত অপসারণ চান নায়েবে আমির
নেতৃত্বের দৌড়ে সাবেক ছাত্রনেতাসহ একাধিক হেভিওয়েট / চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
বালিয়াডাঙ্গীতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের দোকান দখলের অভিযোগ
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
অপরাধ অনুসন্ধান পত্রিকা’র উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ ফল উৎসব অনুষ্ঠিত
প্রশিক্ষণ শেষে ৩০ প্রান্তিক পেশাজীবীর হাতে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদান, মিলল সনদও
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান
এলএনজি টার্মিনালের অপেক্ষায় থমকে থাকা বাংলাদেশ / লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্ন
হাম, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ত্রিমুখী আক্রমণে জনস্বাস্থ্য কতটা নিরাপদ?
প্রতারণার ফাঁদে বন্দি / সাগরপথে ইউরোপের স্বপ্ন এবং বাংলাদেশের মানবপাচার সংকট
ঢাকা শহরের বর্জ্যজনিত দুর্ভোগ প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন