মুক্তির লড়াই
সর্বশেষ

লাখো মানুষের ঢলে মুখর চট্টগ্রাম, শুরু হলো ৫৫তম জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় শোভাযাত্রা ‘জশনে জুলুস’। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলুসের যাত্রা শুরু হয়। আয়োজকদের দাবি, এবারের ৫৫তম জশনে জুলুসে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।জুলুসে নেতৃত্ব দেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব শাহ।সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরী পরিণত হয় জনসমুদ্রে। নগর ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস এবং ব্যক্তিগত যানবাহনে করে হাজার হাজার মানুষ ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় জড়ো হন। অনেকে আবার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটেও অংশ নেন জুলুসে।জুলুসটি মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাসসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে মাহফিল, জোহরের নামাজ এবং দেশ-জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত।আয়োজক সংগঠন আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট জানিয়েছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন।জশনে জুলুসকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়ক সাজানো হয়েছে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও সবুজ পতাকায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী শৌচাগারসহ বিভিন্ন সেবামূলক ব্যবস্থা।আনজুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোছাইব উদ্দিন বখতিয়ার বলেন, “মহানবী (সা.)-এর শুভাগমন স্মরণে প্রতিবছর এ জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এটি রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের এক অনন্য মাধ্যম।”তিনি জানান, চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন প্রতিবছর দেশ-বিদেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.)-এর নির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, “বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে।”

সিলেটকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতেই সিউক কাজ করবে.. গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক) কাজ করবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এম পি।মঙ্গলবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিউকের কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী।এর আগে, বেলা ১২টার দিকে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে নামফলক উন্মোচন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর।গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিলেট অর্থনীতি, পর্যটন ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণের কারণে আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। কৃষিজমি রক্ষা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত ও টেকসই শহর গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। 

সিলেটকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতেই সিউক কাজ করবে.. গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

পরিবেশ ও উন্নয়নের ভারসাম্যে চীনা মডেলের প্রশংসায় জাতিসংঘ

সম্প্রতি বেইজিংয়ে চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)-কে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন জাতিসংঘের উপমহাসচিব ও মরুকরণ রোধবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন সচিবালয়ের নির্বাহী সচিব ইয়াসমিন ফুয়াদ।সাক্ষাৎকারে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের উদ্যোগে ‘স্বচ্ছ জলরাশি ও সুজলা-সুফলা পাহাড়-পর্বত অমূল্য সম্পদ’-এর ধারণার প্রশংসা করে বলেন, যেকোনো শাসন-সংক্রান্ত উদ্যোগের মাধ্যমে অসাধারণ ফলাফল অর্জনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অঙ্গীকার অপরিহার্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে মরুভূমি ও বালুকাময় ভূমির আয়তন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে দেশটি ভূমির অবক্ষয় রোধ ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় পরিসরের অন্যতম স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। চীনের অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্ব শিক্ষা নিতে পারে। এতে ভূমি পুনরুদ্ধার প্রকল্প, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পরিচিতি, মানবতা ও প্রকৃতির সুষম সহাবস্থানভিত্তিক উন্নয়ন মডেল এবং শেখার প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত আছে।তিনি বলেন, চীন ব্যাপক পরিসরে ভূমি পুনরুদ্ধারের কাজ করেছে। এটি ‘মরুকরণ রোধে জাতিসংঘের কনভেনশন’-এর আওতায় পরিচালিত ভূমি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টারও একটি অন্যতম প্রধান উপাদান। চীন দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো দেশের প্রতিষ্ঠিত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছে। এ সম্পর্কিত সমস্যাগুলো মোকাবিলার উপায় খুঁজতে হবে। এ ছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মরুকরণ রোধের ক্ষেত্রে আমরা চীনের সঙ্গে সহযোগিতা চালাতে ইচ্ছুক। সূত্র: ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

পরিবেশ ও উন্নয়নের ভারসাম্যে চীনা মডেলের প্রশংসায় জাতিসংঘ
সিলেটকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতেই সিউক কাজ করবে.. গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

সিলেটকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতেই সিউক কাজ করবে.. গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী

সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক) কাজ করবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এম পি।মঙ্গলবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিউকের কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী।এর আগে, বেলা ১২টার দিকে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ে নামফলক উন্মোচন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মঞ্জুর।গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘সিলেটকে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিলেট অর্থনীতি, পর্যটন ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণের কারণে আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। কৃষিজমি রক্ষা, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত ও টেকসই শহর গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। 

চীন-মার্কিন জনগণের বন্ধুত্ব আরও গভীর হওয়ার প্রত্যাশা

২৫ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার ওরদোস শহরের এজিন হোরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বহু দূর থেকে আগত মার্কিন বন্ধু রোনাল্ড সাকোলস্কি, মরুকরণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চীনা বীরাঙ্গনা ইয়িন ইউ চেনকে অশ্রুসিক্ত নয়নে আলিঙ্গন করেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় পরে দু’জনের এই পুনর্মিলনের দৃশ্যটি মুহূর্তেই অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।১৯৯৯ সালে চীনে শিক্ষকতারত মার্কিন শিক্ষক রোনাল্ড মরুভূমিতে মরুকরণ নিয়ন্ত্রণ ও বনায়নের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করা ইন ইউ চেনের গল্পে অনুপ্রাণিত হন। তিনি চেনের কাজে সাহায্য করার জন্য ৫ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। বর্তমানে এই অনুদান দিয়ে কেনা চারাগাছগুলো বেড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি বড় গাছে পরিণত হয়েছে। গত মে মাসে ইন ইউ চেন ইন্টারনেটে ভিডিও পোস্টের মাধ্যমে তাঁর মার্কিন বন্ধুকে খুঁজে পান, যার সঙ্গে তাঁর বহু বছর ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরকে অতিক্রমকারী এই বন্ধুত্ব চীনা ও মার্কিন জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আদান-প্রদানের এক জীবন্ত ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে।এটি আবারও প্রমাণ করে যে, জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান হলো চীন-মার্কিন সম্পর্কের ভিত্তি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জনগণেরই ইচ্ছা। গত এপ্রিলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত একটি জরিপে বলা হয়, গত তিন বছরে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণকারী আমেরিকানদের সংখ্যা ‘প্রায় দ্বিগুণ’ হয়েছে। আগস্টে শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, জেনারেশন জেড-এর ৫৯ এবং মিলেনিয়ালদের ৫৮ শতাংশ চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সমর্থন করে।চলতি বছরের মে মাসে চীন ও মার্কিন নেতারা বেইজিংয়ে মিলিত হয়ে ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গঠনমূলক কৌশলগত ও স্থিতিশীল সম্পর্ক’ গড়ে তোলার নতুন অবস্থান গ্রহণ করেন, যা আগামী তিন বছর ও তারও বেশি সময়ের জন্য দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। আশা করা যায়, দু’দেশের জনগণের মৈত্রী আরও গভীর হবে। সূত্র: ছাই-আলিম-ওয়াং হাইমান,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

লালমনিরহাটে 'দল বদল' রাজনীতির কারিগর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব

আদর্শ নয়, বরং ক্ষমতার পাল্লা ভারী দেখলেই ভোল পাল্টানোয় সিদ্ধহস্ত লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাপ্টিবাড়ি ইউপি'র সাবেক চেয়ারম্যান  আব্দুস সোহরাব এবার নিজের পিঠ বাঁচাতে নৌকার হাল ছেড়েছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ আত্মগোপন শেষে প্রকাশ্যে এসেই দলত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন এই 'দল বদল' খ্যাত আলোচিত নেতা।সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে পদত্যাগের কারণ হিসেবে 'শারীরিক অসুস্থতা'র অজুহাত দিলেও ওই সময় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল সহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।সুবিধাবাদের দীর্ঘ ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়, আব্দুস সোহরাব একসময় আদিতমারী উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ২০০৯ সালের উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি ১নং সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। দলীয় রেকর্ডে তার সদস্য পরিচিতি নম্বর ৩৫৩৮৮০৩। ২০১৪ সালের উত্তাল রাজনৈতিক সময়েও তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন।তবে ২০১৫ সালে ক্ষমতার রাজনীতিতে ভোল পাল্টে তিনি তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। সেই সময় বিএনপিতে 'মীরজাফর' উপাধি পেলেও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই বাগিয়ে নেন জেলা পরিষদের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ। পরবর্তীতে দলীয় প্রভাবে গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার টিকিট নিয়ে সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন তিনি।নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ও পদত্যাগ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহূর্তেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এই 'নব্য' আওয়ামী লীগার। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফেরেন। এলাকায় ফেরার পর আইনি জটিলতা এড়াতে এবং নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে তড়িঘড়ি করে এই পদত্যাগের নাটক সাজিয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।জনমনে প্রতিক্রিয়া আদিতমারীর সাধারণ মানুষের মতে, আদর্শের চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাকে বড় করে দেখা সোহরাব এখন জনরোষ থেকে বাঁচতে এই কৌশল বেচেঁ নিয়েছেন। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা থেকে আওয়ামী লীগের দাপুটে ক্যাডার এবং বর্তমানে পরিচয়হীন হওয়ার এই চেষ্টাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।এ বিষয়ে আদিতমারী উপজেলার একাধিক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ক্ষমতার মোহে যারা বার বার দল পরিবর্তন করেন, তাদের স্থান কোথাও স্থায়ী হয় না। সোহরাবের এই পদত্যাগ মূলত অস্তিত্ব রক্ষার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

ব্যাটে-বলে নিখুঁত পারফরম্যান্সের প্রদর্শনী করে মাত্র চার দিনেই ১১তম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতেই এভাবে দাপট দেখানো যে কোনো দলের জন্যই স্বপ্ন। ৯ উইকেটে জিতে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলো বাংলাদেশ।টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলের কাছে শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়ার জন্য এই ফল হজম করা কঠিন হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন বহুদিন উপভোগ করার মতো। অস্ট্রেলিয়া ডেরা থেকে টেস্ট জয় এমনিতেই অনেক কঠিন। তার ওপর তাদের যা প্রস্তুতি ছিল, আর প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের চার জনের প্রত্যেকের ৩০০-এর বেশি টেস্ট উইকেট, সেখানে এমন সাফল্য পাওয়া সত্যিই অসাধারণ। ডারউইন এখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। তাদের টেস্ট ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়া মাটিতে একটি টেস্টের জন্য দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা পুরোপুরি সার্থক। তারা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এবং নিশ্চিতভাবে এই টেস্ট সিরিজ তারা আর কোনোভাবেই হারবে না।২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফর করল তারা। এই ম্যাচে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারলেই যেন প্রত্যাশা পূরণ হতো! কিন্তু ১৩ আগস্ট প্রথম দিনেই পেসাররা যেভাবে বুলডোজার চালালেন, তাতেই এক অবিস্মরণীয় জয়ের ভিত যেন তৈরি হয়ে গেল।দুই সেশনেরও বেশি সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশের বোলারদের দাপট চলল। দুইশ রানের আগেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া! যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অবশ্য ধারণা করা হচ্ছিল, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপও একইভাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হবে। কিন্তু না, ব্যাটিংয়েও চলল বাংলাদেশের দাপট। তানজিদ হাসান তামিম ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি করলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও হাফ সেঞ্চুরিতে বড় স্কোরের শক্ত ভিত গড়ে দিলেন।এই তিন ব্যাটারের অনবদ্য ব্যাটিং এবং টেল এন্ডারের উল্লেখযোগ্য অবদানে বাংলাদেশ ২২৮ রানের বড় লিড নেয়। বিদেশের মাটিতে এর আগে প্রথম ইনিংসে এত বড় লিড কখনও পায়নি তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে গেল চাপ নিয়ে। এবারও হাসান জোড়া আঘাতে তাদের গলা চেপে ধরেন।প্রথম ইনিংসে স্টিভ স্মিথ, আর দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের ধারালো বোলারদের সামনে যা একটু প্রতিরোধ গড়লেন। দেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরিতে অজিদের লিড এনে দেন। কিন্তু বল হাতে মিরাজ দেখালেন ঘূর্ণি জাদু। তাতে লিডটা বড় হলো না। বাংলাদেশের লক্ষ্যও থাকল নাগালের মধ্যে।

চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন

চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন

কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন ও বিদেশে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার (​২১ আগস্ট)  দুপুরে  চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের হলরুমে  ইনস্টিটিউট এবং ‘ওউবাইতোরি জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুল’ এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনার ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।​চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ওউবাইতোরি জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা  ইঞ্জিনিয়ার মহিন উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা শিক্ষা বিষয়ক  সমন্বয়ক  প্রফেসর ওয়াদুদ মজুমদার।তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি জাপানি ভাষার দক্ষতা অর্জন করতে পারলে শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। ​বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক ও সাংবাদিক আতাউল করিম। ​অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যোমিকাতা জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেন্টারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান (রাজিব)। এছাড়া জাপানি ভাষা শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষ বক্তব্য রাখেন, ওউবাইতোরি জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা ফাতেমা ইসলাম কাজল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জাপানি ভাষা শিক্ষা, দেশটিতে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ​অনুষ্ঠানে চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক -শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশন গ্রেফতার

ব্রাহ্মণপাড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশন গ্রেফতার

কুমিল্লায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মিশনকে (৩১) গ্রেফতার করেছে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নিজ গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।​গ্রেফতার হওয়া আনোয়ার হোসেন মিশন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাইঘর (মধ্যপাড়া) গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। এবং তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।​পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গজকাল বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একটি দল নাইঘর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকেই আনোয়ার হোসেন মিশনকে গ্রেফতার করা হয়।​বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মিশন জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসের এক মামলার এজাহারনামীয় আসামি। গত বছরও তিনি গণঅভ্যুত্থান মামলার আসামি হিসেবে  গ্রেফতার হয়েছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ । 

বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

সরকারি হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন / বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত

কুমিল্লার  বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের বড় কৈয়নি ও শাকপুর গ্রামে পাগলা কুকুরের হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাফি (২০), পিতা- রশিদ, গ্রাম শাকপুর; আবুল হোসেন (৪০), পিতা- মনির হোসেন, শাকপুর; আনাস (৪ মাস), পিতা- রিয়াদ হোসেন, শাকপুর এবং সামিয়া (২৬ মাস), পিতা- মিল্লাত হোসেন, শাকপুর।এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে আয়ান (৩ মাস), পিতা- মো. বাহার, গ্রাম বামন্ডা, উপজেলা চান্দিনা; নিলুফা বেগম (৪০), স্বামী- ফরিদ উদ্দিন, মহেশপুর, বরুড়া; নিরুদা (৭০), স্বামী- মৃত সীতিম সরকার, শাকপুর, বরুড়া এবং কুহিনূর বেগম (৩৫), স্বামী- মো. বিল্লাল হোসেন, শাকপুরকে।এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্য, আহতদের কাউকেই বরুড়া সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাসপাতালের ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সবসময় পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজেদুর রহমান বলেন, “রেবিস ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে।”স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

অল্প বৃষ্টিতেই আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাবদ্ধতা, মশা-মাছির উপদ্রব; চরম দুর্ভোগে রোগী ও স্বজনরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগের প্রবেশপথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় বেড়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়। এতে জরুরি বিভাগে রোগী আনা-নেওয়া, বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ওয়ার্ডে যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় হাসপাতাল এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন নাজুক পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক।রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহীল কাফী বলেন, "রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে দেখি চারদিকে পানি জমে আছে। জরুরি বিভাগে পৌঁছাতেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।"স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা শুধু রোগীদের দুর্ভোগই বাড়ায় না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা সময়ের দাবি।১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে হাসপাতালের পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিচু স্থান ভরাট, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করারও দাবি জানান তারা।এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ  খায়রুল আলম বলেন, "জলাবদ্ধতার বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।"স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিলে হাসপাতালের জলাবদ্ধতা ও মশা-মাছির উপদ্রব থেকে মুক্তি মিলবে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানও আরও উন্নত হবে।

রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান / রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখার অভিযোগে

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার আগেই রিপোর্ট তৈরি করে রাখার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আক্তার জাহানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমা।অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, রোগী আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য আসার আগেই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট প্রিন্ট করে রাখা হতো। পরে রোগীর নাম ও পরিচয় যুক্ত করে তা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইউরিনের নমুনা সংরক্ষণ এবং রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় থার্মোমিটার না রাখাসহ আরও কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করা হয়।অভিযানে চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হাসান ফয়সালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক তাসনিম জোহরা

চাঁদপুরের  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত বিচারক ( জেলা জজ)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম জোহরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তাসনিম জোহরা দীর্ঘ বিচারের অধিকারী একজন বিচারক তিনি। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় যুগ্নু জেলা জলস হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে খুলনায় যুগ্ন মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে  পুনরায় পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জর্জ হন।২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঝালকাঠির চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চাঁদপুরে যোগদানের আগে তিনি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনী কর্মকান্ডে সংযুক্ত ছিলেন। বিচারক তাসনিম  জোহরা ফরিদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ভিকারুন্নিসা নুন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ব্যক্তি নিয়ে   স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী। চাঁদপুরের দায়িত্ব গ্রহণ এরপর তাসনিম যুহরা বলেন বিচার প্রার্থীদের দ্রুত সুস্থ নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। যোগদানলগ্নে  চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি সহ শুধু আইনজীবী রা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ  করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা  ও জানান।

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুন মাসে  যোগদানের পর ওই মাসের শেষে কোনো মালামাল না কিনে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিপরায়ণ এই কর্মকর্তা । হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-'২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন খাতওয়ারী বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন।এরমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অন্যান্য মনিহারী বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, স্ট্যাম্প ও সীল বাবদ ২২ হাজার টাকা,অফিস সরঞ্জাম বাবদ ১৩ হাজার টাকা,, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কার বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ  ৫৫ হাজার টাকা, কম্পিউটার মেরামত বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, পরিষ্কার সামগ্রী বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য মনিহারী বাবদ ৫০ হাজার  টাকা বিধি অনুযায়ী ব্যয় না করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে নিজের পকেটস্থ করেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সীমাহীন এ দুর্নীতির তথ্য প্রমান এবং  অডিও ভিডিও  বক্তব্য ইতিমধ্যে এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌঁছেছে। বরাদ্দের অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় হয়েছে কিনা জানতে হাসপাতালে স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমানের সাথে দেখা করে মালামাল মজুদের বিষয়ে জানতে এবং দেখতে চাইলে তিনি বিল ভাউচারে ক্রয়কৃত কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি বলেন,বরাদ্দ না থাকাই অল্প অল্প করে কোনরকমে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্যার ভালো বলতে পারবেন। এদিকে প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে ব্যাপক নোংরা অবস্থা বিরাজমান। বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী চাহিদা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে তা যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে না। কালীগঞ্জ হাসপাতালের এই দুর্নীতি পরায়ণ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আমানুল্লাহ আল মামুন যোগদানের পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় হাসপাতালটির প্রশাসনিক এবং সেবা দান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।   তিনি যোগদানের পর থেকেই নিয়মিতভাবে সহযোগীসহ হাসপাতালের রোগীর খাবার (৫ জন রোগীর তরকারী একা) খাওয়া শুরু করেন। সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সেটি বন্ধ হয়। অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের এবং পরিমানে কম খাবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের সরবরাহ করা হলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না। সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে অফিসে যোগদানের সময় শুরু হলেও কোনোদিনও তাকে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না। এমনকি হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সকালে যথাসময়ে আসেন না। ২৫ জুলাই হাসপাতালের অফিস কক্ষে হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান সহকর্মী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জামির হোসেন কে মেরে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার নেপথ্যের কারিগর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জামির হোসেন। শুধু তাই না মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালটা মামলা দেওয়ার ইন্ধনদাতা হিসেবেও নাম আসছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। সম্প্রতি হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অরুণ কুমার দাসের  অফিস ফাঁকি দিয়ে মাঠে গিয়ে বিক্রয় প্রতিনিধিদের  দিয়ে কাজ করানোর ভিডিও প্রতিবেদন ভাইরাল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার  হলেও তিনি তার বিরুদ্ধে  নেননি কোনো ব্যবস্থা,বরঞ্চ ওই ডাক্তারের পক্ষে হাসপাতালের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ভালো প্রচারণামূলক পোস্ট করা হয়।  এমনকি হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স  ভাড়াও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় সাধারণ রোগীদের থেকে। এই বিষয়টি জেনেও তিনি রয়েছেন নির্বাক নিশ্চুপ। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিকট থেকে আউটসোর্সিং এ কাজ করা ব্যক্তিরা টাকা আদায় করে থাকেন। হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্মক কমাতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান,আমানুল্লাহ স্যার যোগদানের পর থেকে আমাকে  হিসাব বিভাগের সমস্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যে কারণে আমি অফিসে যায় এবং আসি মাত্র। এর বাহিরে কোন কিছুই আমার জানা নেই। সকল প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমানুল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি এর কোনো সদুত্ত দিতে পারেননি। তখন  তিনি বেশ কিছু সময় চুপ থেকে  বলেন, আপনি বললেন আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব কেনাকাটা হয়েছে কিনা, আর বিষয়টা আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার  কামরুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যদি সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে কিংবা অন্যকে দোহাই দিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি করে পার পাওয়ার সুযোগ নেয়।খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা.শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালিগঞ্জ সরকারি হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালনা এবং সেবা-নিশ্চিতের জন্য তদন্তপূর্বক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্থানীয় সুধীসমাজ ।