এক নজরে মোহাম্মদপুরের দলিল জালিয়াতি ও দখলচক্রান্ত:
ঢাকার মোহাম্মদপুরের পুলপাড় জাফরাবাদ এলাকায় ভূমি মালিকানা নিয়ে ভূমিদস্যু মো. রেজাউল করিম ও মো. গিয়াস উদ্দিন ভুইয়ার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ভয়াবহ জালিয়াতি ও রক্তক্ষয়ী জবরদখল চালিয়েছে।মূল চাঞ্চল্যকর তথ্যসমূহদ্বৈত দলিল রহস্য: ২০০৮ সালের ৫ মার্চ সম্পাদিত ১৪৩৩ নং দলিলটি দুটি ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। আদালতের মামলায় এটি কুতুবউদ্দিনের নামে ‘হেবা’ দলিল হলেও, গিয়াস ও রেজাউলের দাবি এটি তাদের ক্রয়কৃত ‘সাব-কবলা’ দলিল।রহস্যজনক নামজারি: দীর্ঘ ১৮ বছর পর ২০২৫ সালে এসে প্রকৃত মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. জোবায়ের হোসেনকে (যিনি ওই জমিতে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে ভোগদখলে আছেন) কোনো নোটিশ না দিয়েই এসি (ল্যান্ড) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাত্র এক দিনেই নামজারি সম্পন্ন করে চক্রটি।সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট: গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে গিয়াস ও রেজাউলের নেতৃত্বে ১০০-১৫০ জনের সশস্ত্র দল জোবায়ের হোসেনের ৮ তলা ভবনে হামলা চালায়। এ সময় অফিসের অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. সাইফুল ইসলাম টুলুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করা হয়, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ ৫ লক্ষ টাকা, মূল্যবান দলিলপত্র ও জিনিসপত্র লুট করে একটি ফ্ল্যাট জবরদখল করা হয়।আইনগত পদক্ষেপ: এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-১১, তারিখ: ০২/০৭/২০২৬)।এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি১. বালাম বইয়ের অসংগতি দূর করতে ফরেনসিক তদন্ত করা।২. জালিয়াতিতে সহায়তাকারী সাব-রেজিস্ট্রি ও এসি (ল্যান্ড) অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা।৩. প্রধান অভিযুক্ত মো. গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া ও মো. রেজাউল করিমসহ জড়িত সব সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
জাতিসংঘের অবস্থান ও কর্তৃত্ব রক্ষার আহ্বান সি চিন পিংয়ের
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং শাংহাইয়ে, ১৭ই জুলাই, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন।গুতেরেস ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন, ২০২৬’ তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে চীন এসেছেন। বৈঠকে সিন চিন পিং বলেন, জনাব আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ১০ বছরে তাঁর নেতৃত্বে, জাতিসংঘ দৃঢ়ভাবে বহুপাক্ষিকতা রক্ষা করেছে, ইতিবাচকভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমতাসহ নতুন উদীয়মান খাতের বৈশ্বিক প্রসাশনকে উন্নত করেছে, এবং জাতিসংঘের সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চীন তাঁর কাজের প্রশংসা করে। চলতি বছর হচ্ছে, নয়া চীনের জাতিসংঘের বৈধ আসন পুনরুদ্ধারের ৫৫তম বার্ষিকী। ৫৫ বছরে চীন দৃঢ়ভাবে, বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন, এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। চীন সবসময় দৃঢ়ভাবে জাতিসংঘকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, আমি মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলার ধরণা ও চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ উত্থাপন করেছি, যার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, জাতিসংঘের অবস্থান ও কর্তৃত্ব রক্ষা করা। চীন আগের মতো ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সাথে সহযোগিতা জোরদার করবে, বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেবে, এবং মানবজাতির অভিন্ন কল্যাণের সমাজ গড়ে তোলার কাজে গতি সঞ্চার করবে। সি চিন পিং জোর দিয়ে বলেন, বতর্মানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও দ্রুত পরিবর্তনশীল। আমাদের উচিত, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা বাস্তবায়ন করা এবং জাতিসংঘের অবস্থান ও ভূমিকা পূনরুদ্ধার করা। তিনি বলেন, প্রথমত, সততা ও ন্যায্যতায় অবিচল থাকতে হবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ সনদের চেতনা মেনে নিতে হবে এবং জাতিসংঘের সংস্কারকাজ উন্নত করতে হবে; তৃতীয়ত, দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সকল দেশ একটি অভিন্ন ভাগ্যের জাহাজে বসে আছে। এজন্য একযোগে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, চীন সবসময় বাস্তব কার্যকলাপের মাধ্যমে, নতুন যুগে বড় দেশগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু সহাবস্থান বজায় রাখার পদ্ধতি অনুসন্ধান করছে, যা বিশ্বে আরও বেশি স্থিতিশীলতার যোগান দিয়েছে।সূত্র:আকাশ-আলিম-শিশির,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।
পর্যটন নগরী নয়, কক্সবাজার এখন ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু / কক্সবাজার ঘিরে কেন এত আগ্রহ পরাশক্তিদের
নীল সমুদ্র, দীর্ঘ বালুকাবেলা, পাহাড় আর পর্যটনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত কক্সবাজার। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালে গত কয়েক বছরে বদলে গেছে জেলার কৌশলগত গুরুত্ব। এখন কক্সবাজার শুধু পর্যটনের শহর নয়; এটি একই সঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল, মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট, মাদক ও সীমান্ত অপরাধের কেন্দ্র এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো, অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন রেল যোগাযোগ এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশকে যুক্ত করার সম্ভাব্য আঞ্চলিক করিডোর। ফলে কক্সবাজার এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৌশলগত হিসাব-নিকাশেরও অংশ হয়ে উঠেছে।উদ্বাস্তু পুনর্বাসন থেকে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকক্সবাজারের ইতিহাসের সঙ্গে উদ্বাস্তু পুনর্বাসনের সম্পর্ক বহু পুরনো। আঠারো শতকের শেষভাগে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স আরাকানি উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়ে এ অঞ্চলে আসেন।চট্টগ্রামের উত্তরাঞ্চলে উদ্বাস্তুদের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও কক্স বেছে নেন বাঁকখালী ও নাফ নদীর মধ্যবর্তী দক্ষিণাঞ্চল। বাঁকখালী নদীর তীরে বসতি স্থাপনের পাশাপাশি তিনি একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারেই ‘কক্সের বাজার’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।কক্সের উদ্যোগের পেছনে মানবিকতার পাশাপাশি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্বার্থ। বনভূমি আবাদ, কৃষি সম্প্রসারণ, রাজস্ব আদায় এবং পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা বলয় তৈরির পরিকল্পনাও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।দুই শতাব্দীর বেশি সময় পর কক্সবাজারের গুরুত্ব যেন আবারও সেই ইতিহাসের দিকে ফিরে গেছে। উদ্বাস্তু, সীমান্ত ও নিরাপত্তার পুরনো বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বন্দর, বাণিজ্য, জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা।কুনমিং থেকে কক্সবাজার—নতুন করিডোরের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর কক্সবাজারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সফরসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমারের রাখাইন হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত সম্ভাব্য একটি আঞ্চলিক যোগাযোগ করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়েছে।প্রস্তাবিত করিডোরটি চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় হয়ে ইয়াঙ্গুন এবং রাখাইনের কিয়াকফিউ গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে এর সঙ্গে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।এই ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কক্সবাজারের গুরুত্ব বোঝার জন্য শুধু বাংলাদেশের মানচিত্র দেখলেই হবে না। এর পূর্বে মিয়ানমারের রাখাইন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং কাছাকাছি রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে অঞ্চলটি বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।মাতারবাড়ী বদলে দিচ্ছে কক্সবাজারের অর্থনৈতিক পরিচয়দীর্ঘদিন কক্সবাজারের অর্থনীতি পর্যটননির্ভর হলেও এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চলকে ঘিরে গড়ে উঠছে বৃহৎ জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো।বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালুর ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে। সম্প্রসারণ করা হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরও।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এসব প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের অর্থনীতি শুধু পর্যটননির্ভর থাকবে না। বন্দর, লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠতে পারে।তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করা হলে বড় প্রকল্পগুলোই ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্ববাসীর নজর২০১৬ সালের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।উখিয়া ও টেকনাফে গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে বলে সরকারি তথ্য রয়েছে।রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন।আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট এখন আর শুধু মানবিক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানব পাচার, মাদক এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি।তাদের মতে, দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে সংকটের প্রভাব শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো অঞ্চলের ওপর পড়তে পারে।মানব পাচারের ভয়ংকর রুটকক্সবাজারের আরেকটি বড় বাস্তবতা মানব পাচার। সীমান্তবর্তী অবস্থান, সমুদ্রপথ এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নারী, শিশু ও তরুণদের দেশের বাইরে পাঠানোর নামে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। কখনো সমুদ্রপথে, কখনো স্থলপথে তাদের পাচারের চেষ্টা করা হয়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানব পাচার বড় সমস্যা। বাস্তুচ্যুত বিপুল জনগোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এ বিষয়ে অভিযান জোরদার করা হবে।নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মানব পাচার বন্ধে শুধু মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পাচারকারীদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, স্থানীয় দালালচক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পথ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।কক্সবাজারে নিরাপত্তার নতুন সমীকরণকক্সবাজারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন বহুমাত্রিক। একদিকে মিয়ানমার সীমান্ত, অন্যদিকে সমুদ্রপথ। এর সঙ্গে রয়েছে শরণার্থী ক্যাম্প, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার।নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, কক্সবাজারের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বন্দর, পর্যটন, সীমান্ত ও শরণার্থী—প্রতিটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।সেন্টমার্টিন—রাজনীতি ও ভূরাজনীতির আলোচনায়কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপও গত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সেন্টমার্টিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর দ্বীপটির পর্যটন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।বিশ্লেষকদের মতে, সেন্টমার্টিনের গুরুত্বকে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ভৌগোলিক ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা এই দ্বীপকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্তের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয় জড়িত।রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়কক্সবাজারের রাজনৈতিক গুরুত্বও দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকেই এ জেলা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।চকরিয়ার হারবাং এলাকার খান বাহাদুর মৌলভি জালালুদ্দীন আহমদ বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য ছিলেন এবং অবিভক্ত বাংলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রামুর রশিদনগরের সন্তান মৌলভি ফরিদ আহমদ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী ছিলেন।বর্তমান সময়েও জাতীয় রাজনীতিতে কক্সবাজারের প্রভাব রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক শিকড় এ জেলায়।ফলে কক্সবাজারের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সীমান্তনীতি এখন জাতীয় রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণে কক্সবাজারকক্সবাজারের সামনে এখন একদিকে বিপুল সম্ভাবনা, অন্যদিকে বড় চ্যালেঞ্জ।পর্যটন, বন্দর, জ্বালানি, রেল, বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক বাণিজ্য—সব মিলিয়ে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ব্যাপক। কিন্তু একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, মানব পাচার, মাদক, সীমান্ত অপরাধ ও পরিবেশগত ঝুঁকিও বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জাতীয় কৌশল।পর্যটন উন্নয়নকে যেমন পরিবেশবান্ধব করতে হবে, তেমনি বন্দর ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যুক্ত করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, মানব পাচার দমন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাও সমান জরুরি।কারণ কক্সবাজার এখন আর শুধু পর্যটনের শহর নয়।এটি একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী সংকটের কেন্দ্র, অন্যদিকে মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট। একই সঙ্গে এটি বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।আর এ কারণেই কক্সবাজারের ওপর এখন শুধু বাংলাদেশের নয়—চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোরও নজর।
চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ভুলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেছেন, প্রশ্ন আমরা তৈরি করিনি, বিগত সরকার করেছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
গুলিস্তানে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী
এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে / রাজধানীতে মানবাধিকার ও গণমাধ্যম কর্মীদের মাঝে সাদা সম্মাননা প্রদান
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন / মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
ভালোবাসার স্পর্শে রঙিন হলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ঈদ উৎসব