চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।
এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটজন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেয়ার মালিকানার অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অপর দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অফিস চলাকালে বেসরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়। প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পত্রপ্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় ম্যাক্স হাসপাতালে শেয়ার থাকার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফিজা নাসরিন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডা. মো. আব্দুল মজিদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু-শিশু) ডা. মো. রেজাউল করিম, সদর উপজেলার মহারাজপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মোসা. মুনিরা খাতুন এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আজহারুল ইসলাম। প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে রুমালি খাতুন এবং সরকারি অফিস সময় বেসরকারি সিটি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে ডা. সামছুল আলম রাশেদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে জেলা হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের বদলিকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ড্যাব নেতাদের সুপারিশে ওই বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়।
এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ জুন জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ার গ্রহণ, হাসপাতাল পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকা এবং একই সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তি তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন