মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।

চিরনিদ্রায় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির ঘোষক তোফায়েল আহমেদ: কোড়ালিয়ায় দাফন সম্পন্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি ফিরে গেলেন তাঁর চিরচেনা মাটির টানে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) বেলা সোয়া ৪টায় তাঁর জন্মভূমি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও সহধর্মিণীর কবরের পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে, বেলা আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বীপ জেলার প্রিয় এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মাঠ পেরিয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয় চারপাশ। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজডসহ বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগে গত ১ জুন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮২ বছর বয়সী এই প্রবীণ প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। গত বছরের ২০ নভেম্বর তাঁর সহধর্মিণী আনোয়ারা আহমেদও মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা চিকিৎসক তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী, জামাতা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুজ্জামান তুহিনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শোকাকুল রাজনৈতিক কর্মী-সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।তোফায়েল আহমেদের জীবন মানেই যেন বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা মৌলভী আজহার আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং মা ফাতেমা খানম ছিলেন গৃহিণী। শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক এবং বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে যথাক্রমে ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালে আইএসসি ও বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ার বেগমকে (আনোয়ারা আহমেদ) বিয়ে করেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়েও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ ছিল রাজপথ। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের উত্থান ছিল রূপকথার মতো। ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর  ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই তিনি চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন এবং এর আহ্বায়ক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। তাঁর তেজস্বী ও আপসহীন নেতৃত্বে তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক জান্তা কেঁপে উঠেছিল, যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ইতিহাসের পাতায় তোফায়েল আহমেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে একটি বিশেষ ঘটনার জন্য। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সের এই তরুণ বজ্রকণ্ঠে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ-প্রতিটি বাঁকে তোফায়েল আহমেদ রেখেছেন অসামান্য কীর্তি। ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর, ১৯৭০ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি ভোলার আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও অকুতোভয় ‘মুজিব বাহিনী’র (বিএলএফ) অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধান অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা অঞ্চল নিয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান কমান্ড ছিল তাঁর হাতে। দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আদর্শের পথে অবিচল ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সালের পর টানা ৩৩ মাসসহ জীবনের দীর্ঘ সময় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে, কিন্তু আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হননি এক চুলও। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ১৯৭৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দলের ক্রান্তিলগ্নে শক্ত হাল ধরেন।সংসদীয় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদ তৈরি করেছেন এক অনন্য ও দুর্ভেদ্য রেকর্ড। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মোট ১২টি সংসদীয় নির্বাচনের মধ্যে ভোলা ও ময়মনসিংহ আসন থেকে মোট ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে তিনি টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি সফলভাবে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও তিনি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারকরণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। সর্বশেষ শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি। ২০২১ সাল থেকে অসুস্থতার কারণে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেও, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। রাজপথের তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির নীতি নির্ধারক এবং প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি যে কীর্তি রেখে গেছেন, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের নাম চিরকাল উজ্জ্বল থাকবে। ইতিহাসের এই মহানায়ক বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে, অনন্তকাল।

চিরনিদ্রায় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির ঘোষক তোফায়েল আহমেদ: কোড়ালিয়ায় দাফন সম্পন্ন

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার শহরের বাইরে স্থানান্তরে সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে.. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার শহরের বাইরে অন্যত্র স্থানান্তরে সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কারাগারটি শহরের বাইরে স্থানান্তরের লক্ষ্যে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কুমিল্লা সদরের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কুমিল্লার রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।বৈঠকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের প্রাচীর পূর্ববর্তী স্থানেই নির্মাণের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন সদরের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, দৈনিক কুমিল্লার কাগজ-এর সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন, সময় টিভির সাংবাদিক বাহার উদ্দিন রায়হান, ব্যবসায়ী মাইনুল হাসান রিপন এবং এনসিপি নেতা মাসুমুল বারী কাউসার।এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার শহরের বাইরে স্থানান্তরে সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হবে.. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
চিরনিদ্রায় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির ঘোষক তোফায়েল আহমেদ: কোড়ালিয়ায় দাফন সম্পন্ন

চিরনিদ্রায় ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধির ঘোষক তোফায়েল আহমেদ: কোড়ালিয়ায় দাফন সম্পন্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক তোফায়েল আহমেদ আর নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি ফিরে গেলেন তাঁর চিরচেনা মাটির টানে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) বেলা সোয়া ৪টায় তাঁর জন্মভূমি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মা ও সহধর্মিণীর কবরের পাশে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে, বেলা আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বীপ জেলার প্রিয় এই নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মাঠ পেরিয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয় চারপাশ। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজডসহ বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগে গত ১ জুন, সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮২ বছর বয়সী এই প্রবীণ প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। গত বছরের ২০ নভেম্বর তাঁর সহধর্মিণী আনোয়ারা আহমেদও মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা চিকিৎসক তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী, জামাতা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুজ্জামান তুহিনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শোকাকুল রাজনৈতিক কর্মী-সহযোদ্ধা রেখে গেছেন।তোফায়েল আহমেদের জীবন মানেই যেন বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস। ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা মৌলভী আজহার আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং মা ফাতেমা খানম ছিলেন গৃহিণী। শিক্ষা জীবনে তিনি ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক এবং বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে যথাক্রমে ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালে আইএসসি ও বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ার বেগমকে (আনোয়ারা আহমেদ) বিয়ে করেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়েও তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ ছিল রাজপথ। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের উত্থান ছিল রূপকথার মতো। ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর  ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই তিনি চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন এবং এর আহ্বায়ক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। তাঁর তেজস্বী ও আপসহীন নেতৃত্বে তৎকালীন আইয়ুব খানের সামরিক জান্তা কেঁপে উঠেছিল, যার ফলশ্রুতিতে পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ইতিহাসের পাতায় তোফায়েল আহমেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে একটি বিশেষ ঘটনার জন্য। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সের এই তরুণ বজ্রকণ্ঠে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ-প্রতিটি বাঁকে তোফায়েল আহমেদ রেখেছেন অসামান্য কীর্তি। ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর, ১৯৭০ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি ভোলার আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও অকুতোভয় ‘মুজিব বাহিনী’র (বিএলএফ) অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধান অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা অঞ্চল নিয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান কমান্ড ছিল তাঁর হাতে। দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আদর্শের পথে অবিচল ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সালের পর টানা ৩৩ মাসসহ জীবনের দীর্ঘ সময় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে, কিন্তু আদর্শ থেকে তিনি বিচ্যুত হননি এক চুলও। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ১৯৭৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দলের ক্রান্তিলগ্নে শক্ত হাল ধরেন।সংসদীয় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদ তৈরি করেছেন এক অনন্য ও দুর্ভেদ্য রেকর্ড। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মোট ১২টি সংসদীয় নির্বাচনের মধ্যে ভোলা ও ময়মনসিংহ আসন থেকে মোট ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে তিনি টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি সফলভাবে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও তিনি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারকরণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। সর্বশেষ শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি। ২০২১ সাল থেকে অসুস্থতার কারণে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কিছুটা স্তিমিত হয়ে এলেও, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। রাজপথের তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির নীতি নির্ধারক এবং প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি যে কীর্তি রেখে গেছেন, তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের নাম চিরকাল উজ্জ্বল থাকবে। ইতিহাসের এই মহানায়ক বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে, অনন্তকাল।

সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত, ‘থাও সূত্র’ সামনে আনল হুয়াওয়ে

সম্প্রতি হুয়াওয়ের সেমিকন্ডাক্টর বিজনেস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হে থিংপো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘থাও (τ) সূত্র’ প্রবর্তন করেছেন, যা দ্রুত বৈশ্বিক প্রযুক্তি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন, এই সূত্রটি আবার কী, আর এর সঙ্গে আমাদের কী সম্পর্ক? হুয়াওয়ের এই থাও সূত্রকে অবহেলা করবেন না, কারণ আগামী ১০ বছরে এটি সত্যিই আমাদের সবার জীবন বদলে দিতে পারে।প্রথমত, থাও সূত্র কী?আমরা সবাই জানি, পুরো সেমিকন্ডাক্টর চিপ শিল্পে গত অর্ধশতাব্দী ধরে ইন্টেলের প্রতিষ্ঠাতা গর্ডন মুরের প্রবর্তিত ‘মুর সূত্র’ মেনে চলা হয়েছে। অর্থাৎ, চিপের ট্রানজিস্টরের সংখ্যা প্রতি ১৮–২৪ মাসে দ্বিগুণ হয়; একই সঙ্গে পারফরম্যান্সও দ্বিগুণ হয়, আর খরচ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।এর আগে চিপ নির্মাতারা শুধু ট্রানজিস্টর ছোট করলেই কম খরচে বেশি পারফরম্যান্স পেতেন। কিন্তু এখন তা প্রায় সীমায় পৌঁছে গেছে। ৩ ন্যানোমিটারের নিচের প্রক্রিয়ায় খরচ জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। একটি ৩ ন্যানোমিটার চিপ কারখানা তৈরি করতে ৩০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত লাগতে পারে, আর একটি ইইউভি (EUV) লিথোগ্রাফি মেশিনের দাম প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এই খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়। ফলে আমরা দেখছি, গাড়ি বা গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির দাম কমলেও মোবাইল ফোন, বিশেষ করে ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর দাম বেড়েই চলেছে।‘থাও সূত্র’ এই খেলার নিয়ম পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এটি ‘ট্রানজিস্টর ছোট করা’র পথ ছেড়ে ‘সময়ের সংক্ষেপণ’-এর মাধ্যমে ‘জ্যামিতিক সংক্ষেপণ’-এর বিকল্প প্রস্তাব করছে। ‘লজিক ফোল্ডিং’ হলো থাও সূত্র বাস্তবায়নের মূল প্রযুক্তি, যা চিপের দ্বিমাত্রিক সমতল বিন্যাসের সীমাবদ্ধতা ভেঙে সমতল সার্কিটকে বহুস্তরীয় কাঠামোয় ‘ভাঁজ’ করে। এর ফলে মূল সংকেতের পরিবহন পথ সংক্ষিপ্ত হয় এবং পরিবহনজনিত ক্ষতি কমে।সহজ ভাষায় বললে, চিপকে যদি একটি শহরের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে চিপের পারফরম্যান্স হলো ওই শহরের পরিবহন সক্ষমতা। মুরের সূত্রের নিয়মে শহরের পরিবহন ক্ষমতা বাড়াতে হলে শহরে আরও বেশি গাড়ি ঢোকাতে হয়, আর জায়গা ফুরিয়ে গেলে গাড়ির আকার ছোট করতে হয়। কিন্তু যখন গাড়ি এত ছোট হয়ে যায় যে আর ছোট করা সম্ভব নয়, আর সব রাস্তা ঠাসা হয়ে যায়, তখন মুরের সূত্র তার সীমায় পৌঁছে যায়।তাই শহরের পরিবহন ক্ষমতা বাড়াতে হলে আর গাড়ির আকার বা সংখ্যা নিয়ে না ভেবে দক্ষতার দিকে নজর দিতে হবে। যেমন—উড়ালসড়ক নির্মাণ, রিং রোড তৈরি, ট্রাফিক সিগন্যালের সমন্বয় এবং যানজটপ্রবণ পয়েন্টগুলোর উন্নয়ন; যাতে গাড়িগুলো দ্রুত চলতে পারে এবং সামগ্রিক পরিবহন সক্ষমতা বাড়ে। এটাই হলো জ্যামিতিক সঞ্চয়ের পরিবর্তে সময়ভিত্তিক দক্ষতার ব্যবহার।তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী?এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে আমাদের ‘সবচেয়ে উন্নত প্রক্রিয়া’র জন্য বাড়তি মূল্য দিতে হবে না। বর্তমানের প্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও একই ক্ষমতার চিপ তৈরি করা যাবে। ফলে মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমবে।এ ছাড়া হুয়াওয়ে শুধু তত্ত্বেই থেমে নেই। গত ছয় বছরে থাও সূত্রের ভিত্তিতে তারা ৩৮১টি চিপ ডিজাইন ও উৎপাদন করেছে। এ বছরের শরতে আসা নতুন কিরিন মোবাইল চিপে সম্পূর্ণ লজিক ফোল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। হুয়াওয়ের অনুমান অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে থাও সূত্রভিত্তিক উচ্চক্ষমতার চিপের ট্রানজিস্টর ঘনত্ব ১.৪ ন্যানোমিটার প্রক্রিয়ার সমতুল্য হবে। ততদিনে একই ক্ষমতার কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের দাম অনেকটাই কমে যাবে।শুধু মোবাইল সস্তা হবে না, এআইয়ের কার্যকারিতাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। কারণ থাও সূত্র দক্ষতা, সমন্বয় এবং প্রান্ত-থেকে-প্রান্ত কার্যকর করার সময় কমিয়ে আনার ওপর জোর দেয়। অর্থাৎ, কম্পিউটিং খরচ অনেক কমে যাবে। ভবিষ্যতে ক্লাউডভিত্তিক বড় মডেলগুলো আরও সাশ্রয়ী ও দ্রুততর হবে। এমনকি এআই ব্যবহারের জন্য সব সময় নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকার প্রয়োজনও নাও হতে পারে। গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিতেও স্থানীয়ভাবে এআই সংযুক্ত করা যাবে। স্মার্ট ড্রাইভিংও আরও সাশ্রয়ী হবে, কারণ গাড়ির চিপের দাম কমবে এবং কর্মক্ষমতা বাড়বে। ফলে শুধু ফ্ল্যাগশিপ মডেল নয়, তুলনামূলক সাশ্রয়ী গাড়িতেও স্মার্ট ড্রাইভিং সিস্টেম ব্যবহার করা সম্ভব হবে।এই পদ্ধতিগত সমন্বয় ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এসেছে চীনের বিশ্বের সবচেয়ে সম্পূর্ণ শিল্প কাঠামো এবং সবচেয়ে বিস্তৃত প্রয়োগক্ষেত্র থেকে, যা একাধিক স্তরে গভীর সমন্বয় ও অপ্টিমাইজেশন সম্ভব করে। ‘ন্যানোমিটার-স্কেলের উন্নত প্রক্রিয়া’কে আর একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে না ধরে, হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘থাও সূত্র’ এআই বিকাশের জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক ধারা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি এটি পাশ্চাত্যের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে একটি উদ্ভাবনী ও কার্যকর চীনা সমাধান উপস্থাপন করেছে।সূত্র: স্বর্ণা, তৌহিদ ও লিলি; চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

শেরপুরে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শেরপুরে এতিম শিশু, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার ৫ নং ধলা ইউনিয়নের মোহাম্মদীয়া নূরানী ও হাফেজিয়া ক্বওমী মাদ্রাসায় নিজস্ব অর্থায়নে ৩ শতাধিক রান্না করা খাবার বিতরণ করেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শওকত হোসেন। আয়োজকরা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।  মোহাম্মদ শওকত হোসেন বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের মানবিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করার আহ্বান করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি যুবনেতা মনোয়ার হোসেন রুপক ও রাকিবুল ইসলাম সাগর, শহর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক রাসেল সিকদার, যুবনেতা মাহমুদুল হাসান রুবেল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক মাহানুর রোশান মাহিন, ছাত্রনেতা রিদয় সহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

৩০ মে ২০২৬, ০৮:১৯ এএম
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।  আপনি ও কি তাই মনে করেন?

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। আপনি ও কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

ফ্যাশন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে বিইউএফটি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক খাতে পরিণত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলছে BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)।২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকার তুরাগ থানার নিশাতনগর (পশ্চিম উত্তরা সংলগ্ন) এলাকায় অবস্থিত।দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শীর্ষ সংগঠন BGMEA-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাশন, টেক্সটাইল, পোশাক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক শিক্ষাকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং, বিজনেস স্টাডিজসহ বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক ল্যাব, গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে স্মার্ট টেক্সটাইল, সাসটেইনেবল ফ্যাশন, ডিজিটাল ডিজাইন ও অটোমেশনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা জানান, BUFT-এ পড়াশোনার মাধ্যমে তারা শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন প্রেজেন্টেশন এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছেন।নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য। ফ্যাশন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে দক্ষ ও উদ্ভাবনী তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে BUFT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীর জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার আক্রমণে ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।নগরবাসীর অভিযোগ, মশা নিধনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের অভাব রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে মশার বিস্তার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মশার কারণে শিশু, বয়স্ক ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা দ্রুত ও কার্যকর মশা নিধন অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।এ বিষয়ে নগরবাসীর প্রশ্ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মশা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানামুখী সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা! বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাজার হাজার মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই নেই হৃদরোগ শনাক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ইসিজি (ECG) ও ইকো( Echo) মেশিন। ফলে হৃদরোগ, বুকে ব্যথা, স্ট্রোকের ঝুঁকি কিংবা হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের তাৎক্ষণিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ইসিজি ও ইকো মেশিন নয়— হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ডাক্তার সংকট, ওষুধ সংকট, যন্ত্রপাতির অচলাবস্থা, রোগীদের প্রতি অবহেলা এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানান—ইসিজি ও ইকো  মেশিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন কোনো মেশিন পাওয়া যায়নি।হাসপাতালে গিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা : বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের কোটি মানুষের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক কিংবা নিম্ন আয়ের পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা আশা নিয়ে ছুটে যান সরকারি হাসপাতালের দিকে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বহন করার সামর্থ্য অধিকাংশ মানুষের নেই।কিন্তু বাস্তবে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অনেক রোগীকেই শুনতে হয়—মেশিন নষ্ট, এই পরীক্ষা এখানে হয় না, ডাক্তার নেই, ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হবে, অথবা “দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান।ফলে দরিদ্র রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। অনেক পরিবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঋণ করছেন, গবাদিপশু বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ: মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে গেলে মনে হয় শুধু নামেই চিকিৎসা হয়। ডাক্তাররা কিছু সাধারণ ওষুধ লিখে দেন, কিন্তু বেশিরভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। গরিব মানুষ কোথায় যাবে? হাসপাতালে যদি ওষুধই না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালের ওপর ভরসা করবে কীভাবে?তিনি আরও বলেন—অনেক সময় রোগী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। জরুরি রোগী হলেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মকবুল হোসেন বলেন—একটু জটিল রোগী হলেই বলা হয়— ‘দ্রুত রাজশাহীতে নিয়ে যান’। এখানে নাকি চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাহলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষ আসবে কেন?তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—অনেক রোগীকে রাতের বেলা রাজশাহী নিতে গিয়ে রাস্তায় আরও খারাপ অবস্থায় পড়তে হয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব ছিল। আবুল কাশেম বলেন—অ্যাম্বুলেন্সে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না— এমন অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের আতঙ্ক নিয়ে হাসপাতালে থেকে বের হতে হয়।তিনি আরও বলেন—সরকার কোটি কোটি টাকা স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল পাচ্ছে না। জরুরি মুহূর্তে যদি অক্সিজেন বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিই না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?এক নারী রোগীর স্বজন রতন মল্লিক  বলেন--রাতে মহিলা রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলে খুব ভয় লাগে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই, নার্সও কম থাকে। রোগীর কষ্ট দেখেও অনেক সময় কেউ দ্রুত এগিয়ে আসে না। এক বৃদ্ধ রোগীর অভিযোগ—আজিম উদ্দিন মন্ডল (৬৯) বয়স হয়েছে, টাকা-পয়সাও নেই। সরকারি হাসপাতালে এসেছিলাম একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। কিন্তু এখানে এসে মনে হয়েছে গরিব মানুষের কষ্ট দেখার কেউ নেই।স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা চলছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, কিন্তু দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না।তিনি আরও বলেন—কিছু অসাধু ব্যক্তি কৌশলে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করেন। এতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচের শিকার হন। সরকারি হাসপাতালে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেগুলোও অনেক সময় বাইরে করতে বাধ্য করা হয়। তার অভিযোগ—ওষুধ সরবরাহ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। রোগীরা প্রায়ই বলেন, হাসপাতালে ওষুধ নেই। অথচ এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি খুব কম।তিনি আরও বলেন—হাসপাতালে জনবল সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলাও রয়েছে। গোপনে তদন্ত হলে অনেক অনিয়ম বেরিয়ে আসতে পারে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ খাইরুল ইসলাম বলেন—পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির সংকট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকট এবং প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবের কারণেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও জানান—ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অধিকাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০০ শয্যায় উন্নীত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।একই সঙ্গে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ, অক্সিজেন প্ল্যান্ট সচল রাখতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কাজের আশ্বাস দেন তিনি।সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে আকস্মিকভাবে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, চিকিৎসা সেবা, ওয়াসরুম সহ অবকাঠামোগত অবস্থা পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এছাড়াও হাসপাতালের রন্ধনশালায় রোগীদের পরীক্ষামূরক খেয়ে দেখেন তিনি।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও অক্সিজেন প্ল্যান্টটির কথা বললাম। উনি কাজ করতে বলেছেন। আমি বলেছি এটা পুরানো ভবন, এটা ভাঙতে হবে। নতুন ভবন করতে হবে। অক্সিজেন প্ল্যান্টের বিদ্যুতের সাব-স্টেশন দিতে হবে। তিনি কাগজপত্র প্রস্তুত করে কাজ শুরু করতে বলেছেন। আর এটার সাথে ১০০ শয্যার কাজ করে ফেলব।”তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের সামনের রাস্তার ব্যাপারে আমি সওজের সঙ্গে কথা বলেছি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তারা ব্যবস্থা নেবেন।”স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির পুরাতন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় সেটি পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ ঘোষণায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত উন্নয়ন কাজ শুরু ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মো. বশির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান, থানা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান।

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

প্রয়োজন ৪ লক্ষ টাকা / হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: ১৩ মাসের অর্পিতার বাঁচার লড়াই

১৩ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু অর্পিতা। এই বয়সে তার দুরন্তপনায় মেতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির হৃদপিণ্ডে ছিদ্র রয়েছে এবং তার খাদ্যনালী ব্লক হয়ে আছে। তাকে বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।অর্পিতার বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া গ্রামে। তার বাবা বিষ্ট রঞ্জন সাহা একজন সাধারণ মানুষ। সন্তানের এমন দুরারোগ্য ব্যাধির কথা শুনে দিশেহারা পুরো পরিবার। দিনের পর দিন মেয়ের কষ্ট দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে তাদের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্পিতার অস্ত্রোপচার ও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, অন্যথায় তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে জমানো সব সম্বল শেষ করেছেন অর্পিতার বাবা। এখন নিরুপায় হয়ে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন তারা।বিষ্ট রঞ্জন সাহা কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি একজন বাবা, আমার সন্তানের এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। ডাক্তাররা বলেছেন ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি দেশের সকল হৃদয়বান মানুষের কাছে আমার সন্তানকে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।"আপনার সামান্য একটু সহায়তা হয়তো ছোট্ট অর্পিতার জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে সুস্থতার হাসি। দানশীল ব্যক্তিরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের বিকাশ নম্বরে সহায়তা পাঠাতে পারেন:সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:বিকাশ নম্বর: ০১৩২৮৪২৪৭৮৫ (অর্পিতার বাবা - বিষ্ট রঞ্জন সাহা)একটি নিষ্পাপ প্রাণ বাঁচাতে আজই এগিয়ে আসুন। আপনার এই সহযোগিতা হয়তো একটি শিশুকে নতুন জীবন দিতে পারে।

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে হাম উপসর্গে এবার নার্সের মৃত্যু : হাসপাতালে ভর্তি ৭৮ জন

সিলেটে এবার হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন ২০২৬ইং) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ বছর বয়সী ওই নার্স তরুণীর মৃত্যু হয়। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফারি ইন্টার্ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে তিনি হামের উপসর্গে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রথমে তাকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)- তে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।এদিকে এঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার অকাল মুত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম বলেন, হামের উপসর্গ ছাড়াও ওই তরুণীর অন্যান্য জটিল সমস্যা ছিল। তবে এটি হচ্ছে হাম উপসর্গে সিলেট বিভাগের ২২ বছর বয়স্ক কারও মৃত্যুএর কারণ অনুসন্ধান করা হবে।এদিকে সিলেটে হাম উপসর্গে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় প্রায় দেড় বছরের শিশু ইরফান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। এনিয়ে সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ল্যাব পরীক্ষায় কারও হাম শনাক্ত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ জন। সোমবার (১ জুন) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোঃ মাহবুবুল আলম।বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৫৬ জন রোগী।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১ জুন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে ও উপসর্গে ৬১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ৪ জনের হাম নিশ্চিত হলেও বাকীরা উপসর্গে মারা গেছেন। এদিকে বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৬ জন সুনামগঞ্জ জেলার, সিলেটের ৪২, হবিগঞ্জের ২১ ও  মৌলভীবাজারের ১৬।বর্তমানে সিলেট বিভাগে হাসপাতালে ভর্তিকৃত সন্দেহজনক ২৫৬ রোগীর মধ্যে- সর্বোচ্চ ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৫, উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে ২, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ৩, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৬, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ১৭, পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে ৪, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২২, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন শিশু ভর্তি রয়েছেন।