ঢাকা   রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মুক্তির লড়াই

বালিয়াডাঙ্গীতে শেয়ালের কামড়ে নারীর মৃত্যু, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক



বালিয়াডাঙ্গীতে শেয়ালের কামড়ে নারীর মৃত্যু, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা সীমান্তে শেয়ালের কামড়ে আমিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

গত তিন সপ্তাহে শেয়ালের আক্রমণে আহত হয়ে আরও দুটি গরু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোররাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিনা বেগম মারা যান। একই দিন বিকেল ৩টায় উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত আমিনা বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা ও মইনুল হকের স্ত্রী।


নিহতের ছেলে আমিরুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৩ দিন আগে সীমান্ত এলাকার একটি মাঠে ছাগল চরাতে গেলে হঠাৎ একটি শেয়াল তার মায়ের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে নাক ও মুখে গুরুতর কামড়ের আঘাত পান তিনি।স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বাড়ির লোকজনের পরামর্শে বাজার থেকে আরও দুটি টিকা কিনে এনে পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। তবে ক্ষতস্থান শুকায়নি। ঘটনার ১৭ দিন পর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুখ দিয়ে লালা পড়া, বারবার বমি হওয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। এখন প্রায়ই লোকালয়ে শেয়ালের দেখা মিলছে। অনেক ক্ষেত্রে শেয়ালগুলো হিংস্র হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। এ অবস্থায় গরু-ছাগল মাঠে নিয়ে গেলে লাঠি নিয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে বলে জানান।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আক্রমণকারী শেয়ালটি পাগল হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পরদিন সকালে স্থানীয়রা মিলে শেয়ালটিকে মেরে ফেলেন।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তিনি জলাতঙ্ক রোগে মারা গেছেন। আমরা লাশ দাফনের অনুমতি দিয়েছি।

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তির লড়াই

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


বালিয়াডাঙ্গীতে শেয়ালের কামড়ে নারীর মৃত্যু, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা সীমান্তে শেয়ালের কামড়ে আমিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।


গত তিন সপ্তাহে শেয়ালের আক্রমণে আহত হয়ে আরও দুটি গরু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন।


শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোররাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিনা বেগম মারা যান। একই দিন বিকেল ৩টায় উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত আমিনা বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা ও মইনুল হকের স্ত্রী।


নিহতের ছেলে আমিরুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৩ দিন আগে সীমান্ত এলাকার একটি মাঠে ছাগল চরাতে গেলে হঠাৎ একটি শেয়াল তার মায়ের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে নাক ও মুখে গুরুতর কামড়ের আঘাত পান তিনি।স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়।


তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে বাড়ির লোকজনের পরামর্শে বাজার থেকে আরও দুটি টিকা কিনে এনে পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। তবে ক্ষতস্থান শুকায়নি। ঘটনার ১৭ দিন পর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুখ দিয়ে লালা পড়া, বারবার বমি হওয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মায়ের মৃত্যু হয়।


স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। এখন প্রায়ই লোকালয়ে শেয়ালের দেখা মিলছে। অনেক ক্ষেত্রে শেয়ালগুলো হিংস্র হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। এ অবস্থায় গরু-ছাগল মাঠে নিয়ে গেলে লাঠি নিয়ে পাহারা দিতে হচ্ছে বলে জানান।


এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আক্রমণকারী শেয়ালটি পাগল হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পরদিন সকালে স্থানীয়রা মিলে শেয়ালটিকে মেরে ফেলেন।


বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তিনি জলাতঙ্ক রোগে মারা গেছেন। আমরা লাশ দাফনের অনুমতি দিয়েছি।


মুক্তির লড়াই

সম্পাদক ও প্রকাশক কামরুজ্জামান জনি
কপিরাইট © ২০২৬ মুক্তির লড়াই । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত